• ই-পেপার

লুঙ্গি পরে লুঙ্গির প্রতি 'ভালোবাসা'

বিশ্বকাপ শেষে অবসর নিয়ে কোরআনের হাফেজ হতে চান তিনি

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ শেষে অবসর নিয়ে কোরআনের হাফেজ হতে চান তিনি
মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউয়ি। ছবি: এক্স

বয়স মাত্র ২৮ বছর। এই বয়সে অনেক খেলোয়াড়ই নিজের সেরা সময় কাটান।

কিন্তু নুসাইর মাজরাউয়ি ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে ধর্মীয় জীবনে মনোনিবেশ করতে চান। সম্ভব হলে বিশ্বকাপ শেষেই অবসর তিনি চান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই মরোক্কান ডিফেন্ডার। 

নুসাইর মাজরাউয়ি জানিয়েছেন, তিনি কোরআনের হাফেজ হয়ে একদিন মসজিদে ইমামতি করবেন। গত মার্চে একটি পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাজরাউয়ি এই ইচ্ছার কথা জানালেও বিশ্বকাপের এই সময়ে তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অনেকের প্রশ্ন, বিশ্বকাপ তো চলছেই। তাহলে কি টুর্নামেন্ট শেষেই অবসরের ঘোষণা দিয়ে ধর্মীয় কাজে মনোনিবেশ করবেন মাজরাউয়ি?

সাক্ষাৎকারে মাজরাউয়ি বলেছিলেন, ‘হয়তো বিশ্বকাপের পর আমি অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারি। জীবনটা খুব ছোট। আমি পুরো কোরআন মুখস্ত করতে চাই এবং একদিন মসজিদের ইমাম হতে চাই।’

মাজরাউয়ি আরো বলেছিলেন, ‘রমজান মাসে আমি যতটা কোরআন পড়তাম, অন্য মাসগুলোতে ততটা নয়। সেখান থেকেই আমার যাত্রা শুরু। বিশ্বকাপের পর আমি কোরআন মুখস্থ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটির ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার, ‘নামাজের সময় আমি কোরআনের কয়েকটি নির্দিষ্ট সূরা তিলাওয়াত করতাম। শুধু সেগুলোই আমার জানা। আমি আসলে কত কম সূরা জানি, তা ভেবে কিছুটা লজ্জাও পেতাম। এরপরই আমি কোরআন মুখস্থ করার সিদ্ধান্ত নিই।’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই তারকার অগ্রাধিকারের তালিকায় ইসলাম ধর্মই সবার আগে, ‘আমার জীবনের এক নম্বর বিষয় হলো আমার ধর্ম। কোনো কিছু আমার ইচ্ছামতো না হলে কিংবা আমার পক্ষে না গেলে ধর্ম আমাদের অনেক সাহায্য করে। এই দৃষ্টিভঙ্গিই আমাকে জীবনের পথ চলতে শক্তি ও দিকনির্দেশনা দেয়।’

আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে মরক্কো। দলকে শেষ চারে তুলতে বড় অবদান রাখেন নুসাইর মাজরাউয়ি। 

এবারের বিশ্বকাপেও ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ মিলিয়ে ১৭০ মিনিট খেলেছেন মাজরাউয়ি। আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ‘সি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে তার দল। 

নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া মাজরাউয়ি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আগে আয়াক্স ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবে খেলেছেন। ইউনাইটেডের সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি আছে তার। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আবার কেপ ভার্দের চমক, এবার উরুগুয়ের জালে ২ গোল

ক্রীড়া ডেস্ক
আবার কেপ ভার্দের চমক, এবার উরুগুয়ের জালে ২ গোল
কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের গোল উদযাপন। ছবি: ফিফা

কেপ ভার্দে ২-২ উরুগুয়ে

দুর্দান্ত ফ্রি কিকে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রথম গোল করলেন কেভিন পিনা। উল্লাসে ফেটে পড়ল কেপ ভার্দে। ধাক্কা সামলে ৭ মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে ঘুরে দাঁড়াল উরুগুয়ে। 

তবে নাটকীয়তার তখনো বাকি। আরেকটি গোল করে, আরেকটি স্মরণীয় পারফরম্যান্সে, আবারো পয়েন্ট আদায় করে নিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে।

ফ্লোরিডার মায়ামিতে আজ (২২ জুন) ভোরে ‘এইচ’ গ্রুপের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। এর আগে গোলকিপার ভোজিনিয়ার বীরত্বে আরেক পরাশক্তি স্পেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল কেপ ভার্দে। 

টানা দুই ম্যাচে পয়েন্ট কেড়ে নকআউটে পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে ভালোভাবেই টিকে থাকল আফ্রিকার দেশটি।

দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে আছে স্পেন। ২ পয়েন্ট করে নিয়ে উরুগুয়ে দুইয়ে ও কেপ ভার্দ তিনে আছে। ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে সৌদি আরব।

ম্যাচে ৬৫ শতাংশ বলের দখল রেখে গোলের জন্য ১৭ শট নিয়ে শুধু দুটি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে উরুগুয়ে। কেপ ভার্দের ১২ শটের চারটি লক্ষ্যে ছিল।

শুরু থেকে উরুগুয়ে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও ভোজিনিয়ার পরীক্ষা নিতে পারছিল না তারা। ২৩ মিনিটে চমক জাগিয়ে এগিয়ে যায় কেপ ভার্দ। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে ফ্রি কিকে রক্ষণ দেয়ালের দুই খেলোয়াড়ের মাঝ দিয়ে জোরালো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন কেভিন পিনা। এবারের বিশ্বকাপে সরাসরি ফ্রি কিকে দ্বিতীয় গোল এটি।

৪৪ মিনিটে প্রথম কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্যে রাখতে পারে উরুগুয়ে এবং তা থেকেই সমতা ফেরায় দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। মাক্সি আরাউহো ডাইভিং হেডে ফাঁকা জালে বল পাঠান। সৌদি আরবের বিপক্ষেও দলকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন তিনি।

সেই রেশ থাকতেই প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে যায় উরুগুয়ে এবং এই গোলেও অবদান রাখেন মাক্সি আরাউহো। মানুয়েল উগার্তের ক্রসে তার হেড পাসে ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে ভলিতে ঠিকানা খুঁজে নেন আউতি কানোবিও।

৬১ মিনিটে কেপ ভার্দের আরেকটি চমকে স্কোরলাইন হয় ২-২। যদিও নিজেদের ভুলেই গোলটি হজম করে উরুগুয়ে। ডিফেন্ডার মাতিয়াস অলিভেরার দুর্বল ব্যাক পাস ক্লিয়ার করার জন্য বক্সের অনেকটা বাইরে বেরিয়ে আসেন গোলকিপার ফার্নান্দো মুসলেরা। কিন্তু তার সামনে থেকে ছোঁ মেরে বল নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন বদলি নামা এলিও ভারেলা।

গোলশূন্য ড্রয়ে বেলজিয়ামকে রুখে দিল ইরান

ক্রীড়া ডেস্ক
গোলশূন্য ড্রয়ে বেলজিয়ামকে রুখে দিল ইরান
সংগৃহীত ছবি

গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইরান গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে বেলজিয়াম বল দখলে আধিপত্য দেখালেও, ইরানের সুশৃঙ্খল রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।

​ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই সাবধানি ফুটবল খেলেছে। ইরানের রক্ষণভাগ বেলজিয়ামের আক্রমণগুলোকে বারবার প্রতিহত করেছে। ২৬ মিনিটে ইরানের স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমি বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল করে ভিএআর। এরপর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট নাটকীয় মোড় নেয়। ৬৬ মিনিটে ফাউলের দায়ে বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার নাথান এনগোয় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বেলজিয়াম ১০ জনের দলে পরিণত হয়।

​সংখ্যায় কম থাকা বেলজিয়াম এরপর কিছুটা রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে। তবে ইরানও জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ম্যাচের শেষদিকে বেলজিয়াম পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও ইরানের গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগ কোনো ভুল করেনি। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় উভয় দলকে।

​ড্রয়ের ফলে নকআউট পর্বের সমীকরণ উভয় দলের জন্যই এখন বেশ জটিল হয়ে উঠল। কারণ দুই দল নিজেদের আগের ম্যাচেও ড্র করেছিল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

স্পেনের ভয়ংকর রূপ দেখল সৌদি আরব

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেনের ভয়ংকর রূপ দেখল সৌদি আরব
জোড়া গোল করেছেন ওইয়ারজাবাল। ছবি: ফিফা

স্পেন ৪-০ সৌদি আরব 

কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে কিছুটা চাপে ছিল স্পেন। এই পরিস্থিতিতে স্প্যানিশদের ওপর চাপ আরেকটু বাড়াতেই কি না আর্জেন্টিনার প্রসঙ্গ টেনে আনেন সৌদি আরবের কোচ গিওরগিওস দোনিস।

২০২২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দেয় সৌদি আরব। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার সেই পরিণতির কথা মনে করিয়ে দেন দোনিস।

তবে মাঠের লড়াইয়ে দোনিসের কথার খই ফুটাতে পারেনি তার দল। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বিশ্বকাপে ভয়ংকর রূপে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিল স্পেন।

আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আজ ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচের শুরু থেকেই মুহুর্মুহু আক্রমণে সৌদি রক্ষণভাগের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়ে স্পেন। ২০১০ আসরের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় ৩ গোলে। বিরতির পর পায় আরো ১ গোল।

চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু থেকে খেলতে পারেননি লামিনে ইয়ামাল। স্পেনও পায়নি গোলের দেখা। 

সেই ম্যাচে গোল না পাওয়ার হতাশা আজ যেন সুদে-আসলে মিটে নির স্পেন। ইয়ামাল শুরুর একাদশে ফিরতেই চেনা ছন্দে ফিরেছে স্প্যানিশরা। 

১০ মিনিটে প্রাণভোমরা ইয়ামালই প্রথম গোলটা করেন। ২১ ও ২৪ মিনিটে পরের দুটি গোল করেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। 

কেপ ভার্দের বিপক্ষে এই ওইয়ারজাবাল প্রথম ৩০ মিনিট বলেই স্পর্শ করতে পারেননি। ১৯৬৬ সালে রেকর্ড রাখা শুরু করার পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এমন বিব্রতকর রেকর্ড গড়েন তিনি। 

সেই ওইয়ারজাবাল আজ ৩৬ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক প্রায় করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু বক্সের বাঁ পাশ থেকে নেওয়া তার শটে বল বারে ফেরায় নিজের তৃতীয় গোলটা পাওয়া হয়নি। 

তবে ইয়ামালের গোলে বলের জোগান দিয়ে নতুন এক কীর্তি গড়েছেন ওইয়ারজাবাল। বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে দ্রুততম সময়ে জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখন তার।

বিরতির পর ম্যাচের ৪৯ মিনিটে সৌদি আরবের বিপদ বাড়ান হাসান আলতামবক্তি। সৌদির এই সেন্টার ব্যাক নিজেদের জালে বল জড়ালে ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। 

তখন মনে হচ্ছিল, স্পেন বুঝি বিশাল ব্যবধানে জিততে চলেছে। তবে এরপর ইয়ামালদের আর গোল করতে দেয়নি সৌদি। এর বড় কৃতিত্ব সৌদি গোলকিপার মোহাম্মদ আল ওয়াইসের। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ কিছু সেভ করেছেন তিনি।

বদলি নামা ফেরান তোরেস শেষ দিকে সৌদির জাল কাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। 

বড় এই জয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে স্পেন। দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট তাদের। সমান সংখ্যক ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে বিদায়ের শঙ্কায় সৌদি আরব। গ্রুপের অন্য দুই দল উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে। 

লুঙ্গি পরে লুঙ্গির প্রতি 'ভালোবাসা' | কালের কণ্ঠ