• ই-পেপার

আইপিএল জয়ের পর নিষেধাজ্ঞা পেলেন টিম ডেভিড

তারকা ফরোয়ার্ড ছাড়াই বিশ্বকাপ দল ঘোষণা ইরানের, আছেন যারা

ক্রীড়া ডেস্ক
তারকা ফরোয়ার্ড ছাড়াই বিশ্বকাপ দল ঘোষণা ইরানের, আছেন যারা
ছবি : রয়টার্স

ইরানের বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়েছেন দেশের অন্যতম সফল ফরোয়ার্ড সর্দার আজমুন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব শাবাব আল-আহলির হয়ে খেলা এই তারকাকে না রাখার পেছনে রাজনৈতিক বিতর্ক কাজ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার সময় মার্চ মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে নিজের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন আজমুন। সেই ঘটনাকে ইরানের সরকার ভালোভাবে নেয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলেও জায়গা পাননি ৩০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এবার চূড়ান্ত দল ঘোষণার সময়ও তাকে উপেক্ষা করেছেন ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোই।

জাতীয় দলের হয়ে ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করা আজমুন দীর্ঘদিন ধরে ইরানের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা ছিলেন। তবে বিতর্কের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপ মিশনে তাকে ছাড়াই এগোতে হচ্ছে দলটিকে।

আগামী ১১ জুন শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো আয়োজিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। প্রথমে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, শেষ পর্যন্ত দলটি টুর্নামেন্টের জন্য নিজেদের বেস ক্যাম্প স্থাপন করেছে মেক্সিকোতে।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে স্বাগতিক হিসেবে গ্রহণে অনীহা দেখিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে মেক্সিকোকে কেন্দ্র করেই প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।

বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ১৫ জুন নিউজিল্যান্ড, ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হবে ইরান।

আজমুন বাদ পড়লেও দলে আছেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার মেহদি তারেমি এবং সাবেক ব্রাইটন উইঙ্গার আলিরেজা জাহানবাখশ। ৩৩ বছর বয়সী তারেমি বর্তমানে গ্রিসের অলিম্পিয়াকোসে খেলছেন, আর জাহানবাখশ খেলছেন বেলজিয়ামের ক্লাব ডেন্ডারের হয়ে।

২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান স্কোয়াড :

গোলকিপার : আলিরেজা বেইরানভান্দ, সৈয়দ হোসেইন হোসেইনি, পায়াম নিয়াজমান্দ।

ডিফেন্ডার : দানিয়াল এইরি, এহসান হাজসাফি, সালেহ হার্দানি, হোসেইন কানায়ানি, শোজা খালিলজাদেহ, মিলাদ মোহাম্মাদি, আলি নেমাতি, রামিন রেজায়িয়ান।

মিডফিল্ডার : রুজবেহ চেশমি, সাইদ এজাতোলাহি, মেহদি ঘায়েদি, সামান ঘোদ্দোস, মোহাম্মদ ঘোরবানি, আলিরেজা জাহানবাখশ, মোহাম্মদ মোহেবি, আমির মোহাম্মদ রাজ্জাঘিনিয়া, মেহদি তোরাবি, আরিয়া ইউসেফি।

ফরোয়ার্ড : আলি আলিপুর, ডেনিস দারগাহি, আমিরহোসেইন হোসেইনজাদেহ, মেহদি তারেমি, শাহরিয়ার মোঘানলু।

কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু বিশ্বকাপজয়ী ইনিয়েস্তার

ক্রীড়া ডেস্ক
কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু বিশ্বকাপজয়ী ইনিয়েস্তার
ছবি : রয়টার্স

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবার শুরু করলেন জীবনের নতুন অধ্যায়। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার দুই বছরের মাথায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব গালফ ইউনাইটেডের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন স্প্যানিশ কিংবদন্তি।

এটাই ইনিয়েস্তার কোচিং ক্যারিয়ারের প্রথম দায়িত্ব। ক্লাবের পক্ষ থেকে নিয়োগের ঘোষণা আসার পর ইনিয়েস্তা জানান, কোচ হিসেবে নিজের যাত্রা শুরু করার জন্য গালফ ইউনাইটেডকেই সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা বলে মনে হয়েছে তার।

‘ফুটবল আমাকে সবকিছু দিয়েছে। এখন আমি কোচিংয়ের মাধ্যমে কিছু ফিরিয়ে দিতে চাই। প্রতিদিন তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যারা উন্নতি করতে চায় এবং বড় স্বপ্ন দেখে,’ বলেন ইনিয়েস্তা।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সঠিক উপায়ে ফুটবলার তৈরি করতে হয়— ধৈর্য, স্পষ্ট ফুটবল দর্শন এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি আন্তরিক যত্ন নিয়ে। গালফ ইউনাইটেডও একই দর্শনে বিশ্বাস করে, আর এ কারণেই আমি এখানে এসেছি।’

কোচিংয়ের পাশাপাশি নিজের প্রো লাইসেন্স অর্জনের লক্ষ্যও রয়েছে বলে জানান ৪২ বছর বয়সী এই স্প্যানিয়ার্ড।

ইনিয়েস্তা ২০২৪ সালে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানান। তার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস ক্লাবের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ও প্রভাবশালী মিডফিল্ডার হিসেবে।

বার্সেলোনার সোনালি প্রজন্মের অন্যতম সদস্য ইনিয়েস্তা জিতেছেন চারটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, নয়টি লা লিগা শিরোপা এবং বহু ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ট্রফি।

জাতীয় দলের হয়েও তার সাফল্য ঈর্ষণীয়। স্পেনকে দুটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২০১০ বিশ্বকাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তার অতিরিক্ত সময়ের গোলই স্পেনকে এনে দেয় ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা।

উল্লেখ্য, খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার সময় ইনিয়েস্তা নিজেই জানিয়েছিলেন যে কোচিংয়ে আসার পরিকল্পনা তার নেই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ভাবনা বদলেছে, আর এখন তিনি নতুন পরিচয়ে মাঠে ফিরছেন।

২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গালফ ইউনাইটেড বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিতীয় স্তরের লিগে খেলে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে দলটি লিগে দশম স্থানে শেষ করেছিল।

এবার ক্লাবটির দায়িত্ব নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন ইনিয়েস্তা। ফুটবলার হিসেবে যেভাবে ইতিহাস লিখেছেন, কোচ হিসেবেও সেই সাফল্যের গল্প শুরু করতে চান স্প্যানিশ মহাতারকা। 
 

হীরক জয়ন্তী টুর্নামেন্ট

পাকিস্তানকে রুখে দিল ১০ জনের বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
পাকিস্তানকে রুখে দিল ১০ জনের বাংলাদেশ
বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের একটি মুহূর্ত। ছবি: ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব মালদ্বীপ

বাংলাদেশ ০-০ পাকিস্তান

মালদ্বীপে আমন্ত্রণমূলক চার জাতির হীরক জয়ন্তী টুর্নামেন্ট উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানকে রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। মালের জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে। 

তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ দলে কোনো প্রবাসী ফুটবলার না থাকলেও পাকিস্তান মাঠে নামিয়েছিল প্রবাসীদের নিয়ে গড়া অভিজ্ঞ সিনিয়র দল। ম্যাচের শেষ প্রায় আধাঘণ্টা ১০ জন নিয়ে খেলেও প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তানকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে অন্তত তিনটি সহজ সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি মারুফুল হকের শিষ্যরা। মূলত দক্ষ ফিনিশারের অভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। ফলে পাকিস্তানও তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

বিরতির পর ম্যাচে উত্তেজনা আরো বাড়ে। ৬২ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশের মনজুরুল হক মানিক। তবে এর আগে পাকিস্তানের গোলরক্ষক ও এক খেলোয়াড় বাংলাদেশের এক খেলোয়াড়কে ধাক্কা দিলেও রেফারি তা আমলে নেননি। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ করলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।

একজন কম নিয়ে খেলতে বাধ্য হওয়ার পর বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ায় পাকিস্তান। ৬৬ মিনিটে আলী হায়দার শাহর সাইড ভলি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক শ্রাবণ। দ্বিতীয়ার্ধে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে গোল হজমের হাত থেকে বাঁচান তিনি। তার হাতেই ওঠে ম্যাচসেরার পুরস্কার।

ম্যাচ শেষে শ্রাবণ বলেছেন, ‘আমরা এখানে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এসেছি। কোচ বলেছিলেন, প্রথম ম্যাচ জিততে পারলে টুর্নামেন্টে ৫০ শতাংশ এগিয়ে থাকা যাবে। আমরা জিততে পারিনি। তবে হারার চেয়ে ১ পয়েন্ট পাওয়া অবশ্যই ভালো। পরের ম্যাচে আরো ভালো খেলতে চাই।’

বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার শাহীন হাসান বলেছেন, ‘আজকের ম্যাচে রেফারিং খুবই হতাশাজনক ছিল। আমাদের খেলোয়াড়কে যে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, সেটি যথার্থ ছিল না। এর আগে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা ফাউল করলেও তাদের কাউকে লাল কার্ড দেখানো হয়নি। তারপরও আমাদের ছেলেরা দারুণ খেলেছে। শুধু গোলটাই পাওয়া হয়নি।’

রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মালদ্বীপের কোচ আলী সুজেইনও। ম্যাচ শেষে শ্রাবণের হাতে ম্যাচসেরার পুরস্কার তুলে দিয়ে তিনি বলেন, ‘লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না। রেফারিংয়ের মান আরো ভালো হওয়া উচিত ছিল। দুর্বল রেফারিং ম্যাচের জন্য কাম্য নয়।’

আগামী বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

সৌদির বিশ্বকাপ দলে একমাত্র বিদেশি খেলোয়াড় আব্দুলহামিদ

ক্রীড়া ডেস্ক
সৌদির বিশ্বকাপ দলে একমাত্র বিদেশি খেলোয়াড় আব্দুলহামিদ

ফিফা বিশ্বকাপ স্কোয়াডে একমাত্র বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন রোমার ডিফেন্ডার সৌদ আব্দুলহামিদ। গ্রিক কোচ জর্জিওস দোনিসের ঘোষিত ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে আব্দুলহামিদ ছাড়া বাকি সব খেলোয়াড়ই ঘরোয়া লিগের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। 

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মৌসুমে ফরাসি ক্লাব লেন্সেকে ফ্রেঞ্চ কাপ জিতিয়ে ছিলেন আব্দুলহামিদ। সৌদি প্রো-লিগের বাইরের খেলা একমাত্র খেলোয়াড় তিনি। যাকে কোচ জর্জিওস ২৬ সদস্যের দলে রেখেছেন।

২০১৮ এবং ২০২২ সালের পর নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপে খেলতে নামবেন ৩৪ বছর বয়সী সালেম আল দাওসারি। দলের আর্মব্যান্ডও থাকবে আল-হিলালের এই খেলোয়াড়ের হাতে। 

সৌদি আরব ১৫ জুন গ্রুপ ‘এইচে’ উরুগুয়ের বিপক্ষে অভিযান শুরু করবে। এরপর ২১ জুন স্পেনের এবং ছয় দিন পর কেপ ভার্দের সাথে তাদের ম্যাচ রয়েছে।

সৌদি আরবের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলরক্ষক : মোহাম্মদ আল ওয়াইস (আল উলা), নাওয়াফ আল আকিদি (আল নাসর), আহমেদ আল কাসার (আল কাদসিয়াহ)।

ডিফেন্ডার : আব্দুলেলাহ আল আমরি (আল নাসর), হাসান তাম্বাকতি (আল হিলাল), জেহাদ থিকরি (আল কাদসিয়া), আলী লাজামি (আল হিলাল), হাসান কাদেশ (আল ইত্তেহাদ), সৌদ আব্দুলহামিদ (লেন্স, রোমা থেকে লোনে), মোহাম্মদ আবু আল শামাত (আল কাদসিয়া), আলী মাজরাশি (আল আল হাবিল হাবিল), আল হাবিল হাবিল (মোহাম্মদ আবুল হামিদ)। নাসর), সুলতান আল-ঘানাম (আল নাসর)।

মিডফিল্ডার : মোহাম্মদ কান্নো (আল হিলাল), আবদুল্লাহ আল খাইবারি (আল নাসর), জিয়াদ আল জোহানি (আল আহলি), নাসের আল দাওসারি (আল হিলাল), মুসাব আল জুওয়াইর (আল কাদসিয়াহ), আলা আল হাজ্জি (নিওম), সালেম আল দাওসারি (আল হিলাল), খালিদ আল ঘান্নাম (আল নাসারি), আল নাসের (আল নাস)।

ফরোয়ার্ড: ফিরাস আল বুরাইকান (আল আহলি), সালেহ আল শেহরি (আল ইত্তিহাদ), আবদুল্লাহ আল হামদান (আল নাসর)।