২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশাল প্রস্তুতি নিয়েছে ব্রাজিল জাতীয় দল। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো এসপোর্তে জানিয়েছে, দলটি প্রায় ১০ টন সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে।
বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের শহরে খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ স্বাস্থ্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। এ কারণেই এবারের বহন করা সরঞ্জামের পরিমাণ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আয়োজন হওয়ায় দলগুলোকেও দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। ব্রাজিল যদি ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায়, তাহলে পুরো প্রতিনিধিদলকে টানা ৪৮ দিন দেশের বাইরে থাকতে হবে।
কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ঘাঁটি ছিল একটিমাত্র শহর—দোহা। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দলটি গ্রুপ পর্বে নিউ জার্সি, ফিলাডেলফিয়া ও মায়ামিতে খেলবে। ফলে প্রতিটি শহরে চিকিৎসা ও পারফরম্যান্স সহায়তার সরঞ্জাম বহন করতে হচ্ছে।
ব্রাজিলের ফিজিওলজিস্ট গিলহার্মে পাসোস জানিয়েছেন, ‘নিউইয়র্ক রেড বুলস ট্রেনিং সেন্টারে আধুনিক প্রযুক্তি ও চমৎকার সুবিধা রয়েছে। আমাদের হোটেলও ভালো, কিন্তু কোনো হোটেল পুরোপুরি একটি মেডিকেল বিভাগের বিকল্প হতে পারে না। তাই আমরা প্রতিটি শহরে নিজস্ব স্বাস্থ্য সহায়তা ইউনিট গড়ে তুলি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ফিজিওথেরাপি, লেজার, আল্ট্রাসাউন্ড ও শকওয়েভ থেরাপির যন্ত্রপাতি আমরা সঙ্গে নিয়ে যাই। মজা করে বলতে গেলে, এটি অনেকটা একটি ভ্রাম্যমাণ জরুরি চিকিৎসা ইউনিটের মতো।’
বিশ্বকাপের এই বিশাল প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের কর্মকর্তারা আগেই সম্ভাব্য ট্রেনিং সেন্টার ও হোটেল পরিদর্শন করেছেন। এই পুরো পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিলেন পরিচালক সার্জিও ডিমাস এবং লজিস্টিকস সহকারী রেনান ওয়ারিন।
দলের লাগেজে শুধু চিকিৎসা সরঞ্জামই নয়, রয়েছে অনুশীলনের উপকরণ, ওষুধ, বিপণন কার্যক্রমের সাজসজ্জার সামগ্রী এবং শত শত জার্সি। এবারের ব্রাজিল দলের কিটেও রয়েছে দুটি আলাদা সিরিজ—একটি নাইকি এবং অন্যটি জর্ডান ব্র্যান্ডের।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলে মোট ৯১ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, চিকিৎসা ও পারফরম্যান্স বিভাগের কর্মী, নিরাপত্তাকর্মী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত।
সরঞ্জাম পরিবহনে কোনো ঝুঁকি এড়াতে এবং যাত্রাকে আরও আরামদায়ক করতে পুরো দল একটি চার্টার্ড বিমানে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি বা অন্যান্য সামগ্রী হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে যাবে।
বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার আগে প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।