জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। আজ রবিবার (৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো আলাদা বিবৃতিতে দলের সংগঠন দুটি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।
সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক বিবৃতিতে নিন্দা ও ক্ষোভ জানান।
তারা বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালনের জন্য বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণ ব্যবহারের অনুমতি প্রদান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ত্রিশ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননার শামিল।
নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন আমাদের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্বভৌমত্ববিরোধী বাণিজ্যচুক্তি চাপিয়ে বাংলাদেশকে ‘করদ রাজ্য’তে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছে তখন সরকারি দল ও সংসদের তথাকথিত বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এ ধরনের অনুষ্ঠান বাংলদেশের মানুষের জন্য অবমাননাকর।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, উক্ত অনুষ্ঠানে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত নেতা ডা. শফিক কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু আখ্যায়িত করা উভয়েরই ৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকে পুনরায় স্পষ্ট করেছে। ৭১-এ যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান সরকারকে সামরিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা দিয়েছিল এবং সপ্তম নৌবহর পাঠিয়ে বাংলাদেশের বিজয়কে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল।
অপরদিকে জামায়াত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে দালালি করেছে এবং আল-বদর বাহিনী গঠন করে বাংলাদেশের আপামর মানুষকে হত্যায় সহযোগিতা করেছে। নারীদের ধর্ষণে সহযোগিতা করেছে। কমিউনিস্ট পার্টি জামাত আমিরের বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।
জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উড়িয়ে উৎসব আয়োজন যাদের সম্মতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে তাদেরকে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান সিপিবি নেতৃবৃন্দ।
বাসদের বিবৃতিতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়ে বিজয় ঠেকিয়ে দিতে চেয়েছিল। মুক্তিকামী বাঙালিদের গণহত্যায় পাকবাহিনীকে সহায়তা করেছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান বিএনপি সরকার ও সংসদের বিরোধী দল অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তাঁবেদারি করছে। তার জ্বলন্ত প্রমাণ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন।’
বিবৃতিতে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে আমেরিকার সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তি করেছে, যা আমাদের অর্থনীতি, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের কম্পানি ডিপি ওয়ার্ডের হাতে তুলে দেওয়া, স্টারলিং-এর হাতে ইন্টারনেট তুলে দেওয়া, মায়ানমারের আরাকানে মানবিক করিডর দেওয়ার মতো নানাবিধ অপতৎপরতা যুক্তরাষ্ট্র তার এদেশীয় দোসরদের মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছে।
আমেরিকা যার বন্ধু তার শত্রুর অভাব নেই। দেশকে আমেরিকার করদরাজ্য বানানোর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।





