• ই-পেপার

১০০তম ম্যাচের আগে এমবাপ্পে বললেন, ‘আমি ইতিহাসের অংশ হতে চাই’

আর্জেন্টিনার দুর্বলতা খুঁজে পাননি অস্ট্রিয়ার কোচ, তবে...

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার দুর্বলতা খুঁজে পাননি অস্ট্রিয়ার কোচ, তবে...
অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক। ছবি : ফিফা

আর কয়েক মিনিট পরেই বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামছে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। 

অধিনায়ক লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আছে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। 

তাই বলে কি আর্জেন্টিনাকে থামানোর কোনো উপায় নেই? অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক অন্তত মেসি-মার্তিনেজদের দুর্বলতা খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি বরং প্রতিপক্ষের বন্দনাতেই মেতেছেন। 

ডালাসে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রাংনিকের সামনে প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল, ‘আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটার দুর্বলতা কোথায়?’ ৬৭ বছর বয়সী এই জার্মান কোচ বেশ নাটকীয় ঢংয়েই উত্তর দিয়েছেন, ‘চলুন, আমরা (আর্জেন্টিনার) দুর্বলতা নিয়ে কথা বলি। কিন্তু সত্যি বলতে আমরা এমন কিছু খুঁজে পাইনি।’  

আর্জেন্টিনার কোনো খুঁত খুঁজে না পেলেও দলটির শক্তির জায়গাগুলো ঠিকই চিহ্নিত রাংনিক। চ্যালেঞ্জটা পাহাড়সম হলেও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর ভরসা রাখছেন তিনি। 

সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে চমক উপহার দিতে চান রাংনিক, ‘আমাদের খুব কৌশলী ও সাহসী হতে হবে। সেরা খেলাটাই খেলতে হবে। একটা চমক হতে পারে। ম্যাচ ড্র হতে পারে, এমনকি আমরা জিতেও যেতে পারি। ফুটবলে সবই সম্ভব।’

ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা মেসির গোলসংখ্যা এখন ১৬। আর একটি গোল করলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলের মালিক বনে যাবেন তিনি। সেটা হতে পারে আজ রাতেই।

তবে রাংনিক মনে করেন, শুধু মেসিকে নিয়ে পড়ে থাকলে ভুল হবে, ‘প্রতিটি পজিশনেই আর্জেন্টিনা অসাধারণ। তাদের শুধু মেসি নয়, আরো অনেকেই আছে।’

বিশ্বকাপে প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন সেশনে অংশ নিলেন নেইমার

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন সেশনে অংশ নিলেন নেইমার

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম দুই ম্যাচে ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে না উঠায় একটিতেও মাঠে নামতে পারেনি ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। তিনি ডান পায়ের পেশির ইনজুরিতে ভুগছেন। তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নামার আগে দলের সঙ্গে প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছেন নেইমার। অনুশীলনে নেইমারকে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সতীর্থ ও ফ্ল্যামেঙ্গো মিডফিল্ডার লুকাস পাকুয়েটা।

ফ্ল্যামেঙ্গো মিডফিল্ডার লুকাস পাকুয়েটা নেইমারের ফিরে আসা প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘তাকে দলে পেয়ে, অনুশীলনে পেয়ে আমরা সবাই দারুন খুশি। আমাদের জাতীয় দলের জন্য নেইমার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। জাতীয় দলে তার অসাধারণ অবদান রয়েছে। এখনো সে দলের জন্য অনেক কিছুই করতে পারে। আমরা তার জন্য অনেক খুশি। তাকে দলে পেয়ে দলের অন্যরা সবাই খুশি। আশা করছি যত দ্রুত সম্ভব সে মাঠে ফিরবে এবং যতটা সম্ভব আমাদের সহযোগিতা করবে।’

আগামী বুধবার ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেন্সে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের গ্রুপ-সি’র শেষ ম্যাচে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন সান্তোসের এই ফরোয়ার্ড।

সর্বশেষ গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে ম্যাচ খেলেছেন নেইমার। তার সুস্থ হয়ে দলে ফিরে আসা ব্রাজিলের জন্য বিশাল অনুপ্রেরণার। এখনো পর্যন্ত ব্রাজিলের হয়ে ১২৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭৯ গোল করেছেন নেইমার। 

এ নিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে প্রথম বড় কোনো শিরোপা জয়েরও আশায় আছেন তিনি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ২০০২ সালের পর বিশ্ব মঞ্চে শিরোপা হাতে নিতে পারেনি।  

নেইমারের জন্য বিশ্বকাপ জয়ের এবারই শেষ সুযোগ কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে পাকুয়েটা বলেন, ‘আমি সেটাই মনে করি। আমাদের খেলোয়াড়রা পাঁচ তারকা নিয়ে দারুণ গর্বিত।

কিন্তু অবশ্যই এই দলের সবার স্বপ্ন নিজেরা একটি বিশ্বকাপ জয় করবে। আমরা সবাই চাই সেই স্বপ্ন সত্যি হোক। আর সেটা সফল করতে সবাই যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।’

দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-সি’র শীর্ষে অবস্থান করছে ব্রাজিল। তিন পয়েন্ট নিয়ে পরের দুই অবস্থানে আছে যথাক্রমে মরক্কো ও স্কটল্যান্ড।

ইনজুরি কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন ইংলিশ তারকা

ক্রীড়া ডেস্ক
ইনজুরি কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন ইংলিশ তারকা

প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে ইংল্যান্ড। চোট নিয়ে কিছু সমস্যা থাকায় সেরা একাদশ নামাতে পারেনি ইংল্যান্ড দলের হেড কোচ থমাস টুখেল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দলের সেরা খেলোয়াড় উইঙ্গার বুকায়ো সাকা দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন।

পেশির ইনজুরির কারণে গত শনিবার থেকে সাকা ব্যক্তিগত অনুশীলনে ছিলেন। কয়েক মাস ধরে আর্সেনালের হয়ে ঘরোয়া মৌসুমে এই ইনজুরি তাকে বেশ ভুগিয়েছে। 

ইংল্যান্ড দলের হেড কোচ থমাস টুখেল জানিয়েছেন পানামার বিপক্ষে গ্রুপ-এল’র শেষ ম্যাচের আগে তিনি রাইট উইঙ্গার সাকার ফিটনেস নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন। যদিও রোববার অনুশীলনে সাকা নিজের ফিটনেস প্রমাণ করেছেন। 

এ সম্পর্কে টুখেল বলেন, ‘আমি ফিজিও ডিপার্টমেন্টের কেউ নই। কিন্তু তিনি অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। যে কারণে আশাবাদী হওয়াই যায়। আমি মনে করি গত কয়েক বছর সাকা ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক আসর মিলিয়ে প্রচুর ম্যাচ খেলেছে। আর্সেনালের হয়ে সে লিগ শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সে একজন অত্যন্ত উঁচু মানের খেলোয়াড় এবং তার প্রভাব মাঠে পুরো দলের ওপর পড়ে। সেটা আর্সেনাল কিংবা ইংল্যান্ড, যে দলই হোক না কেন। সবাই জানে দলের জন্য সে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তার মতো খেলোয়াড়ের দলে প্রয়োজন রয়েছেন। এই ধরনের খেলোয়াড়কে সবসময়ই খেলানোর জন্য প্রস্তুত রাখতে হয়। আমরা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।’

একটি সূত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছে টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় সাকা ইংল্যান্ডের দলীয় ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছেন। ডালাসে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-২ গোলে জয়ের প্রথম ম্যাচে সাকা শেষ ১৮ মিনিট মাঠে ছিলেন। তার স্থানে আর্সেনাল সতীর্থ নোনি মাদুয়েকেকে মূল একাদশে খেলানো হয়। 

আগামীকাল ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবোরো স্টেডিয়ামে ঘানার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। এরপর ২৭ জুন পানামার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলবে।

রাস্তায় ঘুমানো আলীরেজাই ইরানের নায়ক

রাস্তায় ঘুমানো আলীরেজাই ইরানের নায়ক

অনেকেই ভেবেছিলেন ৪৮ দলের বিশ্বকাপ একঘেয়ে হবে। তাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে চলেছে ফিফা বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্বের শেষ দিকে এসে ছোট দেশগুলোর গোলরক্ষকদের অসাধারণ পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই মন জয় করে নিয়েছে। কেপ ভার্দের ভোজিনহা ও কুরাসাওয়ের এলয় রুমের পর এবার আলোচনায় ইরানের গোলরক্ষক আলীরেজা বেইরানভান্দ। একসময় যাঁর ঠিকানা ছিল ফুটপাতে। জীবিকা ছিল রাস্তা পরিচ্ছন্নের কাজ। সেই আলীরেজা ইরানের স্বপ্নের সওদাগর। তাঁর ‘বীরত্বে’ই বেলজিয়ামকে রুখে দিয়েছে ইরান। 

গেল রবিবার সোফাই স্টেডিয়ামে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ৯ নম্বর দল বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ইরানের। সাত সেভে দলের নায়ক আলী রেজা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচের সেরা তিনিই। 

অনেকেই হয়তো জানেন না, তাঁর আত্মত্যাগের গল্প। ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের দরিদ্র যাযাবর কুর্দি লাক পরিবারে জন্ম। ছোটবেলা কেটেছে চরম অভাবের মধ্যে। তাই ছেলে ফুটবল খেলুক, চাইত না পরিবার। কিন্তু কেবল স্বপ্ন দেখাই নয়, স্বপ্নপূরণ করতে মরিয়া আলীরেজা কিশোর বয়সেই বাড়ি থেকে পালিয়ে তেহরান চলে যান।

চকমকি পাথর দেখলে চোখ যেমন ধাঁধিয়ে যায়, রাজধানীতে এসে অনেকটা তেমনই অবস্থা হয়েছিল তাঁর। নতুন শহর। নতুন পরিবেশ। সব কিছুই অচেনা। আশ্রয়ের জায়গা নেই! মাসের পর মাস ফুটবল ক্লাবের বাইরে ফুটপাথে রাত কাটিয়েছেন। মনে করতেন, যদি ঠান্ডায় জমেই যেতে হয়, তাহলে ঘাসের কাছাকাছি থাকাই ভালো। দু’বেলা দু’মুঠো খাওয়ার জন্য ঝাড়ুদারের কাজ করেছেন। কখনও গাড়ি ধোয়া, টায়ার পরিষ্কারের কাজ। কখনও পোশাক কারখানা কিংবা পিৎজার দোকানে কাজ করতে হয়েছে। 

ছোটবেলায় ভেড়া চরানোর সময় ‘দালপারান’ নামে এক স্থানীয় খেলায় পাথর ছোড়ার অভ্যাসই গড়ে তুলেছিল শারীরিক শক্তি। ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘতম থ্রো ও দীর্ঘতম ড্রপ কিকের জন্য বিশ্ব রেকর্ডের মালিক বেইরানভান্দ। 

২০১৬ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ৬১.০০২ মিটার (২০০.১৪ ফুট) দূরে থ্রো করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। এ ছাড়া তাঁর দীর্ঘতম ড্রপ কিকের দূরত্ব ৭৮.০১৪ মিটার (২৫৫.৯৫ ফুট)। যা আজও ফুটবলপ্রেমীদের বিস্মিত করে। এককথায়, এই কীর্তি সত্যিই অবিশ্বাস্য!

তবে বেলজিয়াম ম্যাচে দূরপাল্লার থ্রো নয়, আলোচনায় দুর্ভেদ্য গোলকিপিং। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে ইরানকে এনে দিয়েছেন মূল্যবান এক পয়েন্ট। 

এদিকে মাঠের বাইরেও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি ইরান। রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও ভিসা জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বেস ক্যাম্প করতে পারেনি তারা। 

মেক্সিকোতে অনুশীলন করে ম্যাচের আগে আমেরিকা ঢুকতে হচ্ছে দলটিকে। এত বাধার মাঝেও লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে ‘টিম মেল্লি’। দুই ম্যাচে দুই পয়েন্ট নিয়ে এখনো নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ইরান। সেই স্বপ্নের সওদাগর আলীরেজা। তাঁর জীবনের গল্পই এখন উদাহরণ।