• ই-পেপার

সৌদির বিশ্বকাপ দলে একমাত্র বিদেশি খেলোয়াড় আব্দুলহামিদ

হীরক জয়ন্তী টুর্নামেন্ট

পাকিস্তানকে রুখে দিল ১০ জনের বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
পাকিস্তানকে রুখে দিল ১০ জনের বাংলাদেশ
বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের একটি মুহূর্ত। ছবি: ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব মালদ্বীপ

বাংলাদেশ ০-০ পাকিস্তান

মালদ্বীপে আমন্ত্রণমূলক চার জাতির হীরক জয়ন্তী টুর্নামেন্ট উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানকে রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। মালের জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে। 

তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ দলে কোনো প্রবাসী ফুটবলার না থাকলেও পাকিস্তান মাঠে নামিয়েছিল প্রবাসীদের নিয়ে গড়া অভিজ্ঞ সিনিয়র দল। ম্যাচের শেষ প্রায় আধাঘণ্টা ১০ জন নিয়ে খেলেও প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তানকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে অন্তত তিনটি সহজ সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি মারুফুল হকের শিষ্যরা। মূলত দক্ষ ফিনিশারের অভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। ফলে পাকিস্তানও তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

বিরতির পর ম্যাচে উত্তেজনা আরো বাড়ে। ৬২ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশের মনজুরুল হক মানিক। তবে এর আগে পাকিস্তানের গোলরক্ষক ও এক খেলোয়াড় বাংলাদেশের এক খেলোয়াড়কে ধাক্কা দিলেও রেফারি তা আমলে নেননি। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ করলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।

একজন কম নিয়ে খেলতে বাধ্য হওয়ার পর বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ায় পাকিস্তান। ৬৬ মিনিটে আলী হায়দার শাহর সাইড ভলি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক শ্রাবণ। দ্বিতীয়ার্ধে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে গোল হজমের হাত থেকে বাঁচান তিনি। তার হাতেই ওঠে ম্যাচসেরার পুরস্কার।

ম্যাচ শেষে শ্রাবণ বলেছেন, ‘আমরা এখানে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এসেছি। কোচ বলেছিলেন, প্রথম ম্যাচ জিততে পারলে টুর্নামেন্টে ৫০ শতাংশ এগিয়ে থাকা যাবে। আমরা জিততে পারিনি। তবে হারার চেয়ে ১ পয়েন্ট পাওয়া অবশ্যই ভালো। পরের ম্যাচে আরো ভালো খেলতে চাই।’

বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার শাহীন হাসান বলেছেন, ‘আজকের ম্যাচে রেফারিং খুবই হতাশাজনক ছিল। আমাদের খেলোয়াড়কে যে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, সেটি যথার্থ ছিল না। এর আগে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা ফাউল করলেও তাদের কাউকে লাল কার্ড দেখানো হয়নি। তারপরও আমাদের ছেলেরা দারুণ খেলেছে। শুধু গোলটাই পাওয়া হয়নি।’

রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মালদ্বীপের কোচ আলী সুজেইনও। ম্যাচ শেষে শ্রাবণের হাতে ম্যাচসেরার পুরস্কার তুলে দিয়ে তিনি বলেন, ‘লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না। রেফারিংয়ের মান আরো ভালো হওয়া উচিত ছিল। দুর্বল রেফারিং ম্যাচের জন্য কাম্য নয়।’

আগামী বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

হ্যান্সি ক্রনিয়ে : না থেকেও যেন আছেন প্রোটিয়া মহানায়ক

সাহিদ রহমান অরিন
হ্যান্সি ক্রনিয়ে : না থেকেও যেন আছেন প্রোটিয়া মহানায়ক
দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রনিয়ের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ছবি : সংগৃহীত

১ জুন ২০০২। আর দশটা দিনের মতোই জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে উড়াল দিয়েছিল ‘হকার সিডেলি ৭৪৮’ মডেলের কার্গো বিমানটি। গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার অবকাশ যাপন ও সম্মেলনের শহর হিসেবে পরিচিত জর্জে। 

বিমানটি উড়াল তো দিল; কিন্তু একমাত্র যাত্রীকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারল না। মাঝ আকাশে সুতো কেটে যাওয়া ঘুড়ির মতো গোত্তা খেতে লাগল সেটি। 

তখন মেঘেরও অনেকটা ওপরে বিমানটির অবস্থান। দুই পাইলট আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেলেন কন্ট্রোল প্যানেলকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার। কথা শুনছিল না হুইল দুটো, রেডিওটা অসাড়, কাজ করছিল না রিসিভার। রাডার স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, ফুরিয়ে আসছিল জ্বালানিও। 

pic1
এই বিমানেই ছিলেন হ্যান্সি ক্রনিয়ে। ছবি : সংগৃহীত

ভয়ানক এই বিপদ থেকে আর শেষ রক্ষা হয়নি। আউটেনিকা পর্বতমালার ক্রাডক শৃঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ৫১৭৭ ফুট নিচে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়ল কার্গো বিমানটি। অকালে প্রাণ গেল দুই পাইলট আর একমাত্র যাত্রীর।

অথচ বিমানটিতে কোনো যাত্রী থাকার কথাই ছিল না। কিন্তু ওড়ার আগ মুহূর্তে তিনি চড়ে বসেন কার্গোটায়। হয়তো ‘মৃত্যু দূত’-ই তাকে টেনে এনে বসিয়েছিলেন!

এই যাত্রী আর কেউ নন। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রোনিয়ে। পেটানো শরীরের মানুষটা একই সঙ্গে নন্দিত ও নিন্দিত। 

দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছিলেন ক্রনিয়ে। হয়ে উঠেছিলেন প্রোটিয়াদের মহানায়ক। সেই ক্রনিয়েই কি না ক্যারিয়ারের সোনালি সময়ে নিজ পায়ে নিজেই কুড়াল মেরে বনে গেলেন খলনায়ক। এত অল্প সময়ে এমন বাঁক বদল আর যে কোনো অধিনায়কের জীবনে আসেনি! সেই বর্ণিল মানুষটির জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার দুই যুগ পূর্ণ হলো আজ। 

তবে ক্রনিয়ে আজও বেঁচে আছেন গত শতাব্দীর শেষ দশকের ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ের মণিকোঠায়। কেউ কেউ তাকে এখনো নিজের আদর্শ ভাবেন। 

pic111
দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সফল অধিনায়ক ছিলেন হ্যান্সি ক্রনিয়ে। ছবি: সংগৃহীত

হ্যান্সি ক্রনিয়ে নামটা ক্রিকেট অনুরাগীরা মনে রেখেছে তিনটি কারণে। প্রথমটি তার নেতৃত্বের কারিশমা, দ্বিতীয়টি ম্যাচ পাতানো, তৃতীয়টি করুণ মৃত্যু।

১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ব্লুমফন্টেইনে এডি ও সান মেরি ক্রনিয়ে দম্পতির ঘর আলোকিত করেন হ্যান্সি। তার যখন জন্ম, তখন প্রোটিয়ারা বর্ণবাদের কারণে সবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছে।

হ্যান্সি ক্রনিয়ের নেতৃত্বগুণটা শিক্ষা জীবনেই পরিস্ফুটিত হয়েছে। আশির দশকে ব্লুমফন্টেইনের সবচেয়ে নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গ্রে কলেজে পড়তেন হ্যান্সি ও তার বড় ভাই ফ্রান্স ক্রনিয়ে। সে সময় দুজনে মিলে গ্রে কলেজকে বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন। স্কুলপড়ুয়া অবস্থাতেই ক্রিকেট ও রাগবি দলের অধিনায়ক ছিলেন হ্যান্সি। শুধু খেলায় নয়, ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র হিসেবেও তার সুনাম ছিল। 

স্কুলের প্রধান শিক্ষক ভলসটেড ক্রনিয়েকে নিয়ে অনেক আশাবাদী ছিলেন। একদিন ক্রনিয়ে শিক্ষককে কথা দেন, ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে খেলার সুযোগ পেলে বিমানের টিকিট পাঠিয়ে দেবেন। আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখা বালক ক্রনিয়ে হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন, তখনো তার দেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত।

কিন্তু শিক্ষককে দেওয়া কথা পূরণ করতে স্বপ্নের পেছনে খুব দ্রুতই ছুটে চলেন ক্রনিয়ে। অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের হয়ে ১৯৮৮ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। বয়স তখন ১৮ বছর। প্রথম মৌসুমটা অম্লমধুর কাটলেও ক্রনিয়ের প্রতিভা দেখে কয়েক মৌসুম পরেই তাকে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

নির্বাসন কাটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৯২ বিশ্বকাপের ঠিক আগে ক্রিকেট ফেরে। প্রত্যাবর্তন সিরিজটা ভারতের মাটিতে খেলেছিল প্রোটিয়ারা। তরুণ ক্রনিয়ে সেবার দলের সঙ্গে আসেন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের উদ্দেশে। তবে মাদার তেরেসার সঙ্গে দেখা করার বহু দিনের ইচ্ছাটাও পূরণ হয় ভারত সফরের মধ্য দিয়ে। পরে ক্রনিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম বিশ্বকাপ দলেও জায়গা করে নেন।

আন্তর্জাতিক আঙিনায় শুরু থেকেই দুর্দান্ত সময় কাটাতে থাকেন ক্রনিয়ে। নেতৃত্ব দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা নিয়ে বেড়ে ওঠা মানুষটিকে প্রতিভা প্রদর্শনের জন্য তাই বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি। নিয়মিত অধিনায়ক কেপলার ওয়েসেলস চোটে পড়লে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনি টেস্টে তার কাঁধে ওঠে নেতৃত্ব ভার।

ক্রনিয়ে যখন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন, তখন অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য মাত্র ১১৭ রানের প্রয়োজন ছিল। তিনি দেরি না করে অ্যালান ডোনাল্ডকে সরিয়ে বল তুলে দেন ফানি ডি ভিলিয়ার্সের হাতে। ডি ভিলিয়ার্স ওই ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫ রানের অবিস্মরণীয় জয় এনে দেন।

ফর্মের তুঙ্গে থাকা ক্রনিয়ে প্রধান শিক্ষককে দেওয়া কথা ভুলেননি। ১৯৯৪ সালে লর্ডসে খেলতে নামার আগে তার ঠিকানায় বিমানের টিকিট ঠিকই পাঠিয়ে দেন। 

বুদ্ধিদীপ্ত অধিনায়কদের সংক্ষিপ্ত তালিকা করলে হ্যান্সি ক্রনিয়েকে ওপরেই রাখবেন ক্রিকেটবোদ্ধারা। অধিনায়ক হিসেবে তার পরিসংখ্যান সে কথাই বলে।

cronje & mandela
দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে হ্যান্সি ক্রনিয়ে। ছবি: সংগৃহীত

ওয়ানডেতে প্রোটিয়াদের ১৩৮ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জয় এনে দিয়েছেন ৯৯টিতে। মানে, ৭১.৭৩% সাফল্য এসেছে তার অধিনায়কত্বে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে কমপক্ষে ১৫ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এমন অধিনায়কদের মধ্যে এখনো তিনিই সবচেয়ে সফল। টেস্টেও কম যাননি। ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণের ৫৩ ম্যাচে ব্লেজার পরে টস করতে নেমেছিলেন। যার ২৭টিতেই উড়িয়েছেন বিজয় কেতন, ড্র ১৫টি, হার ১১টি।

তবে বিশ্বকাপ এলেই খেই হারিয়ে ফেলত ক্রনিয়ের দল। সেই প্রথা ধরে রেখেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সব অধিনায়ক। সে কারণেই ‘চোকার’ তকমাটি লেগে গেছে তাদের পিঠে। 

গত বছর টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে। তাতে চোকার তকমা প্রোটিয়াদের ওপর থেকে সরে গেছে বলে দাবি করেছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা সেই আগের দক্ষিণ আফ্রিকাই আছে। এ বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এইডেন মার্করামের অধিনায়কত্বে দুর্দান্ত খেলেও তাদের বিদায় নিতে হয়েছে সেমিফাইনাল থেকে।

সাদা বলের বৈশ্বিক আসরে প্রোটিয়াদের সর্বোচ্চ সাফল্য এখনো একটিই। সেটাও হ্যান্সি ক্রনিয়ের নেতৃত্বে এই বাংলাদেশের মাটিতেই। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ১৯৯৮ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি (তৎকালীন নকআউট বিশ্বকাপ) ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল ক্রনিয়ের দক্ষিণ আফ্রিকা।

Cronje & Sheikh Hasina
ঢাকায় ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর হ্যান্সি ক্রনিয়ের হাতে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি তুলে দেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত

সেই স্মৃতি বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেট অনুরাগীর এখনো নিশ্চয় মনে থাকার কথা। অনেকে তো সেই ফাইনালের সাক্ষীও হয়ে আছেন। তাই ক্রনিয়ে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকানদের কাছে নয়; বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও যেন না থেকেও আছেন!

মামলা জিতে বিনা টিকিটে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন তারা

ক্রীড়া ডেস্ক
মামলা জিতে বিনা টিকিটে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন তারা
আগামী ১১ জুন আজতেকা স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। ছবি : এআই দিয়ে বানানো

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের চড়া দাম নিয়ে যখন সমালোচনা চলছে, তখন মেক্সিকোর ১৪ হাজার দর্শক বিনা মূল্যে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। 

প্রায় ছয় দশক পুরনো একটি চুক্তিকে ঘিরে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে নিজেদের সেই অধিকার বহাল রাখতে সক্ষম হয়েছেন সেসব দর্শক।

আগামী ১১ জুন ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হবে। তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজনের ইতিহাস গড়া প্রথম স্টেডিয়াম হতে যাচ্ছে এই ভেন্যু।

উদ্বোধনী ম্যাচেই প্রায় ১৪ হাজার দর্শক টিকিটের মূল্য পরিশোধ না করেই খেলা উপভোগ করবেন। আর এর পেছনে আছে এক ব্যতিক্রমী ইতিহাস। 

১৯৬০-এর দশকে স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় অর্থসংকটে পড়ে কর্তৃপক্ষ। তখন প্রায় ৬০০টি বক্স ও ৮ হাজার গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের আসন আগাম বিক্রি করা হয়। ক্রেতাদের সঙ্গে করা চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, ২০৬৫ সাল পর্যন্ত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত যেকোনো খেলা বা অনুষ্ঠানে তারা অতিরিক্ত টিকিট ছাড়াই প্রবেশাধিকার ভোগ করবেন।

ফলে বিশ্বকাপ, আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ, কনসার্ট কিংবা অন্য বড় আয়োজনেও এসব আসনের মালিকদের প্রবেশাধিকার বহাল থাকে। বর্তমানে এই সুবিধাভোগী আসনের সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার।

এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ফিফা এসব আসনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল। তবে সে উদ্যোগ সফল হয়নি। ফলে ওই বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত হ্যান্ড অব গড ও গোল অব দ্য সেঞ্চুরি ম্যাচও তারা বিনা মূল্যে উপভোগ করেছিলেন। 

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আবারও বিষয়টি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। ফিফা এবং স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসব আসন নিজেদের টিকিট বিক্রির আওতায় আনতে চাইলেও আসন মালিকদের সংগঠন আদালতের শরণাপন্ন হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত আসন মালিকদের পক্ষেই রায় দেন।

সংগঠনের মহাসচিব রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা বলেন, ‘আমাদের অধিকার আদালত স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে আমাদের কোনো অর্থ দিতে হবে না।’

মেক্সিকান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব আসন ফিফার জন্য বিক্রি করতে না পারায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো (৭৭২ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে।

তবে আদালতের রায়ের পরও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। বিশ্বকাপ শুরুর এক সপ্তাহ আগ পর্যন্ত অনেক সুবিধাভোগী দর্শক তাদের ইলেকট্রনিক টিকিট হাতে পাননি। এ নিয়ে রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা সতর্ক করে বলেছেন, ‘প্রয়োজন হলে আমরা আবারও আদালতের দ্বারস্থ হবো।’ 

সব জটিলতা সত্ত্বেও ১৪ হাজার আসনের মালিকরা আশাবাদী, তারা শেষ পর্যন্ত স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন এবং বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি বিনা মূল্যে উপভোগ করবেন।

ক্রিকেটের নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনল আইসিসি

ক্রীড়া ডেস্ক
ক্রিকেটের নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনল আইসিসি

টেস্ট ক্রিকেটে প্রথাগতভাবে লাল বল দিয়ে খেলা হয়ে থাকে। দিবা-রাত্রির টেস্ট হলে গোলাপি বল দিয়ে খেলা হয়। 

তবে আবহাওয়ার কারণে খেলা ব্যাহত হলে কিংবা আলোকস্বল্পতার কারণে ফ্লাডলাইটের নিচে খেলার প্রয়োজন হলে উভয় দলের সম্মতিতে গোলাপি বল ব্যবহার করা যাবে।

প্রধান নির্বাহীদের কমিটির সুপারিশে আজ ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছে আইসিসি।

টেস্ট ক্রিকেটে যেন আলোকস্বল্পতার কারণে সময় নষ্ট না হয়, এ জন্য গবেষণারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। ফ্লাডলাইট, আলো পরিমাপের ব্যবস্থা, সেন্সর এবং অন্যান্য আধুনিক আলোকসজ্জা প্রযুক্তি নিয়ে আইসিসি ও মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) একসঙ্গে অর্থায়ন করবে। 

ক্রিকেটের নিয়মে আরো কিছু সংযোজন ও সংশোধন করেছে আইসিসি। এর মধ্যে একটি হচ্ছে পানিপানের বিরতির সময় প্রধান কোচকে মাঠে প্রবেশের অনুমতি।

বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পানিপানের বিরতির সময় প্রধান কোচ মাঠে প্রবেশ করতে পারেন। ওয়ানডে ক্রিকেটেও এমন নিয়ম চালুর অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। 

টি-টোয়েন্টিতে ইনিংস বিরতির সময় কমানোরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমান নিয়মে প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর ও দ্বিতীয় ইনিংস শুরুর আগে ২০ মিনিটের বিরতি দেওয়া হয়। নতুন নিয়মে বিরতি দেওয়া হবে ১৫ মিনিট।

টেস্টে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে সেখানে খেলা না থামিয়ে ওভার শেষ করারও সিদ্ধান্ত এসেছে। 

নারী ক্রিকেট নিয়েও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে আইসিসির সভায়। ২০২৭ নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জুন-জুলাই থেকে এগিয়ে ওই বছরেরই ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

২০২৮ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ১০টি থেকে বাড়িয়ে ১২টি করা হচ্ছে। র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৮ দল ও স্বাগতিক দেশ সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে। স্বাগতিক দেশ আগেই কোয়ালিফাই করে ফেললে র‌্যাংকিংয়ের পরের শীর্ষ দলগুলো বিশ্বকাপে জায়গা পাবে। বাকি দুটি দল আসবে ১০ দলের বাছাইপর্ব খেলে।

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনে প্রতিনিধি পাঠানোর কথাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে আইসিসি। দক্ষিণ আফ্রিকার ড. মোহাম্মদ মোসাজে ও জিম্বাবুয়ের তেবাঙ্গা মুকুলআনি বিসিবি নির্বাচন এবং বোর্ডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলবেন। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে যাবেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইসিসি। বর্তমান কাঠামোর মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচির সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে আহমেদাবাদের সভায়। সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নিতে আইসিসি বদ্ধপরিকর। 

আগামী ১ অক্টোবর থেকে ক্রিকেটের নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।