ভারতের তামিলনাড়ুতে একটি বেসরকারি সামুদ্রিক খাদ্য (সি-ফুড) প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই কারখানার অন্তত ৭ নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ৬৭ জনের বেশি আহত শ্রমিক বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
রবিবার তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়াপালায়ামের কাছে কন্নিগাইপাইর এলাকায় অবস্থিত ‘সেন্ট পিটার্স পল সি-ফুডস এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় কারখানায় প্রায় ১২০ জন শ্রমিক অবস্থান করছিলেন। যাদের বেশির ভাগই ছিলেন আসাম, ওডিশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা নারী শ্রমিক।
এদিন কারখানাটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় অনেক শ্রমিক নিজ নিজ আবাসনে ছিলেন। কিন্তু বিস্ফোরণে গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে তাদের মধ্যেও অনেকে আহত হন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে দ্রুত আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেক শ্রমিক শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মুখ ও নাক দিয়ে রক্তক্ষরণও হয়। ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিরুভাল্লুর জেলার জেলা প্রশাসক এস. কবিতা জানান, ঘটনার পরপরই আহত ৬৭ জন শ্রমিককে স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৬ জনকে ভেলস হাসপাতালে এবং ২১ জনকে ভেঙ্কটেশ্বরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, গুরুতর অবস্থায় ৯ জনকে চেন্নাইয়ের সরকারি স্ট্যানলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিন সদস্যের কমিটি গঠন
দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়)। তিনি এই কমিটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন এবং তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন শিল্প নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক, তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সদস্যসচিব এবং জনস্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক।
আর্থিক সহায়তা ঘোষণা
এ ঘটনায় নিহত দুই ব্যক্তির পরিবারের জন্য ২ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। একই সঙ্গে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ রাজ্যে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার বলেও তিনি জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।




