• ই-পেপার

৯টি জিন্স পরে পালাচ্ছিলেন এই নারী, এরপর...(ভিডিও)

ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎকে আটক

অনলাইন ডেস্ক
ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎকে আটক
ছবি : রয়টার্স

ভারতের যুব-নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ মুভমেন্ট’ সোমবার (২০ জুন) দাবি করেছে, তাদের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে পুলিশ আটক করেছে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যেই সংগঠনের দুই নেতা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠক শেষে আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তারা মন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি চিঠি দিয়েছি এবং নাড্ডা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করবেন। বর্তমানে সেই প্রক্রিয়া চলছে।’

মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন চলছে। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করছেন।

এই দাবিতে হাজার হাজার সমর্থক সোমবার সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে রাজধানী দিল্লিতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দিল্লির জন্তর মন্তরে সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও তাদের সমর্থকেরা ‘চলো সংসদে’ কর্মসূচি শুরু করতে জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে তাদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের সংঘর্ষ হয়। 

এর আগে, রবিবার দিল্লি পুলিশ এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি এবং এলাকায় বড় ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লির পাঁচটি মেট্রো স্টেশন, রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রী আটকা পড়েন। অনেককে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হয়। দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন রাজীব চকে বন্ধ প্রবেশ ও বের হওয়ার গেটের সামনে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি ও ভিড় দেখা যায়।

এর আগে শনিবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যখন সিজেপি-সমর্থিত আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২১ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিজিৎ দীপকের প্রতিষ্ঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে চলতি বছরের মে মাসে একটি অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। আন্দোলনকারীরা নিজেদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা নামে পরিচয় দেন।

গত এক মাস ধরে তারা দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের সঙ্গে কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও যোগ দিয়েছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে তার ৯ কেজির বেশি ওজন কমেছে এবং তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও সোনম ওয়াংচুক সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি রসিকতা করে বলেন, প্রয়োজনে মৃত্যুর পরও তার আত্মা এই আন্দোলনের সঙ্গে থাকবে।

আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে একটি হাতে লেখা বার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাকে অবৈধভাবে আটক করা হয়েছিল। জন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তিনি এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সমর্থকদের সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলকে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।

টানা তিন সপ্তাহের অনশনের কারণে ওয়াংচুক বর্তমানে শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ পরিস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

কথিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ওয়াংচুক এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন। তার বার্তায় তিনি আন্দোলনটিকে ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অবিচার এবং তার ভাষায় অবৈধ আটকের মতো ভয়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সুদানের আকাশ থেকে নেমে আসে মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
সুদানের আকাশ থেকে নেমে আসে মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত আফ্রিকার দেশ সুদান। ভ্রাতৃঘাতী এই যুদ্ধে দেড় লাখ থেকে ৪ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ, অন্তত ৪৫ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সুদানের ৩ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। প্রায় ২ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভেঙে পড়েছে অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সব স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড। সব মিলিয়ে সুদান এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে নিমজ্জিত। দুর্ভিক্ষের পাশাপাশি কলেরাসহ ছড়িয়ে পড়া নানা মহামারি সংকটকে আরো জটিল করে তুলেছে।

ভ্রাতৃঘাতী এই যুদ্ধে একদিকে আছে জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বধীন সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনী সুদান সশস্ত্র বাহিনী-এসএএফ। তার প্রতিপক্ষ আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস-আরএসএফ, যার নেতৃত্বে আছেন হেমেদতি নামে পরিচিত জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো। অথচ একসময় এই দুই জেনারেল ছিলেন সহযোদ্ধা।

২০১৯ সালে এক গণ-অভ্যুত্থান ও সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন প্রায় ৩০ বছরের স্বৈরশাসক ওমর আল-বশির। সে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন এসএএফ প্রধান জেনারেল বুরহান এবং আরএসএফ প্রধান জেনারেল হেমেদতি। বশিরের পতনের পর বুরহান দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হন এবং হেমেদতি হন তার ডেপুটি।

২০২১ সালে তারা দুজনে মিলে সামরিক শাসন জারি করেন। এক লাখ সদস্যের আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফকে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্নে তাদের মধ্যে দ্বিমত দেখা দেয়। বুরহান চাচ্ছিলেন ২ বছরের মধ্যে একত্রীকরণ সেরে ফেলতে। আর হেমেদতির চাওয়া ছিল ১০ বছর।

একত্রীকরণের পর কে বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন, তা নিয়েও শুরু হয় দ্বন্দ্ব। কেউ কাউকে ছাড় দিতে প্রস্তুত ছিলেন না। উত্তেজনার এক পর্যায়ে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল সকালে খার্তুমের একটি সামরিক ঘাঁটিতে শুরু হয় সংঘর্ষ, দ্রুত তা রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ সমঝোতার নানা উদ্যোগ নিয়েও থামাতে পারেনি এই যুদ্ধ। বরং যত দিন যাচ্ছে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নতুন নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে নামছে দুই পক্ষই।

যুদ্ধটা শুরুতে স্থলেই সীমাবদ্ধ ছিল। ক্রমেই তা আকাশেও ছড়িয়ে গেছে। ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার, যুদ্ধকে আরো অনিশ্চিত, আরো প্রাণঘাতী করে তুলেছে। ড্রোনের বহুল ব্যবহার সুদান গৃহযুদ্ধের ছন্দই বদলে দিয়েছে।

আগে বর্ষাকালে যুদ্ধ প্রায়শই মন্থর হয়ে পড়ত। কারণ বন্যায় রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় সৈন্য, ভারী অস্ত্র এবং রসদ পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ত। তবে আবহাওয়ার কারণে স্থলবাহিনী থমকে গেলেও ড্রোনগুলো সচল থাকতে পারে। চলাচলের জন্য ড্রোনকে রাস্তার ওপর নির্ভর করতে হয় না, এরা অসুস্থ হয় না, কাদার মধ্যেও আটকে যায় না।

ড্রোন যেমন যুদ্ধক্ষেত্রকে প্রসারিত করেছে, তেমনি এটি যুদ্ধকে বেসামরিক জীবনের আরো গভীরে নিয়ে গেছে। সুদান গৃহযুদ্ধে এখন আর ফ্রন্ট লাইন বলে কিছু নেই। ঘরবাড়ি, বাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এখন ক্রমশ ড্রোনের আঘাতের সীমানার মধ্যে চলে আসছে। ফলে গোটা সুদানই হয়ে উঠছে এক উন্মুক্ত যুদ্ধক্ষেত্র।

বর্তমানে বিদেশে তৈরি ড্রোনের সরবরাহ বাড়তে থাকায় জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, এই সংঘাত আরো একটি নতুন ও মারাত্মক ধাপে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। শুধু ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই ড্রোন হামলায় অন্তত ৮৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

নিরাপত্তা বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘আফ্রিকা ডিফেন্স ফোরাম-এডিএফ’ জানিয়েছে, তুরস্কের সরবরাহ করা ড্রোন এসএএফকে শক্তিশালী করেছে। তুরস্কের বানানো ড্রোন দীর্ঘ সময় উড়তে পারে, বিস্ফোরক বহন করতে পারে এবং খরচও তুলনামূলক কম। তুরস্ক জানিয়েছে যে তারা সুদানের সার্বভৌমত্ব ও শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।

জবাবে আরএসএফ-ও তাদের ড্রোন কার্যক্রম বাড়িয়েছে। তারা চীনে তৈরি দূরপাল্লার ড্রোন পাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। অবশ্য সংযুক্ত আরব আমিরাত আরএসএফকে ড্রোন দেয়ার কথা অস্বীকার করেছে।

প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রকাশনা ‘মিলিটারি আফ্রিকা’ জানিয়েছে যে, তুর্কি ড্রোন আরএসএফ-এর পক্ষেও দেখা গেছে, ফলে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো নির্দিষ্ট হামলার জন্য কারা দায়ী তা চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সুদানের আরো অনেক শহরের মত অবরুদ্ধ আল-উবাইদের মানুষের জীবনে ড্রোন এখন এক ভয়াবহ বাস্তবতা, যেখানে জীবনযাত্রার সবচেয়ে সাধারণ নিয়মগুলোর মধ্যেও লুকিয়ে থাকে আকস্মিক মৃত্যুর আতঙ্ক।

গত জুনে ৪২ বছর বয়সী পয়োনিষ্কাশন ট্রাকচালক আহমাদো একটি পানির ট্রাক স্টেশনে কাজ করছিলেন। আকস্মিক ড্রোন হামলায় স্কুল শেষে তার সঙ্গে দেখা করতে আসা তার ৯ বছরের ছেলে এবং দুই সহকর্মী মারা যান।

আহমাদো বলেন, ‘আমার দিনটি অন্য যেকোনো দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। আমাদের মাথার ওপর ড্রোন উড়ছিল, কিন্তু আমি কখনোই ভাবিনি যে আমার সন্তান বা আমি এর লক্ষ্যবস্তু হবো।’

ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ‘আফ্রিকা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এর নিরাপত্তা বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক নেট অ্যালেনের মতে, ড্রোন সুদানের যুদ্ধক্ষেত্রকে নতুন রূপ দিয়েছে এবং এটি প্রক্সি যুদ্ধের ভবিষ্যতের একটি রূপরেখা দেখাচ্ছে।’

আল-উবাইদ এবং সমগ্র সুদানজুড়ে বাসিন্দারা বলছেন যে মাথার ওপর ড্রোনের আওয়াজ এখন তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আল-উবাইদে এই পরিস্থিতির অবনতি বিশেষভাবে তীব্র রূপ নিয়েছে। গত ১৮ মাস ধরে এসএএফ’এর নিয়ন্ত্রণে থাকা সত্ত্বেও শহরটি এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যাকে জাতিসংঘ ‘অবরোধের মতো পরিস্থিতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

উত্তর কর্দোফানের রাজধানী হিসেবে আল-উবাইদ এমন কিছু প্রধান সড়কের ওপর অবস্থিত, যা খার্তুমের সঙ্গে দারফুর, বৃহত্তর কর্দোফান অঞ্চল এবং সুদানের দক্ষিণাঞ্চলকে যুক্ত করেছে। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শহরটি দুই পক্ষের জন্যই কৌশলগত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক জানান, কেবল জুন মাসেই তার কার্যালয় শহর ও এর আশেপাশে ১৫টি ড্রোন হামলা নিশ্চিত করেছে, যাতে অন্তত ৪৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন যে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সম্ভবত এর চেয়ে অনেক বেশি। ক্রমবধমান ড্রোন হামলা ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজকেও আরো কঠিন করে তুলেছে। এই মাসের শুরুর দিকে, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য ৫০ টন ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যাওয়া জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার একটি ট্রাকে ড্রোন আঘাত হানে। সংস্থার মতে, চলতি বছরে এটি জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাকে ড্রোন হামলার দ্বিতীয় ঘটনা।

সুদানে নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাশ্বত সরাফ বলেন, ‘আল-উবাইদের পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের, হাত-পা এবং ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। কোনো কিছুই রেহাই পাচ্ছে না এবং যারা এই হামলা থেকে বেঁচে ফিরছে, তারা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে, তাদের আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।’

২৭ বছর বয়সী যুবক এল সাদিক এর আগেও তিনবার ড্রোন হামলা থেকে বেঁচেছেন। কিন্তু গত জুনে চতুর্থ হামলায় উড়ে গেছে তার বাম পা। এল সাদিক বলেন, ‘ড্রোনের হামলা থেকে আপনি লুকিয়ে থাকতে পারবেন না। যখন আমরা শুনি যে আকাশে ড্রোন আছে, তখন আমরা কোনো কংক্রিটের ভবনের নিচে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এটি হঠাৎ করেই চলে আসে, আমরা জানি না কখন বা কোথায় এটি আঘাত হানবে।’

এল সাদিকের জন্য এখন বাইরে বের হওয়া মানেই চরম আতঙ্ক। তিনি বলেন, ‘আপনি যখন বাইরে যান, তখন জানেন না যে আপনি আর ফিরে আসতে পারবেন কিনা। হয়তো আপনি কোথাও বসে আছেন, আর হঠাৎ করেই আপনার পাশে একটি ড্রোন এসে পড়ল। আপনি বেঁচেও থাকতে পারেন, আবার মারাও যেতে পারেন। আপনি কিছুই জানেন না।’

বিদ্রোহীদের হামলায় মালিতে অন্তত ৫০ সেনা নিহত

অনলাইন ডেস্ক
বিদ্রোহীদের হামলায় মালিতে অন্তত ৫০ সেনা নিহত
ছবি : রয়টার্স

মালিতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় ৫০ সেনা নিহত হয়েছেন। উত্তর মালির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর আনেফিস থেকে সরে যাওয়ার সময় তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জিহাদি যোদ্ধাদের হামলায় অন্তত ৫০ জন মালির সেনা নিহত হয়। গতকাল রবিবার (১৯ জুন) কর্মকর্তারা এ কথা জানান।

কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ চলার পর শনিবার আনেফিস ত্যাগ করা সেনাবাহিনীর একটি বহরে এই হামলা চালানো হয়। জুলাইয়ের শুরুতে তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠী এফএলএ এবং আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট জেএনআইএম অল্প সময়ের জন্য শহরটি দখল করে। 

তারা মালির সেনাবাহিনী ও রুশ-সমর্থিত আফ্রিকা কোর বাহিনীর ব্যবহৃত একটি সামরিক ঘাঁটিও ঘিরে ফেলেছিল। পরে জেএনআইএম ও এফএলএ উভয়ই এই হামলার দায় স্বীকার করে।

সামরিক সরকারের ঘনিষ্ঠ এক স্থানীয় কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, হামলায় ৫০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২৪ জনকে বন্দি করা হয়েছে। তার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালির সেনাবাহিনীর ওপর এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি।

মালির সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলায় তাদের সদস্যদের সরাসরি লক্ষ্য করে হত্যা করা হয়েছে। কী কারণে সেনারা এতটা অরক্ষিত হয়ে পড়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

সূত্রগুলোর মতে, সেনাবাহিনীকে সহায়তাকারী রুশ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা হামলার আগেই গাও শহরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফলে তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গাও অঞ্চলের এক কমিউনিটি নেতা বলেন, নিহতদের মধ্যে কেউ রুশ নাগরিক নন। সবাই মালির সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্র-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য।

শনিবার মালির সেনাবাহিনী স্বীকার করে, তাদের বহর একটি অতর্কিত হামলার মুখে পড়েছিল। তবে তারা হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ২০২০ ও ২০২১ সালে পরপর দুটি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মালি সামরিক সরকারের অধীনে রয়েছে। দীর্ঘদিনের জিহাদি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা দমনে এবং দেশের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে সামরিক জান্তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

ইরাকে ইরানি হামলায় মার্কিন সেনা নিহত

অনলাইন ডেস্ক
ইরাকে ইরানি হামলায় মার্কিন সেনা নিহত
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর ইরাকে শনিবার এক ঘটনায় একজন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এর এক দিন আগে জর্দানে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং আরেকজন নিখোঁজ হন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ভূপাতিত একটি ইরানি হামলাকারী ড্রোনে থাকা অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্র নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে ওই সেনা সদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় আরো একজন সেনা আহত হয়েছেন।

সেন্টকম জানায়, জর্দানে শুক্রবারের হামলার স্থানে তল্লাশি চালিয়ে তারা কিছু ‘মানবদেহের অবশেষ’ পেয়েছে। এগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এ ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা অষ্টম দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ এনেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আবারও অবরোধ আরোপ করেছে। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে। এক মাসেরও কম সময় আগে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের সাম্প্রতিক হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্দানে হামলার জন্য দায়ী বলে অভিযুক্ত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) দ্রুত জবাব দেওয়া।

এদিকে চলতি মাসের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে চলমান এই সংঘাতে নিহত মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে পৌঁছেছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে দেশটিতে মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত ও ৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। রবিবারও মধ্যপ্রাচ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত ছিল। ইরানের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দারখোভেইনে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কেশম দ্বীপে রাতের বেলায় হামলা চালানো হয়েছে। জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। 

সংস্থাটি জানায়, লক্ষ্যবস্তু হওয়া স্থাপনাটি এখনো নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তাদের সর্বশেষ পরিদর্শনের সময় সেখানে কোনো পারমাণবিক উপাদান ছিল না। এদিকে জর্দানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি প্রত্যন্ত এলাকায় পড়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছিল, জর্দানের আকাবা বন্দর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ঘটনার পর জর্দান ইরানের ভারপ্রাপ্ত কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে তলব করে হামলা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘অযৌক্তিক ও প্রকাশ্য ইরানি হামলা’ বলে উল্লেখ করে জানায়, জর্দানের নিরাপত্তা কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়।

অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জর্দানের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ যেন ইসরায়েলের ভূখণ্ডে না পড়ে, সে জন্য তারা একাধিক প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েল আরো জানায়, পরে জর্দান সীমান্তের কাছে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এইলাতের আশপাশে প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
 

৯টি জিন্স পরে পালাচ্ছিলেন এই নারী, এরপর...(ভিডিও) | কালের কণ্ঠ