• ই-পেপার

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে রেল পুলিশের প্রচারণা

পাঁচ অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্কসংকেত, দুপুর পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
পাঁচ অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্কসংকেত, দুপুর পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা
ফাইল ছবি

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৫ অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুর ১টার মধ্যে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টা থেকে বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

নতুন পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির বৈঠক আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির বৈঠক আজ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় পে স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটি আজ বুধবার আবার বৈঠকে বসছে। বহুল আলোচিত এ বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামোর সম্ভাব্য রূপরেখা, আর্থিক প্রভাব ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘ এক দশক ধরে ২০১৫ সালের পে স্কেল কার্যকর থাকায় নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পে স্কেল নির্ধারণে তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির প্রভাব, বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বেতনবৈষম্য এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা। গত কয়েক বছরে খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফলে বেতনকাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবি জোরালো হয়েছে।

জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং পুরো বেতনকাঠামোকে আরো যুগোপযোগী ও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে, বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বাস্তবসম্মত করা, পদোন্নতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদলও নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আইএমএফকে জানিয়েছেন যে নতুন পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে একবারে বড় আর্থিক চাপ তৈরি না হয়। আইএমএফ মূলত জানতে চেয়েছে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ফলে সরকারের ব্যয় কত বাড়বে এবং তা কিভাবে সামাল দেওয়া হবে। 

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় আইএমএফ বাংলাদেশকে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, স্থায়ী রাজস্বভিত্তি শক্তিশালী না করে বড় ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি দীর্ঘ মেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তারা ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছে।

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব, আজ রাষ্ট্রীয় শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব, আজ রাষ্ট্রীয় শোক
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানি। ছবি: সংগৃহীত

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর স্মরণে আজ বুধবার দেশব্যাপী অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি শোক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। সংসদে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শোক প্রস্তাবটি কাতার সরকার এবং ঢাকায় কাতার দূতাবাসে পাঠানো হবে। শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর মরহুম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্য শামীম কায়সার মোনাজাত পরিচালনা করেন।

১২ জুলাই ৭৪ বছর বয়সে মারা যান কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানি। ১৯৯৫ সালে ক্ষমতায় এসে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসন করেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশটি ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ কারণে তাঁকে আধুনিক কাতারের অন্যতম স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শেখ হামাদ বর্তমান কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির পিতা।

কাতারে গেছেন স্পিকার : এদিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। স্পিকার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং আধুনিক কাতারের স্থপতি হিসেবে পরিচিত সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ ও সমবেদনা জ্ঞাপন করবেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে ফিরবেন স্পিকার।

এলডিসি উত্তরণ ও এসডিজি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের জোরালো সহযোগিতা চাইলেন উপদেষ্টা তিতুমীর

অনলাইন ডেস্ক
এলডিসি উত্তরণ ও এসডিজি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের জোরালো সহযোগিতা চাইলেন উপদেষ্টা তিতুমীর

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের টেকসই ও নির্বিঘ্ন উত্তরণ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সরকারের বর্তমান সংস্কার কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে জাতিসংঘের আরো জোরালো সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সংস্থাটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।

ড. তিতুমীর বৈঠক করেন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিকবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল লি জুনহুয়া, জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএন-এসক্যাপ) নির্বাহী সচিব ও আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা এবং সহকারী মহাসচিব ও ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ব্যুরোর আঞ্চলিক পরিচালক কান্নি উইথারাজার সঙ্গে।

আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ইউএন ডেসার প্রধান লি জুনহুয়ার সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ৩ বছর বাড়ানোর অনুরোধের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং টেকসই ও অপরিবর্তনীয় উত্তরণ নিশ্চিত করতেই এই সময় বৃদ্ধির অনুরোধ করা হয়েছে।

লি জুনহুয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় ইউএন ডেসার অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া সফল ও টেকসই করতে দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসাহবানার সঙ্গে বৈঠকে ড. তিতুমীর বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে প্রাপ্ত গণরায় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহিমূলক সুশাসন এবং জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন কর্মসূচিকে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করেছে। তিনি সরকারের ৩ আর কৌশল অর্থাৎ- রিকভারি, রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন ফর এক্সিলারেশনের কথা তুলে ধরে বলেন, এই কৌশল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে।

আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসাহবানা বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ, আঞ্চলিক সংযোগ এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে ইউএন-এসক্যাপের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সরকারের সার্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ব্যুরোর আঞ্চলিক পরিচালক ও সহকারী মহাসচিব কান্নি উইগ্গারাজার সঙ্গে বৈঠকে ড. তিতুমীর গণতান্ত্রিক সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে ইউএনডিপির অব্যাহত সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে কান্নি উইথারাজা এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ইউএনডিপির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে রেল পুলিশের প্রচারণা | কালের কণ্ঠ