kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

বিজ্ঞানীদের আশংকা

মহাপ্রলয়ী এক বার্ড ফ্লু মানবজাতির অর্ধেক নিশ্চিহ্ন করতে পারে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩১ মে, ২০২০ ১০:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহাপ্রলয়ী এক বার্ড ফ্লু মানবজাতির অর্ধেক নিশ্চিহ্ন করতে পারে?

মাত্র পাঁচ মাসে বিশ্বব্যাপী ৩ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে করোনাভাইরাস। তবে সামনে এমন কিছু  ঘটতে পারে তার তুলনায় এটি কিছুই নয়।

'কীভাবে মহামারি থেকে বেঁচে যাবেন'-শীর্ষক নতুন বইয়ে বিজ্ঞানী ও চিকিত্সক ড. মাইকেল গ্রেগর সতর্ক করেছেন যে, উপচে পড়া ভিড় এবং অস্বাস্থ্যকর মুরগির খামার থেকে উদ্ভূত একটি 'অ্যাপোকেলিপ্টিক' ভাইরাসে মানব জাতির অর্ধেক নিশ্চিহ্ন হ্ওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি একবার 'মাংসের মানহানি' নামক মামলার বিচারে ওপরাহ উইনফ্রের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। 

গ্রেগর লিখেছেন, মহামারির ‘হারিকেন স্কেলে’ কোভিড -১৯ এর মৃত্যুর হার এক শতাংশের প্রায় অর্ধেক।

চলতি মাসের শুরুর দিকে পরিবেশবিদরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, আমরা বন্যজীবনের (ওয়াইল্ড লাইফ) সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখলে বিশ্ব আরও একটি কঠিন মহামারির মুখোমুখি হবে।

গ্রেগর এ বিষয়ে মুরগির ওপর দোষকে পুরোপুরি চাপিয়ে দিয়েছেন।

গ্রেগর লিখেছেন, অতি মহামারিতে মানুষ থেকে একটি ভাইরাস বিস্ফোরকভাবে অপর মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।  

১৯২০ সালে পাখি থেতে উদ্ভূত স্প্যানিশ ফ্লু এবং ১৯৯৭ সালের হংকংয়ের এইচ৫এন১ এর প্রাদুর্ভাবের কথা উল্লেখ করে গ্রেগর লিখেছেন, উদ্বেগটি হলো ভাইরাস কখনো স্থির হয় না, সর্বদা পরিবর্তিত হয়।… এটি সেই দানব যা গোপনে লুকিয়ে থাকে, যা মহামারিবিদদেরকে কাঁপিয়ে তোলে। 

পাখির বাজার থেকে উদ্ভূত হংকংয়ের প্রাদুর্ভাবের কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে মারাত্মক মহামারি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।তারা বলছেন, হংকংয়ের প্রাদুর্ভাব তিন বছরের এক বালকের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল,যার গলা এবং পেটের ব্যথা এমন একটি রোগে পরিণত হয়েছিল যা তার রক্তকে কুঁচকে দেয় এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে সে মারা যায়।

সে সময় মাত্র ১৮ জন এই ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ মারা গেছেন।

এই মহামারি চলাকালীন সরকার ভাইরাস নির্মূলের প্রয়াসে ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন মুরগি হত্যা করেছিল। তবে ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে চীনের বাইরে আরও দুটি প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।

কিন্তু পৃথিবীতে ২৪ বিলিয়নেরও বেশি মুরগি খাওয়া হয়; কী করা যায়?

গ্রেগর লিখেছেন, আমাদের পুরো ‘সিস্টেম’টি পরিবর্তন করতে হবে। বৃহত আকারের খামারগুলি থেকে দূরে অবস্থান করতে হবে। যেখানে মুরগিগুলিকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয় এবং একসাথে 'ক্র্যাম করা হয় সেখানে রোগগুলি সহজেই ছড়িয়ে পড়ে-ছোট, ’ফ্রি-রেঞ্জ’ ফার্মগুলিতে চলে যায়...এবং শেষ পর্যন্ত মুরগি বা হাঁস মোটেই খাওয়া যায় না।

তিনি লিখেছেন, যতক্ষণ হাঁস-মুরগির পোল্ট্রি থাকবে ততক্ষণ মহামারি থাকবে। শেষ পর্যন্ত এটি (জীবাণু) আমাদের বা তাদের আক্রমণ করতে পারে। 

সূত্র :  নিউ ইয়র্ক পোস্ট 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা