• ই-পেপার

বেলুচিস্তানে গুলি-বোমা, ৭ পাকিস্তানি সেনা নিহত

মার্কিন হামলায় ৭ ইরানি সেনা নিহত

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন হামলায় ৭ ইরানি সেনা নিহত
ছবি: রয়টার্স

মার্কিন হামলায় সাতজন ইরানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে বুধবার (১৫ জুন) জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত তীব্রতর হয়েছে।

সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সুদূর দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ইরানশাহর শহরের কাছে একটি সেনা ছাউনিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তারা নিহত হন। 

অন্যদিকে ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরান এক্স-কে বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশের দক্ষিণে চালানো হামলায় ৩০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।’ মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ পুনরায় আরোপ করেছে।

উভয় পক্ষের মধ্যে ১৭ জুনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেস্তে গেছে এবং এখন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণই মূল কেন্দ্রবিন্দু। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে বলেছেন, তেহরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে তিনি আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু লক্ষ্য করে মার্কিন হামলা আরো বাড়াবেন।
 

মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ, যা বললেন আহমাদিনেজাদ

অনলাইন ডেস্ক
মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ, যা বললেন আহমাদিনেজাদ
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তার। মোসাদ তাকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং তিনি বর্তমানে গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এই দাবিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন আহমাদিনেজাদ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদুলু এজেন্সির খবরে বলা হয়, মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি তার জনমতকে বিভ্রান্ত করতে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এমন মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে আহমাদিনেজাদের দপ্তর।

বিবৃতিতে আহমাদিনেজাদ গৃহবন্দি থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করে বলা হয়েছে, এ ধরনের দাবি অযৌক্তিক ও মনগড়া। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ প্রচারিত সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’

এর আগে সোমবার ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মোসাদ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আহমাদিনেজাদকে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা করতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল এবং তাকে ইরানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছিল। প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয় যে, সাবেক ইরানি এই প্রেসিডেন্ট গৃহবন্দি রয়েছেন।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে প্রাথমিক হামলার পর দেশটির শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ইসরায়েলের একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ ছিল এই পরিকল্পনা।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল গোপনে আহমাদিনেজাদকে বাসস্থান ও ভ্রমণের জন্য অর্থ প্রদান করেছে এবং ইসরায়েলি এজেন্টরা বিদেশে বেশ কয়েকবার তার সঙ্গে দেখা করেছে, যার মধ্যে বুদাপেস্ট সফরও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সংবাদমাধ্যমটির দাবি, এই প্রচেষ্টাটি ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে, ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি সংঘাতের শুরুর দিনগুলোতে চূড়ান্ত রূপ নেয়, যখন ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ইরানের সরকারকে উৎখাত করে আহমাদিনেজাদকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে তেহরান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় আহমাদিনেজাদের কম্পাউন্ডকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যেখানে তার দেহরক্ষীদের ব্যবহৃত একটি ভবন এবং তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত সাঁজোয়া যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, চারজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, হামলার পর একটি কালো পিউজো গাড়ি এসে সাবেক প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে একটি গোপন নিরাপদ বাড়িতে নিয়ে যায়।

অভিযানটির সঙ্গে পরিচিত আমেরিকান ও ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গাড়িটি চালাচ্ছিল মোসাদের সদস্যরা। গত সপ্তাহে, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আহমাদিনেজাদ, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসেন। তিনি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।

পাকিস্তান

বেলুচিস্তানের ৮৫% নিয়ন্ত্রণের দাবি, স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি চাইলেন বেলুচ নেতা

অনলাইন ডেস্ক
বেলুচিস্তানের ৮৫% নিয়ন্ত্রণের দাবি, স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি চাইলেন বেলুচ নেতা
ছবি : রয়টার্স

বেলুচ আন্দোলনের নেতা মীর ইয়ার বেলুচ দাবি করেছেন, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা এখন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বেলুচিস্তানকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

১৩ জুলাই তারিখের একটি চিঠি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মীর বেলুচ দাবি করেন, বেলুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, অঞ্চলটির জন্য একটি জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত তৈরি করা হয়েছে। ‘বেলুচি ফালুস’ নামে একটি মুদ্রাও চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসন ও নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

মীর বেলুচ আরো দাবি করেন, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো বেলুচিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সোনা ও তামার খনি, গ্যাসক্ষেত্র এবং কয়লাখনি।

চিঠিতে আরো দাবি করা হয়েছে, সামরিক, নৌ, বিমান ও বেসামরিক সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনী বেলুচিস্তানের প্রশাসন পরিচালনা করছে। তাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ অঞ্চল থেকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়া।

মীর ইয়ার বেলুচ আরো জানান, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত অনেক বেলুচ ও পশতুন সদস্য চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, কথিত ‘বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্র’কে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই রাষ্ট্র তার ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা উপকূল কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করতে দেবে না। তবে চিঠিতে করা এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পাকিস্তান সরকার বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এখন পর্যন্ত বেলুচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। 

এ ছাড়া অঞ্চলটির ওপর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কিন্তু তুলনামূলকভাবে কম জনবহুল প্রদেশ বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী সেখানে স্বাধীনতা বা আরো বেশি স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে।

তবে পাকিস্তান সরকার বেলুচিস্তানের ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌম কর্তৃত্বের দাবি করে। ইসলামাবাদ বরাবরই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সেখানে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। এ পর্যন্ত বিশ্বের কোনো দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বাধীন ‘বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্র’কে স্বীকৃতি দেয়নি। আন্তর্জাতিকভাবে বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অংশ হিসেবেই স্বীকৃত।

মোবাইল সেট উৎপাদনে ভারতের নতুন চমক

অনলাইন ডেস্ক
মোবাইল সেট উৎপাদনে ভারতের নতুন চমক
সংগৃহীত ছবি

সেমিকন্ডাক্টর তৈরি, ডিজাইন এবং উৎপাদন বাড়াতে এবার ১ দশমিক ২৮ ট্রিলিয়ন রুপি (প্রায় ১ হাজার ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার) নতুন বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে ভারতের মন্ত্রিসভা। এর ফলে দেশটিতে মোবাইল ফোন উৎপাদনে নতুন মাত্র যোগ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে কর্মসংস্থানও।

বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দেশটির সরকার জানিয়েছে, এই অর্থ সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির মেধাস্বত্ব (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) ও চিপ ডিজাইন উন্নয়ন, নতুন চিপ উৎপাদন কারখানা (ফ্যাব্রিকেশন প্ল্যান্ট) স্থাপন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কার্যক্রম জোরদারে ব্যয় করা হবে।

প্রায় পাঁচ বছর আগে ভারত ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। যার লক্ষ্য ছিল দেশটিকে বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। সেই কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১২টি উৎপাদন ইউনিট এবং ২৪টি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।

এদিকে মন্ত্রিসভা মোবাইল ফোন উৎপাদন বাড়াতে পাঁচ বছর মেয়াদি আরেকটি কর্মসূচির জন্য ৬২ হাজার ৫০০ কোটি রুপি বরাদ্দও অনুমোদন করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় ভারতে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের যোগ্য বিক্রয়ের ওপর ২ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ দেশীয়ভাবে সংগ্রহ করলে অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সরকারের আশা, নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে প্রায় ৬০ হাজার সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ভারতের ইলেকট্রনিকস উৎপাদন খাত আরো শক্তিশালী হবে।

বেলুচিস্তানে গুলি-বোমা, ৭ পাকিস্তানি সেনা নিহত | কালের কণ্ঠ