বাংলাদেশ ০-০ পাকিস্তান
মালদ্বীপে আমন্ত্রণমূলক চার জাতির হীরক জয়ন্তী টুর্নামেন্ট উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানকে রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। মালের জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে।
তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ দলে কোনো প্রবাসী ফুটবলার না থাকলেও পাকিস্তান মাঠে নামিয়েছিল প্রবাসীদের নিয়ে গড়া অভিজ্ঞ সিনিয়র দল। ম্যাচের শেষ প্রায় আধাঘণ্টা ১০ জন নিয়ে খেলেও প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তানকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে অন্তত তিনটি সহজ সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি মারুফুল হকের শিষ্যরা। মূলত দক্ষ ফিনিশারের অভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। ফলে পাকিস্তানও তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
বিরতির পর ম্যাচে উত্তেজনা আরো বাড়ে। ৬২ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশের মনজুরুল হক মানিক। তবে এর আগে পাকিস্তানের গোলরক্ষক ও এক খেলোয়াড় বাংলাদেশের এক খেলোয়াড়কে ধাক্কা দিলেও রেফারি তা আমলে নেননি। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ করলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।
একজন কম নিয়ে খেলতে বাধ্য হওয়ার পর বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ায় পাকিস্তান। ৬৬ মিনিটে আলী হায়দার শাহর সাইড ভলি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক শ্রাবণ। দ্বিতীয়ার্ধে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে গোল হজমের হাত থেকে বাঁচান তিনি। তার হাতেই ওঠে ম্যাচসেরার পুরস্কার।
ম্যাচ শেষে শ্রাবণ বলেছেন, ‘আমরা এখানে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এসেছি। কোচ বলেছিলেন, প্রথম ম্যাচ জিততে পারলে টুর্নামেন্টে ৫০ শতাংশ এগিয়ে থাকা যাবে। আমরা জিততে পারিনি। তবে হারার চেয়ে ১ পয়েন্ট পাওয়া অবশ্যই ভালো। পরের ম্যাচে আরো ভালো খেলতে চাই।’
বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার শাহীন হাসান বলেছেন, ‘আজকের ম্যাচে রেফারিং খুবই হতাশাজনক ছিল। আমাদের খেলোয়াড়কে যে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, সেটি যথার্থ ছিল না। এর আগে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা ফাউল করলেও তাদের কাউকে লাল কার্ড দেখানো হয়নি। তারপরও আমাদের ছেলেরা দারুণ খেলেছে। শুধু গোলটাই পাওয়া হয়নি।’
রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মালদ্বীপের কোচ আলী সুজেইনও। ম্যাচ শেষে শ্রাবণের হাতে ম্যাচসেরার পুরস্কার তুলে দিয়ে তিনি বলেন, ‘লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না। রেফারিংয়ের মান আরো ভালো হওয়া উচিত ছিল। দুর্বল রেফারিং ম্যাচের জন্য কাম্য নয়।’
আগামী বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।




