kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ চৈত্র ১৪২৭। ১৩ এপ্রিল ২০২১। ২৯ শাবান ১৪৪২

মিয়ানমারের সাংবাদিকরা কাজ করছেন গা ঢাকা দিয়ে

অনলাইন ডেস্ক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১০:৩৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মিয়ানমারের সাংবাদিকরা কাজ করছেন গা ঢাকা দিয়ে

মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার ঘটনায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ইয়াঙ্গুন, নেপিদোসহ সারাদেশে। মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করে বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগ করছে সামরিক বাহিনী। 

জানা গেছে, সে দেশে সামরিক বাহিনীর রোষানলে পড়েছে সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকরা। সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের জন্য সংবাদমাধ্যমকে দায়ী করছে সেনাবাহিনী। 

সে কারণে সংবাদ সংগ্রহ থেকে প্রচারের পুরোটাই সাংবাদিকরা করছেন গা ঢাকা দিয়ে। গত মঙ্গলবার সকালে গোপন আস্তানা থেকে একটি ভার্চুয়াল আলোচনায় যোগ দিয়ে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান ইয়াঙ্গুনের মিজিমা নিউজের প্রধান সম্পাদক সোয়ে মিন্ট এবং দ্য ইরাবতি পত্রিকার প্রধান সম্পাদক আং চ। ওই আলোচনা সভার আয়োজক ছিল হনুলুলুর ইস্ট-ওয়েস্ট সেন্টার।

সোয়ে জানান, বিক্ষোভের মধ্যে সাদা পোশাকের গুপ্তচর পুলিশ ঢুকে গিয়ে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা তৈরি করছে। রাতের অন্ধকারে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিক্ষোভকারীদের। 

তিনি আরো বলেন, বহু সাংবাদিক অফিসে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। পরে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কাউকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে দিন কয়েক আটক করে নির্যাতন চালানোর পর। 

সোয়ে মিন্ট বলেন, সবচেয়ে বড় আতঙ্কের বিষয় গুপ্ত-হামলা। দুষ্কৃতিকারীদের দিয়ে দল তৈরি করেছে সেনাবাহিনী। তাদের হাতে থাকছে লোহার রড বা লাঠি। সাংবাদিকরা যখন ছবি তুলছেন বা খবর সংগ্রহ করছেন, পেছন থেকে তাদের ওপর হামলা করছে এরা।

মিয়ানমারের সাংবাদিক-সম্পাদকরা মনে করেন, সে দেশে স্বতঃস্ফূর্ত গণ-আন্দোলনের জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা। সামরিক শাসনে থাকার অভ্যাস সে দেশের মানুষের রয়েছে। কিন্তু সীমিত আকারের হলেও গণতন্ত্রের স্বাদ তারা পেয়েছেন। সেই গণতান্ত্রিক অভ্যাস থেকে আবার তাদের মিলিটারি বুটের নীচে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

সোয়ে মিন্ট বলেন, গণতন্ত্র যে একটা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস, ছিনতাই হয়ে যাওয়ার পরে মানুষের টনক নড়েছে। ইন্টারনেটের কথাই ধরুন, ছেলেরা এত দিন তো এটাকে গেম খেলায় বুঁদ হয়ে থাকা আর টিকটক-এ হাসি-মস্করার উপাদানের বাইরে কিছু ভাবেনি। সেই ইন্টারনেট আজ গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষের সব চেয়ে বড় হাতিয়ার।

সূত্র: আনন্দবাজার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা