• ই-পেপার

মহারাষ্ট্রে প্রাক-স্কুলে ২৩ মাসের শিশুকে ২৫ বার কামড়াল অন্যজন, অতঃপর...

‘ধর্মীয় অবমাননা’ অভিযোগ, ১৫ দিন সম্প্রচার বন্ধ জিও নিউজের

অনলাইন ডেস্ক
‘ধর্মীয় অবমাননা’ অভিযোগ, ১৫ দিন সম্প্রচার বন্ধ জিও নিউজের
ছবি : রয়টার্স

পাকিস্তানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে দেশটির শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘জিও নিউজে’র সম্প্রচার লাইসেন্স ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পাকিস্তানের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা (পিইএমআরএ) এই নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ জুন জিও নিউজে পবিত্র মুহাররম মাস সম্পর্কিত ‘সফর-ই-ইশকে’ নামক একটি বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে কিছু দৃশ্য প্রদর্শন করা হয় যা দর্শকদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। এতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিতের ঝুঁকি তৈরি হয় বলে জানিয়েছে পিইএমআরএ।

এদিকে  রবিবার (২৮জুন) জিও নিউজ এক বিবৃতিতে ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছে, প্রচারিত বিষয়বস্তুটি ভুলবশত সম্প্রচারিত হয়েছিল। এটি চ্যানেলটির সম্পাদকীয় অবস্থান বা বিশ্বাসের প্রতিফলন নয়।

পাকিস্তানের অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলটি আরো জানিয়েছে, প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়বস্তুটি তাদের সব প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, মারকাজি জমিয়ত আহলে হাদিসের প্রধান ইবতিসাম জহির এই অভিযোগটি দায়ের করেন।

তারই প্রেক্ষিতে গত ২৭ জুন রাতে পিইএমআরএ এই স্থগিতাদেশের নোটিশ জারি করে। এতে স্যাটেলাইট, ক্যাবল নেটওয়ার্কসহ সব ধরনের ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যাটফর্মে জিও নিউজের সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি আরো পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং আইনি ব্যবস্থার জন্য পিইএমআরএর কাউন্সিল অফ কমপ্লেন্টস বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

জিও নিউজ কর্তৃপক্ষকে তাদের সম্পাদকীয় ও মনিটরিং গাফিলতি খতিয়ে দেখতে একটি নিজস্ব অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানে ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়টি অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় । ইতিপূর্বেও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এই ধরনের সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের (আরএসএফ) ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে পাকিস্তানের অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫৩তম।

সৌদি তেল কম্পানির হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ১৪

অনলাইন ডেস্ক
সৌদি তেল কম্পানির হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ১৪

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কম্পানি আরামকোর হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে ১৪ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির সরকারি সংবাদসংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।  

রবিবার (২৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে পারস্য উপসাগরে সৌদি আরবের পূর্ব উপকূলের রাস তানুরা নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। 

সৌদি প্রেস এজেন্সি আরো জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ অজানা। নিহত সবাই সৌদি নাগরিক বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর অংশগ্রহণে  পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।

দীর্ঘ চার মাস বন্ধ থাকার পর গত শুক্রবার (২৬ জুন) থেকেই রাস তানুরা টার্মিনালে আরামকো তাদের অপরিশোধিত তেল লোডিংয়ের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছিল। এর দুই দিনের মাথায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটল।

ফ্রান্সে স্কাইডাইভিং স্কুলের বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১১

অনলাইন ডেস্ক
ফ্রান্সে স্কাইডাইভিং স্কুলের বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১১
ছবি : রয়টার্স

ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় টমব্লেইন শহরের স্কাইডাইভিং স্কুলের বেসামরিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাইলটসহ ১০ জন আরোহী নিহত হয়েছে। নিহত ১০ জন যাত্রীর মধ্যে ৫ জন স্কাইডাইভিংয়ের শিক্ষার্থী এবং ৫ জন প্রশিক্ষক ছিলেন। 

রবিবার (২৮ জুন) স্থানীয় সময় ১১টার দিকে বিমানটি ন্যান্সি-এসে বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই বিমানবন্দরের ঠিক পাশে টমব্লেইন শহরের একটি সড়কের ওপর আছড়ে পড়ে। বিমানের ভেতরে থাকা ১১ জনই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। এতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজের স্বার্থে স্থানীয় সাধারণ জনগণকে বিমানবন্দরের চারপাশের এলাকা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আলজাজিরা আরো জানায়, বিমানটিতে স্কাইডাইভিং করতে যাওয়া একদল লোক ছিল।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানের জন্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও তদন্তের কাজ শুরু করেছে।

সিয়াকে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে পুলিশ, অপরাধের দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণের চেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
সিয়াকে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে পুলিশ, অপরাধের দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণের চেষ্টা
কেতন ও সিয়া। ছবি : সংগৃহীত

সিয়া গোয়েল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলেই সুপরিকল্পিতভাবে পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে লোহাগড় দুর্গে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এটা নিশ্চিত হয়েছে। পুলিশ এখন এ ঘটনায় কার দায় কতটুকু, মোটিভ কী, পেছনে আর কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না, আর কেউ জড়িত আছে কি না, পুরনো মেসেজ বা ছবি দিয়ে চেতন সিয়াকে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন কি না—এসব সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয় খতিয়ে দেখছে।

পাশাপাশি পুলিশ অভিযুক্তদের জবানবন্দি, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, অভিযুক্তদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ—সব এক সুতায় গেঁথে ষড়যন্ত্র থেকে হত্যা পর্যন্ত পুরো ঘটনার দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে রবিবার প্রধান অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ।

১৮ জুন পুনের লোহাগড় দুর্গে ঠিক কী ঘটেছিল, কে, কখন, কিভাবে কেতন আগরওয়ালকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল, কিভাবে ধাক্কা দিয়েছিল; তা সঠিকভাবে জানতে অপরাধের দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণ করতেই সিয়াকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল।

পুনে গ্রামীণ পুলিশের সুপারিন্টেনডেন্ট সন্দীপ সিং গিল জানান, ‘অভিযুক্তদের লোহাগড় দুর্গে, বিশেষ করে যে স্থানে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অপরাধের দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণের জন্য। ঘটনার পুরো ধারাবাহিকতা আবার তৈরি করা হচ্ছে। তারা কোন পথ ব্যবহার করেছিল, অভিযুক্তরা কোথায় অবস্থান নিয়েছিল, তারা ঠিক কী করেছিল এবং ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছিল। অভিযুক্তরা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে।’

এর আগে শুক্রবার লোহাগড় দুর্গের ঘটনাস্থল থেকে একটি মানব আকৃতির বস্তু ফেলে ঘটনা পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করে পুলিশ। এরপর সিয়া গোয়েলের প্রেমিক চেতন চৌধুরীকেও আলাদাভাবে ঘটনাস্থলে নেওয়া হবে। তারপর দুজনের দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।

সিয়াকে নিয়ে ঘটনাস্থলে অপরাধের দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়াটি পুলিশ ভিডিও করেছে। পুলিশের তদন্ত ও নিরাপত্তার স্বার্থে রবিবার লোহাগড় দুর্গে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ শনিবার লোনাভালা গ্রামীণ থানায় সিয়ার বাবা প্রবীণ গোয়েল, মা পূজা গোয়েল ও ভাই সাহিল গোয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সকাল ১১টার দিকে গোয়েল পরিবার থানায় পৌঁছায় এবং প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এর আগে শুক্রবারও সাহিলকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এ ছাড়া সিয়া ও কেতনের বিয়ের মধ্যস্থতাকারী মিত্তাল পরিবারকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে।

কেতন আগরওয়াল হত্যার ঘটনায় তার পিতা বিশাল আগরওয়াল গত ২৩ জুন লোনাভানা থানায় এফআইআর দায়ের করেন। এফআইআরে বলা হয়, কেতন সম্প্রতি তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে সিয়া অস্বাভাবিক আচরণ করছেন, খামখেয়ালিপনা করছেন এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে ঝগড়া করছেন।

গত ৪ জুন লোহাগড় দুর্গে যেতে চেয়েও যেতে না পারায় ক্ষুব্ধ ছিলেন সিয়া। সিয়া তাকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যেতে কেতনের ওপর ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিলেন। কেতনের পরিবার তাকে ১৮ জুন লোহাগড় যেতে দিতে চায়নি। ১৭ জুন রাতে সিয়া গোয়েল কেতন আগরওয়ালকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে তার জন্মদিন উপলক্ষে লোহাগড় নিয়ে যেতে চাপাচাপি করেন এবং তার পরিবারকে রাজি করাতে বলেন। পরে সিয়া নিজেই তার হবু শাশুড়ি রাঁখি আগরওয়ালকে ফোন করে রাজি করান।

এফআইআরে বলা হয়, ১৮ জুন সকালে কেতন আগরওয়াল বাড়ি থেকে বের হন এবং পুনে-মুম্বাই মহাসড়কের কিওয়ালে সেতু থেকে সিয়া গোয়েলকে গাড়িতে তুলে নিয়ে লোহাগড় যান। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সিয়া গোয়েল তার হবু শাশুড়িকে ফোন করে জানান, ছবি তুলতে গিয়ে কেতন অসাবধানতাবশত লোহাগড় দুর্গের একটি খাদে পড়ে গেছেন।

এফআইআরে বলা হয়, ঘটনার তিন দিন পর গত ২১ জুন কেতন আগরওয়ালের বাবা এবং আত্মীয়-স্বজনরা যেখান থেকে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন, ঠিক সেই জায়গাটি পরিদর্শন করেন। তাদের মনে হয়েছে, ওই স্থান থেকে দুর্ঘটনাবশত পা পিছলে পড়ে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

এদিকে কেতনের খুনিদের বিচারের দাবিতে মোমবাতি মিছিল করেছে পুনের গাহুঞ্জে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। আগরওয়াল পরিবার গাহুঞ্জে এলাকায় বসবাস করে। মিছিলে  অংশ নিয়ে কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল বলেন, ‘আমাদের ছেলের হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’

তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের নির্ভয়ে এগিয়ে এসে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান।