kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা আগ্রাসন আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্ট করবে

অনলাইন ডেস্ক   

১৭ আগস্ট, ২০২০ ১৫:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা আগ্রাসন আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্ট করবে

চলতি বছরটা চীনের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময়। করোনাভাইরাস, আমেরিকার সাথে বাণিজ্য যুদ্ধ, হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং অর্থনৈতিক টালমাটাল অবস্থা এগুলোর মোকাবেলা করতে হচ্ছে চীনকে। এসবের সাথে নতুন যোগ হয়েছে বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে সম্প্রতি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা বড়ধরনের উত্তেজনা। আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও স্পষ্টভাষায় বলেছেন দক্ষিণ চীন সাগরের যেসব অঞ্চল, চীন নিজের বলে দাবি করছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ।

এমন প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ চীন সাগরে সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সাগরের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে তেল অনুসন্ধান, শিপিং ও অন্যান্য কাজ নিয়ে একটি বিশেষ সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ করছে চীন। তবে বেইজিংয়ের এমন পদক্ষেপকে বেআইনি বলছে অঞ্চলটির মালিকার দাবিদার অন্য দেশগুলো।

১৫ জুলাই সিঙ্গাপুর পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাস্তুশাসন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং চীনা কোস্টগার্ড ১ এপ্রিল প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে আট মাসব্যাপী বিহাই ২০২০ (নীল সমুদ্র ২০২০) উদ্যোগ শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল। যৌথ বিবৃতি অনুসারে বিহাই ২০২০ যা এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলার কথা ছিল তাতে দক্ষিণ চীন সাগরের আটটি মূল ক্ষেত্রে অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলা হয়েছিল। আটটি ক্ষেত্র হলো- মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন, তেল অনুসন্ধান, সামুদ্রিক বর্জ্য খালাস, শিপিং এবং এ সম্পর্কিত ক্রিয়াকলাপ, সমুদ্রে বালি খনন, সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল, ভূমিভিত্তিক দূষণ এবং সামুদ্রিক পরিবেশ।

তবে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বেইজিংয়ের একতরফা পদক্ষেপে এই এলাকার অন্য দেশগুলোর মাঝে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে চীন একক আধিপত্য বজায় রাখতে চাইলে সেটা এই অঞ্চলের শান্তি বিনষ্ট করবে। এরই মধ্যে চীনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় বিক্ষোভ হয়েছে।

মাত্র কিছুদিন আগেই চীন, দক্ষিণ চীন সাগরের একটা অংশ বন্ধ করে দেয় প্যারাসেল দ্বীপের চারপাশের সমুদ্রে নৌবাহিনীর মহড়া চালানোর জন্য। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, চীন বিতর্কিত ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে পারে এমন কর্মকাণ্ড না চালানোর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

চীন মনে করে দক্ষিণ চীন সাগর তার সমুদ্র এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। হাইনান দ্বীপে চীনের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যে সামুদ্রিক ঘাঁটি রয়েছে শুধু সে কারণেই নয়, চীনের বিশাল বৈশ্বিক উন্নয়ন প্রকল্প, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসাবে সিল্ক রোডের সামুদ্রিক পথও এই সাগর এলাকা। ফলে চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভবিষ্যত সাফল্যের জন্য এই দক্ষিণ চীন সাগর নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা চীনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি ও প্যারাসেলের দ্বীপগুলোর উন্নয়নে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগ থেকে এটা স্পষ্ট যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার এই সমুদ্র এলাকায় চীন তার মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য গত কয়েক বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে এগিয়েছে। তবে বিতর্কিত দ্বীপগুলোর মালিকানার দাবিদার জাপান, ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো আমেরিকার সঙ্গে হাত মিলিয়ে চীনা আগ্রাসনের প্রতিবাদে সরব হয়েছে।

সূত্র : সিঙ্গাপুর পোস্ট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা