• ই-পেপার

লঙ্কানদের বিপক্ষে মুস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে রাজস্থানের উচ্ছ্বাস

কঠিন লড়াইয়ের পর শক্তি সঞ্চারে আর্জেন্টাইনরা

ক্রীড়া ডেস্ক
কঠিন লড়াইয়ের পর শক্তি সঞ্চারে আর্জেন্টাইনরা
ছবি : ফেসবুক

বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব বাধা সহজে উতরে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আসলে বেগ পেতে হয় রাউন্ড ৩২-এর কেপ ভার্দে বাধা। জয় পেতে রীতিমতো অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত যেতে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। দুই-দুইবার এগিয়ে সমতায় ফেরে নবাগত দল হিসেবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি।

কঠিন লড়াইয়ের পর প্রথম অনুশীলনে বৃষ্টি-বাধায় জিম সেশনেই কাটে মেসিদের অনুশীলন। তাই নিজেদের গুটিয়ে না রেখে জিমেই বিশেষ অনুশীলন সেরে শক্তি সঞ্চারে সময় ব্যয় করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

গতকাল শনিবার আর্জেন্টিনার অফিশিয়াল স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি বিশেষ শারীরিক কসরতে ঘাম ঝরাচ্ছেন।

এ ছাড়া জুলিয়ানো সিমিওনে, লাওতারো মার্তিনেজ, ইমি মার্তিনেজ, তাগলিয়াফিকো, আলভারেজ, নিকো পাজরা কসরতে ব্যস্ত।

স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল; ‘বৃষ্টিও আমাদের থামাতে পারবে না’।

তারপরই পোস্ট করা দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিয়ে করা ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল—‘কঠিন লড়াইয়ের পর শক্তি সঞ্চয়’।

৭ জুলাই রাত ১০টায় রাউন্ড ১৬-এ মিসরের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। লড়াই হবে আর্জেন্টাইন মেসি বনাম ইজিপসিয়ান মেসির। মিসরের মোহাম্মদ সালাহকে ইজিপসিয়ান মেসি বলা হয়।

ক্যাপশনেই বলে দিচ্ছে মিশরের সঙ্গে লড়াইটা জমজমাট হবে। তাই কঠিন লড়াইয়ের পর শক্তি সঞ্চার করে ফের মাঠে নামতে হবে কোয়ার্টারের লক্ষ্যে। 

ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে জিতবে কোন দল, জানাল জ্যোতিষী বিড়াল মিলু

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে জিতবে কোন দল, জানাল জ্যোতিষী বিড়াল মিলু

নিজেদের সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত শুধু একটি দলকে কখনো পারেনি ব্রাজিল। দলটার নাম নরওয়ে। 

এই নরওয়ের বিপক্ষেই আজ রাতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নামছে ব্রাজিল। দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান ব্রাজিলের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানোয় দলটির সমর্থকরা হয়তো দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন। 

তবে সমর্থকদের এবার সুসংবাদ দিয়েছে জ্যোতিষী বিড়াল মিলু। বিড়ালটির ভবিষ্যদ্বাণী বলছে, আজ রাতেই প্রথমবারের মতো নরওয়েকে হারাবে ব্রাজিল এবং এই শতাব্দীর একমাত্র দল হিসেবে সব বিশ্বকাপ আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়বে। 

এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিটি ম্যাচের ফল নিয়েই আগে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে মিলু। সেগুলো মিলেও গেছে। এ কারণেই ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের বড় একটি অংশের কাছে বিড়ালটি এখন সৌভাগ্যের প্রতীক। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, আগের ম্যাচগুলোতে মিলুর পূর্বাভাস তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল। একজন সমর্থক লিখেছেন, ‘জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিল পিছিয়ে পড়লেও আমি মিলুর ভবিষ্যদ্বাণীর ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেটা সত্যি হয়েছিল। তাই নরওয়ের বিপক্ষেও একই ফলের প্রত্যাশা করছি।’

মিলুর ভবিষ্যদ্বাণীর পদ্ধতি বেশ অভিনব। তার মালিক নাতান পিনহেইরো দুটি একই ধরনের বাটিতে খাবার রেখে প্রতিটির পেছনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের পতাকা লাগিয়ে দেন। এরপর মিলুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে যে বাটি থেকে আগে খাবার খেতে শুরু করে, সেটিকেই সম্ভাব্য বিজয়ী দল হিসেবে ধরা হয়।

তবে এই পদ্ধতি নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মিলুর মালিক নাতান পিনহেইরো ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে নির্দিষ্ট বাটির দিকে পরিচালিত করেন। তবে সেই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন পিনহেইরো।

তিনি পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও প্রকাশ করে দেখিয়েছেন, সেখানে কোনো ধরনের কারসাজির সুযোগ নেই। তার দাবি, মিলু সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবেই নিজের পছন্দ অনুযায়ী একটি বাটি নির্বাচন করে।

গতকাল (৪ জুলাই) আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করার পর মিলুর সাফল্যের ধারায় প্রথম ছেদ পড়েছে। তবে ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ ঘিরে তাকে নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মিলুর নতুন ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে মিলে যায় কি না। 

মেক্সিকোকে হারাতে যৌন শক্তিবর্ধক ট্যাবলেট খেয়ে নামছেন কেইন-বেলিংহামরা

ক্রীড়া ডেস্ক
মেক্সিকোকে হারাতে যৌন শক্তিবর্ধক ট্যাবলেট খেয়ে নামছেন কেইন-বেলিংহামরা
ভায়াগ্রা ট্যাবলেট খেয়ে মাঠে নামতে পারেন কেইন-বেলিংহামরা। ছবি: এআই দিয়ে বানানো

ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়াম মেক্সিকোর জন্য শুধু পয়মন্ত ভেন্যুই নয়; যেন এক অভেদ্য দুর্গও। 

এই মাঠে ৮৯ ম্যাচ খেলে মাত্র ২টিতে হেরেছে মেক্সিকো; সর্বশেষ হার সেই ২০১৩ সালে। বিশ্বকাপে তো মেক্সিকানরা সেখানে এখনো অজেয়। ১০ ম্যাচ খেলেছে জয় ৮টি, ড্র ২টি।

এমন ইতিহাস মাথায় নিয়ে আগামীকাল সকালে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। আর ম্যাচটি জিততে হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহামরা নাকি যৌন শক্তিবর্ধক ট্যাবলেট ভায়াগ্রা খেয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছেন! ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান এই তথ্য জানিয়েছে। 

ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল অনুমতি দিয়েছেন বলেই চিকিৎসকদল খেলোয়াড়দের ভায়াগ্রা ট্যাবলেট খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দ্য সানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

আজকেতা স্টেডিয়াম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭৩৫০ ফুট বা ২২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। এত উচ্চতায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। ফলে যেসব দলের খেলোয়াড়রা এমন পরিবেশে খেলতে অভ্যস্ত নন, তারা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। স্ট্যামিনাও ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়, যা তাদের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। 

Azteca
আজতেকা স্টেডিয়ামের অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে। ছবি: সংগৃহীত

এ কারণে ইংল্যান্ডের চিকিৎসকদল কয়েকটি উপায় নিয়ে কাজ করেছে। এর মধ্যে একটি হলো ভায়াগ্রা। এই ট্যাবলেট পুরুষদের যৌন অক্ষমতা বা লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যার সমাধানে বেশি ব্যবহার করা হয়। এটি রক্তনালি প্রসারিত করতে সাহায্য করে। ফলে রক্ত সঞ্চালন কিছুটা বেড়ে যায় এবং অধিক উচ্চতায় কম অক্সিজেনের প্রভাব মোকাবেলায় সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

ভায়াগ্রা ব্যবহারে বাধা নেই

বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা (ওয়াডা) ভায়াগ্রাকে নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায় রাখেনি। তাই প্রতিযোগিতার সময় কিংবা প্রতিযোগিতায় নামার আগে খেলোয়াড়রা এটি ব্যবহার করতে পারেন।

রক্তনালি ও রক্তসঞ্চালনের ওপর এর প্রভাবের কারণে ওয়াডা বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছে। এটি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বাড়ায়—এমন দাবি এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়। তবে বেশি উচ্চতায়, বিশেষ করে যেখানে অক্সিজেন কম থাকে, সেখানে শরীরকে মানিয়ে নিতে ভায়াগ্রা কিছুটা সহায়তা করে থাকে বলে ধারণা করা হয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

মিসরের সাফল্যের গল্প লিখছেন যমজ ভাই হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান

ক্রীড়া প্রতিবেদক
মিসরের সাফল্যের গল্প লিখছেন যমজ ভাই হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান
মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান (বাঁয়ে) ও সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান। ছবি : এক্স

মাঠে একজন দাঁড়িয়ে থাকেন টাচলাইনের একেবারে সামনে। কখনো হাত নেড়ে খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দেন, কখনো রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ঝাড়েন, আবার গোল হলে মুষ্টিবদ্ধ হাতে উদযাপন করেন।

তার ঠিক পাশেই আরেকজন। তিনি কখনো খেলোয়াড়দের ডেকে বার্তা দেন, কখনো বেঞ্চে বসা ফুটবলারদের প্রস্তুত করেন। একজন প্রধান কোচ, অন্যজন সহকারী। তবে সম্পর্কটা শুধু সহকর্মীর নয়, তারা দুজন যমজ ভাই—হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান।

হোসাম মিসরের প্রধান কোচ, আর ইব্রাহিম তার সহকারী। এবারের বিশ্বকাপে মিসরের সাফল্যের অন্যতম কারিগরও তারাই।

বিশ্ব ফুটবলে ভাইদের একসঙ্গে খেলার উদাহরণ অনেক। তবে খেলোয়াড়ি জীবন শেষে একসঙ্গে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে থাকার ঘটনা খুবই বিরল।

Egypt
খেলোয়াড়িজীবনে যমজ দুই ভাই দেশের হয়ে একসঙ্গে ট্রফি জিতেছেন। ছবি : সংগৃহীত

১৯৬৬ সালের ১০ আগস্ট কায়রোর হেলওয়ান এলাকায় জন্ম তাদের। ছোটবেলায় আর্থিকভাবে খুব সচ্ছল ছিলেন না। ফুটবলই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ১৩ বছর বয়সে দুজনই যোগ দেন আল আহলি এসসি একাডেমিতে। সেখান থেকেই শুরু।

খেলোয়াড়ি জীবনেও তারা ছিলেন একজন আরেকজনের ছায়া। হোসাম ছিলেন স্ট্রাইকার, ইব্রাহিম ডিফেন্ডার। একসঙ্গে খেলেছেন আল আহলি, গ্রিসের পিএওকে এফসি, সুইজারল্যান্ডের নিউশাতেল জ্যামাক্স এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইন এফসিতে।

১৯৯০ বিশ্বকাপে মিসরের জার্সিতে পাশাপাশি খেলেছিলেন এই যমজ ভাই। ৬৮ গোল করা হোসাম এখনো মিসরের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পরও দুজন আলাদা হননি। মিসরের বিভিন্ন ক্লাব, এমনকি একসঙ্গে ছিলেন জর্দান জাতীয় দলের দায়িত্বেও।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিসর জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুই ভাইকে। এর পর থেকেই বদলে যেতে শুরু করে পিরামিডের দেশটির ফুটবল। দুজনের ছোঁয়ায় বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের বাধা সহজেই উতরে যায় গত বিশ্বকাপ খেলতে না পারা দলটি।

আর এখন তো তাদের দল বিশ্বকাপের মূল পর্বের শেষ ষোলোতেই উঠে গেছে। আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মিসরের প্রতিপক্ষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। 

লঙ্কানদের বিপক্ষে মুস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে রাজস্থানের উচ্ছ্বাস | কালের কণ্ঠ