• ই-পেপার

৭১ বছরের পুরনো ক্যারিবীয় রেকর্ড ভাঙলেন সিলস

এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিস্ময়বালক ‘কিকি’ রামোস

ক্রীড়া ডেস্ক
এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিস্ময়বালক ‘কিকি’ রামোস
সংগৃহীত ছবি

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের এক এতিমখানা থেকে বুয়েনস আইরেসের ফুটবল মাঠ! গল্পটা রূপকথার মতো শোনালেও এটাই স্টিফেন ‘কিকি’ রামোসের জীবনের বাস্তবতা। জন্মসূত্রে পাওয়া অনিশ্চয়তা আর অন্ধকারের দেয়াল টপকে তিনি এখন আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় নাম। এক আর্জেন্টাইন পরিবারের ভালোবাসায় নতুন জীবন, নতুন ভাষা আর সংস্কৃতিকে আপন করে নেওয়া সেই শিশুই এখন বিশ্ব ফুটবলের আঙিনায় আলবিসেলেস্তেদের আশার আলো।

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ভেলেজ সার্সফিল্ডের যুব অ্যাকাডেমি থেকে নিজের জাত চিনিয়ে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।

বর্তমানে ভেলেজের বয়সভিত্তিক দলে নিয়মিত খেলা রামোসের পছন্দের পজিশন লেফট উইং। তবে দলের প্রয়োজনে ডান প্রান্তেও একই ভাবে ঝড় তুলতে পারেন। বাঁ পায়ের জাদুকরী নিয়ন্ত্রণ, ক্ষিপ্র গতির ড্রিবলিং, ক্ষুরধার কাউন্টার অ্যাটাক এবং প্রতিপক্ষের কাছ থেকে চটজলদি বল কেড়ে নেওয়ার প্রেস করার ক্ষমতার কারণে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলে ইতিমধ্যেই তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে শোরগোল। 

চলতি মৌসুমে ভেলেজের যুব দলের হয়ে তার পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় চোখধাঁধানো। ১৬ বছর বয়সেই নামের পাশে ঝুলিয়ে নিয়েছেন ১২টি গোল। যার মধ্যে অ্যাথলেটিকো দে রাফায়েলার বিরুদ্ধে একাই চার গোল করে নিজের সক্ষমতা দেখান তিনি। ধারাবাহিক এই দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তের নজর কাড়েন এবং জায়গা করে নেন আলবিসেলেস্তেদের অনূর্ধ্ব-১৭ দলে।

জাতীয় দলের আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে জড়িয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত রামোস। নিজের আবেগ চেপে না রেখে তিনি জানান, আর্জেন্টিনাই তার আসল ঘর। এই দেশ, এই ভাষাতেই তিনি আজকের রামোস হয়ে উঠেছেন। এখন তার মূল স্বপ্ন, ভেলেজের মূল দলে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়া এবং একদিন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।

দীর্ঘদিন ধরেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচের চিন্তার কারণ এক নিখুঁত লেফট উইঙ্গার। বিশ্লেষকদের মতে, সেই শূন্যতা পূরণের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে রামোসের মধ্যে। যদি তার উন্নতির এই ধারাক্রম বজায় থাকে, তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের মূল কাণ্ডারি হিসেবে তাকে দেখা যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

রামোসের এই উত্থানের পেছনে রয়েছে অন্যরকম এক বৈচিত্র্যও। আর্জেন্টিনার ফুটবলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ের উপস্থিতি বেশ দুর্লভ। হাইতিতে জন্ম নেওয়া রামোস যদি ভবিষ্যতে জাতীয় দলের স্থায়ী মুখ হতে পারেন, তবে তা হবে হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত কোনো ফুটবলারের জন্য এক নতুন ইতিহাস। 
 

ক্যাম্প ন্যু সংস্কারকাজে প্রাণ হারালেন নির্মাণশ্রমিক, শোকস্তব্ধ বার্সেলোনা

ক্রীড়া ডেস্ক
ক্যাম্প ন্যু সংস্কারকাজে প্রাণ হারালেন নির্মাণশ্রমিক, শোকস্তব্ধ বার্সেলোনা
ছবি : রয়টার্স

স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম ‘ক্যাম্প ন্যু’-এর সংস্কারকাজ চলাকালে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক নির্মাণশ্রমিক। কর্মক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে কাতালান ক্লাবটি।

শনিবার প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বার্সেলোনা জানিয়েছে, ‘ক্যাম্প ন্যুর সংস্কারকাজের সময় কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় যে শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন, তার মৃত্যুতে ক্লাব গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে।’ একই সঙ্গে নিহতের পরিবার, স্বজন এবং সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

কাতালান পুলিশের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা জানায়, মাথায় মারাত্মক আঘাত পাওয়ার কারণে ৫৪ বছর বয়সী ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি পুলিশ।

ইউরোপের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত ক্যাম্প ন্যু আধুনিকায়নে ২০২৩ সালে বড় ধরনের সংস্কারকাজ শুরু করে বার্সেলোনা। সংস্কারকাজ চলাকালীনই সীমিত দর্শক ধারণক্ষমতা নিয়ে গত বছরের নভেম্বরে নিজেদের এই মাঠে ফুটবল ফেরায় ক্লাবটি।

টানা দুই মৌসুমের লা লিগা চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা আগামী ২৩ আগস্ট এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নতুন মৌসুমের অভিযান শুরু করবে। আর সংস্কারকাজের মাঝে আংশিক চালু থাকা ক্যাম্প ন্যুতে তাদের প্রথম হোম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৭ আগস্ট, অ্যাথলেতিক বিলবাওর বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, পূর্ণাঙ্গ সংস্কার শেষ হলে ক্যাম্প ন্যু-এর আসনসংখ্যা দাঁড়িয়ে ১ লাখ ৫ হাজারে পৌঁছাবে, যা এটিকে ইউরোপের সর্ববৃহৎ স্টেডিয়াম হিসেবে আগের অবস্থানকে আরো শক্ত করে ধরে রাখবে।  

মেসি-ডি পলের ‘নিষেধাজ্ঞা’ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসি-ডি পলের ‘নিষেধাজ্ঞা’ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
ছবি : রয়টার্স

টানা দ্বিতীয় বছরের মতো মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) অল-স্টার গেমে থাকছেন না বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। তবে স্বস্তির খবর হলো, গত বছরের মতো এবার তাকে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হচ্ছে না। তার সঙ্গে বিশেষ ছাড় পাচ্ছেন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা ডি পলও। 

মেসিসহ অল-স্টার স্কোয়াড থেকে সরে দাঁড়ানো চার খেলোয়াড়ের জায়গায় নতুন চারজনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এমএলএস। ইন্টার মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট, ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের আন্দ্রেস কুবাস, হিউস্টন ডায়নামোর গিলহের্মে এবং শিকাগো ফায়ারের ফিলিপ জিঙ্কারনাগেলকে নতুন করে দলে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মন্টেরিতে পাড়ি জমানো গোল্ডেন বুট রেসের শীর্ষ তারকা হুগো কাইপার্স, রদ্রিগো দে পল এবং ম্বেকেজেলি ম্বোকাজিও এবার মিস করছেন অল-স্টার প্রদর্শনী।

আগামী বুধবার রাতে শার্লট এফসির ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে লিগা এমএক্স অল-স্টারের মুখোমুখি হবে এমএলএস। মেসির অনুপস্থিতিতে এমএলএস অল-স্টার একাদশের মূল আকর্ষণ হতে যাচ্ছেন সন হিউং-মিন এবং থমাস মুলার। তাদের সঙ্গী হিসেবে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ তারকা ম্যাট ফ্রিজ, টিম রিম ও ম্যাক্স আরফস্টেন।

গত বছরের প্রেক্ষাপট অবশ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এমএলএসের নিয়ম অনুযায়ী, চোট ছাড়া কোনো খেলোয়াড় অল-স্টার গেম মিস করলে এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। গত গ্রীষ্মে ক্লাব বিশ্বকাপের চরম ব্যস্ত সূচির কারণে মেসি ও জর্ডি আলবা অল-স্টার গেম এড়িয়ে গেলে তাদের এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়। যাকে সে সময় ইন্টার মায়ামির মালিক জর্জ মাস একে ‘কঠোর ও নির্মম’ সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের কারণে এবার নিয়মে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। গত ১৯ জুলাই আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন মেসি ও ডি পল। দীর্ঘ টুর্নামেন্ট শেষে ফিরে আসা খেলোয়াড়দের বিশ্রাম নিশ্চিত করতে ক্লাবগুলোকে নমনীয় হওয়ার সুযোগ দিয়েছে লিগ কর্তৃপক্ষ। ফলে মেসিদের ওপর কোনো শাস্তির খড়গ আসছে না।

এমএলএস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘২০২৬ মৌসুম শুরুর আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, বিশ্বকাপ শেষে খেলোয়াড়দের ক্লাবে ফেরা ও বিশ্রামের সময়সীমা ক্লাব ও খেলোয়াড়রা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করবে। সেই সমঝোতার আলোকেই মেসি ও ডি পলকে অল-স্টার গেম থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।’

মেক্সিকান ‘লিগা এমএক্স’ অল-স্টারসের হয়ে মেক্সিকোর বিশ্বকাপ দলের পাঁচ তারকা গিলবার্টো মোরা, এরিক লিরা, জেসুস গ্যালার্দো, আরমান্ডো গঞ্জালেজ ও ব্রায়ান গুতিয়েরেস অংশ নেবেন। সঙ্গে থাকছেন কোস্টারিকার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। 
 

বিশ্বকাপের পর মাঠে নেমেই জোড়া গোল নেইমারের

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের পর মাঠে নেমেই জোড়া গোল নেইমারের
সংগৃহীত ছবি

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের পর প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন নেইমার জুনিয়র। ক্লাব জার্সিতে ফিরে দারুণ এক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা। তবে জোড়া গোল সত্ত্বেও সান্তোসকে জয় এনে দিতে পারেননি তিনি। নাটকীয় ম্যাচে চ্যাপেকোয়েন্সের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করেছে সান্তোস। এই ড্রয়ে অবনমনের শঙ্কায় থাকা নেইমারের ক্লাব স্বস্তির এক পয়েন্ট ঘরে তুলতে পেরেছে। 

পুরো ৯০ মিনিটই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন নেইমার। ম্যাচের পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, অন-টার্গেটে ৫টিসহ মোট ৯টি শট নেন তিনি। যার মধ্যে ২টি গিয়েছে জালে। মাঠজুড়ে তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, মোট ১০৩ বার বল স্পর্শ করেছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।

গোল করা ছাড়াও দলের আক্রমণভাগকে সচল রাখার মূল দায়িত্ব ছিল নেইমারের কাঁধেই। ম্যাচে ৬২টি পাসের মধ্যে ৪৮টি সফল পাস সম্পন্ন করেন তিনি, যার ৪৫টিই ছিল প্রতিপক্ষের অর্ধে। দুটি কি-পাস দেওয়ার পাশাপাশি আক্রমণের গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন নিজে। পুরো ম্যাচে চারবার ফাউলের শিকার হওয়ার পরও জিতেছেন ৭টি ডুয়েল। এ দছাড়া বল রিকভারি ও প্রেস ব্যাক করে দলকে বারবার দ্রুত খেলায় ফিরিয়েছেন নেইমার।

বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের ধাক্কা সামলে ক্লাবের হয়ে এটিই ছিল নেইমারের প্রথম ম্যাচ। জাতীয় দলের হয়ে বড় হতাশার পর ক্লাবের হয়ে মাঠে ফিরে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। 

চলতি মৌসুমে ব্রাজিলেরিও বেতানোতে ৯ ম্যাচে নেইমারের ঝুলিতে এখন ৬টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট। ৭৭৬ মিনিট খেলে ১৯টি কি-পাস এবং ৩০টি শটের মধ্যে ১২টি অন-টার্গেটে রেখেছেন তিনি। 

৭১ বছরের পুরনো ক্যারিবীয় রেকর্ড ভাঙলেন সিলস | কালের কণ্ঠ