• ই-পেপার

ডায়াবেটিস না থাকলেও খাবারের পর রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ জরুরি

পিত্তথলির পাথর সব সময় নিরীহ নয়, অবহেলা করলে হতে পারে বড় বিপদ

অনলাইন ডেস্ক
পিত্তথলির পাথর সব সময় নিরীহ নয়, অবহেলা করলে হতে পারে বড় বিপদ
প্রতীকী ছবি

পিত্তথলিতে (গলব্লাডার) পাথর অনেকেরই থাকে, কিন্তু শুরুতে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তাই অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। তবে চিকিৎসকদের মতে, উপসর্গ না থাকলেও পিত্তথলির পাথর নিয়মিত চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত। কারণ, যেকোনো সময় এটি গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

সম্প্রতি ভারতীয় গায়ক ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ জানান, ২০১৫ সাল থেকে তিনি পিত্তথলিতে ১১ থেকে ১২ মিলিমিটার আকারের একটি পাথর নিয়ে আছেন। প্রথমে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ পেলেও পরে উপসর্গ না থাকায় তিনি অস্ত্রোপচার করাননি। তার এই অভিজ্ঞতার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, পিত্তথলি যকৃতের নিচে থাকা একটি ছোট অঙ্গ, যেখানে হজমে সহায়তাকারী পিত্তরস জমা থাকে। কোলেস্টেরল বা বিলিরুবিন জমে সেখানে পাথর তৈরি হতে পারে। অনেক সময় আলট্রাসনোগ্রাম বা অন্য পরীক্ষায় হঠাৎ করেই এ পাথর ধরা পড়ে।

তবে পাথরটি যদি পিত্তনালিতে আটকে যায়, তাহলে তীব্র পেটব্যথা, জ্বর, বমি, জন্ডিস, পিত্তথলির সংক্রমণ এমনকি অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ (প্যানক্রিয়াটাইটিস) হতে পারে। এসব জটিলতার কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, অতিরিক্ত ওজন, চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া, ডায়াবেটিস, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, বয়স ৪০ বছরের বেশি হওয়া এবং পারিবারিক ইতিহাস থাকলে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

পিত্তথলির পাথরের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে ডান পাশের ওপরের পেটে তীব্র ব্যথা, বিশেষ করে তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর ব্যথা বাড়া, বমি বমি ভাব, বমি, পেট ফাঁপা, জ্বর এবং চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, উপসর্গ না থাকলে সব ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। তবে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আর যদি বারবার ব্যথা হয় বা সংক্রমণসহ অন্য জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিত্তথলি অপসারণই সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, সুষম ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখলে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বিআরএফ’র গবেষণা

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় দেরি করায় বাড়ছে ব্যয়, জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় দেরি করায় বাড়ছে ব্যয়, জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের চিকিৎসা শুরুতে উদ্বেগজনক বিলম্বের চিত্র উঠে এসেছে বায়োমেডিকেল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (বিআরএফ) এক গবেষণায়। গবেষণায় দেখা গেছে, রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর অর্ধেকেরও বেশি রোগীর চিকিৎসা শুরু হতে চার মাসের বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করছে, বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয় এবং মৃত্যুঝুঁকি।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত এ গবেষণায় দেখা যায়, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ৫৬ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর থেকে চূড়ান্ত চিকিৎসা শুরু হতে চার মাসের বেশি সময় লেগেছে।

ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ৩৫৫ জন স্তন ক্যান্সার রোগীর ওপর গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিআরএফের বিজ্ঞানী ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন। গবেষণাদলে ছিলেন মোহাম্মদ নাঈম হাসান, সুমাইয়া খান তৃষা এবং ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ড. মো. ওয়াহিদ আখতার।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ রোগী উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তিন মাসের বেশি সময় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে দেরি করেছেন। অন্যদিকে, ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে হাসপাতাল, রোগ নির্ণয় বা স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসা শুরু বিলম্বিত হয়েছে।

এতে আরো দেখা যায়, চিকিৎসকের কাছে প্রথমবার যাওয়ার সময় ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ রোগী ক্যান্সারের দ্বিতীয় ধাপে এবং ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ রোগী তৃতীয় ধাপে ছিলেন। তৃতীয় ধাপের রোগীদের মধ্যেই চিকিৎসা বিলম্বের হার সবচেয়ে বেশি, যা ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ।

গবেষকদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা শুরু না হওয়ায় অনেক রোগীর ক্যান্সার এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে, যেখানে চিকিৎসা আরো জটিল, ব্যয়বহুল এবং অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

গবেষণায় চিকিৎসা বিলম্বের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণও উঠে এসেছে। ৭৯ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, প্রথমে তারা মনে করেছিলেন স্তনের সমস্যাটি এমনিতেই সেরে যাবে। ৭৬ শতাংশ অবহেলার কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি করেছেন। ৬৬ শতাংশ অর্থনৈতিক সংকটের কারণে চিকিৎসা পিছিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ নারী স্তন পরীক্ষা করাতে বা এ বিষয়ে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেছেন এবং ৩৮ শতাংশ ক্যান্সার ধরা পড়বে কিংবা ক্যান্সারের ওষুধ প্রয়োগের চিকিৎসা নিতে হবে এই আশঙ্কায় চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেছেন।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, শিক্ষা, আয় এবং বসবাসের স্থানের সঙ্গে চিকিৎসা বিলম্বের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। নিরক্ষর নারীদের চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি মাধ্যমিক বা তার বেশি শিক্ষিত নারীদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। মাসিক পারিবারিক আয় পাঁচ হাজার টাকার কম হলে এ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের নারীদের চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বেশি। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে রংপুরে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ছয় গুণ। এছাড়া যেসব নারী স্বামীর সঙ্গে নিজের শারীরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে সংকোচ বোধ করেন, তাদের চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ার আশঙ্কাও দ্বিগুণের বেশি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় গবেষকরা গ্রামাঞ্চলে স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয় সেবা সম্প্রসারণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং স্বাস্থ্যবিমার মতো আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেছেন।

গবেষণার প্রধান গবেষক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো দ্রুত রোগ শনাক্ত করা। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত হলে চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয় ও মৃত্যুঝুঁকিও অনেকাংশে কমে আসে।’

প্রথমবারের মতো সরকারি হাসপাতালে গর্ভের শিশুর শরীরে রক্ত সঞ্চালন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রথমবারের মতো সরকারি হাসপাতালে গর্ভের শিশুর শরীরে রক্ত সঞ্চালন

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গর্ভের এক শিশুর শরীরে রক্ত সঞ্চালন করা হয়েছে। এটি দেশে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারি হাসপাতালে গর্ভের শিশুর শরীরে সফল রক্ত সঞ্চালন।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) এই জটিল চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন করেন হাসপাতালের মা ও গর্ভস্থ শিশুর বিশেষায়িত চিকিৎসা বিভাগের একদল চিকিৎসক।

এতে নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের ফিটো-ম্যাটার্নাল মেডিসিন ইউনিটের প্রধান ডা. খন্দকার শেহনীলা তাসমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা আফরোজ, অধ্যাপক ডা. ইসরাত জাহান এবং অধ্যাপক ডা. খালেদুন্নেসা। এ ছাড়া শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আইনুল ইসলাম খান, অ্যানিস্থেসিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডা. রেহান উদ্দিন খান, ডা. নোমান ও ডা. শরীফ, রক্ত সঞ্চালন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান এবং হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মির্জা গোলাম সারওয়ার এই চিকিৎসা সফল করতে সহযোগিতা করেন।

চিকিৎসকরা জানান, রক্তের গ্রুপজনিত জটিলতার কারণে গর্ভের শিশুর মারাত্মক রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে তার জীবন রক্ষায় ইনট্রা-ইউটেরিন ফিটাল ব্লাড ট্রান্সফিউশনের (আইইউটি) এই চিকিৎসা দেওয়া হয়। আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে গর্ভের ভেতরে শিশুর নাভির রক্তনালিতে নিরাপদভাবে রক্ত সঞ্চালন করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সাফল্যের ফলে ভবিষ্যতে রক্তের গ্রুপজনিত জটিলতাসহ গর্ভের শিশুর বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীরা দেশের সরকারি হাসপাতালেই উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা পাবেন। এ ছাড়া ভবিষ্যতেও আধুনিক মা ও গর্ভস্থ শিশুর চিকিৎসা, জন্মের আগেই রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় বিশেষ চিকিৎসাসেবা আরো সমপ্রসারণের মাধ্যমে মা ও অনাগত শিশুর সর্বোচ্চ মানের সাবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবে হাসপাতালটি।

চিকিৎসকদের মতে, গর্ভের শিশুর শরীরে রক্ত সঞ্চালন একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি। আমাদের দেশে অনেক নারী রক্তস্বল্পতায় ভোগেন, যার প্রভাব পড়ে গর্ভের বাচ্চার ওপর। এছাড়া মা ও গর্ভের শিশুর রক্তের আরএইচ গ্রুপজনিত জটিলতার কারণে সৃষ্ট গুরুতর রক্তস্বল্পতা, শরীরে অস্বাভাবিকভাবে পানি জমে যাওয়া কিংবা অন্য কোনো কারণে তীব্র রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে এই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া হয়। সময়মতো এই চিকিৎসা দেওয়া গেলে গর্ভের শিশুর মৃত্যুঝুঁকি অনেক কমে যায় এবং নিরাপদভাবে গর্ভকাল আরো কিছুদিন বাড়ানো সম্ভব হয়।

বাস্তবায়ন করবেন সিভিল সার্জনরা

বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ৫ নির্দেশনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ৫ নির্দেশনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে দেশের সব সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রাখা সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের জন্য বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতি শিফটে কমপক্ষে পাঁচজন মেডিক্যাল অফিসার উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০ শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিক্যাল অফিসার নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় পাঁচটি পদক্ষেপ সিভিল সার্জনদের বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো—এক. জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ করতে হবে। দুই. প্রতিটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের নাম, বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ হালনাগাদ তালিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা নিশ্চিত করতে হবে। তিন. ডিউটি রোস্টার ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করতে হবে। চার. প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে বা ভুল কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে। পাঁচ. মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোগীদের নিরাপদ, মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য সব সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।