• ই-পেপার

ছুটি না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষককে মারধর সহকারী শিক্ষকের, ভিডিও ভাইরাল

  • তদন্ত কমিটি গঠন

মানিকগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি জিন্নাহ কবির

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি জিন্নাহ কবির
ছবি : কালের কণ্ঠ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এস এ জিন্নাহ কবির। রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ ও স্থানীয়দের মধ্যে চারা বিতরণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় এমপি জিন্নাহ কবির বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জ-১ আসনের শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে।’

তিনি বলেন, গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশব্যাপী সবুজায়নের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তারই অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এদিন শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে বোয়ালী কেন্দ্রীয় কবরস্থানের প্রবেশপথসহ বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি বোয়ালী ডাক্তারখানা এলাকায় স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

এমপি জানান, পর্যায়ক্রমে তিনটি উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, সড়কের দুই পাশসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচিতে শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রহমত আলী লাভলু, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিব ইকবাল রনি, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হোসেন আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সুরুজসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লায় ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা নগরীতে ভাতিজিকে ধর্ষণের অভিযোগে কাজী মোজাম্মেল হক রিফাত (৩২) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল হান্নান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কাজী মোজাম্মেল হক রিফাত আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) কাইমুল হক রিংকু তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।  

আদালত সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরী কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গাংচর মোগলটুলি এলাকায় বসবাস করতেন। তার মা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কর্মচারী এবং বাবা পেশায় রংমিস্ত্রি।

২০২০ সালের ১০ আগস্ট প্রতিদিনের মতো কিশোরীর বাবা-মা কর্মস্থলে চলে গেলে একই এলাকার বাসিন্দা কে এম স্বপনের ছেলে কাজী মোজাম্মেল হক রিফাত তাদের ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনার ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্ত কাজী মোজাম্মেল হক রিফাত সম্পর্কে কিশোরীর চাচা হন।  

একপর্যায়ে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। পরে ২০২০ সালের ১ অক্টোবর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রিফাতকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক মো. হারুনুর রশিদ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলায় একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল হান্নান আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

পীরগঞ্জে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
পীরগঞ্জে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে প্রায় দুই লাখ টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে ধ্বংস করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে এসব জাল বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করেন।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আয়শা আক্তার জানান, উপজেলার বৈরচুনা বাজারে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রির খবর পেয়ে বিকেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শামিম ও রুবেল নামে দুই ব্যবসায়ীর দোকান থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে তাদের আটক করা হয়। তারা উপজেলার আজলাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযান শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জব্দ করা কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক দুই ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার রোধ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ঈশ্বরদীতে ডিবির অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদকসহ গ্রেপ্তার ৭

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পাবনা
ঈশ্বরদীতে ডিবির অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদকসহ গ্রেপ্তার ৭
ছবি: কালের কণ্ঠ

পাবনার ঈশ্বরদীতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের মাদক সেবনের প্রমাণও পাওয়া গেছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া বাজারের এনসিডিপি গোয়ার্স মার্কেটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানায় জেলা পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. ইকবাল হোসেন ইমন (৩১), মো. নাজমুল হাসান (৩০), সজীব (২৭), মো. তুষার ইমরান (৩৩), মো. জনি ইসলাম (৩০), মো. রতন ইসলাম (১৯) এবং মো. সাজাদুর রহমান (২১)।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, মাদক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল ওই মার্কেটে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের একটি চৌকির নিচ থেকে একটি সচল বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটারের পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানান, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি ইকবাল হোসেন ইমনের হেফাজতে ছিল। ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা অস্ত্রটি চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখেন। তবে অস্ত্রটির কোনো বৈধ লাইসেন্স বা কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের মাদক পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অস্ত্রটির উৎস এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।