• ই-পেপার

ইন্দোনেশিয়ায় গির্জায় বোমা বিস্ফোরণ, বেশ কয়েকজন হতাহত

জ্বালানিতে ফিরছে স্বস্তি, বাড়ছে উৎপাদন

অনলাইন ডেস্ক
জ্বালানিতে ফিরছে স্বস্তি, বাড়ছে উৎপাদন
রয়টার্স ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার। তবে সাম্প্রতিক তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সমঝোতায় স্বস্তি ফিরছে তেলের বাজারে। এ অবস্থায় বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্য থেকে তেল উৎপাদনের কোটা বা সীমা পুনরায় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ওপেক প্লাস।

এই লক্ষ্যে রবিবার সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমানের মতো প্রধান ওপেকের সদস্য দেশগুলোর জোটের মন্ত্রীরা ভার্চুয়ালি বৈঠকে মিলিত হন। পরে এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদনে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যা চলতি বছরের আগস্ট মাসে কার্যকর করা হবে।

উৎপাদন পুনরুদ্ধার

যদিও রবিবারের এই বৈঠকের আগেই তেল উৎপাদনকারী এই জোট দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল কোটা বাড়ানোর ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে।

যদিও এর আগে জুন ও জুলাই মাসে একই পরিমাণ কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। রাশিয়াসহ ওপেক ও এর মিত্র উৎপাদকদের নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাসের সাতটি মূল সদস্য দেশ এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কোটা বাড়িয়েছে। 

তবে এই বৃদ্ধির বেশিরভাগটাই কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। কারণ, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকের মতো ওপেক প্লাসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ট্যাংকার চলাচলের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

যুদ্ধের প্রভাব

ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ওপেক প্লাসের দৈনিক উৎপাদন ছিল ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল। মে মাসে তা কমে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে। 

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য ওপেক প্লাস দেশকে বেশি তেল রপ্তানিতে সহায়তা করার মার্কিন প্রচেষ্টার ফলে জুন মাস থেকে উৎপাদন কিছুটা পুনরুদ্ধার হতে শুরু করেছে। তবে এখনো তা যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ের নিচে রয়েছে।

ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক থেকে মে মাস পর্যন্ত কোটা বাড়াতে যাওয়া ৭টি দেশের মধ্যে সৌদি আরব, ইরাক ও কুয়েতের সম্মিলিত উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল কমে গিয়েছিল। 

স্বস্তি ও সরবরাহ

এদিকে গত ১৭ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এর আওতায় তারা চুক্তির পরবর্তী আলোচনা চলাকালীন হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের পথে সৃষ্ট বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

সুইস ব্যাংক ইউবিএস-এর পণ্যবাজার বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো এএফপিকে বলেন, আপাতত উৎপাদন সম্ভবত ওপেকের লক্ষ্যমাত্রার নিচেই রয়েছে।

সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলেও তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরে এসেছে। চীনের আমদানি কমে যাওয়া, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের উৎপাদকদের রপ্তানি বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে রেকর্ড কৌশলগত মজুদ ছাড় দেওয়ার কারণে দামে চাপ পড়েছে। 

যুদ্ধ বন্ধে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছে যে সরবরাহ শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।

ব্লুমবার্গ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ হয়তো ইতিমধ্যেই দৈনিক এক কোটি (১০ মিলিয়ন) ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে।

তবে স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, বর্তমানে যে তেল এই প্রণালি দিয়ে যাচ্ছে, তা এতদিন ট্যাঙ্কার বা সংরক্ষণাগারে জমা ছিল। যদি জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে, তবে জুলাই মাসে পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যাবে এবং সম্ভবত আগস্ট মাসেই উৎপাদন বৃদ্ধির গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। তারপরও বন্ধ হয়ে যাওয়া উৎপাদন পুনরায় চালু করতে সময় লাগবে।

রিস্টাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন বলেছেন, আগামী বছরের জন্য সবাই উদ্বৃত্ত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে। এরই মধ্যে মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে ওপেক প্লাস কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এখন একদিকে যখন সদস্য দেশগুলো উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চাপ দেবে, তখন জোটটিকে নিম্নমুখী দাম সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বলেও জানান তিনি।

জুনের শেষের দিকে ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই জোটের কাছে তাদের উৎপাদন কোটা বাড়ানোর অনুরোধ করেছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সময় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল তা পুষিয়ে নেওয়া যায়।

তবে হ্যানসেন বলেছেন, উচ্চতর কোটার বিষয়টি তাৎক্ষণিক কোনো প্রয়োজনীয়তা নয়, কারণ উৎপাদনের পরিমাণ এখনও সংঘাত-পূর্ববর্তী পর্যায়ের চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে। ইরাকের অনুরোধটি হয়তো ২০২৭ সালের সক্ষমতা পর্যালোচনার অংশ হতে পারে, যেখানে উৎপাদনের ভিত্তি-মাত্রা বা ‘বেসলাইন’ খতিয়ে দেখা হবে।

নতুন চ্যালেঞ্জ

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি ওপেক প্লাস কিছু নতুন চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জোট ছেড়ে দেয়ায় এবং ইরাক উচ্চ কোটার দাবি জানানোয় জটিলতা বেড়েছে।

সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমান—এই সাত দেশ ২০২৩ সালে সম্মত হওয়া দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল সরবরাহ হ্রাসের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে উৎপাদন বাড়াচ্ছে। ওই সময় জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ছিল।

কিন্তু উৎপাদন এই সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত থেকে নিজেদের সক্ষমতার সঙ্গে উৎপাদনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চাওয়ায় গত এপ্রিলের শেষে জোট ছেড়ে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত।

রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, ১ মে থেকে আমিরাতের বিদায় বিবেচনায় নিলে আগস্ট থেকে বাকি সাত দেশের হাতে বাজারে ফিরিয়ে আনার মতো আরও দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার ব্যারেল তেল রয়েছে। বর্তমান গতিতে উৎপাদন বাড়ানো অব্যাহত রাখলে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো সরবরাহ হ্রাস পুরোপুরি প্রত্যাহার হয়ে যাবে।

৯ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিল ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
৯ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিল ইসরায়েল
রয়টার্স ছবি

গাজা উপত্যকা থেকে আটক ৯ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সহায়তায় তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের সরাসরি মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় এই হাসপাতালটি বহু মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দিকে গ্রহণ করেছে। তাদের অনেকেরই শারীরিক নির্যাতনের কারণে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছে।

ইসরায়েলের হেফাজতে থাকা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে হাজারো ব্যক্তি ২০০২ সালের ‘আনলফুল কমব্যাট্যান্টস বা বেআইনি যোদ্ধা’ আইন অনুযায়ী আটক রয়েছেন।

এই আইনের আওতায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ না থাকলেও, তাকে হামাসের মতো ইসরায়েলের দৃষ্টিতে ‘অবৈধ’ ঘোষিত কোনো সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করে আটক রাখা যায়।

থাকুন আরামে, বাঁচান অর্থ

অনলাইন ডেস্ক
থাকুন আরামে, বাঁচান অর্থ
সংগৃহীত ছবি

একটা স্মার্ট ডিভাইস আর ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে বিশ্ব এখন আপনার হাতের মুঠোয়। আপনি কোথায় থাকছেন, কী করছেন; তাতে অনেক নিয়োগদাতার কিছুই যায় আসে না। আপনাকে দেওয়া কাজ ঠিকঠাকমতো করে দিলেই হলো।

নির্দিষ্ট একটা অফিস, সেখানে ১০টা-৫টা হাজিরার গৎবাঁধা ধারণা থেকেও বেরিয়ে আসছেন অনেকে। একটা ল্যাপটপ আর কফিশপের একটা নিরিবিলি কোণেই চলছে আস্ত একটা অফিস। করোনা যখন বিশ্বজুড়ে সবকিছু স্থবির করে দেয়, তখনও ওয়ার্ক ফর্ম হোম বা বাসায় বসে অফিস করার ধারণা দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। 

ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ধারণাকে ওয়ার্ক ফ্রম মানালিতে বদলে নিয়েছেন ভারতের এক কর্পোরেট দম্পতি। ব্যস্ত শহরের কোলাহল ছেড়ে তারা ডেরা বেধেছেন হিমালয়ের কোলে শান্ত, স্নিগ্ধ, প্রশান্তির মানালিতে। অনেকে অনেক পরিকল্পনা করে ব্যস্ত জীবন থেকে দুদিনের ছুটি নিয়ে মানালিতে বেড়াতে যান, আর এই দম্পতি মানালিতেই খুঁজে পেয়েছেন জীবনের মানে।

তাদের এই নতুন জীবন নিয়ে দুজনের করা একটি ভিডিও ইনস্ট্রগ্রামে পোস্ট করতেই সেটি দারুণ ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে তো অবসর জীবনটা শহরের বাইরে কোনো নিরিবিলি জায়গায় কাটাতে চান। কিন্তু অঞ্জলি আর নামান, নামের এই জুটি ব্যস্ত কর্মজীবনেই খুজে নিয়েছেন প্রশান্তির ছোঁয়া। 

তারা মূলত প্রশান্তির খোঁজেই মানালি গিয়েছিলেন। এখন হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, জীবনযাত্রার মান অক্ষুন্ন রেখেও মাসে তাদের ৩০ হাজার রুপিরও বেশি সাশ্রয় হচ্ছে। এটা অবশ্য তারা করতে চাননি, এটা তাদের বোনাস প্রাপ্তি।

ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ভিডিওতে তারা বলেন, খরচ কমানো নয়, তারা আসলে জীবনের গতি কমাতে চেয়েছিলেন। ব্যস্ত শহরের গতির সাথে পাল্লা দিয়ে হাফিয়ে উঠেছিলেন তারা।

ভিডিওতে অঞ্জলি বলেন, ‘কোনো চেষ্টা ছাড়াই আমরা হঠাৎ করেই প্রতি মাসে ৩০ হাজার রুপিরও বেশি বাঁচাতে শুরু করেছি।’

ভিডিওতে এই সুখী জুটি বলেন, ‘হাই, আমরা অঞ্জলি এবং নামান। আমরা মানালিতে বসবাসকারী একটি রিমোট কর্পোরেট দম্পতি। আমরা এখানে টাকা বাঁচাতে আসিনি, আমরা আমাদের কর্পোরেট চাকরি ঠিক রেখেই ধীরগতির ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে এসেছিলাম।’

এরপর তারা মাসে ৩০ হাজার রুপিরও বেশি সাশ্রয়ের একটা বাস্তবসম্মত হিসাব দেন। সবচেয়ে বড় সাশ্রয় হয়েছে বাড়ি ভাড়ায়। শহরে যেখানে তাদের ভাড়া বাবদ মাসে তাদের গুনতে হতো ৪৫ হাজার রুপি, মানালিতে আসার পর তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার রুপিতে। ফলে বাড়ি ভাড়া খাতে তাদের বেঁচে যচ্ছে ১৭ হাজার রুপি। রিমোট কাজের কারণে তাদের প্রতিদিনের যাতায়াত খরচও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, যা প্রতি মাসে অন্তত ৩ হাজার রুপি বাঁচিয়ে দিচ্ছে।

এ ছাড়া অফিস শেষে রাতের খাবার, কফি বা টুকটাক নাস্তা খাওয়ার মতো যে খরচগুলো আগে নিয়মিত বিষয় ছিল; তা-ও এখন নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। এর ফলে তাদের মাসিক বাজেট থেকে আরও প্রায় সাড়ে ৭ হাজার রুপি কম খরচ হচ্ছে।

তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল তাদের ছুটির দিনের ভ্রমণের খরচ একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া। শহরে থাকার সময় ব্যস্ত জীবন থেকে মুক্তি পেতে তারা ছোটখাটো ভ্রমণের পেছনে মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার রুপি খরচ করতেন। মানালিতে আসার পর তাদের আর আলাদা করে এমন কোনো ছুটির পরিকল্পনা করতে হয় না। কারণ প্রকৃতি ও শান্ত পরিবেশ এখন তাদের দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ। প্রতিদিন তারা ছুটির মেজাজেই থাকতে পারেন।

অঞ্জলি জোর দিয়ে বলেন যে, এই আর্থিক লাভটি ছিল তাদের জন্য স্রেফ একটি অপ্রত্যাশিত উপহার। তিনি বলেন, ‘আমরা কম খরচে থাকার জন্য রিমোট কাজের সুযোগ বেছে নিইনি; আমরা এটি বেছে নিয়েছিলাম ভিন্নভাবে বাঁচার জন্য। এই সাশ্রয়টা ছিল কেবলই একটি বাড়তি পাওনা।’

ভিডিওটি অনলাইনে নাগরিক জীবনের নানান খাতের খরচ রিমোট কাজের আর্থিক সুবিধা এবং কর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনের মাঝে সুন্দর ভারসাম্য বজায় রাখতে মহানগর ছেড়ে ছোট শহরগুলোতে পেশাজীবীদের পাড়ি জমানোর ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নগদ অর্থ ছাড়াও যে প্রশান্তি মিলছে, আর্থিক মূল্যে তার দাম ধরা সম্ভব নয়।

শহরের যানজট, আর ধুলাবালিতে জেরবার জীবন থেকে এমন আরামের জীবনে বদলে যাওয়া তাদের স্বাস্থ্যেও দারুণ ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে। চিকিৎসা খাতেও নিশ্চয়ই তাদের খরচ কমে যাবে, বেড়ে যেতে পারে তাদের প্রত্যাশিত আয়ু।

অনেকে তাদের ভিডিওতে নানারকম মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ ভিন্নমতও পোষণ করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘কিন্তু সন্ধ্যায় কি খুব শান্ত হয়ে যায় না? যেহেতু আমি সারাজীবন একটা মহানগরীতে থেকেছি, আমার মনে হয় আমি কোলাহলে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। মানছি যে মাঝে মধ্যে সবার একটু শান্তি ও নীরবতা প্রয়োজন। কিন্তু মানালির একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমার পুরো জীবনটা সরিয়ে নিয়ে যাওয়াটা একটু অবাস্তবই মনে হচ্ছে।’ 

আরেকজন লিখেছেন, ‘শহুরে জীবনের ধকল সামলাতেই টাকা খরচ হয়ে যায়।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করার এটা আসল সুবিধা, উন্নত জীবনযাত্রা, কিন্তু খরচ কম।’

তবে অনেকের মনের কথাটা বলেছেন আরেক মন্তব্যকারী, ‘মানালি থেকে মাসে ৩০ হাজার রুপি সঞ্চয় করাটা এমন এক স্বপ্নের মত, যা অনেক কর্পোরেট কর্মী গোপনে দেখে থাকেন।’

তবে এ সুখী দম্পতি মানালির আগে কোন শহরে থাকতেন বা কোন প্রতিষ্ঠানে তারা চাকরি করেন; সে ব্যাপারেও ভিডিওতে কিছু উল্লেখ করেননি।

পাকিস্তানে অগ্নিকাণ্ডে ৭২ জন নিহতের ঘটনায় বিচারের মুখোমুখি ১১ বছরের শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক
পাকিস্তানে অগ্নিকাণ্ডে ৭২ জন নিহতের ঘটনায় বিচারের মুখোমুখি ১১ বছরের শিশু
সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানে করাচির গুল প্লাজা শপিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭২ জনের প্রাণহানির ঘটনায় ১১ বছর বয়সী এক শিশু বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে। আদালতে জমা দেয়া একটি অভিযোগপত্র সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর গালফ নিউজ

গত শনিবার (৪ জুলাই) জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল রাজ্জাক গুজ্জারের মাধ্যমে এই অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এতে ১১ বছরের শিশু হুজাইফা, তার বাবা ভবনটিতে থাকা একটি কৃত্রিম ফুলের দোকানের মালিক নিয়ামতউল্লাহ এবং গুল প্লাজা ম্যানেজমেন্ট কমিটির চার সদস্যসহ মোট ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

গত ১৭ জানুয়ারি সংঘটিত এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭২ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আটজন আহত হন। আগুনে ওই বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের ১ হাজার ১০০-রও বেশি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এর ফলে করাচির অন্যতম ব্যস্ত এই শপিং সেন্টারে ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা তদন্তের ফলাফল, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রেকর্ডকৃত জবানবন্দি অনুযায়ী, ওই ১১ বছর বয়সী শিশুকে দোকানের ভেতর দেশলাই কাঠি নিয়ে খেলার সময়ই আগুনের সূত্রপাত হয়। আরিয়ান নামের এক ১৩ বছর বয়সী প্রত্যক্ষদর্শী আরেক কিশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে জবানবন্দিতে জানায়, হুজাইফা যখন দেশলাই কাঠি নিয়ে খেলছিল এবং হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে, তখন সে ওই দোকানেই উপস্থিত ছিল।

মোহাম্মদ তালহা এবং হামজা আমির নামের আরও দুজন প্রত্যক্ষদর্শী এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, শিশুটির বাবা নিয়ামতউল্লাহ নিয়মিতভাবে তার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে দোকানে একা থাকতে এবং দোকান চালাতে দিতেন।

তদন্তে গুল প্লাজা ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যদেরও অবহেলার জন্য দায়ী করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তারা নিরাপত্তা বিধিমালা কার্যকর করতে বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের দ্বারা দোকান পরিচালনা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ভবনটিতে মৌলিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে বা যা ছিল তা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভবনের জরুরি প্রস্থানের পথগুলো (এক্সিট পয়েন্ট) তালাবদ্ধ বা অবরুদ্ধ ছিল, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সংখ্যা ছিল অপ্রতুল, কোনো ফায়ার হাইড্রেন্ট সিস্টেম ছিল না এবং জরুরি ব্যাকআপ লাইটেরও কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এই ত্রুটিগুলোর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সময় ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে পুরো স্থাপনা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় এবং অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যরা ফায়ার ব্রিগেড বা উদ্ধারকারী সংস্থাকে সময়মতো খবর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ঘটনার সেই সংকটপূর্ণ শুরুর মূহূর্তে তাদের কল ডেটা রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনা করে জরুরি সেবার নম্বরে কোনও কল করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইন্দোনেশিয়ায় গির্জায় বোমা বিস্ফোরণ, বেশ কয়েকজন হতাহত | কালের কণ্ঠ