• ই-পেপার

অস্ট্রেলিয়ার ৫০ বছরের জনপ্রিয় বারবিকিউ ব্র্যান্ডের 'দুঃখজনক' পরিসমাপ্তি

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সবাই নিহত

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সবাই নিহত
সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানের আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদের কাছে উড্ডয়নের সময় সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা ডন বলছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে রাশিয়ায় নির্মিত এমআই-১৭ পরিবহন হেলিকপ্টারে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে এবং হেলিকপ্টারে থাকা সবাই নিহত হয়েছেন বলে জানায় আইএসপিআর।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তবে হেলিকপ্টারে থাকা কোনো ব্যক্তিকে জীবিত পাওয়া যায়নি।

এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে কারিগরি ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানায় আইএসপিআর।

পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ সেনাবাহিনীর সব পর্যায়ের সদস্যরা নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে খাইবার পাখতুনখোয়ার মোহমান্দ জেলায় খারাপ আবহাওয়ার কারণে একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট ও তিন ক্রু সদস্য প্রাণ হারান।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন

অনলাইন ডেস্ক
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভায় ঘোষণা করেছেন। ৪০ জনের মন্ত্রিসভায় কার হাতে কোন দপ্তর থাকছে, তা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দুর হাতে থাকছে স্বরাষ্ট্র এবং পার্বত্য, ভূমি ও ভূমি সংস্কার, ত্রাণ এবং উদ্বাস্তু পুনর্বাসন, বিদ্যুৎ দপ্তর, তথ্য ও সংস্কৃতি এবং প্রশাসনিক সংস্কার  মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া যেগুলো বাকি মন্ত্রীদের মধ্যে বণ্টিত হচ্ছে না, সেগুলোও থাকছে মুখ্যমন্ত্রী হাতেই।

গত ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীতে ব্রিগেড ময়দানে শুভেন্দুর সঙ্গে মন্ত্রীপদে শপথ নিয়েছিলেন। সেখানে পাঁচজন—নিশীথ প্রামাণিক, দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পরে ১ জুন শপথগ্রহণ করেন আরো ৩৫ জন। 

পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভায় দফতর বণ্টনের পর নিশীথ পেয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন ও কৃষি বিপণন মন্ত্রণালয় পেয়েছেন দিলীপ। অগ্নিমিত্রার হাতে থাকছে পুর ও নগরোন্নয়নের দায়িত্ব। অশোককে দেওয়া হয়েছে খাদ্য ও সরবরাহ এবং সমবায় মন্ত্রণালয়। ক্ষুদিরাম পেয়েছেন আদিবাসী ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদরাসা শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। 

পর্যটন ও পরিষদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন শিলিগুড়ির শঙ্কর ঘোষ। শিল্প ও বাণিজ্য পেয়েছেন তাপস রায়। অচিরাচরিত ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, সরকারি উদ্যোগ ও শিল্প পুনর্গঠনও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। অর্থ দেওয়া হয়েছে স্বপন দাশগুপ্তকে।

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় পেয়েছেন উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা। স্কুলশিক্ষা, আবাসন, ক্ষুদ্র-কুটির-মাঝারি শিল্প এবং বস্ত্রে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন দীপক বর্মণ। কৃষিমন্ত্রী হয়েছেন বীরভূমের দীর্ঘ দিনের বিজেপি নেতা দুধকুমার মণ্ডল। পাশাপাশি অর্জুন সিংহকে শ্রম এবং পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মনোজ ওরাওঁ পেয়েছেন বন এবং পরিবেশের দায়িত্ব।

পূর্ত মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন অজয় পোদ্দার। গৌরীশঙ্কর ঘোষ পেয়েছেন অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়ন, জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার মন্ত্রণালয়। তথ্য-প্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এবং উদ্যানপালনের মন্ত্রী হলেন কল্যাণ চক্রবর্তী। অরূপকুমার দাস হলেন সেচ ও জলপথ মন্ত্রী।

গত ১ জুন তিন জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মালতি রাভা রায়কে নারী ও শিশুকল্যাণ, সমাজকল্যাণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, স্বনিযুক্তি, প্রকল্প পর্যবেক্ষণের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। রাজেশ মাহাতো হলেন প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ, উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে ইন্দ্রনীল খাঁকে।

অন্য দিকে, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রীর কে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন, তাও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। 

প্রতিমন্ত্রী জুয়েল মুর্মু পেয়েছেন আদিবাসী উন্নয়ন। প্রতিমন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরাকে দেওয়া হয়েছে উচ্চশিক্ষা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন আনন্দময় বর্মণ। আবাসনের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে কলিতা মাজিকে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন সুমনা সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকা স্বরাষ্ট্র  মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে বিশাল লামাকে। অশোক দিন্ডাকে করা হয়েছে কৃষিবিপণন, ক্ষুদ্র-কুটির-মাঝারি শিল্প, বস্ত্র শিল্পের প্রতিমন্ত্রী।

তেলের দাম নিয়ে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
তেলের দাম নিয়ে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র
রয়টার্স ছবি

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ও বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বার্তা সংস্থা সিএনএন এক প্রতিবেদনে বলছে, জুন ও জুলাই মাসজুড়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ)। 

সংস্থাটির নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ সংকট আরো তীব্র হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বর্তমান প্রায় ৯১ ডলার এবং যুদ্ধ শুরুর আগের প্রায় ৭০ ডলারের তুলনায় অনেক বেশি অবস্থানে থাকবে।

আগামী কয়েক সপ্তাহে তেল রপ্তানি সীমিত থাকবে এবং উৎপাদন ও মজুদ কমে আসবে—এমন ধারণার ভিত্তিতেই এই মূল্য পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে বলেও জানায় ইআইএ ।

প্রতিবেদনে জ্বালানি বিশ্লেষকদের একাংশও একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছেন। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের মতে, হরমুজ প্রণালি চলতি মাসেই পুনরায় চালু হলেও তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৪ ডলার থাকতে পারে।

ইআইএ’র এই পূর্বাভাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পন্ন হলে বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানির দাম দ্রুত কমে যাবে। তিনি বারবার দাবি করেছেন, এমন একটি চুক্তি খুব শিগগিরই হতে যাচ্ছে। তবে সরকারি পূর্বাভাসে এখনো উচ্চমূল্যের ইঙ্গিতই দেওয়া হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি মূল্য নিয়েও নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে ইআইএ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৯০ ডলার এবং পরের বছর ৩ দশমিক ৬৪ ডলার হতে পারে। মে মাসে প্রকাশিত পূর্ববর্তী প্রতিবেদনের তুলনায় এই পূর্বাভাস সামান্য বেশি।

তবে ইআইএ বলছে, বৈশ্বিক চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় জ্বালানির দাম আরো বেশি বাড়েনি। উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তাদের মধ্যে ব্যয় কমানো, জ্বালানির সীমিত প্রাপ্যতা এবং এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্যোগ গ্রহণের ফলে চাহিদা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ তেল উৎপাদনের পূর্বাভাসও সামান্য বাড়ানো হয়েছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন ১ কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে। 

এর আগে ইআইএ উৎপাদন প্রায় অপরিবর্তিত থেকে দৈনিক এক কোটি ৩৬ লাখ ব্যারেল থাকবে বলে ধারণা দিয়েছিল।

ইলন মাস্ককে টপকে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক ব্রেইন চিপ চীনের ‘নিও’

অনলাইন ডেস্ক
ইলন মাস্ককে টপকে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক ব্রেইন চিপ চীনের ‘নিও’
সংগৃহীত ছবি

চীন বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে অনুমোদিত মস্তিষ্ক-কম্পিউটার চিপ বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। ‘নিও’ নামের এই চিপ ইতোমধ্যে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা পাস করেছে এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মানবদেহে স্থাপনযোগ্য প্রথম অনুমোদিত ব্রেইন-চিপ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চীন প্রযুক্তিখাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। একই সঙ্গে এটি ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকল্পগুলোকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে।

কী এই ‘নিও’ চিপ?

মুদ্রার আকারের এই যন্ত্রটি মূলত মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া এবং পক্ষাঘাতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। চিপটির কাজ হলো মস্তিষ্কের সংকেত সংগ্রহ করে তা কম্পিউটারের নির্দেশনায় রূপান্তর করা। এর মাধ্যমে যেসব রোগী স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা বা বিভিন্ন কাজ করতে পারেন না, তারা চিন্তার সাহায্যে কিছু কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় শিগগিরই এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।

প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ

মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগ প্রযুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক দাবি করে, ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীরা শুধু চিন্তার মাধ্যমে কম্পিউটারে টাইপ করতে, মাউস চালাতে কিংবা বিভিন্ন যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। মাস্ক সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, এই প্রযুক্তি পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষকে আবার শরীরের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সাহায্য করতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তি খাতের অনেক উদ্যোক্তা মনে করেন, মানুষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সংযোগ তৈরির পথ খুলে দিতে পারে এই প্রযুক্তি।

দ্রুত বাড়ছে বাজার

বিশ্লেষকদের মতে, মস্তিষ্ক-কম্পিউটার চিপ শিল্প আগামী বছরগুলোতে দ্রুত সম্প্রসারিত হবে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৪৯ কোটি ডলারের এই খাত ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ১৭০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত কোটি কোটি মানুষের জীবনমান উন্নত করার সম্ভাবনা রয়েছে এই প্রযুক্তির। পক্ষাঘাত, মৃগী, স্ট্রোক, পারকিনসন রোগ এবং বিষণ্নতার মতো সমস্যার চিকিৎসায়ও ভবিষ্যতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উদ্বেগও কম নয়

তবে প্রযুক্তিটির সম্ভাবনার পাশাপাশি গুরুতর উদ্বেগও রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ক থেকে সংগৃহীত তথ্য মানুষের সবচেয়ে ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে পড়ে। এই তথ্য যদি কোনোভাবে হ্যাকারদের হাতে চলে যায়, তাহলে তা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞ ডেভিড টাফলি বলেন, তাত্ত্বিকভাবে হ্যাকাররা কোনো ব্যক্তির চিন্তা, স্মৃতি বা স্নায়বিক তথ্যের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সাইবার নিরাপত্তা আরো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

মানুষের মস্তিষ্কে যন্ত্র বসানোর চ্যালেঞ্জ 

মানবদেহে স্থায়ীভাবে কোনো যন্ত্র বসানো সহজ কাজ নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অনেক সময় বাইরের বস্তু প্রত্যাখ্যান করার চেষ্টা করে। এতে সংক্রমণ, রক্তক্ষরণ বা টিস্যুর ক্ষতির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। চীনের গবেষকেরা দাবি করেছেন, তারা এমন একটি নকশা তৈরি করেছেন যা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ। ‘নিও’ চিপটি খুলির হাড় ও মস্তিষ্কের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তরের মাঝখানে স্থাপন করা হয়। এর ফলে সরাসরি মস্তিষ্কের গভীরে প্রবেশ করতে হয় না। এ পর্যন্ত ৩৬ জন রোগীর ওপর এই প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানো হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।

নিউরালিংকের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

চীনের এই সাফল্য ইলন মাস্কের নিউরালিংকের জন্য নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে। নিউরালিংক ২০২৪ সালে মানুষের ওপর পরীক্ষা শুরু করলেও তাদের চিপ এখনো সাধারণ ব্যবহারের জন্য চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পায়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ‘এন-ওয়ান’ চিপ নিয়ে কয়েকজন রোগীর ওপর পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক রোগী জানিয়েছেন, প্রযুক্তিটির সাহায্যে তিনি দীর্ঘদিন পর নিজের নাম লেখার চেষ্টা করতে পেরেছেন।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু এর কার্যকারিতা নয়, বরং মানুষের মস্তিষ্ক থেকে সংগৃহীত তথ্যের মালিকানা কার হাতে থাকবে। কারণ এই চিপ মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও আচরণ সম্পর্কিত অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ফলে প্রযুক্তিটি যেমন চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং নৈতিকতা নিয়ে নতুন বিতর্কও সামনে নিয়ে আসছে।

নতুন যুগের শুরু?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ক-কম্পিউটার চিপ এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও এটি ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারে। একদিকে এটি লাখো রোগীর জীবন বদলে দিতে পারে, অন্যদিকে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্নও তুলছে। ফলে এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু এর সক্ষমতার ওপর নয়, বরং এটি কতটা নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা হয় তার ওপরও।