• ই-পেপার

ক্রিকেটের নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনল আইসিসি

মামলা জিতে বিনা টিকিটে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন তারা

ক্রীড়া ডেস্ক
মামলা জিতে বিনা টিকিটে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন তারা
আগামী ১১ জুন আজতেকা স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। ছবি: এআই দিয়ে বানানো

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের চড়া দাম নিয়ে যখন সমালোচনা চলছে, তখন মেক্সিকোর ১৪ হাজার দর্শক বিনামূল্যে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। 

প্রায় ছয় দশক পুরোনো একটি চুক্তিকে ঘিরে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে নিজেদের সেই অধিকার বহাল রাখতে সক্ষম হয়েছেন সেসব দর্শক।

আগামী ১১ জুন ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হবে। তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজনের ইতিহাস গড়া প্রথম স্টেডিয়াম হতে যাচ্ছে এই ভেন্যু।

উদ্বোধনী ম্যাচেই প্রায় ১৪ হাজার দর্শক টিকিটের মূল্য পরিশোধ না করেই খেলা উপভোগ করবেন। আর এর পেছনে আছে এক ব্যতিক্রমী ইতিহাস। 

১৯৬০-এর দশকে স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় অর্থসংকটে পড়ে কর্তৃপক্ষ। তখন প্রায় ৬০০টি বক্স ও ৮ হাজার গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের আসন আগাম বিক্রি করা হয়। ক্রেতাদের সঙ্গে করা চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, ২০৬৫ সাল পর্যন্ত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত যেকোনো খেলা বা অনুষ্ঠানে তারা অতিরিক্ত টিকিট ছাড়াই প্রবেশাধিকার ভোগ করবেন।

ফলে বিশ্বকাপ, আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ, কনসার্ট কিংবা অন্য বড় আয়োজনেও এসব আসনের মালিকদের প্রবেশাধিকার বহাল থাকে। বর্তমানে এই সুবিধাভোগী আসনের সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার।

এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ফিফা এসব আসনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল। তবে সে উদ্যোগ সফল হয়নি। ফলে ওই বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত হ্যান্ড অব গড ও গোল অব দ্য সেঞ্চুরি ম্যাচও তারা বিনামূল্যে উপভোগ করেছিলেন। 

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আবারো বিষয়টি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। ফিফা এবং স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসব আসন নিজেদের টিকিট বিক্রির আওতায় আনতে চাইলেও আসন মালিকদের সংগঠন আদালতের শরণাপন্ন হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত আসন মালিকদের পক্ষেই রায় দেন।

সংগঠনের মহাসচিব রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা বলেন, ‘আমাদের অধিকার আদালত স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে আমাদের কোনো অর্থ দিতে হবে না।’

মেক্সিকান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব আসন ফিফার জন্য বিক্রি করতে না পারায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো (৭৭২ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে।

তবে আদালতের রায়ের পরও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। বিশ্বকাপ শুরুর এক সপ্তাহ আগ পর্যন্ত অনেক সুবিধাভোগী দর্শক তাদের ইলেকট্রনিক টিকিট হাতে পাননি। এ নিয়ে রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা সতর্ক করে বলেছেন, ‘প্রয়োজন হলে আমরা আবারো আদালতের দ্বারস্থ হব।’ 

সব জটিলতা সত্ত্বেও ১৪ হাজার আসনের মালিকরা আশাবাদী, তারা শেষ পর্যন্ত স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন এবং বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি বিনামূল্যে উপভোগ করবেন।

গাড়ি পেয়েছেন ২০২৫ ও ২০২৬ সালে, চালাতে পারবেন ২০২৯ সালে

ক্রীড়া ডেস্ক
গাড়ি পেয়েছেন ২০২৫ ও ২০২৬ সালে, চালাতে পারবেন ২০২৯ সালে
এবারের আইপিএলে টাটা সিয়েরা সিইউভি গাড়ি জিতেছেন বৈভব সূর্যবংশী। ছবি: এআই দিয়ে বানানো

একটি-দুটি নয়; পাঁচটি-পাঁচটি পুরস্কার। সেটাও মাত্র ১৫ বছর বয়সে! রাজস্থান রয়্যালসকে ফাইনালে তুলতে না পারলেও বৈভব সূর্যবংশী এবারের আইপিএলে প্রায় সব আলো একাই কেড়েছেন। 

ভারতের এই বিস্ময় বালক হয়েছেন টুর্নামেন্টসেরা, করেছেন সর্বোচ্চ রান, মেরেছেন সর্বোচ্চ ছক্কা। সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কারটাও উঠেছে তার হাতে। 

তবে যে পুরস্কার জেতার কারণে সূর্যবংশীকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, তা একটি গাড়ি। এবারের আইপিএলে রেকর্ড ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে তিনি পেয়েছেন টাটা সিয়েরা সিইউভি গাড়ি, যার দাম ২৭ লাখ টাকা। 

এত অল্প বয়সেই তিনটি গাড়ির মালিক হয়ে গেলেন সূর্যবংশী। গত বছর আইপিএলেও সুপার স্ট্রাইকারের পুরস্কার হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন টাটা ব্র্যান্ডের গাড়ি। কার্ভ মডেলের সেই গাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য ২৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা। 

IPL CAR
গত বছরের আইপিএলেও গাড়ি উপহার পান সূর্যবংশী। ছবি: বিসিসিআই

শুধু কি তাই? আইপিএলের গত মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে রাজস্থান রয়্যালসের মালিক রঞ্জিত বরঠাকুর সূর্যবংশীকে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা দামের মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি উপহার দেন। 

কিন্তু আগের দুটি গাড়ির চাবি সূর্যবংশী মায়ের হাতে তুলে দিয়েছেন। এবারো হয়তো তেমন কিছুই হবে। কারণ, সূর্যবংশী তিনটি গাড়ির মালিক বনে গেলেও সেগুলো নিজে চালাতে পারবেন না। 

ভারতের সড়ক পরিবহন ও মোটরযান আইন অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ গিয়ারযুক্ত মোটরসাইকেল, বাইক, স্কুটি এবং চার চাকার গাড়ি চালাতে পারবেন না। ১৮ বছরের কম বয়সী কেউ গাড়ি বা বাইক চালালে তা গুরুতর অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। এতে ২৫ হাজার রুপি (৩২ হাজার টাকা) জরিমানা, এমনকি গাড়ির নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।

২০২৯ সালের ২৭ মার্চ সূর্যবংশীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে। এরপরই তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন। তাই আরো প্রায় পৌনে তিন বছর সূর্যবংশীকে চালক রাখতে হবে।  

টানা দুই আইপিএল জয়ের কৃতিত্ব কোচ ফ্লাওয়ারকে দিলেন পতিদার

ক্রীড়া ডেস্ক
টানা দুই আইপিএল জয়ের কৃতিত্ব কোচ ফ্লাওয়ারকে দিলেন পতিদার

আইপিএলে প্রথম শিরোপার জিততে দীর্ঘ ১৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে। গত মৌসুমে সেই গেঁড়ো খোলার পর এবার আরেকটি শিরোপা জিতে নিল বেঙ্গালুরু। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির টানা দুই আইপিএল জয়ের কৃতিত্ব কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে দিলেন অধিনায়ক রজত পতিদার।

রজত পতিদার বলেছেন, দলের সংস্কৃতি পরিবর্তনের জন্য কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের প্রচেষ্টাই আইপিএলে শিরোপা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

গত রবিবার ফাইনালে বিরাট কোহলির ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের সুবাদে বেঙ্গালুরু ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে পাঁচ উইকেটের জয় তুলে নেয়।

২০২৪ আইপিএল মৌসুমে কোচ হিসেবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু যোগ দেন জিম্বাবুয়ের সাবেক খেলোয়াড় ফ্লাওয়ার। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আইপিএলের দীর্ঘ ১৭ আসর থাকে শিরোপা শূন্য। সেই তকমা জেড়ে ফেলে বেঙ্গালুরু টানা দুইবার শিরোপার স্বাদ পাওয়াতে অবদান রাখে এই সাবেক ক্রিকেটার।

অধিনায়ক রজত পতিদার বলেন, ‘আইপিএলের পাঁচ মৌসুম খেলেছি। ফ্লাওয়ার অন্যতম সেরা কোচদের একজন। তিনি যেভাবে খেলোয়াড়দের সামলান, বিশেষ করে নতুন খেলোয়াড়দের, তা সত্যিই প্রশংসীয়।’

উরুগুয়ের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, নেই সুয়ারেজ

ক্রীড়া ডেস্ক
উরুগুয়ের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, নেই সুয়ারেজ
লুইস সুয়ারেজ। ছবি: ফেসবুক

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার ম্যানুয়েল উগার্তে রেখে উরুগুয়ের চুড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা কোচ মার্সেলো বিয়েলসার। তবে বাদ পড়েছেন ৩৯ বছর বয়সী অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন দলের বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ও তারকা ফুটবলার।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উগার্তে ছাড়াও প্রিমিয়ার লিগ থেকে টটেনহ্যামের মিডফিল্ডার রদ্রিগো বেন্টানকুর এবং উলভসের ডিফেন্ডার সান্টিয়াগো বুয়েনো দলে ডাক পেয়েছেন।

তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেও সুয়ারেজ সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, দলের প্রয়োজনে অবসর ভেঙে ফিরতে প্রস্তুত আছেন। 

দলে আরো রয়েছেন ফেদেরিকো ভালভার্দে, রোনাল্ড আরাউহো এবং আন্তর্জাতিক অবসর ভেঙে ফেরা গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা।

অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গড়া এই দল নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছে উরুগুয়ে। মাঝমাঠে নেতৃত্ব দেবেন ভালভার্দে, আর রক্ষণভাগের দায়িত্বে থাকবেন আরাউহো। এ ছাড়া ম্যানুয়েল উগার্তে, রদ্রিগো বেনতানকুর, জর্জিয়ান দে আররাসকায়েতা এবং ডারউইন নুনিয়েসের ওপরও ভরসা রাখছেন বিয়েলসা।

উরুগুয়ের বিশ্বকাপ দল

গোলরক্ষক : সান্তিয়াগো মেলে, ফার্নান্দো মুসলেরা, সের্হিও রোচেত।

ডিফেন্ডার : গিয়ের্মো ভারেলা, সেবাস্তিয়ান কাসেরেস, রোনাল্ড আরাউহো, হোসে মারিয়া হিমেনেস, সান্তিয়াগো বুয়েনো, মাথিয়াস অলিভেরা, মাতিয়াস ভিনিয়া ও হোয়াকিন পিকেরেস।

মিডফিল্ডার : হুয়ান ম্যানুয়েল সানাব্রিয়া, ম্যানুয়েল উগার্তে, এমিলিয়ানো মার্তিনেস, জর্জিয়ান ডি আররাসকায়েতা, ফাকুন্দো পেল্লিস্ত্রি, ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো, নিকোলাস দে লা ক্রুস, ব্রায়ান রদ্রিগেস, আগুস্তিন কানোব্বিও, রদ্রিগো সালাজার, রদ্রিগো বেনতানকুর ও ফেদেরিকো ভালভার্দে।

ফরোয়ার্ড : রদ্রিগো আগিরে, ডারউইন নুনিয়েস ও ফেদেরিকো ভিনিয়াস।