• ই-পেপার

১৫-২০% বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, ১ জুন থেকেই কার্যকর

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার বড় উত্থান, দেশে দাম কমে কোনটার ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার বড় উত্থান, দেশে দাম কমে কোনটার ভরি কত?
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ইল্ড বা সরকারি বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসায় উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা কিছুটা হলেও কেটেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২ জুন) স্পট গোল্ডের তাৎক্ষণিক বাজার দর ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫২৫ দশমিক ৭২ ডলারে। একই সঙ্গে আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের (সোনার আগাম চুক্তি) দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৫৬ ডলারে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকার কথা জানানোর পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানির দাম কমলে তা মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ দূর করে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বাড়ানোর প্রবণতা কমিয়ে দেয়।

সাধারণত মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনাকে বেছে নেওয়া হয়। তবে উচ্চ সুদের হারের বাজারে সোনা তার আকর্ষণ হারায়, কারণ এটি থেকে কোনো নিয়মিত মুনাফা বা সুদ আসে না।

স্যাক্সো ব্যাংকের প্রধান বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস এবং এর সূত্র ধরে সুদের হার, বন্ডের মুনাফা ও ডলারের ওপর অপরিশোধিত তেলের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। আর সে কারণেই সোনা ক্রমাগত তেলের বাজারের ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করছে।

তিনি আরো বলেন, সোনা এখনো স্বল্পমেয়াদি মন্দাভাবের মধ্যে রয়েছে। বাজারে আবার নতুন করে বিনিয়োগকারীদের সুদিন ফেরাতে এর দাম ৪ হাজার ৬৩০ ডলারের কোটা পার হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি বেঞ্চমার্ক ট্রেজারি নোটের মুনাফা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এর ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ধরে রাখার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সুযোগ ব্যয় কিছুটা কমেছে।

সোনার দাম বৃদ্ধির পেছনে আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে। সোমবার (১ জুন) লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও শান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার কতটা শক্তিশালী রয়েছে, তা মূল্যায়ন করতে বিনিয়োগকারীরা এখন আগামী শুক্রবার প্রকাশিতব্য মে মাসের ‘নন-ফার্ম পে-রোল’ রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে, যা বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান এএনজে এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজার ইতিবাচক থাকবে। কারণ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি, অবনতিশীল ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং শেয়ারবাজারের মন্দাভাবের কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার ওপর মানুষের ভরসা বজায় থাকবে।

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। বিশ্ববাজারে রুপার দাম ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৬১ দশমিক ৯০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৭৮ দশমিক ২৫ ডলার হয়েছে।

দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি

অনলাইন ডেস্ক
তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের বোঝা আরো ভারী হয়ে উঠেছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে (গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায়) ব্যাংকিং খাতে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এর ফলে গত মার্চ শেষে মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। 

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মোট শ্রেণিকৃত ঋণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। যা ছিল ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। মার্চ ২০২৬ শেষে তা ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে ঠেকেছে। 

অন্যদিকে, প্রকৃত খেলাপি ঋণের হিসাব ধরলে, তিন মাসে তা ১৯ হাজার ২৭৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৯২ শতাংশ।

এলপি গ্যাসের দাম কমল, সন্ধ্যা থেকে কার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক
এলপি গ্যাসের দাম কমল, সন্ধ্যা থেকে কার্যকর
প্রতীকী ছবি

এবার ভোক্তা পর্যায়ে কমল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। জুন মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির নতুন দর ঘোষণা করেছেন। আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানিয়েছে, জুন মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। ২ টাকা ৫৯ পয়সা কমিয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত মে মাসে দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল এলপি গ্যাসের দাম। তবে এপ্রিলে দুইবার সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৭২৮ টাকা। এরপর গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে : অর্থমন্ত্রী

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করে একটি গণতান্ত্রিক, উৎপাদনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে হলে অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে। একই সঙ্গে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও বাজারভিত্তিক নীতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। 

বাজেট ২০২৬-২৭ : প্রত্যাশা ও বাস্তবতা শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরএফএলের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এবং বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

আমির খসরু বলেন, দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ স্থবিরতা, আস্থার সংকট ও কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

তার মতে, অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে সাধারণ মানুষকে। নারী, কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানমুখী কর্মসূচি বাড়ানো দরকার।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সৃজনশীল শিল্প খাতে বেসরকারি খাত এবং এনজিওগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো উচিত। এতে সেবার মান উন্নত হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং সরকারের ব্যয়ের চাপ কমবে।

পুঁজিবাজার নিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। স্বচ্ছতা, পেশাদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো ছাড়া বাজারের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।

দুর্নীতি ও অনিয়মকে অর্থনীতির বড় বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসা ও বিনিয়োগের পথে অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। পাশাপাশি নীতিগত ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

আমির খসরুর ভাষায়, গণতান্ত্রিক অর্থনীতি মানে এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিযোগিতা থাকবে, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল রাতারাতি পাওয়া যাবে না। তবে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও সঠিক নীতি অনুসরণ করা গেলে দেশের অর্থনীতি আবারও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে।