• ই-পেপার

করোনায় অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়াকে দুর্যোগপূর্ণ রাজ্য ঘোষণা

সিয়াকে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে পুলিশ, অপরাধের দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণের চেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
সিয়াকে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে পুলিশ, অপরাধের দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণের চেষ্টা
কেতন ও সিয়া। ছবি : সংগৃহীত

সিয়া গোয়েল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলেই সুপরিকল্পিতভাবে পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে লোহাগড় দুর্গে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এটা নিশ্চিত হয়েছে। পুলিশ এখন এ ঘটনায় কার দায় কতটুকু, মোটিভ কী, পেছনে আর কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না, আর কেউ জড়িত আছে কি না, পুরনো মেসেজ বা ছবি দিয়ে চেতন সিয়াকে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন কি না—এসব সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয় খতিয়ে দেখছে।

পাশাপাশি পুলিশ অভিযুক্তদের জবানবন্দি, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, অভিযুক্তদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ—সব এক সুতায় গেঁথে ষড়যন্ত্র থেকে হত্যা পর্যন্ত পুরো ঘটনার দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে রবিবার প্রধান অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ।

১৮ জুন পুনের লোহাগড় দুর্গে ঠিক কী ঘটেছিল, কে, কখন, কিভাবে কেতন আগরওয়ালকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল, কিভাবে ধাক্কা দিয়েছিল; তা সঠিকভাবে জানতে অপরাধের দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণ করতেই সিয়াকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল।

পুনে গ্রামীণ পুলিশের সুপারিন্টেনডেন্ট সন্দীপ সিং গিল জানান, ‘অভিযুক্তদের লোহাগড় দুর্গে, বিশেষ করে যে স্থানে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অপরাধের দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণের জন্য। ঘটনার পুরো ধারাবাহিকতা আবার তৈরি করা হচ্ছে। তারা কোন পথ ব্যবহার করেছিল, অভিযুক্তরা কোথায় অবস্থান নিয়েছিল, তারা ঠিক কী করেছিল এবং ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছিল। অভিযুক্তরা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে।’

এর আগে শুক্রবার লোহাগড় দুর্গের ঘটনাস্থল থেকে একটি মানব আকৃতির বস্তু ফেলে ঘটনা পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করে পুলিশ। এরপর সিয়া গোয়েলের প্রেমিক চেতন চৌধুরীকেও আলাদাভাবে ঘটনাস্থলে নেওয়া হবে। তারপর দুজনের দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।

সিয়াকে নিয়ে ঘটনাস্থলে অপরাধের দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়াটি পুলিশ ভিডিও করেছে। পুলিশের তদন্ত ও নিরাপত্তার স্বার্থে রবিবার লোহাগড় দুর্গে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ শনিবার লোনাভালা গ্রামীণ থানায় সিয়ার বাবা প্রবীণ গোয়েল, মা পূজা গোয়েল ও ভাই সাহিল গোয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সকাল ১১টার দিকে গোয়েল পরিবার থানায় পৌঁছায় এবং প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এর আগে শুক্রবারও সাহিলকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এ ছাড়া সিয়া ও কেতনের বিয়ের মধ্যস্থতাকারী মিত্তাল পরিবারকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে।

কেতন আগরওয়াল হত্যার ঘটনায় তার পিতা বিশাল আগরওয়াল গত ২৩ জুন লোনাভানা থানায় এফআইআর দায়ের করেন। এফআইআরে বলা হয়, কেতন সম্প্রতি তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে সিয়া অস্বাভাবিক আচরণ করছেন, খামখেয়ালিপনা করছেন এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে ঝগড়া করছেন।

গত ৪ জুন লোহাগড় দুর্গে যেতে চেয়েও যেতে না পারায় ক্ষুব্ধ ছিলেন সিয়া। সিয়া তাকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যেতে কেতনের ওপর ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিলেন। কেতনের পরিবার তাকে ১৮ জুন লোহাগড় যেতে দিতে চায়নি। ১৭ জুন রাতে সিয়া গোয়েল কেতন আগরওয়ালকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে তার জন্মদিন উপলক্ষে লোহাগড় নিয়ে যেতে চাপাচাপি করেন এবং তার পরিবারকে রাজি করাতে বলেন। পরে সিয়া নিজেই তার হবু শাশুড়ি রাঁখি আগরওয়ালকে ফোন করে রাজি করান।

এফআইআরে বলা হয়, ১৮ জুন সকালে কেতন আগরওয়াল বাড়ি থেকে বের হন এবং পুনে-মুম্বাই মহাসড়কের কিওয়ালে সেতু থেকে সিয়া গোয়েলকে গাড়িতে তুলে নিয়ে লোহাগড় যান। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সিয়া গোয়েল তার হবু শাশুড়িকে ফোন করে জানান, ছবি তুলতে গিয়ে কেতন অসাবধানতাবশত লোহাগড় দুর্গের একটি খাদে পড়ে গেছেন।

এফআইআরে বলা হয়, ঘটনার তিন দিন পর গত ২১ জুন কেতন আগরওয়ালের বাবা এবং আত্মীয়-স্বজনরা যেখান থেকে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন, ঠিক সেই জায়গাটি পরিদর্শন করেন। তাদের মনে হয়েছে, ওই স্থান থেকে দুর্ঘটনাবশত পা পিছলে পড়ে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

এদিকে কেতনের খুনিদের বিচারের দাবিতে মোমবাতি মিছিল করেছে পুনের গাহুঞ্জে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। আগরওয়াল পরিবার গাহুঞ্জে এলাকায় বসবাস করে। মিছিলে  অংশ নিয়ে কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল বলেন, ‘আমাদের ছেলের হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’

তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের নির্ভয়ে এগিয়ে এসে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

মহারাষ্ট্রে প্রাক-স্কুলে ২৩ মাসের শিশুকে ২৫ বার কামড়াল অন্যজন, অতঃপর...

অনলাইন ডেস্ক
মহারাষ্ট্রে প্রাক-স্কুলে ২৩ মাসের শিশুকে ২৫ বার কামড়াল অন্যজন, অতঃপর...

ভারতের মহারাষ্ট্রে একটি প্রাক-স্কুলে চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। স্কুলটিতে তত্ত্বাবধানহীন অবস্থায় শ্রেণিকক্ষে তিন শিক্ষার্থীকে রেখে যাওয়া হয়। তার পরই কক্ষে থাকা ২৩ মাস বয়সী শিশুকে ১৫ মিনিটের ব্যবধানে অন্য আরেক শিশু ২৫ বার কামড় ও মারধর করে। এমন একটি ভিডিও নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। এতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিেয়েছেন নেটিজেনরা। প্রাক-স্কুলের এমন ঘটনায় আতঙ্কিক অভিভাবকরা।

ঘটনাটি ঘটে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের সিডকো এন-১ এলাকায় অবস্থিত ফার্স্টক্রাই ইন্টেলিটটস প্রাক-স্কুলে ঘটে। 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২২ জুন ডে-কেয়ারের একজন আয়া কক্ষে থাকা চার শিশুর মধ্যে একজনকে নিয়ে বাইরে যান এবং বাকি তিন শিশুকে তালাবদ্ধ করে রেখে যান।

কোনো প্রাপ্তবয়স্ক তত্ত্বাবধায়ক না থাকার কারণে শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে আড়াই বছর বয়সী একটি শিশু প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ওই ২৩ মাস বয়সী শিশুটিকে ক্রমাগত কামড়ায় ও মারধর করে।। তখন মারধরের শিকার শিশুটি উচ্চস্বরে কান্না করতে থাকে। 

কক্ষে থাকা আরেক শিশু বাধা দিলে তাকে মারধর করে ওই আড়াই বছরের শিশুটি। এভাবে কক্ষের ছোট শিশুরা অন্তত ৩০ মিনিট ধরে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর তত্ত্বাবধান ছাড়াই ছিল।

পরে শিশুটির মুখমণ্ডল, ঠোঁট, বুক, পিঠ এবং পায়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় বলে জানা যায়। 

ঘটনাটি জানার পর মারধরের শিকার শিশুটির অভিভাবক থানায় অভিযোগ করে। পরে অভিযোগটিকে পুলিশ আমলে নিয়ে প্রাক-স্কুলটির সিইও শুভম মহেশ্বরী, প্রিন্সিপাল কাঞ্চন ইয়াওয়ালে, দুজন ম্যানেজার এবং সংশ্লিষ্ট আয়ার বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত করে।

ভুক্তভোগী শিশুর মা-বাবারা অভিযোগ করেন, প্রাক-স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথমে ঘটনাটি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে। এগুলোকে সাধারণ স্ক্র্যাচ বা আঁচড় বলে চালিয়ে দিতে চায়। পরবর্তীতে মামলা না করার জন্য পরিবারটিকে ১০ লাখ টাকা এবং ৩ বছরের বিনা মূল্যে শিক্ষার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় মহারাষ্ট্রে জুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রাক-বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের স্কুলগুলোতে আরো কঠোর নিয়মকানুন এবং কড়া নজরদারির জন্য নতুন করে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এবিষয়ে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়শ্রী চবনে জানিয়েছেন,প্রি-স্কুলটি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলায় স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়ার আদেশ জারি করা হয়েছে। 

এদিকে তদন্তে দেখা গেছে, ওই  প্রি-স্কুলটির প্রয়োজনীয় কোন লাইসেন্স ছিল না। ঘটনার পর স্কুলটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে এবং পৃথক তদন্ত শুরু করেছে শিক্ষা দপ্তর।

দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা, বাড়ছে উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক
দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা, বাড়ছে উদ্বেগ
সংগৃহীত ছবি

কোরীয় উপদ্বীপে আবার অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যাচ্ছে। গত সপ্তাহে সমরাস্ত্রের সক্ষমতা বাড়াতে উত্তর কোরিয়ার একাধিক উদ্যোগের পর দক্ষিণ কোরিয়াও আধুনিক ড্রোন বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। চির বৈরী দুই কোরিয়ার এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

গত মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার বন্দর নগরী নামফোতে ৫ হাজার টন শ্রেণির বহুমুখী ধ্বংসাত্মক যুদ্ধজাহাজ ‘চো হাইওন’-এর কমিশনিং অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সাজানোর ঘোষণা দেন। ৫ হাজার টনের দুটি যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির পর উত্তর কোরিয়া একের পর এক ১০ হাজার টনের যুদ্ধজাহাজ বানানোর পরিকল্পনা করছে।

তার এক দিন পর গত বৃহস্পতিবার কিম জং উনের উপস্থিতিতে উত্তর কোরিয়া উন্নত সংস্করণের রকেট আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এটি দেশটির পাঁচ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ।

এ অনুষ্ঠানে কিম বলেন, ‘বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে কেবল শক্তিতে পূর্ণ আধিপত্য থাকলেই সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা আমাদের জাতীয় কৌশলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

এর আগে এ মাসের শুরুতে  উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক বোমার জ্বালানি ইউরেনিয়াম তৈরির একটি নতুন কারখানা জনসমক্ষে এনেছে।

উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসী সামরিক তৎপরতা উদ্বিগ্ন করেছে দক্ষিণ কোরিয়াকে। তবে তারাও বসে নেই। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির জবাবে তারা ড্রোনের সংখ্যা ও কার্যপাল্লা ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। 

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনী ৫ লাখ যোদ্ধাকে প্রশিক্ষিত ড্রোন যোদ্ধা হিসেবে গড়ে পরিকল্পনা করছে। তাদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা ড্রোনকে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের মতো ব্যবহার করতে পারবেন। 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর সামনের সারির ইউনিটগুলোতে ১০ হাজার ড্রোন বিতরণ করা হবে। পযায়ক্রমে ড্রোনের ব্যবহার আরো বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ড্রোন শুধু কয়েকটি বিশেষ ইউনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রতিটি সৈন্যের জন্য এটি রাইফেলের মতো দ্বিতীয় ব্যক্তিগত অস্ত্র হওয়া উচিত। কম খরচের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার যুদ্ধের ধরন বদলে দিচ্ছে।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি এবং জাপানি উপনিবেশ থেকে কোরিয়া উপদ্বীপ মুক্ত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় নতুন জটিলতা। বিশ্বের দুই পরাশক্তি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোরিয়ার দুই অংশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। উত্তর অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন, দক্ষিণ যায় যুক্তরাষ্ট্রের কব্জায়। 

১৯৪৮ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠিত হয় রিপাবলিক অব কোরিয়া বা দক্ষিণ কোরিয়া, পরের মাস মানে সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয় ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অফ কোরিয়া বা উত্তর কোরিয়া।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক বৈরী। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পযন্ত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যান। যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সে যুদ্ধ থামলেও কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি। তাই কাগজে কলমে দুই কোরিয়া এখনো যুদ্ধে লিপ্ত। বিভিন্ন সময়ে শান্তি আলোচনা বা দুই কোরিয়াকে একত্র করার উদোগ নেওয়া হলেও কোনোটাই সফল হয়নি। বরং মাঝে মাঝেই যুদ্ধংদেহী অবস্থান কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা ছড়ায়।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি
ছবি : রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে এই যৌথ অভিযান চালায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সম্প্রতি ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন হামলার জবাবে রবিবার (২৮ জুন) ভোরে তারা এই পাল্টা আঘাত হানে। আইআরজিসি-র নৌবাহিনী এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন হামলা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে পারবে না। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো নরকীয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। এ ছাড়া ওয়াশিংটনের যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে বলেও তারা ঘোষণা করেছে

এই ঘটনার পর দুই সপ্তাহের মাথায় দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তেহরানকে সতর্ক করেছেন যে, নতুন করে সংঘাত বাড়লে ইরানের অস্তিত্ব চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছে, শনিবার (২৭ জুন) হরমুজ প্রণালির কাছে সিরিক দ্বীপে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতকেন্দ্র এবং রাডার সাইটে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে ২০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী একটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবেই তারা এই সামরিক অ্যাকশন নিয়েছিল। কুয়েতের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করছে। তবে মার্কিন ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে লেখেন, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে মার্কিন বিমানগুলো আবারও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সাইটগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এমন একটা সময় আসতে পারে যখন আমরা আর যুক্তিসঙ্গত থাকতে পারব না এবং সামরিকভাবে কাজটি পুরোপুরি শেষ করতে বাধ্য হব। আর তেমনটা হলে, ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না!’ বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

করোনায় অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়াকে দুর্যোগপূর্ণ রাজ্য ঘোষণা | কালের কণ্ঠ