• ই-পেপার

ম্যাচ শেষে ওরা জার্সি চাইলেও মাঠে জোরেশোরেই লাথি মেরেছে : মেসি

‘আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন’ — ঐতিহাসিক জয়ের পর মিশরের কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
‘আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন’ — ঐতিহাসিক জয়ের পর মিশরের কোচ
ছবি : রয়টার্স

আফ্রিকার পরাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বকাপের রাজকীয় মঞ্চে মোটে চারবার এসেছে মিশর। আগের প্রতিবারই গ্রুপ পর্বের গাঁট ডিঙাতে না পারার আক্ষেপ সঙ্গী করে আসলেও এবার সময় বদলেছে। সব আক্ষেপ আর ইতিহাসকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিইয়েছে ‘ফারাও’রা। প্রথমবার নকআউটের টিকিট কেটেই রূপকথা লিখল মিশর। টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

ডালাস স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর মহানাটকীয় ম্যাচে সকারুজদের টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে মিশর। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়ের লড়াই ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় ১২ গজের লটারিতে। আর সেখানেই বাজিমাত করে ইতিহাস গড়ল হোসাম হাসানের শিষ্যরা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার তাদের মুখোমুখি হতে হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।

ম্যাচ জয়ের পর মাঠেই এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কোচ হোসাম হাসান মিশর ও ফিলিস্তিন—দুই দেশের পতাকাই মাঠে নিয়ে আসেন এবং পুরো দল একসঙ্গে মাঠে সেজদায় নত হয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

ঐতিহাসিক এই জয়টি ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন মিশরীয় বস হোসাম হাসান। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন, তাদের শহীদদের প্রতি রহম করুন। আমি এই ঐতিহাসিক জয় মিশর এবং ফিলিস্তিনের মহান ও সম্মানিত মানুষের জন্য উৎসর্গ করছি।’ তিনি আরো জানান, ফিলিস্তিনিরাও পুরো আরব বিশ্বের সঙ্গে মিলে এই জয়টি রাতভর উদযাপন করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ফিলিস্তিনি সমর্থক এই জয়ে নিজেদের বাঁধভাঙা উল্লাসের চিত্র ভাগ করে নিয়েছেন। গাজার ফুটবলপ্রেমী টেমার নাহেদ এক্স-এ লিখেছেন, ‘প্রথমবারের মতো এত উত্তেজনা নিয়ে বিশ্বকাপ দেখছি। ধ্বংসস্তূপ আর তাঁবুর মধ্য থেকে হাজার হাজার মানুষ ম্যাচ দেখতে বেরিয়ে এসেছিল। মুখে হাসি আর উল্লাস দেখে মনে হচ্ছিল, সবাই যুদ্ধ ও কষ্টের মাঝেও কিছুটা জীবনের স্বাদ নিতে চেয়েছিল।’

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও দেখা গেছে, ভাঙাচোরা ভবন ও অস্থায়ী তাঁবুর মাঝেই প্রজেক্টরে খেলা দেখছে মানুষ, অনেক শিশুর গালে আঁকা মিশরের পতাকার রং।

প্রতিভাকে প্রক্রিয়া দিয়ে আটকে রাখা যায় না

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিভাকে প্রক্রিয়া দিয়ে আটকে রাখা যায় না
বৈভব সূর্যবংশী। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় যখন বুঁদ গোটা বিশ্ব, তখনও ক্রিকেট বিশ্বের লাইমলাইটের অনেকটাই কেড়ে নিয়েছিলেন— এক ভারতীয় কিশোর এবং সেটা মাঠে না খেলেই। গত আইপিএলে অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পর নির্বাচকরা দলে ডাকতে বাধ্য হয়েছিলেন ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশীকে। কিন্তু আয়ারল্যান্ড সফরের দুই টি-২০ কিংবা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ম্যাচ—কোথাওই একাদশে জায়গা মেলেনি তার।

বৈভবের মতো বিস্ফোরক ব্যাটারকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে যায় ক্রিকেট বিশ্বে। ভারত তো বটেই, বিভিন্ন দেশের কিংবদন্তিদের মনেও ছিল এক প্রশ্ন—বৈভব সূর্যবংশী কবে মাঠে নামবেন? যারা গত আইপিএল দেখেননি, তাদের কাছে এই প্রশ্ন বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে; কিন্তু যারা দেখেছেন, তারা অবাক—কেন মাঠে নামানো হচ্ছে না তাকে?

অবশেষে সব প্রশ্নের অবসান ঘটলো শনিবার ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হলো ১৫ বছর ৯৯ দিন বয়সী বৈভবের। এই অভিষেকের মাধ্যমে তিনি সিংহাসনচ্যুত করলেন ভারতের ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’ শচীন রমেশ টেন্ডুলকারকে। ১৯৮৯ সালে শচীন যখন প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন, তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর ২০৫ দিন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ভারতের সহ-অধিনায়ক তিলক ভার্মা বৈভবের হাতে তুলে দেন সেই ঐতিহাসিক ক্যাপ।

সিদ্ধান্তটা ভারতের টিম ব্যবস্থাপনা বা ম্যানেজমেন্টের জন্য যে কতটা কঠিন ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বৈভবকে খেলাতে গেলে বাদ পড়বেন কে? ভারতের তিন টপ অর্ডার ব্যাটারই যে আছেন ফর্মের তুঙ্গে। ওপেনার অভিষেক শর্মা টি-২০ র‌্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বরে, তিনে খেলা ঈশান কিশান আছেন ১ নম্বরে। আর অপর ওপেনার সঞ্জু স্যামসন মাত্র তিন মাস আগে ৫ ইনিংসে ৮০.২৫ গড় এবং ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেটে ৩২১ রান করে ভারতকে টি-২০ বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন।

এমন তিনজনকে বাদ দেওয়া যেমন কঠিন, তেমনি সূর্যবংশীকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখাও ছিল অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত হেড কোচ গৌতম গম্ভীর আর অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারকে কঠিন সিদ্ধান্তটাই নিতে হলো। কপাল পুড়ল বেচারা স্যামসনের। সর্বশেষ তিন ইনিংসে ৫, ০ ও ১ রান করার খেসারত দিয়ে বৈভবের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হলো তাকে।

গত কয়েকদিন ধরে বৈভবকে না খেলানোয় তীব্র সমালোচনার মুখে ছিল ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। যদিও তারা হুট করে পরীক্ষিত পারফরমারদের বাদ দিতে চাননি। ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাটে তো ‘অন্য সবার মতো বৈভবকেও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে’ বলে রীতিমতো খলনায়ক বনে গিয়েছিলেন।

টানা তিন ম্যাচ ধরে এই প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে ক্লান্ত অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারকে কাল টসের পর কথা বলতে হলো বৈভবের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। শ্রেয়াস বলেন, ‘গত কয়েক মাসে আপনারা ওকে ব্যাট করতে দেখেছেন। আমার মনে হয় দলে থাকার যোগ্যতা ওর পুরোপুরি আছে। ও এমন একজন যে একেবারেই চাপ নেয় না; ও একরোখা ও অবিচল স্বভাবের। আগামী ম্যাচগুলোতে কী হতে চলেছে সে সম্পর্কে ও খুব ভালো করেই জানে। নেটে ও যেভাবে ব্যাটিং করে এবং বোলারদের মোকাবেলা করে, তা থেকেই বোঝা যায় ও কেমন মানের খেলোয়াড়। ভারত যে পরিমাণ প্রতিভা তৈরি করছে তা সত্যিই চোখ জুড়ানো। এটা আমাদের সবসময় সতর্ক ও প্রস্তুত রাখে। আমার মনে হয় চাপ পাওয়াটা একটা সৌভাগ্যের বিষয়।’

১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের এত মাতামাতি কেন? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার আগেই সূর্যবংশী ভেঙে চুরমার করেছেন একের পর এক রেকর্ড। সবশেষ আইপিএলে ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে ৭২টি ছাক্কায় তিনি করেছিলেন ৭৭৬ রান। বিশ্বের বাঘা বাঘা বোলারদের অবলীলায় গ্যালারিতে পাঠিয়ে জিতে নিয়েছেন টুর্নামেন্টের মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার, অরেঞ্জ ক্যাপ, ইমার্জিং প্লেয়ার, সুপার স্ট্রাইকার ও সুপার সিক্সেস পুরস্কার। ১৫ বছর বয়সে ছক্কা মারার রেকর্ডে পেছনে ফেলেছেন ক্রিস গেইলকেও।

আইপিএল শেষে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে ৫ ইনিংসে করেছেন ২১১ রান। ফাইনালে খেলেন ৯৪ রানের ঝড়ো ইনিংস। সেখানে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে মাত্র ১১ বলে ফিফটি করে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন বৈভব।

তাছাড়া বৈভব ৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১২ ইনিংসে করেছেন ২০৭ রান। যুব টেস্টে ৬ ম্যাচের ১০ ইনিংসে করেছেন ৩৩১ রান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১৩ ম্যাচে করেছেন ৫৬৪ রান, যার মধ্যে রয়েছে ১৯০ রানের একটি ইনিংসও। যুব ওয়ানডেতে ২৫ ম্যাচে ৫৬.৪৮ গড়ে করেছেন ১৪১২ রান, স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬৫.৭২। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৪৩৯ রান করে দলকে শিরোপাও জিতিয়েছেন তিনি। চাইলে এই পরিসংখ্যান আরও লম্বা করা যাবে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার আগেই বৈভব প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু ধুম-ধাড়াক্কা টি-২০ ব্যাটার নন; টেস্ট, ওয়ানডে সব ফরম্যাটেই তার ব্যাট কথা বলে। তবে এখন লড়াইটা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেওয়ার।

বহুল আলোচিত তার অভিষেক ইনিংসটি অবশ্য প্রতিভার সঙ্গে পুরোপুরি সুবিচার করতে পারেনি। ১০ বলে ২ ছক্কায় করেছেন মাত্র ১৪ রান। তবে রান যা-ই হোক, ওল্ড ট্রাফোর্ডে বিশ্ব ক্রিকেটের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়ে গেল। যে মাঠে শচীন টেন্ডুলকার তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন, সেই মাঠেই তাকে সরিয়ে সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় ক্রিকেটার বনে গেলেন বৈভব।

তবে শুধু বয়সে শচীনকে ছাড়িয়ে গেলেই দায়িত্ব শেষ হবে না, মাথায় রাখতে হবে—২৪ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শচীন ৬৬৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে করেছিলেন ৩৪ হাজার ৩৫৭ রান এবং ১০০টি সেঞ্চুরি। এখন দেখার বিষয়, বৈভব সূর্যবংশী কতদূর যেতে পারেন? এই নতুন সূর্যের আলো কতটা আলোকিত করতে পারে ক্রিকেট বিশ্বকে?

ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ পেছানোর গুঞ্জন, কী সিদ্ধান্ত নিল ফিফা

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ পেছানোর গুঞ্জন, কী সিদ্ধান্ত নিল ফিফা

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিষয়ক পরিষেবা অ্যাকুওয়েদারে দেখানো হচ্ছে, নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ড এলাকায় এই মুহূর্তে তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস; কিন্তু অনভূত হচ্ছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। এই পরিস্থিতিতে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

তবু তীব্র গরমেই আগামীকাল রবিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ২টায়) মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-নরওয়ে। যদিও ফুটবল বিষয়ক সংবাদমাধ্যম গোল ডট কম দাবি করেছিল, এই ম্যাচ এক ঘণ্টা পেছাতে চলেছে ফিফা। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। 

ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ইস্ট রাদারফোর্ড এলাকার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। এ মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনালও হবে। তবে এটি একটি ছাদবিহীন স্টেডিয়াম। তাই সরাসরি রোদ ও উচ্চ আর্দ্রতা খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি এবং দর্শকদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ম্যাচ চলাকালে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলজুড়ে কদিন ধরে তীব্র দাবদাহ চলছে। এদিকে বিশ্বকাপের আরেক আয়োজক দেশ মেক্সিকোয় বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছে। 

ইয়াহু স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেক্সিকো সিটিতে বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় ফিফা মেক্সিকো-ইংল্যান্ড শেষ ষোলোর এই ম্যাচটিরও সূচিতে পরিবর্তন আনতে চেয়েছিল। কারণ একই দিনে দুটি ম্যাচের সম্প্রচার ও সূচি সমন্বয় করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। 

তবে শেষ পর্যন্ত ফিফা শেষ ষোলোর সব ম্যাচের সূচি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। 

জার্মানির নতুন কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ইয়ুর্গেন ক্লপ

ক্রীড়া ডেস্ক
জার্মানির নতুন কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ইয়ুর্গেন ক্লপ
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে নাটকীয়ভাবে বিদায় নিয়েছে জার্মানি। বিশ্বকাপ দলের ভরাডুবিতে দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন ইউলিয়ান নাগেলসমান। জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের (ডিএফবি) সাথে আলোচনা করে পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।  এর মাঝে জার্মানি জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের (ডিএফবি) সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন লিভারপুলের সাবেক ম্যানেজার ইয়ুর্গেন ক্লপ।

নিউইয়র্কে ‘ম্যাজেন্টা টিভি’তে বিশ্বকাপ বিশ্লেষক হিসেবে কথা বলার সময় ৫৯ বছর বয়সী এই কোচ জানান, দুই বছর আগে লিভারপুল ছাড়ার সময় যে শক্তির অভাব তিনি বোধ করছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর এখন পুরোপুরি রিচার্জড এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত তিনি।

ডিএফবির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ক্লপ জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে তার প্রাথমিক সম্মতি প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

ক্লপ বলেছেন, জার্মানির ফুটবলের বর্তমান সংকট কাটাতে ফেডারেশনের সাথে আরো নিবিড় আলোচনার প্রয়োজন। দলটিকে আবার সঠিক ট্র্যাকে ফেরাতে কিছু মৌলিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনা জরুরি।

জার্মান ফুটবল ফেডারেশন বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরবর্তী প্রধান কোচ হিসেবে ইয়ুর্গেন ক্লপই প্রধান পছন্দ। আলোচনা ইতিবাচক হলে খুব শীঘ্রই জার্মানির ডাগআউটে দেখা যেতে পারে লিভারপুলের সাবেক এই ম্যানেজারকে।