• ই-পেপার

ইবোলা প্রাদুর্ভাবে বাতিল হলো বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ

নেইমারকে নিয়ে মুখ খুললেন কাসেমিরো

ক্রীড়া ডেস্ক
নেইমারকে নিয়ে মুখ খুললেন কাসেমিরো
সংগৃহীত ছবি

ব্রাজিল জাতীয় দলের তারকা মিডফিল্ডার কাসেমিরো মনে করেন, দলকে ঘিরে প্রতিটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধু নেইমারকে রাখা উচিত নয়। তার মতে, নেইমার অবশ্যই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, তবে তিনি ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের একজন খেলোয়াড় মাত্র।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলাকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কাসেমিরো বলেন, ‘প্রতিবার আমরা সংবাদ সম্মেলনে আসি, তখনই নেইমারকে নিয়ে কথা বলতে হয়। নেইমার, নেইমার, নেইমার—এটাই যেন প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।’

আরো পড়ুন
ইউরোপ সফরে বাংলাদেশ, দলে যোগ দিলেন হামজা

ইউরোপ সফরে বাংলাদেশ, দলে যোগ দিলেন হামজা

 

ব্রাজিল অধিনায়কের মতে, দলের সাফল্য কোনো একক খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করে না। তিনি বলেন, ‘নেইমার দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের একজন। তবে ২৬ জনের স্কোয়াডে সে একজন খেলোয়াড় মাত্র। দলের অন্যদের মতো তারও নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে।’

বর্তমানে ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন নেইমার। তাকে নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার পক্ষেই মত দিয়েছেন কাসেমিরো। তিনি বলেন, ‘সে এখন নিজের চোট থেকে সেরে ওঠার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। প্রথমে তাকে সুস্থ হয়ে অনুশীলনে ফিরতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচ খেলার পর্যায়ে যেতে হবে।’

আরো পড়ুন
অফসাইড বিতর্ক কমাতে ফিফার নতুন প্রযুক্তি

অফসাইড বিতর্ক কমাতে ফিফার নতুন প্রযুক্তি

 

নেইমারের বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কাসেমিরো বলেন, ‘সবকিছু ধাপে ধাপে এগোতে হবে। আগে সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরুক, তারপর দলের প্রধান ভূমিকায় থাকার বিষয়টি ভাবা যাবে।’

ইউরোপ সফরে বাংলাদেশ, দলে যোগ দিলেন হামজা

ইউরোপ সফরে বাংলাদেশ, দলে যোগ দিলেন হামজা

ইউরোপ সফরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে যোগ দিয়েছেন তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী। দলের অন্যতম আলোচিত ফুটবলার সান মারিনোতে পৌঁছে সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় এখন পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে ম্যাচ পরিকল্পনা সাজানোর সুযোগ পাচ্ছেন নতুন কোচ থমাস ডুলি।

আগামী ৫ জুন ইউরোপের সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে কয়েক দিন ধরেই সেখানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ দল। প্রথমে মূল স্কোয়াড পৌঁছানোর পর ধাপে ধাপে দলের সঙ্গে যুক্ত হন সামিত সোম ও জায়ান আহমেদ। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে হামজার আগমনের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ দল একত্রিত হয়েছে। 

দীর্ঘ যাত্রার কারণে সান মারিনো পৌঁছানোর পর প্রথম দিন খেলোয়াড়দের জন্য ছিল পুনরুদ্ধারমূলক অনুশীলন। এরপর দ্বিতীয় দিন থেকেই শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি কার্যক্রম।

দলের ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনে দুই ধরনের আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছেন ফুটবলাররা। এক দিন ছিল শীতল পরিবেশ, আর পরের দিন তাপমাত্রা ছিল প্রায় বাংলাদেশের মতোই উষ্ণ। ফলে ভিন্ন আবহাওয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জও নিতে হচ্ছে দলকে। 

স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত অনুশীলনে বেশ মনোযোগী দেখা গেছে ফুটবলারদের। ইউরোপের পরিবেশে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তারা।

প্রধান কোচ থমাস ডুলি জানিয়েছেন, দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে খেলোয়াড়রা এখন ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছেন। তার মতে, প্রতিপক্ষ র‌্যাঙ্কিংয়ে নিচের দিকে থাকলেও তারা নিয়মিত ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করে। তাই ম্যাচটিকে সহজভাবে দেখার সুযোগ নেই। 

অফসাইড বিতর্ক কমাতে ফিফার নতুন প্রযুক্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
অফসাইড বিতর্ক কমাতে ফিফার নতুন প্রযুক্তি
সংগৃহীত ছবি

ফুটবলে অফসাইড সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক ও দীর্ঘ অপেক্ষার দিন শেষ হতে পারে ২০২৬ বিশ্বকাপে। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করেছে ফিফা, যার ফলে অফসাইডের সিদ্ধান্ত আরো দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।

ফিফা জানিয়েছে, আসন্ন বিশ্বকাপে উন্নত সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি (এসএওটি) ব্যবহার করা হবে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো খেলোয়াড় ১০ সেন্টিমিটারের বেশি অফসাইড অবস্থানে থাকলে সহকারী রেফারির কাছে তাৎক্ষণিক অডিও সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে। ফলে আগের মতো আক্রমণভাগের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত পতাকা তোলা সম্ভব হবে।

আরো পড়ুন
মেসির অবসর নিয়ে মুখ খুললেন কোচ স্কালোনি

মেসির অবসর নিয়ে মুখ খুললেন কোচ স্কালোনি

 

এর আগে ক্লাব বিশ্বকাপ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে ব্যবহৃত প্রযুক্তি কেবল তখনই সতর্কবার্তা দিত, যখন কোনো খেলোয়াড় ৫০ সেন্টিমিটারের বেশি অফসাইডে থাকতেন। নতুন সংস্করণে সেই সীমা অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সহকারী রেফারির কাছেই থাকবে। কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটির সন্দেহ হলে তিনি পতাকা তুলতে দেরিও করতে পারবেন। ফিফার দাবি, সম্ভাব্য ভুল এড়াতে প্রযুক্তিতে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া বিশ্বকাপে প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমৃদ্ধ ত্রিমাত্রিক বা ৩ডি অ্যানিমেশন তৈরি করা হবে। ৪৮ দলের ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের মোট ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়কে বিশেষ স্ক্যানিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে। এর ফলে অফসাইড অ্যানিমেশন আরো স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করা যাবে।

শুধু অফসাইড নয়, বল মাঠের বাইরে গিয়েছিল কি না তা নির্ধারণেও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। বলের ভেতরে থাকা বিশেষ চিপের মাধ্যমে শেষবার কে বল স্পর্শ করেছেন সেটিও শনাক্ত করা যাবে। এতে কর্নার, গোলকিক কিংবা গোলের আগে বল মাঠের বাইরে গিয়েছিল কি না, এসব সিদ্ধান্ত আরো নির্ভুল হবে।

ফিফা আরো জানিয়েছে, গোলরক্ষকের দৃষ্টিসীমা (লাই অব সাইট) বাধাগ্রস্ত হয়েছে কি না, সেটি নির্ধারণে উন্নত ৩ডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিদের (ভিএআর) জন্য বিতর্কিত অফসাইড পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা সহজ হবে।

আরো পড়ুন
ওয়াসিম-ওয়াকারদের ক্লাবে শাহীন আফ্রিদি

ওয়াসিম-ওয়াকারদের ক্লাবে শাহীন আফ্রিদি

 

 

ফিফার আশা, নতুন প্রযুক্তি সমর্থক ও খেলোয়াড়দের হতাশা কমাবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়াবে এবং অপ্রয়োজনীয় খেলা চালিয়ে যাওয়ার কারণে সম্ভাব্য চোটের ঝুঁকিও কমিয়ে দেবে।

ফিফা বিশ্বকাপ

১০ টন লাগেজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেল ব্রাজিল দল, কি আছে?

ক্রীড়া ডেস্ক
১০ টন লাগেজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেল ব্রাজিল দল, কি আছে?
ছবি : সিবিএফ-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশাল প্রস্তুতি নিয়েছে ব্রাজিল জাতীয় দল। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো এসপোর্তে জানিয়েছে, দলটি প্রায় ১০ টন সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে।

বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের শহরে খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ স্বাস্থ্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। এ কারণেই এবারের বহন করা সরঞ্জামের পরিমাণ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আয়োজন হওয়ায় দলগুলোকেও দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। ব্রাজিল যদি ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায়, তাহলে পুরো প্রতিনিধিদলকে টানা ৪৮ দিন দেশের বাইরে থাকতে হবে।

কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ঘাঁটি ছিল একটিমাত্র শহর—দোহা। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দলটি গ্রুপ পর্বে নিউ জার্সি, ফিলাডেলফিয়া ও মায়ামিতে খেলবে। ফলে প্রতিটি শহরে চিকিৎসা ও পারফরম্যান্স সহায়তার সরঞ্জাম বহন করতে হচ্ছে।

ব্রাজিলের ফিজিওলজিস্ট গিলহার্মে পাসোস জানিয়েছেন, ‘নিউইয়র্ক রেড বুলস ট্রেনিং সেন্টারে আধুনিক প্রযুক্তি ও চমৎকার সুবিধা রয়েছে। আমাদের হোটেলও ভালো, কিন্তু কোনো হোটেল পুরোপুরি একটি মেডিকেল বিভাগের বিকল্প হতে পারে না। তাই আমরা প্রতিটি শহরে নিজস্ব স্বাস্থ্য সহায়তা ইউনিট গড়ে তুলি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফিজিওথেরাপি, লেজার, আল্ট্রাসাউন্ড ও শকওয়েভ থেরাপির যন্ত্রপাতি আমরা সঙ্গে নিয়ে যাই। মজা করে বলতে গেলে, এটি অনেকটা একটি ভ্রাম্যমাণ জরুরি চিকিৎসা ইউনিটের মতো।’

বিশ্বকাপের এই বিশাল প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের কর্মকর্তারা আগেই সম্ভাব্য ট্রেনিং সেন্টার ও হোটেল পরিদর্শন করেছেন। এই পুরো পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিলেন পরিচালক সার্জিও ডিমাস এবং লজিস্টিকস সহকারী রেনান ওয়ারিন।

দলের লাগেজে শুধু চিকিৎসা সরঞ্জামই নয়, রয়েছে অনুশীলনের উপকরণ, ওষুধ, বিপণন কার্যক্রমের সাজসজ্জার সামগ্রী এবং শত শত জার্সি। এবারের ব্রাজিল দলের কিটেও রয়েছে দুটি আলাদা সিরিজ—একটি নাইকি এবং অন্যটি জর্ডান ব্র্যান্ডের।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলে মোট ৯১ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, চিকিৎসা ও পারফরম্যান্স বিভাগের কর্মী, নিরাপত্তাকর্মী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত।

সরঞ্জাম পরিবহনে কোনো ঝুঁকি এড়াতে এবং যাত্রাকে আরও আরামদায়ক করতে পুরো দল একটি চার্টার্ড বিমানে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি বা অন্যান্য সামগ্রী হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে যাবে।

বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার আগে প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।