• ই-পেপার

করোনাভাইরাস : মাস্ক সঙ্কটে সিঙ্গাপুর, বাড়ছে কনডমের ব্যবহার!

রুশ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৯, ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল

অনলাইন ডেস্ক
রুশ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৯, ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় নয়জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ সময় কিয়েভের একটি প্রধান ধর্মীয় স্থাপনায় (শতবর্ষী ক্যাথেড্রাল) আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। 

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিয়েভে হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে রাশিয়ার হামলায় সৃষ্ট আগুন নেভাতে গিয়ে পাঁচজন উদ্ধারকর্মী মারা গেছেন।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিডেঙ্কোর বলেন, ‘আমাদের জনগণ ও আমাদের ঐতিহ্যের ওপর এক নৃশংস হামলা হয়েছে। এতে একাদশ শতাব্দীর ‘ডরমিশন ক্যাথেড্রাল’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা মঠের অন্তর্গত ঐতিহাসিক ‘ডরমিশন ক্যাথেড্রাল’টি ১১ শতকে প্রতিষ্ঠিত অর্থোডক্স খ্রিস্টধর্মের অন্যতম পবিত্র ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন। 

এদিকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মস্কোর দক্ষিণে অবস্থিত রাশিয়ার তুলা শহরে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত এবং এক বছর বয়সী শিশুসহ আরো তিনজন আহত হয়েছেন। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভবন ও গাড়িতে আগুন লেগেছে।

এ ছাড়া ইউক্রেনের রাজধানীতে ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে বলে কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন। সোমবার ইউক্রেনের বেশিরভাগ অংশ বিমান হামলার সতর্কতার অধীনে ছিল। কিয়েভে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন এবং খারকিভে আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন।

কিয়েভের পেচেরস্ক লাভরা মঠের ক্যাথেড্রালটির কথা উল্লেখ করে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত ও উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে আমরা ইউনেস্কোসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাব।’

ইউক্রেনের প্রতিবেশী পোল্যান্ড জানিয়েছে, কিয়েভে রাশিয়ার হামলার জবাবে তারা যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে এবং ভূমিতে অবস্থিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। এই সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ বৈঠকের আগে এই হামলাগুলো চালানো হলো, যেখানে ইউক্রেন যুদ্ধ আলোচ্যসূচির একটি অংশ।

গতকাল রবিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনসি বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের অবসানের প্রচেষ্টা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে একটি পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু করেন।

১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য

অনলাইন ডেস্ক
১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য
ছবি : রয়টার্স

প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামসহ প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ ছাড়া সরকার শিশুদের তথাকথিত ‘নিরাপদ’ ওয়েবসাইটে লাইভস্ট্রিম করা এবং গেমিং অ্যাপে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও সীমিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে।

সরকারের তিন মাসব্যাপী পরামর্শ পর্ব শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ পর আজ সোমবার এই ঘোষণাটি এসেছে। সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জনগণের মতামত চাওয়ার পাশাপাশি, এতে কম কঠোর কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।

এর মধ্যে ছিল ইনফিনিট স্ক্রল ও অটোপ্লের মতো আসক্তি সৃষ্টিকারী ফিচারগুলো বন্ধ করা, বয়স যাচাই প্রক্রিয়া আরো জোরদার করা এবং এআই চ্যাটবটের ব্যবহার সীমিত করা। জরিপটিতে মোট এক লাখ ১৬ হাজার উত্তর পাওয়া গেছে।

উত্তরদাতা অভিভাবকদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং ৮৩ শতাংশের বেশি বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার ঝুঁকির তুলনায় এর সুবিধা কম।

শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নির্দিষ্ট সময়সীমা চালু করা হবে কি না, তাও মন্ত্রীরা বিবেচনা করছেন। তবে এ বিষয়ে আগামী মাসের আগে বিস্তারিত জানানো হবে না।

এর আগে অস্ট্রেলিয়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে।
 
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেন, ‘এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যেখানে আমাদের ঠিক করতে হবে আমরা কার পাশে থাকব। দেশের পরিবারগুলোর পাশে, না কি এমন একটি ব্যবস্থার পাশে, যা কাজ করছে না।’

তিনি আরো বলেন, শিশুদের ব্যর্থ করে দিচ্ছে এমন বর্তমান ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে তিনি পদক্ষেপ নেবেন। যদিও এক সরকারি জরিপে দেখা গেছে, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পক্ষে বেশিরভাগ মানুষের সমর্থন রয়েছে, তবে কিছু অধিকারকর্মী মনে করেন, এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নতুন সমস্যারও সৃষ্টি করতে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় যেসব ১০টি প্ল্যাটফর্ম ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষিদ্ধ, সেগুলোর ওপরই যুক্তরাজ্যেও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, রেডিট, টুইচ, এক্স, থ্রেডস, ফেসবুক ও কিক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ এবং এআই চ্যাটবট ব্যবহারে বিধিনিষেধসহ কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য অস্ট্রেলিয়ার চেয়েও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেন, ‘অনলাইনে শিশুদের কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, এটি আমাদের সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন বাবা হিসেবে আমি জানি, প্রতিটি অভিভাবকই চান তাদের সন্তান নিরাপদ ও আনন্দের সঙ্গে বেড়ে উঠুক।’

এদিকে যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বিবিসিকে বলেন, প্রযুক্তি কম্পানিগুলোকে নিজেদের ব্যবস্থা ঠিক করার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কী ঘোষণা দেবেন সে বিষয়ে তিনি আগাম মন্তব্য করতে চান না। তবে এখন প্রশ্ন হলো, শিশুদের অনলাইনে ভালোভাবে সুরক্ষিত করা হবে কীভাবে?’

তিনি উল্লেখ করেন, জনপরামর্শে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ব্যাপক সমর্থন দেখা গেছে। লিসা ন্যান্ডি আরো বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় দেখা গেছে কিছু কিশোর-কিশোরী বিধিনিষেধ এড়ানোর বিভিন্ন উপায় খুঁজে বের করেছে।’ তবে তার মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ সামাজিক আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

তিনি বলেন, ‘৮, ৯, ১০ বা ১১ বছর বয়সী শিশুরা তখন আর ধরে নেবে না যে, শুধু তাদের বন্ধুরা সেখানে আছে বলে তাদেরও এসব প্ল্যাটফর্মে থাকতে হবে।’


 

কূটনীতিতে বলিউডের ছোঁয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কূটনীতিতে বলিউডের ছোঁয়া

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফ্রান্স সফর করছেন। সপ্তাহবাপী এ সফরে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয় ছাড়াও জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেবেন। জি-৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও মোদির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নরেন্দ্র মোদির ফ্রান্স সফর শুরু হয়েছে নিস শহর থেকে। এখানে তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। দুই নেতা মিলে উদ্বোধন করেছেন ‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’ সম্মেলন। নরেন্দ্র মোদি সেখানে গ্লোবাল এআই সামিটেও অংশ নেন।

এ বছরের শুরুতে ম্যাক্রোঁর ভারত সফরের পর ভারত-ফ্রান্সের সম্পর্ক বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত হয়। এরপর এই প্রথম দুই শীর্ষ নেতা বৈঠকে বসলেন। ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মোদির এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রযুক্তি আর উদ্ভাবন ছিল এবারের মোদির সফরের মূল আগ্রহের জায়গা। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও দুই নেতা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, মহাকাশ সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

তবে কূটনীতি সব সময় গুরুগম্ভীর আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকে না। হালকা চাল তাতে বাড়তি উষ্ণতা যোগ করে। মোদির সফর নিয়ে ম্যাক্রোঁর তেমনই এক হালকা চাল দুই দেশকে আরো কাছে আনবে। মোদির নিস সফরের নানা কর্মসূচির হাইলাইটস নিয়ে বানানো একটি কোলাজ ভিডিও ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে শেয়ার করেছেন ম্যাক্রোঁ। সেই ভিডিও দেখতে গিয়েই চমকে গেছেন সবাই। পেছনে যে বাজছে ‘ধুরন্ধর’-এর জনপ্রিয় গান ‘আরি আরি’র সুর।

ভারত-পাকিস্তানের কূটনৈতিক টানাপড়েন, জঙ্গিদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে বানানো ধুরন্ধর এবং ধুরন্ধর-২-এরই মধ্যে বলিউডে ব্লকবাস্টার হয়েছে। বলিউডের সেই সুর এখন মিশেছে ফরাসী সৌরভে। ভিডিওটি শুরু হয় দুই নেতার করমর্দন এবং কোলাকুলি দিয়ে। এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো সেখানে দেখানো হয়। এই হাইলাইটস ভিডিওতে বলিউডের ছোঁয়া এনে ম্যাক্রোঁ উষ্ণতা ও আন্তরিকতায় এক নতুন মাত্রা যুক্ত করলেন। নরেন্দ্র মোদিও বিষয়টি উপভোগ করেছেন এবং ম্যাক্রোঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তবে ম্যাক্রোর বলিউড প্রীতি এবারই প্রথম নয়। বছরের শুরুতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট তার ভারত সফর শেষ একটি বিদায়ী ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। সেখানেও ব্যাকগ্রাউরন্ড বাজছিল ধুরন্ধর-এর সুর। 

ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর এই ছোট্ট কিন্তু ব্যতিক্রমি উদ্যোগ ভারত-ফ্রান্সের সম্পর্কে আরো উষ্ণতা ও আন্তরিকতা আনবে। দুই দেশই নিজেদের আরো কাছের মনে করবে।

শান্তিচুক্তির আগে হামলা বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
শান্তিচুক্তির আগে হামলা বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আর কোনো হামলা না করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। এই অবস্থায় নতুন হামলা পুরো প্রক্রিয়াকে ভেঙে দিতে পারে।

মোহাম্মদ বাকের কালিবাফকে এক বার্তায় রবিবার (১৪ জুন) ট্রাম্প  বলেন, ‘আমরা এমন একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি, যা এই অঞ্চলে শান্তি আনতে পারে।’ তিনি সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এটা নষ্ট করে ফেলবেন না।'

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কিছুক্ষণ আগেই ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানায়, তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত অবস্থায় আরো ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় আকাশে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
 
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর দুই দিন পর, ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এর পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের ভেতরে গত ২৫ বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক গুরুতর অভিযান চালিয়েছে। ইরান চায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে লেবাননের সংঘাতও অন্তর্ভুক্ত থাকুক।

ইরান এই হামলার জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, হামলার উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই বৈরুতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহ তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এক যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, 'নিজেদের ভূখণ্ডে হামলা কোনোভাবেই মেনে নেবে না ইসরায়েল।’  এরপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় তারা উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বৈরুতে একটি পাঁচতলা ভবনে হামলা হয়েছে। ভবনটির নিচতলায় দোকান ছিল। বিস্ফোরণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিচের দুটি তলা। হামলার পর দক্ষিণ বৈরুতের অনেক বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে দেখা গেছে। এই হামলা এমন একসময়ে হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। ট্রাম্প আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রবিবারই চুক্তিটি স্বাক্ষর হতে পারে। তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চুক্তি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে।

ইরানের প্রধান আলোচকদের একজন এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ইসরায়েলের হামলার পর এক্সে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেন। তিনি লেখেন, ‘আপনারা যদি নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ইচ্ছা ও সক্ষমতা না রাখেন, তাহলে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বা কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।’ অন্যদিকে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের উপপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ জাফর আসাদি বলেছেন, বৈরুতে হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে। 

গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা রবিবার ইরানে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তারা আশাবাদী যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অনেকটাই কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি আবারও পুরোপুরি খুলে দেওয়ার পথ তৈরি হতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বিঘ্ন ঘটায় সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। তবে চুক্তির অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং বিদেশে আটকে থাকা দেশটির শত শত কোটি ডলারের সম্পদ। সূত্রগুলো বলছে, এসব জটিল বিষয়ে সমাধানের জন্য চুক্তিতে একটি আলাদা আলোচনার কাঠামো রাখা হতে পারে। সেখানে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক আলোচনা চালানোর সুযোগ থাকবে। 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ শনিবার (১৩ জুন, ২০২৬) জানিয়েছেন, রবিবারই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেও হতে পারে। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো সরাসরি অনুষ্ঠান ছাড়াই ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। তবে এটি কখন এবং কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরান সরকার সতর্ক করে বলেছে, এই চুক্তি নিয়ে দেশের ভেতরে বিভক্তি তৈরি হলে আলোচনায় তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। যারা আলোচকদের সমালোচনা করছেন, তারা মূলত জাতীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন বলে মন্তব্য করেছে কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক বক্তব্যে মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, ‘ইরানিদের বোঝা উচিত, কোনো যুদ্ধই চিরকাল স্থায়ী হয় না।’

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪৪১ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এর বিশুদ্ধতার মাত্রা ৬০ শতাংশ, যা অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার কাছাকাছি। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তারা এখনো প্রকাশ্যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করার প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ধারণা করা হয়, এসব ইউরেনিয়াম তিনটি পারমাণবিক স্থাপনার নিচে রাখা আছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সেসব স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এদিকে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কিছু সমালোচক বলছেন, আলোচনায় থাকা চুক্তিটি ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে খুব বেশি ভালো নয়। অথচ প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প নিজেই যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে বের করে এনেছিলেন।

এদিকে আশা করা হচ্ছে, আজ শুরু হওয়া জি-সেভেন এর শীর্ষ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প আলোচনা করবেন।

করোনাভাইরাস : মাস্ক সঙ্কটে সিঙ্গাপুর, বাড়ছে কনডমের ব্যবহার! | কালের কণ্ঠ