ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার পর রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলল আর্সেনাল। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরাল পুরোটা সময় আক্রমণাত্মক খেলা পিএসজি। অতিরিক্ত সময়ে ব্যবধান গড়ে দিতে পারল না কোনো দলই। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হলো রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে। সেখানে বাজিমাত করল পিএসজি। শ্বারুদ্ধকর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের শিরোপা ধরে রাখল চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা।
বুদাপেস্টের পুসকাস স্টেডিয়ামে আসা দর্শকরা তখনো গ্যালারির সিটে ঠিকঠাক থিতু হতে পারেননি। শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় রেফারির বাঁশিতে ম্যাচ শুরুর পর পাসিং ফুটবল দেখা আর খোশগল্পে মত্ত ছিল অনেক দর্শক। ঠিক তখনই পিএসজিকে স্তব্ধ করে অঘটনের জন্ম দেন কাই হাভার্টজ। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই এই জার্মান ফরোয়ার্ডের গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। শুরুর সেই ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধে আর ম্যাচে ফেরা হয়নি পিএসজির।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬২তম মিনিটে মসকেরার ভুলেই পিএসজি ম্যাচ ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যায়। মসকেরার ঠিক সামনে পজিশন নিয়ে নিয়েছিলেন খিচা কাভারাস্কেইয়া। তখনই পেছন থেকে এই জর্জিয়ান ফরোয়ার্ডকে বেশ ফাউল করে বসেন মাসকেরা। রেফারি কিছুটা দ্বিধা করলেও শেষ পর্যন্ত পেনাল্টির নির্দেশ দেন। আর পেনাল্টি থেকে গোল আদায় করেন উসমান দেম্বেলে। পেনাল্টির আগেও কিছু নাটক দেখা যায়।
পেনাল্টি শটের সময় কিছুটা সময়ক্ষেপেরন চেষ্টা করছিল আর্সেনাল। বিশেষ করে ডেভিড রায়া বল দখলে রাখার চেষ্টা করেন। ফলে রেফারিকে বেশ কড়াভাবেই দুই দলের খেলোয়াড়দের পেনাল্টি বক্স থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতে হয়। তবে সব চাপ সামলে চমৎকার ঠান্ডা মাথায় স্পট-কিক নেন দেম্বেলে। তাতেই সমতায় ফেলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
৭১তম মিনিটে হাকিমির একটি ক্রস থেকে আরেকবার চেষ্টা চালান দেম্বেলে। ডান প্রান্ত দিয়ে সেই চেষ্টায় বাধা হয়ে দাঁড়ান গ্রাবিয়েল। শেষ পর্যন্ত ফরাসি ফরোয়ার্ডের বল বারের ডান পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।
ঠিক সাত মিনিট পর একক প্রচেষ্টায় আক্রমণে ওঠেন কাভারাস্কেইয়া। মিডফিল্ডের কাছাকাছি বল পেয়ে হেডের সাহায্যে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড। বল নিয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন। তবে শট নিতে তিনি কিছুটা বেশি সময় নিয়ে ফেলেন; যার পুরো ফায়দা তুলে একদম সঠিক পজিশনে থাকা লুইস-স্কেলি তাঁর শটটি ডিফ্লেক্ট করে দেন এবং বল গিয়ে প্রথম পোস্টে আঘাত করে।
৮৩তম মিনিটে দুই দল খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন। ট্রাসোর্ড ও বুকোয়া সাকাকে তুলে ননি মাদুয়েকে ও মার্তিন্নেলিকে মাঠে নামার মিকেল আরতেতা। অন্যদিকে কাভারাস্কেইয়াকে উঠিয়ে বারকোলাকে নামান লুইস এনরিকে। এর আগে ৬৬ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের বদলি হিসেবে ভিক্টর ইয়োকেরেস ও মাসকেরার পরিবর্তে জুরিয়ান টিম্বারকে নামানো হয়।
পূর্ণাঙ্গ সময়ের মিনিট পাঁচেক আগে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে ফ্লিক করেন হাভার্টজ। কিন্তু বল ইয়োকেরেসের মাথার সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পিএসজি বিপদ মুক্ত করে। বল পেয়েই আক্রমণে ওঠেন বদলি হিসেবে নামা বারকোলা। তবে দুর্দান্ত দক্ষতায় নিজের লাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসে বক্সের ঠিক ভেতরে বলটি গ্লাভসবন্দি করেন রায়া।
যোগ করা সময়ে মনে হচ্ছিল, বারকোলা এগিয়ে জয়সূচক গোলটি করেই ফেলবেন। ষষ্ঠ মিনিটে একাই বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ছোটেন ফ্রান্স ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তাতে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।
যোগ করা ৩০ মিনিটে সুরহা না হওয়াতে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। পিএসজির হয়ে প্রথম শট নেন রামোস। তার অব্যর্থ নিশানার পর ভুল করেননি আর্সেনালের ভিক্টোর ইয়োকেরেস। ডানদিকের নিচু শটে আদায় করেন গোল।
পিএসজির হয়ে দ্বিতীয় শট নেয় দুয়ে। ফরাসি ফরোয়ার্ডকে বেগ পেতে হয়নি। ইয়োকেরেসের মতো তিনিও ডানদিকে শট নেন। এজে গড়বড় করে বসেন। তার শট বারের বাঁ পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। শট নিতে এসে থেমে যান ইংলিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। এরপর শট নিয়ে করেন ভুল।
কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ হয়ে যাওয়া আর্সেনাল শিবিরে প্রাণ ফিরে রায়ার বদৌলতে, নুনো মেন্দেসের বল ঠেকিয়ে দেন এই স্প্যানিশ গোলকিপার।
এরপর, দুই দলেরই পরের দুটি করে শট জালে জড়ায়। শেষ শটটি নিতে আসেন প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল; প্রবল চাপের মুহূর্তে শট লক্ষ্যেই রাখতে পারেননি তিনি, উড়িয়ে মারেন আকাশে! তাতে আরো একবার আর্সেনালের ইউরোপ সেরা হওয়ার স্বপ্নটাও উড়ে যায়।



