ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন ২০০৬ বিশ্বকাপ জয়ী সাবেক মিডফিল্ডার আন্দ্রেয়া পিরলো। তবে রাশিয়ার একটি অনলাইন জুয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার বাণিজ্যিক সম্পর্ককে ঘিরে তার সম্ভাব্য নিয়োগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি) এবং দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ৪৭ বছর বয়সী পিরলোকে জেনারো গাত্তুসোর উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী ধরা হচ্ছিল। কারণ, ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন। কিন্তু রুশ জুয়ার কোম্পানি ফনবেটের বৈশ্বিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে পিরলোর সম্পৃক্ততা তার নিয়োগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব ইউনাইটেড এফসির কোচের দায়িত্বে আছেন পিরলো। গত বছরের অক্টোবরে তিনি ফনবেটের সঙ্গে চুক্তি করেন। পরে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে আয়োজিত একটি প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে ইতালি দলের সাবেক সতীর্থ মার্কো মাতেরাজ্জির সঙ্গে তার উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা আরো বেড়ে যায়। বিশেষ করে ওই সময় ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা চলছিল বলে ঘটনাটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
এফআইজিসি এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, জুয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিরলোর সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সমালোচনার জবাবে পিরলো ইন্সটাগ্রামে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যে পেশাগত সম্পর্ক নিয়ে এখন বিতর্ক হচ্ছে, সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমার কাজের অংশ ছিল। এটি শুধু একটি বাণিজ্যিক ও ক্রীড়াসংক্রান্ত চুক্তি।”
তিনি আরো বলেছেন, ‘এই বিষয়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। কারণ, এটি আমার কোনো ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করে না। একটি সাধারণ ক্রীড়াসংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে এত দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করায় আমি হতাশ।’
এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট পিনা পিচিয়ের্নো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আরেকটি ব্যর্থতা এবং আবারো বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠতে না পারার পর ইতালিয়ান ফুটবলের প্রয়োজন ছিল সাংস্কৃতিক, নৈতিক ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন। আন্দ্রেয়া পিরলোকে বেছে নেওয়া ঠিক তার উল্টো বার্তা দেয়।’
ইতালির সিনেটের সভাপতি ইগনাজিও লা রুসসাও পিরলোর সম্ভাব্য নিয়োগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি ইতালি দলের সমর্থক এবং পিরলো একজন অসাধারণ ফুটবলার ছিলেন। কিন্তু কোচ হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।’
ইতালির শীর্ষ ক্রীড়া দৈনিক লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্টের দাবি, নতুন কারিগরি পরিচালক পাওলো মালদিনি পিরলোর পক্ষেই আছেন। তবে শেষ পর্যন্ত পিরলো নিয়োগ আটকে গেলে মালদিনি পদত্যাগ করতে পারেন।
সব মিলিয়ে ইতালি জাতীয় দলের নতুন কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া আরো জটিল হয়ে উঠেছে।




