• ই-পেপার

\'নিজের ভেতর থেকে ওয়ার্নারকে বের করে আনলাম\'

তুমি এই দিনে পৃথিবীতে এসেছিলে...

শাহজাহান কবির, নিউ ইয়র্ক থেকে
তুমি এই দিনে পৃথিবীতে এসেছিলে...

‘এমন একটা কিছুই আমরা চাইছিলাম, যাতে গ্রুপের শেষ ম্যাচের আগে নির্ভার থাকতে পারি’—ম্যাচ শেষে বলছিলেন লিওনেল মেসি। ২৭ জুন (বাংলাদেশ সময় ২৮ জুন সকাল ৮টা) গ্রুপের সেই শেষ ম্যাচের আগে মেসির জন্মদিনও জমকালো তুমি এই দিনে পৃথিবীতে এসেছিলে...উদযাপনের পথ খুঁজে নিয়েছে।

অস্ট্রিয়া ম্যাচের জয়, মেসির রেকর্ড ভাঙা গোল—এ সবকিছুই এখন কতই না আনন্দময় করে তুলেছে আজ তাঁর জন্মদিনটিকে। ৩৯-এ পা রাখছেন। সব অর্জনের সঙ্গে এই বয়সটা মেলালেই তা আরো অবিশ্বাস্য, মহিমাময় হয়ে উঠছে। অথচ সবকিছু উল্টে যেতে পারত, সেভাবেই তো শুরু হয়েছিল ম্যাচটি।

মেসি পেনাল্টি মিস করলেন! একটা বাজে দিন যাওয়ার জন্য এর বেশি আর কী লাগে। পরে ম্যাচ শেষে নিজেই বলছিলেন, ‘যেভাবে রেকর্ডটা হলো, অসাধারণ! ওই পেনাল্টিটা মিস না হলে হয়তো পরের দুটি গোল পাওয়া হতো না। আমি ভীষণ খুশি, নিজের পারফরম্যান্স ও দলের জয় নিয়ে।’ মেসিকে এমন খুশি আসলে খুব কমই দেখা যায়।

ম্যাচ শেষে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় তুমি এই দিনে পৃথিবীতে এসেছিলে...অনেক কথা বললেন, এরপর এলেন মিক্সড জোনে। আর্জেন্টিনাসহ গোটা বিশ্বের সাংবাদিকরা তাঁকে ঘিরে ধরলেন। মেসি একের পর এক ডাকে সাড়া দিতে থাকলেন, সময় নিয়ে সবার প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে বরং তাড়া দেওয়া হলো বাস ছেড়ে যাচ্ছে বলে। মেসিকে এমন প্রাণবন্ত তাঁর কাছের সাংবাদিকরাও খুব কম দেখেছেন।

নিজের রেকর্ড গড়া গোলটি নিয়েও বলেছেন খোলামেলা, ‘আমি সব সময়ই নেগ্রোকে (থিয়াগো আলমাদা, প্রথম গোলের সময় যিনি বাঁ প্রান্তে ফাকুন্দো মেদিনাকে বল বাড়িয়েছিলেন। এরপর নিজেও ওপরে উঠে গিয়ে জায়গা নেন মেদিনা ও মেসির মাঝামাঝি। মেদিনার কাটব্যাকে ডামি করে বল ছেড়ে দেন মেসির পায়ে) বলি, ফিরতি পাসটা যেন পাই, আমি ঠিক জায়গামতো থাকব। সে আজকে অসাধারণভাবেই সেটা করেছে। আমাকে উঠে আসতে দেখেছে, এনসো তার মার্কারকে টেনে নিয়ে গেছে একদিকে, লাউতারো নিয়ে গেছে তার মার্কারকে; আমার জন্য জায়গা তৈরি হয়েছে। সেই পুরনো দিনের কথা মনে হচ্ছিল, যখন ইহোর্দি (সাবেক বার্সেলোনা লেফট ব্যাক ইহোর্দি আলবা) আমাকে এ ধরনের পাস বাড়াত। আজ পুরো কৃতিত্বটাই তাই মেদিনার।’
মেসি সেই বার্সার দিন ফিরিয়ে আনছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে, দুই ম্যাচে পাঁচ গোলের রহস্য তো সেখানেই। সেখানে পেনাল্টি মিসের ঘটনায় নিজের ওপর ভীষণ রাগ হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন ‘মিক্সড’ জোনের সেই প্রতিক্রিয়ায়, ‘এর আগেও আমি বলেছিলাম, আমি খুব উপভোগ করছি খেলাটা, মাঠে বেশ ভালো সময় কাটছে। সেখানে ওই পেনাল্টি মিসে আমার নিজের ওপরই খুব রাগ হচ্ছিল, খুব বাজে মেরেছিলাম। সৌভাগ্য যে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচটা আমরা জিততে পেরেছি।’ দলের এই জয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেছেন তিনিই, ‘সত্যিই খুব খুশি, বিশেষ করে এই জয়টার জন্য। কারণ অনেক কঠিন ম্যাচ ছিল। আর আমরা জানতামও এই ম্যাচে এক মুহূর্তের জন্য আমাদের মনোযোগ হারানো চলবে না। সেটা আমরা পেরেছি এবং আমাদের যে লক্ষ্য ছিল নক আউট পর্ব নিশ্চিত করা, সেটিও হয়েছে। কিন্তু এই বিশ্বকাপটা যেভাবে এগোচ্ছে, জানেন যে কারও জন্য কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। আজও আমাদের সেই কঠিন পরীক্ষাটাই পার হতে হয়েছে। লম্বা সময় আমাদের বলের দখল রাখা সম্ভব হচ্ছিল না, ম্যাচ অনেক গতিময় হয়ে উঠছিল—এ সবকিছুর সঙ্গে তাল মিলিয়েই আমরা পারফর্ম করেছি। পুরো টুর্নামেন্টেও তা-ই করতে চাই।’

কোচ লিওনেল স্কালোনির চোখে এই পারফরম্যান্স মেসিকেন্দ্রিক, ‘যখন লিও ভালো খেলে, তখন পুরো দলই ভালো খেলে। এটা দলেরও কৃতিত্ব। তবে আবার দল যখন ছন্দ পায় না, তখন লিও বাড়তি পরিশ্রম করে, নিজেই বলের জন্য যায়, গোলের চেষ্টা করে। সে দলের জন্য নিবেদিত। আর সে যা করে তার তুলনা নেই।’ টিওয়াইসি স্পোর্টসের কলামিস্ট আন্তোনিও সারপা তাই লিখেছেন, ‘সবাই মেসির জন্য আর মেসি সবার জন্য।’ মেসি প্রশংসায় ভাসছেন এই মুহূর্তে আসলে সব দিক থেকেই। ম্যাচ শেষে অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিকও যেমন বলেছেন, ‘৩৯ বছর বয়সেও কেউ যদি দুই গোল করে আর বিশ্বকাপের শুরুতেই পাঁচ গোল পেয়ে যায়, সেটিই আসলে পার্থক্য গড়ে দেয়। মেসি প্রমাণ করেছে, সে-ই সেরা। ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে খুব বেশি সুযোগেরও দরকার হয় না তার।’ প্রতিপক্ষের জন্য মেসি আসলে নিয়তি, তাঁকে থামানোর জন্য প্রার্থনা ছাড়া কোনো উপায় বোধ হয় জানা নেই কোচদের কাছেও।

আইসিসি র‍্যাঙ্কিং

সিংহাসন ফিরে পেলেন রুট, শীর্ষে উঠে এলেন হেনরি

ক্রীড়া ডেস্ক
সিংহাসন ফিরে পেলেন রুট, শীর্ষে উঠে এলেন হেনরি
বামে ইংলিশ ব্যাটসম্যান জো রুট ও ডানে নিউজিল্যান্ড বোলার ম্যাট হেনরি।

ক্রিকেটের টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটের খেলোয়াড়দের র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে আইসিসি। টেস্টে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান ও বোলারদের আধিপত্য। ওয়ানডেতে এগিয়ে ভারতের ব্যাটসম্যান বোলাররা।

সর্বশেষ প্রকাশিত র‍্যাঙ্কিংয়ে স্বদেশি হ্যারি ব্রুককে হটিয়ে ব্যাটসম্যানদের শীর্ষে উঠে এসেছে জো রুট। ওভাল টেস্টে দুই ইনিংসে ৪৬ এবং ৭৭ রানের ইনিংস খেলেছেন ইংল্যান্ডের এই ভারপ্রাপ্ত টেস্ট অধিনায়ক। এতে এক ধাপ এগিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে রুট। একধাপ পিছিয়ে দুয়ে নেমে গেছে হ্যারি ব্রুক। ১ ধাপ পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড নেমে গেছে তিনে।

বোলিংয়ে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছেন নিউজিল্যান্ডের কোনো বোলার। সর্বশেষ দ্যা ওভাল টেস্টে বল হাতে ১১ উইকেট শিকার করেছেন ৩৪ বছর বয়সী কিউই পেসার ম্যাট হেনরি। সেই সুবাদে ৬ ধাপ এগিয়ে টেস্টে বোলারদের মধ্যে ভারতের জাসপ্রীত বুমরাহর সাথে যৌথভাবে শীর্ষে উঠেছেন হেনরি। এর আগে কিউই বোলারদের মধ্যে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিলেন জ্যাক কোওয়ি (১৯৪৭) এবং রিচার্ড হ্যাডলি (১৯৮৪-১৯৯০)। 

কিউইদের বিশাল জয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়েছেন অনেকেই। ২ ধাপ এগিয়ে ব্যাটারদের মধ্যে ১০ম স্থানে রয়েছেন রাচিন রবীন্দ্র। এছাড়া ড্যারিল মিচেল ৫ ধাপ এগিয়ে উঠেছেন ১৬ নম্বরে। গ্লেন ফিলিপস ৮ ধাপ এগিয়ে ৩১ এবং হেনরি নিকোলস ১৩ ধাপ এগিয়ে রয়েছেন ৪০তম স্থানে।

আফগানিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারিয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়েছেন ভারতের ক্রিকেটাররাও। ৩ ধাপ এগিয়ে ব্যাটারদের মধ্যে ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে ২য় স্থানে আছেন শুবমান গিল। তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ড্যারেল মিচেল।  তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছেন বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা। আরেক ভারতীয় ঈশান কিষাণ এগিয়েছেন ২১ ধাপ, আছেন ৪৩ নম্বরে। আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি এগিয়েছেন ৪ ধাপ, রয়েছেন ৫২ নম্বরে।

এছাড়া শ্রেয়স আইয়ার তালিকায় ১৪ নম্বরে ও কে এল রাহুল ১১ নম্বর স্থানে আছেন। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে খেলেননি। তাই রেটিং পয়েন্ট কমেছে বিরাটের। 

ওয়ানডেতে বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৬ ধাপ এগিয়ে ২২তম স্থানে উঠেছেন আর্শদীপ সিং। ৩৪ ধাপ এগিয়ে ৫৮ নম্বরে রয়েছেন প্রসিধ কৃষ্ণা এবং ১৭ ধাপ এগিয়ে ৭১ নম্বরে উঠেছেন ওয়াশিংটন সুন্দর।

৩ ঘণ্টা বিমানে আটকা ব্রাজিল দল, মায়ামিতে পৌঁছাতে দেরি

ক্রীড়া ডেস্ক
৩ ঘণ্টা বিমানে আটকা ব্রাজিল দল, মায়ামিতে পৌঁছাতে দেরি
বিমানে ব্রাজিল ফুটবল দল। ছবি : সিবিএফ

মায়ামিতে পৌঁছে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ও ফরোয়ার্ড মাথেউস কুনিয়ার। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাদের দেখা মেলেনি। 

দেখা মিলবে কী করে? ব্রাজিল দল যে নির্ধারিত সময়ে মায়ামিতে পৌঁছাতেই পারেনি! শেষমেশ সংবাদ সম্মেলন হয়েছে ঠিকই; তবে কয়েক ঘণ্টা দেরিতে।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ইউওএল জানিয়েছে, এর কারণ ভারি বর্ষণ। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিতে। ফ্লোরিডার মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে সেখান থেকে যথাসময়েই নিউ জার্সির নিউআর্ক লিবার্টি বিমানবন্দরে যায় ব্রাজিল দল। 

কিন্তু এর পরই বাধে বিপত্তি। ভারি বর্ষণের ফলে ৩ ঘণ্টা বিমানেই বসে থাকতে হয় নেইমার-ভিনিসিয়ুস-আলিসনদের। বাংলাদেশ সময় কাল রাত ১২টায় ব্রাজিল দলকে বহনকারী বিমান উড্ডয়নের কথা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে রাত ৩টায় যাত্রা শুরু করে। আর মায়ামির ফোর্ট লডারডেল বিমানবন্দরে পৌঁছায় আজ সকাল ৭টায়। সব মিলিয়ে ৭ ঘণ্টা বিমানে থাকতে হয় সেলেসাওদের। 

উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার জন্য ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। তবে টিম ম্যানেজমেন্টের বিশ্বাস, এই ভ্রমণ ঝক্কি দলের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। 

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আগামীকাল (২৫ জুন) ভোর ৪টায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এই ম্যাচ দিয়েই প্রায় ৩ বছর পর জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন নেইমার।

শুভ জন্মদিন মেসি : অতৃপ্তি থেকে অমরত্বে

রানা শেখ
শুভ জন্মদিন মেসি : অতৃপ্তি থেকে অমরত্বে
লিওনেল মেসি ছবি : সংগৃহীত

২০১৬ সালে ভাঙা হৃদয়ে জাতীয় দলকে বিদায় বলেছিলেন লিওনেল মেসি। কোপা আমেরিকার আরেকটি ফাইনাল হার, সমালোচনা আর অপূর্ণতার যন্ত্রণায় মনে হয়েছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর গল্প শেষ।

কিন্তু ফুটবল যেন তাঁর জন্য অন্য এক চিত্রনাট্যই লিখে রেখেছিল। ঠিক এক দশক পর, ৩৯তম জন্মদিনে সেই মেসিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। অবসর থেকে ফিরে এসে তিনি শুধু নিজের ভাগ্যই বদলাননি, বদলে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসও।

২০১৬ সালের সেই রাতে চিলির কাছে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর মেসি বলেছিলেন, ‘আমার জন্য জাতীয় দল শেষ। আমি সবকিছু দিয়েছি। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার কষ্টটা খুব বেশি।’ তখন হয়তো তিনিও কল্পনা করতে পারেননি, একদিন তাঁর জাতীয় দলের ক্যারিয়ার এমন উচ্চতায় পৌঁছবে। অবসরের সিদ্ধান্ত বদলে ফেরার পর শুরু হয় আর্জেন্টিনা ও মেসির স্বর্ণযুগ।

টানা দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপার পর ২০২২-এ বিশ্বকাপ জয় এবং আরেকটি বিশ্বকাপে রেকর্ড ভাঙার নতুন ইতিহাস। গত পরশু অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়েও জোড়া গোল মেসির। ম্যাচের শুরুটা অবশ্য তাঁর জন্য সুখকর ছিল না। পেনাল্টি মিস করে হতাশায় মুখও লুকাতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু মেসি আরেকবার প্রমাণ করেছেন তিনি কেন সবার সেরা।

তাঁর গল্প যে শেষ হওয়ার নয়, সেটিই যেন আবারও দেখালেন তিনি। মহাতারকারা যে হতাশার পর মহাদর্পে ফিরে আসে, তারই প্রমাণ রাখেন দুই অর্ধে দুইটি গোল করে। তাতে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে ১৮ গোল নিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এখন সবার ওপরে। শেষ মিনিটে মেসি যখন অস্ট্রিয়ার জালে আবার বল পাঠালেন, বিবিসি ধারাভাষ্যকার স্টিভ বাওয়া তখন বলছিলেন, ‘মেসির আরেক অমর মুহূর্ত।’

ম্যাচ শেষে মেসির কণ্ঠেও ছিল তৃপ্তি আর প্রশান্তির সুর, ‘আমি খেলাটা উপভোগ করছি, মাঠে আনন্দ করছি। মানুষকে এভাবে খুশি করতে পারাটাও আমাদের জন্য আনন্দের।’ বিশ্বকাপে এখন ২৮ ম্যাচে তাঁর গোল ১৮টি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ জর্দানের বিপক্ষে, এরপর নক আউট পর্ব। তাই গোলের এই সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন ফুটবলবিশ্বের কৌতূহলের অন্যতম বিষয়। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলা মেসি তাঁর ১৮ গোলের মধ্যে ১৩টিই করেছেন ২০১৬ সালে অবসর ভেঙে ফেরার পর। আর ১২টি গোল করেছেন ৩৫ বছর বয়স পার হওয়ার পর। যা অবিশ্বাস্য।

এই বয়সেও মেসি ছাপিয়ে গেছেন তরুণ ও সেরা সময়ের খেলোয়াড়দের। যে বয়সে বেশির ভাগ ফুটবলার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে যান, সেই বয়সেই মেসি লিখছেন নতুন নতুন মহাকাব্য। গোল করছেন। রেকর্ড ভাঙছেন। ইতিহাস বদলে দিচ্ছেন। স্প্যানিশ ক্রীড়া সাংবাদিক গুয়েম বালাগে তাই বলেছেন, ‘মেসিকে নিয়ে বিশ্লেষণ করা বা তাঁর জন্য মূর্তি বানানোর সময়ই নেই। তিনি এত দ্রুত নতুন ইতিহাস গড়ছেন যে তাঁর সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন।’

বালাগের মতে, বয়স মেসিকে থামায়নি বরং আরো পরিণত করেছে, ‘আগের বিশ্বকাপগুলোতে এমন ম্যাচও দেখেছি, যেখানে ৯০ মিনিট খেলতে তাঁর কষ্ট হতো। এখন ম্যাচের শেষ মুহূর্তেও তিনি অন্যদের মতোই দৌড়াচ্ছেন। নিজের শরীরকে তিনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো বোঝেন। মেসির গতির প্রয়োজন নেই, তিনি বুদ্ধিমত্তা দিয়েই ডিফেন্ডারদের হারিয়ে দেন।’

এক দশক আগে যে মানুষটি হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছিলেন, সেই তিনিই এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ফুটবলে প্রত্যাবর্তনের অনেক গল্প আছে। কিন্তু অবসর থেকে ফিরে এসে বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হয়ে ওঠার গল্প সম্ভবত একটিই। আর সেই গল্পের নাম লিওনেল মেসি।

\'নিজের ভেতর থেকে ওয়ার্নারকে বের করে আনলাম\' | কালের কণ্ঠ