• ই-পেপার

ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত তরুণ ক্রিকেটার হৃদয়, পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

উন্মোচিত হলো হীরাখচিত বিশ্বকাপ ট্রফি, দাম কত

ক্রীড়া ডেস্ক
উন্মোচিত হলো হীরাখচিত বিশ্বকাপ ট্রফি, দাম কত
হীরাখচিত বিশ্বকাপ ট্রফি। ছবি: রয়টার্স

দুবাইয়ের একটি গয়নার প্রতিষ্ঠান ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির একটি বিশেষ সংস্করণ উন্মোচন করেছে, যা তৈরি করা হয়েছে লেগো ব্লক দিয়ে এবং সাজানো হয়েছে ৯০০টিরও বেশি হীরা ও ১৮ ক্যারেট সোনার অংশ দিয়ে। এই ট্রফির দাম ধরা হয়েছে ৮২ হাজার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মূল ট্রফিটি আসলে ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল লেগো সংস্করণের আদলে তৈরি। ২৮৪২টি লেগো ব্লক দিয়ে বানানো এই মডেলটি সাধারণত ২০০ ডলারে (প্রায় ২৫ হাজার টাকা) বিক্রি হয়।

তবে দুবাইয়ের গয়নার কারিগর হেমন্ত করমচাঁদানি এটিকে বিলাসী শিল্পকর্মে রূপ দিয়েছেন। করমচাঁদানির ১০ বছর বয়সী ছেলে যশ তিন দিনে লেগো ট্রফিটি তৈরি করেছে। এরপর সেটিকে নতুন রূপ দিতে কারিগরদের প্রায় ৩৫ দিন সময় লেগেছে। প্রতিটি অংশে হাতে বসানো হয়েছে হীরা। অনেক জায়গায় প্ল্যাস্টিকের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে সোনা।

দুবাইয়ের বিখ্যাত গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ড পার্কে অবস্থিত প্যাশন জুয়েলার্সের ৬৫ জন কারিগর এই ট্রফি বানিয়েছেন। ট্রফিটি বানানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল লেগোর প্রতিটি অংশের সঙ্গে মিল রেখে সোনার অংশ তৈরি করা এবং সেগুলো নিখুঁতভাবে বসানো।

জনসাধারণের দেখার জন্য ট্রফিটি বর্তমানে প্যাশন জুয়েলার্সের শোরুমে রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের মধ্যে এটি ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ফুটবল ও লেগোপ্রেমীদের কাছে।

বিলাসী পণ্যের নতুন উদাহরণ হিসেবে হীরাখচিত এই বিশ্বকাপ ট্রফিকে এরই মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে দামী লেগো ট্রফিগুলোর একটি বিবেচনা করা হচ্ছে।

নিয়ম ভেঙে কার্ড না দেখায় সমালোচিত ইংলিশ তারকা

ক্রীড়া ডেস্ক
নিয়ম ভেঙে কার্ড না দেখায় সমালোচিত ইংলিশ তারকা

ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচে বিতর্কে জড়িয়েছেন ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। ম্যাচের সময় বেলিংহামকে ঘানার জর্ডান আইয়ুর সাথে কথা বলার সময় হাত দিয়ে মুখ ঢাকা ছিল। এমনটি হওয়ার পরও কিভাবে কার্ড না দেখে খেলা শেষ করেন এই ইংলিশ তারকা। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হলেও ম্যাচে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ফুটবল মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

ফিফার নতুন নিয়ম ভঙ্গ করে মুখ আড়াল করে কথা বলার দায়ে সম্প্রতি শাস্তি পেয়েছেন প্যারাগুয়ের তারকা ফুটবলার মিগেল আলমিরন। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে এই ঘটনার জন্য লাল কার্ড দেখার পর তাকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।

তবে একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েও কোনো শাস্তির মুখে পড়েননি ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম, যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। 

ছবিতে দেখা গেছে আয়েউর সাথে কথা বলার সময় বেলিংহ্যাম তার মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। ম্যাচ রেফারিদের চোখে সামনেই সবকিছু ঘটে। 

তবে এই বিষয়ে ফিফার রেফারি প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা টুর্নামেন্টের আগে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, মুখে ঢেকে কথা বলা শুধু উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের সময় নিষিদ্ধ। এমনি বা বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথনে দুই খেলোয়াড় এভাবে কথা বলার সময়ে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

ম্যাচের সময় রিয়াল মিডফিল্ডার এবং আয়েউয়ের ক্ষেত্রে, দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট শত্রুতা ছিল না। এটিকে একটি সাধারণ কৌশলগত আলোচনা বা বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ হিসেবেই দেখা হয়েছে। তাই রেফারি বাড়তি কোন পদক্ষেপে আগ্রহী ছিল না বলে জানা গেছে।

তবে তুরস্কের বিপক্ষে প্যারাগুয়ের ম্যাচে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সময় অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করার জন্য মিগেল আলমিরনকে লাল কার্ড দেখানো হয়। বেলিংহামের ঘটনাটি আলমিরনকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনার মতো নয় বলে, ভিএআর হস্তক্ষেপের জন্যও প্রয়োজনীয় হয়নি।

এদিকে শুরু থেকে এই আইন নিয়ে উদ্বেগ ছিল। আইনটি ভুলভাবে প্রয়োগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে অনেকে সমালোচনাও করেছে।

বেলিংহামের ঘটনায় ঘানার কোনো খেলোয়াড় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না করলেও সমালোচকদের মতে, নিয়ম প্রয়োগের দায়িত্ব মূলত রেফারির। তাই একই ধরনের ঘটনায় দুই ফুটবলারের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ কেন দেখা গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ফলে অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে নতুন নিয়মটি সব খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। এ নিয়ে ফিফার অবস্থান কী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

শুধু একবার নয়, ম্যাচের আরেক পর্যায়েও ঘানার জর্ডান আইয়ুর সঙ্গে কথোপকথনের সময় বেলিংহামের মুখে হাত দেখা যায়। এ ছাড়া বিরতির আগে ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজের সঙ্গে তাকে বাগবিতণ্ডায় জড়াতেও দেখা গেছে।

ঘানার সমর্থকদের কালো জাদুই কি কাল হলো ইংল্যান্ডের

ক্রীড়া ডেস্ক
ঘানার সমর্থকদের কালো জাদুই কি কাল হলো ইংল্যান্ডের
ছবি: সংগৃহীত

‘আমি হ্যারি কেইনের ওপর কাজ করছি। আমি কী করতে পারি, সেটা আগে দেখিয়েছি। কেইনকে থামাতে কী করতে হবে, সেটাও জানি। এতে তার বড় কোনো ক্ষতি হবে না। তবে আমার দেশের উপকার হবে’—ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ঘানার বিখ্যাত জাদুকর নানা কওয়াকু বোনসাম এই মন্তব্য করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেন। 

বোনসামের এই মন্তব্যের পর গতকাল রাতে যা ঘটে গেছে, তা অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হচ্ছে। বোস্টনে ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে গোলশূন্য রুখে দিয়েছে ঘানা। এর আগে পানামার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পায় তারা। প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি দল গোল হজম করেনি; ঘানা এর একটি! 

ফর্মের তুঙ্গে থাকা ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন কাল মাঠে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। বলার মতো সুযোগও তৈরি করতে পারেননি। যে একটি সুযোগ পেয়েছিলেন, সেই শটও ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। 

বোনসামের কথার সঙ্গে সব কিছু মিলে যাওয়ায় অনেকে মনে প্রশ্ন জেগেছে, তাহলে কি ঘানার এই জাদুকরের কালো জাদুই ইংল্যান্ডের কাল হলো?

গতকাল রাতে বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামের গ্যালারির এক দৃশ্যও এমন ধারণাকে আরো জোরালো করে তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ঘানার কিছু সমর্থক ম্যাচ চলাকালে সাদা পাউডার ছিটিয়ে ও বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নিজ দলের সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করছেন। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত আধ্যাত্মিক চর্চা, জুজু বা কালো জাদুর সঙ্গে মিল থাকায় এই দৃশ্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে ডেকলান রাইসও কালো জাদুর বিষয়টি সামনে এনেছেন। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের এই মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘আমরা গোল করার জন্য সম্ভাব্য সব রকম চেষ্টা করেছি। শট নিয়েছি, হেড করেছি, সেট পিস থেকেও চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছুই কাজে আসেনি। জানি না, কেন এমন হলো। হয়তো কালো জাদুই মাঠে কাজ করছিল!’

পুরস্কারটি আমার প্রাপ্য নয় : বেলিংহাম

ক্রীড়া ডেস্ক
পুরস্কারটি আমার প্রাপ্য নয় : বেলিংহাম

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দুর্দান্ত শুরু করে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ম্যাচে এসে আফ্রিকার দেশ ঘানার কাছে হোঁচট খেল থ্রি লায়ন্সরা। ম্যাচে ৭৮.৮ শতাংশ বল দখল, ১৯টি শট, ৬১৯টি পাস খেলেও গোলের দেখা পায়নি টমাস টুখেলের শিষ্যরা। মুহুর্মুহু আক্রমণে যেয়েও ঘানার দৃঢ় ডিফেন্সে পরাস্ত হয় বেলিংহামরা। তাই ম্যাচ শেষে সেরার পুরস্কার পেয়ে ইংলিশ মিডফিল্ডার অকপটে স্বীকার করলেন পুরস্কারটির দাবিদার ঘানার কোনো একজন খেলোয়াড়।

ম্যান অব দ্য ম্যাচের ট্রফি হাতে নিয়েও মুখে হাসি নেই জুড বেলিংহামের। চোখেমুখে স্পষ্ট অস্বস্তি আর বিনয়। পুরস্কারটি গ্রহণ করার পর তিনি জানান, পুরো ম্যাচে নিজের ছন্দে ফিরতে তার বেশ কষ্ট হচ্ছিল।

ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে বেলিংহাম বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি মনে করি না আমি এটা পাওয়ার যোগ্য ছিলাম। তাদের ডিফেন্ডাররা দুর্দান্ত খেলেছে, পুরস্কার তাদের কারও পাওয়ার কথা ছিল।’

মাঝমাঠে পুরো ম্যাচ দাপিয়ে খেলেও বেলিংহাম জানেন, আসল নায়ক ছিলেন ঘানার রক্ষণের সৈনিকরা। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করে যে উদযাপন করেছিলেন। ঘানার বিপক্ষে সেই উদযাপনের সুযোগটাই আসেনি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন সততা বিরল। নিজের দল জিততে না পারলে ব্যক্তিগত পুরস্কারের কোনো মূল্য নেই, বেলিংহাম বুঝিয়ে দিলেন সেটাই। ঘানার গোলকিপার লরেন্স আতি-জিগি আর সেন্টারব্যাক আলেকজান্ডার জিকু পুরো ম্যাচে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। বিশেষ করে আতি-জিগির দুটি নিশ্চিত গোল বাঁচানো সেভই ইংল্যান্ডকে তিন পয়েন্ট থেকে বঞ্চিত করেছে। 

বেলিংহামের চোখে তাই তারাই প্রকৃত ম্যাচ সেরা। বড় তারকার এমন স্বীকারোক্তি ঘানার লড়াইকে সম্মান জানায়, আবার ইংল্যান্ডের ড্রয়ের হতাশাটাও স্পষ্ট করে।

ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানোর পর ঘানার সঙ্গে এই হোঁচট ইংল্যান্ডের শিরোপা স্বপ্নে প্রশ্ন তুলে দিল। বেলিংহাম মাঠে লড়েছেন, কিন্তু শেষ হাসিটা হাসতে পারেননি। তার এই বিনয়ী স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে, দলের ব্যর্থতার দায় তিনি নিজের কাঁধেই নিচ্ছেন। বড় ফুটবলার শুধু গোল করে নয়, চরিত্র দিয়েও চেনা যায়।