ভারতের যুব-নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ মুভমেন্ট’ সোমবার (২০ জুন) দাবি করেছে, তাদের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে পুলিশ আটক করেছে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যেই সংগঠনের দুই নেতা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠক শেষে আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তারা মন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি চিঠি দিয়েছি এবং নাড্ডা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করবেন। বর্তমানে সেই প্রক্রিয়া চলছে।’
মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন চলছে। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করছেন।
এই দাবিতে হাজার হাজার সমর্থক সোমবার সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে রাজধানী দিল্লিতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দিল্লির জন্তর মন্তরে সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও তাদের সমর্থকেরা ‘চলো সংসদে’ কর্মসূচি শুরু করতে জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে তাদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
এর আগে, রবিবার দিল্লি পুলিশ এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি এবং এলাকায় বড় ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লির পাঁচটি মেট্রো স্টেশন, রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রী আটকা পড়েন। অনেককে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হয়। দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন রাজীব চকে বন্ধ প্রবেশ ও বের হওয়ার গেটের সামনে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি ও ভিড় দেখা যায়।
এর আগে শনিবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যখন সিজেপি-সমর্থিত আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২১ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিজিৎ দীপকের প্রতিষ্ঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে চলতি বছরের মে মাসে একটি অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। আন্দোলনকারীরা নিজেদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা নামে পরিচয় দেন।
গত এক মাস ধরে তারা দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের সঙ্গে কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও যোগ দিয়েছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে তার ৯ কেজির বেশি ওজন কমেছে এবং তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও সোনম ওয়াংচুক সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি রসিকতা করে বলেন, প্রয়োজনে মৃত্যুর পরও তার আত্মা এই আন্দোলনের সঙ্গে থাকবে।
আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে একটি হাতে লেখা বার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাকে অবৈধভাবে আটক করা হয়েছিল। জন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তিনি এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সমর্থকদের সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলকে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
টানা তিন সপ্তাহের অনশনের কারণে ওয়াংচুক বর্তমানে শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ পরিস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
কথিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ওয়াংচুক এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন। তার বার্তায় তিনি আন্দোলনটিকে ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অবিচার এবং তার ভাষায় অবৈধ আটকের মতো ভয়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।









