• ই-পেপার

‘অবৈধ দেয়াল’ ভাঙলো বিক্ষুব্ধ জনতা, নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ির পথ উন্মুক্ত

হোটেল মালিকের হাতুড়িপেটায় কর্মচারী নিহত, আটক অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
হোটেল মালিকের হাতুড়িপেটায় কর্মচারী নিহত, আটক অভিযুক্ত
ছবি: কালের কণ্ঠ

রংপুর নগরীর খামার মোড় এলাকায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে শাওন (২৫) নামের এক কর্মচারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টার দিকে নগরীর খামার মোড় এলাকায় হঠাৎ করে মিজানুর রহমান মনু হাতে থাকা একটি হাতুড়ি দিয়ে শাওনের ওপর হামলা করেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি পরপর কয়েকটি আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শাওন।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাবুল মিয়া বলেন, আমরা হঠাৎ চিৎকার শুনে এগিয়ে যাই। গিয়ে দেখি শাওনকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। পরে সে মাটিতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা মিলে তাকে হাসপাতালে পাঠাই, কিন্তু চিকিৎসক জানান, সে মারা গেছে।

খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

তবে অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, মিজানুর রহমান মনু দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের মানসিক অবস্থার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি প্রকৃতপক্ষে মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলা হলেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, কর্মস্থলসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব অথবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহত শাওনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

কিশোরকে পুকুরে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
কিশোরকে পুকুরে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় এক কিশোরকে পুকুরে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হাওয়া দিঘিতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই কিশোরের নাম রাহাত মিয়া (১৬)। সে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের তরফকাল গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয়ভাবে সে ‘গাটু’ নামে পরিচিত।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত বন্ধুরা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী মধ্যপাড়া গ্রামের সাকিব মিয়া (১৫) ও রিফাত মিয়া (১৬) । সাকিব একই এলাকার জবান আলীর ছেলে ও রিফাত সাইদুল ইসলামের ছেলে। ঘটনার পর তারা গা ঢাকা দিয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিকেল ৫টার দিকে উত্তর হরিণ সিংহা গ্রামের বিশাল হাওয়া দিঘিতে গোসল করতে নামে সাকিব, রিফাত ও রাহাত নামের স্থানীয় ওই তিন কিশোর। গোসলে নেমে তাদের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তর্ক হয়। এক পর্যায়ে সাকিব ও রিফাত দুজনে মিলে রাহাতকে ক্রমাগত পানিতে চুবাতে থাকে। এ ঘটনার এক পর্যায়ে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাহাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিবারের তাৎক্ষণিক অভিযোগের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন রাতে কালের কণ্ঠকে জানান, ঘটনাটি রহস্যজনক। এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে কীভাবে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।

নান্দাইলে কান ধরে উঠবস ও টাকায় রফা কিশোরী ধর্ষণের বিচার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
নান্দাইলে কান ধরে উঠবস ও টাকায় রফা কিশোরী ধর্ষণের বিচার

পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরী ধর্ষণের বিচার হল কান ধরে উঠবস ও মোটা অঙ্কের টাকায় রফা। সাবেক ও বর্তমান দুই ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে এমন বিচার হয় ময়মনসিংহের নান্দাইলের রাজগাতি ও নান্দাইল সদর ইউনিয়নের দুই গ্রামে।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে ওই দুই এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, নান্দাইল উপজেলার দাতারাটিয়া গ্রামে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয় গত প্রায় ১২ দিন আগে। এ ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্ত ধর্ষককে রক্ষায় নামে গ্রামের একটি চক্র। তারা ঘটনা ধামাচাপা দিতে দফায় দফায় টাকায় রফা করে। পরে গত শনিবার এলাকার এক ইউপি সদস্যসহ বেশ কয়েকজন সালিসকারী সালিসির আয়োজন করে অভিযুক্ত ধর্ষক গ্রামের ইয়াকুবের ছেলে আলী নুরুল আমীন (৩৫)কে রক্ষায় প্রায় ৩ লাখ টাকা ধার্য্য করে ধর্ষণের মতো ঘটনা মীমাংসা করে ফেলে।

এর আগে ঘটনা সম্পর্কে জানতে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাড়িতে গেলে ওই কিশোরী তার নির্যাতনের কথা বর্ণনা করেছিলেন। ওই সময় কিশোরীর দাদা এ প্রতিনিধিকে অনুরোধ করেছিলেন এখনি কোনো সংবাদ প্রকাশ না করতে। যদি মিমাংসা হয়ে যায় তাহলে নাতনির বিষয় নিয়ে তিনি এগুবেন না। মিমাংসার পর তাকে ফোন দিলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। তবে কিশোরীর বাড়ির বেশ কয়েকজন জানান, তিন লাখ টাকা রফায় ঘটনাটি মিমাংসা করে দিয়েছেন একজন ইউপি সদস্য।

অপরদিকে গত রবিবার দুপুরে ধর্ষণচেষ্টার শিকার হন নান্দাইল উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের পূর্ব দরিল্লাহ গ্রামের হতদরিদ্র এক কৃষকের পাঁচ বছর বয়সের এক শিশু। জানা গেছে, ওই শিশু দুপুরে বাড়ির সামনে একটি মসজিদের টিউবওয়েলে গোসল করতে যায়। সেখানে পাশের বাড়ির ছমির উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩৫) একা পেয়ে গোসল করিয়ে দেওয়ার কথা বলে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই সময় শিশুটি চিৎকার দিলে একজন দেখতে পেয়ে কাছে যায়। পরে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাটি নিয়ে শিশুর বাবা বিচার চাইলে এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য শাহিন গত সোমবার সকালে শিশুর বাড়ির উঠানে সালিসের আয়োজন করে। ওই সালিসে অভিযুক্ত ও ধর্ষণের চেষ্টার শিকার শিশুসহ তাদের পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিল। এ অবস্থায় ধর্ষককে চরথাপ্পড়, কানধরে উঠবস ও জুতা পেটা করে বিচার শেষ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালিসের আয়োজক শাহিন মেম্বার জানান, বিষয়টি খুব বেশি বড় না হওয়ায় অল্পতেই শেষ করে দিলাম। তাছাড়া অভিযুক্ত ছেলেটির পরিবার গরিব। অন্যদিকে দাতারাটিয়া গ্রামের ঘটনায় মেম্বার আব্দুল কদ্দুস বলেন, মেয়েটি একেক সময় একেক কথা বলে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব কম বিধায় মেয়ের পরিবার মামলায় যাইতে চায়নি।

এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম বলেন, দুটি ঘটনারই পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারত।

নবীনগরে গোলাগুলির ঘটনায় নিখোঁজ রিফাতের লাশ উদ্ধার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
নবীনগরে গোলাগুলির ঘটনায় নিখোঁজ রিফাতের লাশ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল দাসপাড়ায় গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ থাকা রিফাত (২৮) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে নরসিংদীর করিমপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সন্ধ্যায় মৃতের বোন এসে মরদেহটি তার ভাইয়ের হিসেবে শনাক্ত করেছে। এখন মরদেহের পোস্ট মর্টেম করার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় মৃতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।’

নিহতের বোন মুক্তা বেগম অভিযোগ করেন, তার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, মরদেহে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের আলামত দেখা গেছে। দাফন শেষে এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত রিফাতের স্ত্রী ও তিন মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

এর আগে, গত রবিবার (১৪ জুন) রাতে নবীনগর উপজেলার বাড়াইল দাসপাড়ায় সশস্ত্র হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় কনিকা দাস (৪০) নামের এক নারী আহত হন। ঘটনার পর থেকেই রিফাত নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার মৃত্যু ও মরদেহ গুমের বিষয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরেই হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘রিফাতের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি আমরা জেনেছি। নিহতের পরিবার মামলা করলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

তিনি আরো জানান, যেহেতু মরদেহটি নরসিংদীতে উদ্ধার হয়েছে, সেখানেও মামলা করার সুযোগ রয়েছে।