একদল শিশুর উচ্ছ্বসিত পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। গাছের চারা, বাঁশ আর বেড়ার সামগ্রী পৌঁছাতেই কে আগে কোনটি হাতে নেবে তা নিয়ে শুরু হয় যেন আনন্দের প্রতিযোগিতা। সবার চোখেমুখে ছিল নতুন কিছু পাওয়ার উজ্জ্বল হাসি, হৃদয়ে ছিল সবুজ স্বপ্নের রঙ। ‘আমাদের বিদ্যালয়ে বাগান হবে, গাছে ফুটবে ফুল, ধরবে ফল, আরো সুন্দর হবে স্কুল’— ঠিক যেন মুখস্থ করা কোনো কবিতা আবৃত্তির মতো আবেগ নিয়ে কথাগুলো বলছিল শিক্ষার্থী জান্নাত। তার সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরাও একই স্বপ্নের সুরে কণ্ঠ মেলাচ্ছিল।
আরো পড়ুন
শুভসংঘের উদ্যোগে মঠবাড়িয়ায় বিজয়ের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধাতুরপহেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনই এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয় একটি কোমলমতী শিশুদের সবুজ স্বপ্ন। ‘সবুজে সুন্দর আগামী’ স্লোগানকে সামনে রেখে বসুন্ধরা টিস্যু ও বসুন্ধরা শুভসংঘের যৌথ উদ্যোগে বিদ্যালয়টিতে গড়ে তোলা হয় একটি দৃষ্টিনন্দন বাগান। বাগানে রোপণ করা হয় বিভিন্ন জাতের ফুল, ফল, পাতাবাহার ও লেবুসহ অর্ধশতাধিতক গাছ। চারপাশে দেওয়া হয় সুরক্ষিত বেড়া। একই সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় বসুন্ধরা টিস্যুর বক্স।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) দেবশ্রী পাল দীপা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘ফেসবুকে করা একটি মন্তব্য যে একদিন বাস্তবে একটি বাগানের রূপ নেবে, তা কখনো ভাবিনি। পাশের একটি বিদ্যালয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের বাগান তৈরির খবর দেখে আমাদের স্কুলেও এমন উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এজন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’
আরো পড়ুন
শুভসংঘের সেই গাছের চারা ১৪ বছরে এখন মহিরুহ হয়ে ছায়া দিচ্ছে
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন–বৃক্ষপ্রেমী ও কৃষি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহমেদ খান। তিনি নিজ হাতে একটি গাছের চারা নিয়ে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গাছের পরিচিতি ও পরিবেশে তাদের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে মানুষকে প্রায়ই অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে হচ্ছে। পৃথিবীকে সবুজ করা ছাড়া এর কোনো বিকল্প নেই। সময়োপযোগী এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আশার বার্তা বহন করছে।’
বিশেষ অতিথি আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন জলিল বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ মানেই ব্যতিক্রমধর্মী কিছু। পরিবেশ রক্ষায় এই বাগান কর্মসূচি নিঃসন্দেহে সময়ের দাবি।’
আরো পড়ুন
শুভসংঘের উদ্যোগে ক্ষেতলালে পাখির নিরাপদ বাসস্থান তৈরি
উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণের যে আহ্বান তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। এমন আয়োজন অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। বাগানের জন্য আনা বেড়া কিছুটা কম হলে তিনি প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে আরো গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
পৌর যুবদলের সদস্য সচিব হুমায়ুন রহমান নয়ন বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই প্রত্যাশা।’
আরো পড়ুন
শুভসংঘের আয়োজন ‘সবজি দেখে লিখব খাতায়’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন–বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা মো. সুমন মিয়া, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি জুটন বনিক, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার শাহীন, আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল মিয়া, সাংবাদিক মো. হাবিবুর রহমান, আশীষ সাহাসহ এলাকার বিশিষ্টজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
সমগ্র আয়োজনের সমন্বয় করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবু।