ইউরোপা লিগ মানেই যেন উনাই এমেরির রাজত্ব। আবারও সেটিই প্রমাণ করলেন স্প্যানিশ এই কোচ। বুধবার ইস্তাম্বুলে জার্মান ক্লাব ফ্রাইবুর্গকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে অ্যাস্টন ভিলাকে ইউরোপা লিগের শিরোপা জিতিয়েছেন এমেরি। আর তাতেই ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে নিজেকে বসিয়েছেন কিংবদন্তিদের কাতারে।
এই জয়ে ইউরোপা লিগে এমেরির শিরোপা সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচে, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর মাধ্যমে ইতালিয়ান কিংবদন্তি জিওভান্নি ত্রাপাত্তোনি, কার্লো আনচেলত্তি এবং পর্তুগিজ কোচ জোসে মরিনহোর পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আনচেলত্তির পর দ্বিতীয় কোচ হিসেবে পাঁচবার বড় কোনো ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা জয়ের কীর্তিও গড়লেন এমেরি।
ফাইনালে শুরু থেকেই ছিল অ্যাস্টন ভিলার আধিপত্য। ম্যাচের ২৩ মিনিটে দুর্দান্ত এক ভলিতে দলকে এগিয়ে দেন ইউরি টিলেমান্স। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার বাঁকানো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে দলের তৃতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন মরগান রজার্স।
৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচটা যেন একপেশেই হয়ে যায়। গ্যালারিতে তখন শুরু হয়ে যায় ভিলা সমর্থকদের উৎসব। আর সাইডলাইনে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এমেরি যেন আগেই জানতেন, ইউরোপা লিগের মঞ্চে তার গল্পের শেষটা কেমন হবে।
এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে এমেরির সম্পর্কটা যেন অন্যরকম। সেভিয়ার হয়ে ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত টানা তিনবার ইউরোপা লিগ জিতেছিলেন তিনি। এরপর ২০২১ সালে ভিয়ারিয়ালকে এনে দেন শিরোপা। এবার অ্যাস্টন ভিলাকে চ্যাম্পিয়ন করে ইউরোপা লিগে নিজের আধিপত্য আরও পোক্ত করলেন।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে এমেরি বলেন, ‘ইউরোপ আমাকে সবসময় বিশেষ কিছু দিয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগ, কনফারেন্স লিগ—সব প্রতিযোগিতাই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইউরোপা লিগের সঙ্গে আমার আলাদা সম্পর্ক আছে। আমরা এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
অ্যাস্টন ভিলার এই সাফল্যের পেছনে এমেরির অবদান কতটা বড়, সেটি বোঝার জন্য খুব বেশি পেছনে তাকাতে হয় না। ২০২২ সালে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় দলটি ছিল অবনমনের শঙ্কায়। প্রিমিয়ার লিগের রেলিগেশন জোনের ঠিক ওপরে অবস্থান করছিল তারা।
সেখান থেকে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে দলটিকে তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগে তুলেছেন, আবার ইউরোপা লিগের ট্রফিও এনে দিয়েছেন।
দলের অধিনায়ক জন ম্যাকগিন বলেন, ‘এই কোচ থাকলে সবকিছুই সম্ভব মনে হয়। আজকের রাতটা আমাদের পুরো যাত্রার প্রতিফলন। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সময় মনে হচ্ছিল—আমরা সত্যিই ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন! অনুভূতিটা ভাষায় বোঝানো যাবে না।’
পরিসংখ্যানও এমেরির অসাধারণ কাজের সাক্ষ্য দিচ্ছে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উয়েফা প্রতিযোগিতায় রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে বেশি ম্যাচ জেতেনি আর কোনো দল। রিয়ালের ৪৭ ম্যাচে ৩০ জয়ের বিপরীতে অ্যাস্টন ভিলার জয় ৪১ ম্যাচে ২৯টি!
১৯৯৬ সালের পর এটি অ্যাস্টন ভিলার প্রথম বড় শিরোপা। আর ইউরোপীয় মঞ্চে ১৯৮২ সালে ইউরোপিয়ান কাপ (বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগ) ও সুপার কাপ জয়ের পর প্রথম মহাদেশীয় ট্রফি।
ফরাসি লিগে পিএসজির হয়ে শিরোপা জেতা এমেরি এখন তিনটি ভিন্ন দেশের ক্লাব নিয়ে ট্রফি জয়ের কীর্তিও গড়েছেন। তবে ইউরোপা লিগের মঞ্চে তার গল্পটা যেন আরও বিশেষ।




