• ই-পেপার

বদলি নেমেই পেনাল্টি থেকে গোল মেসির, বড় জয় আর্জেন্টিনার

বিশ্বকাপ শুরুর আগে মেক্সিকোতে বিক্ষোভ

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ শুরুর আগে মেক্সিকোতে বিক্ষোভ
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র এক দিন বাকি। এর মধ্যেই অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে বিক্ষোভের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী রাজধানী মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামের প্রধান প্রবেশপথের সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, চলমান বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে মূলত দুটি বড় ইস্যু।

প্রথমত, দেশের শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি। তারা বেতন বৃদ্ধি, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন করছেন। শিক্ষক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলেও তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সেই হারে বাড়েনি।

দ্বিতীয়ত, মেক্সিকোতে নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধান এবং এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজনকে সামনে রেখে সরকার দেশের সামাজিক ও মানবিক সংকটগুলো আড়াল করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করছেন, তাদের ন্যায়বিচার ও উত্তর পাওয়ার দাবিগুলো যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।

তবে এখনো পর্যন্ত বিক্ষোভের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি মেক্সিকো। তবে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকো। সেই ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই এই বিক্ষোভ আয়োজকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে মেক্সিকো সিটিতে ইতোমধ্যেই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। 

রিয়াল-বার্সা দ্বন্দ্বে আর্জেন্টাইন তারকার দাম উঠল ১৫০ মিলিয়ন, অ্যাতলেতিকোর না

ক্রীড়া ডেস্ক
রিয়াল-বার্সা দ্বন্দ্বে আর্জেন্টাইন তারকার দাম উঠল ১৫০ মিলিয়ন, অ্যাতলেতিকোর না
ছবি : রয়টার্স

স্প্যানিশ ফুটবলের দুই পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা এবার দলবদলের বাজারে মুখোমুখি সংঘাতে। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়াতে চেয়েছিল বার্সেলোনা। এবার তার জন্যই ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর এক বিশাল প্রস্তাব দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লা লিগার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের মধ্যকার সম্পর্ক এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। 

রবিবার ২০৩০ সাল পর্যন্ত পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর রিয়াল মাদ্রিদ বস ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ঘোষণা দিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহেই বড় কোনো খেলোয়াড়ের জন্য বড় অঙ্কের প্রস্তাব নিয়ে মাঠে নামবেন তিনি। মঙ্গলবার বোর্ডের জরুরি সভা শেষে ‘লস ব্লাঙ্কোস’রা নিশ্চিত করে, আর্জেন্টাইন তারকা আলভারেজের জন্যই সেই ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছিল।

তবে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রিলিজ ক্লজের পুরো অর্থ ছাড়া আলভারেজকে ছাড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ এই ফরোয়ার্ডের রিলিজ ক্লজ ধরা হয়েছে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো।

শুধু রিয়াল মাদ্রিদই নয়, আলভারেজকে দলে ভেড়াতে বার্সেলোনা, আর্সেনাল এবং পিএসজির মতো জায়ান্টরাও মুখিয়ে আছে। ইএসপিএন-এর খবর অনুযায়ী, রবার্ট লেভানডভস্কির বিকল্প হিসেবে আলভারেজকে পেতে ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল বার্সা। তবে বার্সেলোনার সেই চেষ্টা মোটেও ভালোভাবে নেয়নি অ্যাতলেতিকো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাতালান ক্লাবটিকে ‘ভুয়া খবর এবং ক্রমাগত অসম্মান করার’ দায়ে রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছিল তারা। 

রিয়াল মাদ্রিদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও অ্যাতলেতিকোর সুর ছিল একই রকম ঝাঁজালো। মাদ্রিদের প্রস্তাবের জবাবে সামাজিক মাধ্যমে তারা লেখে, ‘আপনারা সম্ভবত ভদ্রতাকে কৃতজ্ঞতা ভেবে ভুল করেছেন। কোনো দ্বিধা না রেখেই বলছি, আমরা আপনাদের ধন্যবাদ দিচ্ছি না। হুলিয়ানের জন্য কোনো প্রস্তাব খতিয়ে দেখার প্রশ্নই আসে না। আপনাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ হবে কেন, আপনারা তো আমাদের বার্সার চেয়েও বেশি হাসান!’ 

বিশ্বকাপে ১২ গোলের একটিও পেনাল্টি থেকে করেননি পেলে

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে ১২ গোলের একটিও পেনাল্টি থেকে করেননি পেলে
তিন বিশ্বকাপ হাতে পেলে। ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি পেলে বিশ্বকাপে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। চারটি বিশ্বকাপ খেলে ১৪ ম্যাচে ১২ গোল করা এই ব্রাজিলিয়ান মহাতারকার একটি অনন্য কীর্তি হলো, তার বিশ্বকাপের ১২ গোলের একটিও পেনাল্টি থেকে আসেনি।

১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া পেলে তার সবগুলো গোলই করেছেন ওপেন প্লে কিংবা ফ্রি-কিক থেকে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের তালিকায় থাকলেও তিনি কখনো স্পটকিকের সাহায্যে গোলের সংখ্যা বাড়াননি।

১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ছয় গোল করে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন পেলে। ওয়েলসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে জয়সূচক গোল, ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক এবং স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে ফাইনালে জোড়া গোল—সবই ছিল ওপেন প্লে থেকে।

১৯৬২ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় গোল করার পর চোটে পড়েন তিনি। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে একটি ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন। আর ১৯৭০ বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়া ও রোমানিয়ার বিপক্ষে চার গোল করে ব্রাজিলের তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ে অবদান রাখেন।

বর্তমান ফুটবলে যেখানে অনেক তারকা ফুটবলারের গোলসংখ্যার বড় অংশই পেনাল্টি থেকে আসে, সেখানে পেলের বিশ্বকাপের ১২ গোলের সবকটিই এসেছে ওপেন প্লে থেকেই। এ কারণেই তার গোলগুলোকে অনেক ফুটবল বিশ্লেষক বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায় পেলে বর্তমানে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে রয়েছেন। তার সামনে আছেন শুধু মিরোস্লাভ ক্লোজা, (১৬), রোনালদো নাজারিও (১৫) এবং গার্ড মুলার ও জাস্ট ফন্টেইন (১৪)। ১৩ গোল নিয়ে আছেন চতুর্থ মেসি। ১২ গোল নিয়ে পরের অবস্থানে পেলে ও এমবাপ্পে।

ভাইকিংসের সাজে ফটোশুট করে বিতর্কে নরওয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক
ভাইকিংসের সাজে ফটোশুট করে বিতর্কে নরওয়ে
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপ ফুটবলের জার্সি উন্মোচন ও ফটোশুট ঘিরে নজিরবিহীন বিতর্কের মুখে পড়েছে নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দল। দেশটির তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড এবং তার সতীর্থদের একটি ভাইকিং থিমযুক্ত ফটোশুটকে কেন্দ্র করে নরওয়ের সমাজ ও ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র বিভক্তি দেখা দিয়েছে। 

সমালোচকদের একাংশ এই ফটোশুটকে চরম উগ্র জাতীয়তাবাদী, পুরুষতান্ত্রিক এবং নব্য-নাৎসি ভাবধারার সঙ্গে তুলনীয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। পাশাপাশি, ভাইকিং যুগের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস, লুণ্ঠন ও নির্যাতনকে এই ছবির মাধ্যমে মহানায়কোচিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

একটি সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এই বিতর্কিত ফটোশুটে নরওয়ে দলের খেলোয়াড়দের হাতে ভাইকিংদের ঐতিহ্যবাহী ঢাল, ধনুক, তীর এবং কুঠার দেখা যায়, যার পটভূমিতে ছিল ভাইকিংদের বিশেষ নৌকা। নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের পরিকল্পনায় তৈরি এই বিশেষ জার্সির পেছনে কিছু রুনিক লিপি বা প্রাচীন ভাইকিং প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। আর এটি নিয়েই আপত্তির ঝড় তুলেছেন গবেষক ও সমাজ বিশ্লেষকরা।

নরওয়ের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে এই ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দেশটির খ্যাতনামা সাংবাদিক মারকুস স্লেটহোম এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, এই ভাইকিং চিত্রগুলো অত্যন্ত উগ্র এবং সমাজ থেকে অন্য সংস্কৃতিকে বাদ দেওয়ার মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। 

তার মতে, এই ছবিগুলো প্রায় এক দশক আগের নব্য-নাৎসিদের প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়। অন্যদিকে, গবেষক জেন হগ স্কজল্ডলি এই জার্সির নকশাকে অতি-পুরুষতান্ত্রিক এবং উগ্র ডানপন্থী ঘরানার বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, জার্সিতে ব্যবহৃত কিছু প্রতীক দুর্ভাগ্যবশত ফ্যাসিবাদের প্রতীকী ভাষার সাথে মিলে যায়।

এদিকে বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে এই ধরনের বিতর্ক নরওয়ে দলের ড্রেসিংরুম এবং অনুশীলন ক্যাম্পেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তবে এই সামাজিক বিতর্ককে একেবারেই পাত্তা দিতে নারাজ দলের প্রধান কোচ স্টেল সলবাকেন। 

এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সলবাকেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে বর্তমানে এর চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল বিষয় নিয়ে ভাবার আছে এবং এসব ফালতু বিতর্কের পেছনে নষ্ট করার মতো সময় তার বা তার দলের নেই।