• ই-পেপার

রক্তাক্ত পতাকায় অমরত্ব

১৯৯৮ সালের ক্রোয়েশিয়া এবং ফুটবলের চেয়েও বড় এক সত্য

পদত্যাগ করলেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
পদত্যাগ করলেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ
সংগৃহীত ছবি

স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে বড় ধরনের ওলটপালট হয়ে গেল। ক্লাবটির প্রথম দলের কোচের দায়িত্ব থেকে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সরে দাঁড়িয়েছেন আলভারো আরবেলোয়া। একই দিনে দলবদলের বাজারেও বড় এক ধাক্কা খেয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের জন্য ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর (মেগা অফার) বিশাল প্রস্তাব দিয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের এক জরুরি সভা শেষে রিয়াল মাদ্রিদ অফিশিয়াল বিবৃতিতে এই দুই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

খেলোয়াড়ি জীবন থেকে শুরু করে ডাগআউট—রিয়াল মাদ্রিদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত মুখ ছিলেন আলভারো আরবেলোয়া। ক্লাবের যুব একাডেমি থেকে উঠে এসে মূল দলে খেলা এবং পরবর্তীতে কোচের দায়িত্ব নেওয়া আরবেলোয়ার এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল মঙ্গলবার।

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রিয়াল মাদ্রিদ আরবেলোয়ার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছে, ‘রিয়াল মাদ্রিদ সিএফ এবং আলভারো আরবেলোয়া পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রথম দলের কোচের দায়িত্ব সমাপ্ত করার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। রিয়াল মাদ্রিদ আরবেলোয়ার প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমাদের যুব একাডেমি থেকে শুরু করে ক্লাবের প্রতিটি স্তরে তিনি সবসময় আনুগত্য, প্রতিশ্রুতি এবং পেশাদারিত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি আমাদের ক্লাবের মূল আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতীক।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘রিয়াল মাদ্রিদ সবসময়ই আরবেলোয়ার নিজের ঘর। ক্লাব তার এবং তার পরিবারের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছে।’

এদিকে আরবেলোয়ার বিদায়ের খবরের সমান্তরালে দলবদলের বাজারে রিয়ালের বড় এক চেইজিংয়ের গল্পও সামনে এসেছে। আতলেতিকো মাদ্রিদের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়াতে ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর আকাশচুম্বী প্রস্তাব পাঠিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে নগরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে অ্যাতলেতিকো।
 
 

ক্রীড়া উন্নয়নে নতুন মাইলফলক, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে বাস্কেটবল রেফারি ও টেবিল অফিশিয়ালস ক্লিনিক অনুষ্ঠিত

ক্রীড়া ডেস্ক
ক্রীড়া উন্নয়নে নতুন মাইলফলক, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে বাস্কেটবল রেফারি ও টেবিল অফিশিয়ালস ক্লিনিক অনুষ্ঠিত

দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক ও পেশাদার পর্যায়ে নিয়ে যেতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় রেফারি কার্যক্রমের অধীনে ‘বাস্কেটবল রেফারি ও টেবিল অফিশিয়ালস ক্লিনিক’ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর মোহাম্মদ আতিকুল হাফিজ (অব.)। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মেজর মহসিনুল করিম।

জাতীয় পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রেফারি ও টেবিল অফিশিয়ালদের দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। মূল্যায়নের ভিত্তিতে কিছু অংশগ্রহণকারীকে শারীরিক (ফিজিক্যাল) পরীক্ষা এবং অন্যদের তাত্ত্বিক (থিওরি) পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন ধরে এই বাছাই ও যোগ্যতা যাচাই কার্যক্রম চলবে। পরবর্তীতে নির্বাচিত প্রার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।

দেশের বাস্কেটবলকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে সফল আয়োজনের মাধ্যমে ক্রীড়া অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি আবারও তাদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।

বিশ্বকাপে ৭ থেকে ১০ গোল খাওয়ার যত রেকর্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে ৭ থেকে ১০ গোল খাওয়ার যত রেকর্ড
ফাইল ছবি : রয়টার্স

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে একদিকে যেমন থাকে গোল করার মরিয়া উন্মাদনা, অন্যদিকে তেমনই থাকে রক্ষণভাগকে ইস্পাতকঠিন দেয়ালে পরিণত করার সুনিপুণ কৌশল। কিন্তু মাঠের গনগনে উত্তেজনা, ট্যাকটিক্যাল ভুল কিংবা দুই দলের শক্তির আকাশ-পাতাল ব্যবধান মিলিয়ে মাঝেমধ্যেই সবুজ গালিচায় এমন কিছু ম্যাচের জন্ম হয়, যা রূপ নেয় অবিশ্বাস্য গোলবন্যা।

বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এমন কিছু অবিস্মরণীয় ম্যাচ রয়েছে, যেখানে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে গোলের মহোৎসব মেতেছিল আক্রমণভাগ। কখনো দুই দলের শক্তির বিশাল ফারাক, আবার কখনো অল-আউট অ্যাটাকিং ফুটবলের পসরা সাজিয়ে তৈরি হয়েছে এই ঐতিহাসিক ম্যাচগুলো।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে এককভাবে সর্বোচ্চ গোল করার অনন্য ও অক্ষুণ্ন রেকর্ডটি এখনো নিজেদের করে রেখেছে হাঙ্গেরি। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে এল সালভাদরের রক্ষণভাগকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ১০-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছিল তারা। বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো দলের এক ম্যাচে ১০ গোল করার কীর্তি এটাই প্রথম ও শেষ।

শুধু ১০ গোলই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৯ গোলের জয়ের রেকর্ডও রয়েছে হাঙ্গেরির ঝুলিতে। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৯-০ গোলে ভাসিয়ে দিয়েছিল তারা। একই আসরের গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী পশ্চিম জার্মানিকে ৮-৩ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছিল হাঙ্গেরির তৎকালীন 'ম্যাজিকাল ম্যাগিয়ার্স' দলটি।

১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে জাইরের (বর্তমান কঙ্গো) মুখোমুখি হয়েছিল যুগোস্লাভিয়া। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে জাইরকে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় ব্যবধানের জয়টি তুলে নেয় তারা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোলের রোমাঞ্চকর রেকর্ডটি হয়েছিল ১৯৫৪ আসরে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রিয়া। রক্ষণ ভুলে আক্রমণ আর প্রতি-আক্রমণের সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে ৭-৫ গোলে হারায় অস্ট্রিয়া। ‘ব্যাটল অব লসান’ নামে খ্যাত এই ম্যাচে মোট ১২টি গোল হয়েছিল, যা আজ পর্যন্ত ভাঙতে পারেনি কেউ।

১৯৫৪ সালে পশ্চিম জার্মানি বনাম তুরস্কের প্লে-অফ ম্যাচে তুর্কিদের ৭-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল জার্মানরা। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ৭-৩ ব্যবধানের বড় জয় পায় ফ্রান্স।

সাম্প্রতিক ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা এবং রোমাঞ্চকর ম্যাচটি এসেছিল ২০১৪ সালে। ব্রাজিলের মাটিতে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক সেলেসাওদের ৭-১ গোলে স্তব্ধ করে দেয় জার্মানি। ঘরের মাঠে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের এই চিরকালের ক্ষতটি আধুনিক বিশ্বকাপের অন্যতম বড় ব্যবধানের জয়-পরাজয় হিসেবে টিকে থাকবে।

সামনে কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা আর আগ্রহ এখন তুঙ্গে। নতুন নিয়মে বড় পরিসরে আয়োজিত হতে যাওয়া আসন্ন এই আসরে গোলবন্যার এমন কোনো নতুন রেকর্ড যুক্ত হয় কি না, এখন সেদিকেই চোখ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকের! 

১৯৭০ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই-ই করতে পারেনি আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
১৯৭০ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই-ই করতে পারেনি আর্জেন্টিনা
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনবার শিরোপা জেতা আলবিসেলেস্তেরা নিয়মিতই টুর্নামেন্টের মূল পর্বে জায়গা করে নেয়। তবে অবাক করার মতো তথ্য হলো, মাঠের লড়াইয়ে বাছাই পর্ব থেকে বাদ পড়ে বিশ্বকাপ মিস করেছে মাত্র একবার।

সেটি ছিল ১৯৭০ মেক্সিকো বিশ্বকাপ। দক্ষিণ আমেরিকার বাছাই পর্বে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে মূল আসরে জায়গা করে নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

তৎকালীন বাছাই পর্বের কাঠামো ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। ফলে একটি বা দুটি ভুলই পুরো অভিযানে বড় প্রভাব ফেলত। ১৯৬৯ সালে বলিভিয়ার কাছে ৩-১ গোলে এবং পেরুর কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। ফলে শেষ ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না।

বুয়েনস অ্যাইরেসের ঐতিহাসিক লা বোম্বনেরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে পেরুর সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে আর্জেন্টিনা। এর ফলে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে গ্রুপের তলানিতে থেকে যায় তারা এবং ১৯৭০ বিশ্বকাপের টিকিট হারায়। সেটিই আজ পর্যন্ত একমাত্র বিশ্বকাপ, যেখানে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে খেলতে ব্যর্থ হয়েছিল তারা। 

তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনা আরো দুটি আসরে অনুপস্থিত ছিল। ১৯৩৮ ও ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে তারা অংশ নেয়নি, যদিও সেগুলো ছিল ভিন্ন কারণে।

১৯৩৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচনের প্রতিবাদে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় আর্জেন্টিনা। আর ১৯৫০ সালে ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ এবং অভ্যন্তরীণ নানা কারণে বাছাই পর্বেই অংশ নেয়নি তারা।

অর্থাৎ বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা তিনটি আসরে অনুপস্থিত থাকলেও, মাঠের খেলায় হেরে বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠতে না পারার ঘটনা ঘটেছে মাত্র একবার—১৯৭০ সালে। এরপর আর কখনো এমন হতাশা দেখতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে।