• ই-পেপার

শেষ ওয়ানডেতেও টাইগারদের জয়, হোয়াইটওয়াশ উইন্ডিজ

এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে গেলেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে গেলেন মেসি
ছবি : রয়টার্স

জমে উঠেছে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়। গোল করতে না পারলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন লিওনেল মেসি। সেমিফাইনালে দলের দুই গোলেই অবদান রেখে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে গোল্ডেন বুটের তালিকায় শীর্ষে উঠে গেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। 

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচটিতে গোলের দেখা না পেলেও দুই গোলেরই সহায়তাকারী মেসি। তার দুর্দান্ত সৃজনশীলতায় ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। 

এই ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করার ফলে চলতি বিশ্বকাপে মেসির মোট অ্যাসিস্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪টি। গোলসংখ্যায় তিনি ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান অবস্থানে থাকলেও অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় এখন গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনিই সবার সামনে। 

বর্তমানে মেসি ও এমবাপ্পে দুজনেরই গোল ৮টি করে। তবে গোল সমান হলে অ্যাসিস্টের হিসাব বিবেচনায় নেওয়া হয়। সেই হিসাবে এমবাপ্পের ৩ অ্যাসিস্টের বিপরীতে মেসির ৪ অ্যাসিস্টই তাকে এগিয়ে রেখেছে। 

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হলান্ড। তার গোল ৭টি। এছাড়া ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেইনের গোল ৬টি করে। ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলের গোল ৫টি, সঙ্গে রয়েছে ২টি অ্যাসিস্ট। স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবালের গোল ৫টি এবং অ্যাসিস্ট ১টি। 

গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকা এই ফুটবলারদের মধ্যে হলান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেছে। তবে বাকি ছয়জনের সামনে আরও একটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। আর রবিবার বিশ্বকাপের ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।

ফলে শেষ ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করে দিতে পারে এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার কার হাতে উঠবে। তবে ফাইনালের আগে অ্যাসিস্টের ব্যবধানে এমবাপ্পেকে টপকে গেছেন মেসি।

ব্যানার বিতর্ক: কী কী শাস্তি হতে পারে মেসিদের

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্যানার বিতর্ক: কী কী শাস্তি হতে পারে মেসিদের
ছবি : রয়টার্স

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনাল জিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার উদযাপনে মাতোয়ারা আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু এই আনন্দের রেশ কাটার আগেই চরম এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। ম্যাচ শেষের পর মাঠের ভেতরেই এক সংবেদনশীল রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন করেছেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস-লো সেলসোরা, যা ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করার পর মাঠেই বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। কিন্তু সেই উদযাপনের মাঝেই হঠাৎ একটি ব্যানার হাতে ক্যামেরায় ধরা পড়েন তারা। স্প্যানিশ ভাষায় লেখা সেই ব্যানারে পরিষ্কার অক্ষরে খোদাই করা ছিল‘লাস মালভিনাস সন আরহেনতিনাস’, যার বাংলা অর্থ ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’।

ম্যাচ শেষে ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস এবং মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসোকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল মুখে ব্যানারটি উঁচিয়ে গ্যালারির দর্শকদের দিকে নাড়তে দেখা যায়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এমন মহাগুরুত্বপূর্ণ জয়ের পর রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই দ্বীপপুঞ্জের দাবি সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করাকে ইংলিশদের কাটা গায়ে নুনের ছিটে দেওয়ার মতোই দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তবে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা মাঠের ভেতরে এই ব্যানারটি কোথা থেকে এবং কার মাধ্যমে এসেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক পক্ষপাত বা কোনো বিশেষ প্রচারণার ব্যাপারে ফিফার নিয়ম বরাবরই কঠোর। ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী স্টেডিয়ামের ভেতরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, আপত্তিকর কিংবা বৈষম্যমূলক ব্যানার, পতাকা, লিফলেট, পোশাক বা সরঞ্জাম প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের এই প্রকাশ্য নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনার পর বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তাৎক্ষণিক মন্তব্য চাওয়া হলেও ফিফার পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। 

তবে ব্যানার প্রদর্শন করায় ফিফার শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা গুনতে হতে পারে আর্জেন্টিনার। এই একই ব্যানার প্রদর্শনের জন্য ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের পর ফিফা আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০,০০০ পাউন্ড (প্রায় ৩৬,০০০ ডলার) জরিমানা করেছিল। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এবং ইংল্যান্ডের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এটি করায় এবার জরিমানার অঙ্ক আরও অনেক বেশি হতে পারে।

এছাড়া, লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও জিওভানি লো সেলসো যেহেতু সরাসরি ব্যানারটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন, তাই ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি তদন্ত সাপেক্ষে তাদের ব্যক্তিগতভাবে জরিমানা বা নির্দিষ্ট ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারে। তবে ফাইনাল ম্যাচে তাদের নিষিদ্ধ করার মতো চরম কোনো শাস্তির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সে ক্ষেত্রে মূলত আর্থিক জরিমানা এবং কঠোর সতর্কবার্তা আসার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। 

সেমিফাইনালেও বড় ধরনের রেফারিং বিতর্কে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
সেমিফাইনালেও বড় ধরনের রেফারিং বিতর্কে আর্জেন্টিনা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল মানেই বাড়তি উত্তেজনা, স্নায়ুর লড়াই। কিন্তু আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালটি রূপ নিয়েছিল রীতিমতো এক রণক্ষেত্রে। বিশেষ করে প্রথমার্ধে মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে আলোচনায় ছিল দুই দলের খেলোয়াড়দের দফায় দফায় সংঘর্ষ। আর এই পুরোটা সময় মাঠের রেফারি ইসমাইল আলফাতের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত যেন জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢেলেছে, যার কারণে বারবার ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা গেছে ইংলিশ শিবিরকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকে আলবিসেলেস্তেরা। এতটাই যে, চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ১০ মিনিটে সবচেয়ে বেশি ফাউল করার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি নিজেদের করে নেয় তারা। প্রথমার্ধ জুড়েই ইংলিশ ফুটবলারদের ওপর একের পর এক কড়া ট্যাকল চালাতে থাকেন লিসান্দ্রো-এনজোরা। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা মোট ১২টি ফাউল করলেও রেফারির পকেট থেকে কার্ড বের হয়েছে মাত্র একবার! আর্জেন্টিনার এমন পার পেয়ে যাওয়াটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না থ্রি লায়নসরা।

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র তিন মিনিট। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে চ্যালেঞ্জ জানালে তেড়ে আসেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। অ্যান্ডারসনকে কড়া ট্যাকল করার পর এনজোকে দেখা যায় অ্যান্ডারসনের মাথার পেছনে ধাক্কা দিতে। পরিষ্কার কার্ড দেখার মতো অপরাধ হলেও রেফারি ইসমাইল আলফাত সেখানে কার্ড দেখানোর কোনো প্রয়োজনই বোধ করেননি। রেফারির এমন নির্লিপ্ততায় তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন হ্যারি কেইনরা।

উত্তেজনার এখানেই শেষ নয়। প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে ইংলিশ লেফট-ব্যাক জেদ স্পেন্সকে ফাউল করেন জিউলিয়ানো সিমিওনে। শুধু তাই নয়, অন্য একটি ঘটনায় সিমিওনের কনুই স্পেন্সের মুখে আঘাত করলেও রেফারির চোখ তা এড়িয়ে যায়। রেফারি যেন চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন ইংলিশদের সেরা তারকা জুড বেলিংহামের ওপর ফাউলগুলোর ক্ষেত্রেও। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বেলিংহামকে বিপজ্জনকভাবে ফাউল করে ফেলে দেন আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মোলিনা। ইংল্যান্ড ফ্রি-কিক পেলেও মোলিনাকে কোনো শাস্তি দেননি রেফারি। এমনকি বল পজিশনে না থাকা অবস্থায় লিয়ান্দ্রো পারেদেস যখন বেলিংহামকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন, সেটিও রেফারির নজর এড়িয়ে যায় অলক্ষ্যেই।

পুরো প্রথমার্ধে ১২টি ফাউল করার পর অবশেষে প্রথমার্ধের শেষের দিকে কার্ডের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের একটি কাউন্টার অ্যাটাক শার্ট টেনে ধরে রুখে দেওয়ায় হলুদ কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস। অথচ ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এনজো ফার্নান্দেজ নিজে তিনটি ফাউল এবং হাতাহাতিতে জড়িয়েও কোনো কার্ড ছাড়াই পার পেয়ে যান।

তবে মাঠের সব বিতর্ক আর নাটকীয়তাকে এক পাশে ঠেলে দিয়ে দিনশেষে নায়ক সেই এনজো ফার্নান্দেজই। ম্যাচ শেষের মাত্র ৪ মিনিট আগে, অর্থাৎ ৮৬ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে চোখ ধাঁধানো এক দূরপাল্লার শটে গোল করে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য কামব্যাকের রূপকার বনে যান এই মিডফিল্ডার। 

আর্জেন্টিনাকে আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন স্কালোনি

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনাকে আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন স্কালোনি
উচ্ছ্বসিত লিওনেল স্কালোনি। ছবি: ফিফা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে লিওনেল মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বললেন, ‘আমি ভাষাহীন। আমাদের দেশ ও মানুষের জন্য এটি বিশাল আনন্দের মুহূর্ত। এই অসাধারণ দলটিকে দেখে আমি মুগ্ধ। আমরা অবশ্যই শিরোপা জেতার চেষ্টা করব। কিন্তু আজকের ম্যাচের পর কথা বলাটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

এরপর খেলোয়াড়দের প্রশংসায় ভাসিয়ে স্কালোনি বললেন, ‘মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন, আমাদের খেলোয়াড়রা মাঠে কী অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। আমরা অনন্য। এই কথা আমি অহংকার করে বলছি না।’

‘শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার মর্যাদা এই জার্সির প্রাপ্য, কোনো কিছুই জমিয়ে রাখা উচিত নয়। আমাদের খেলোয়াড়রা আবারো প্রমাণ করেছে যে, সাধারণ মানুষের মতোই তারাও এই জার্সির টান মনে-প্রাণে অনুভব করে’—যোগ করেন স্কালোনি।

নিউ জার্সিতে আগামী রবিবার রাতে ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন।

শেষ ওয়ানডেতেও টাইগারদের জয়, হোয়াইটওয়াশ উইন্ডিজ | কালের কণ্ঠ