• ই-পেপার

আজ দূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুমান ‘সংবেদনশীল’

একনেকে উঠছে

ফেনীর মুহুরী-কহুয়াসহ পাঁচ নদীর নাব্যতা ফেরাতে ২৬৩৬ কোটি টাকার প্রকল্প

অনলাইন ডেস্ক
ফেনীর মুহুরী-কহুয়াসহ পাঁচ নদীর নাব্যতা ফেরাতে ২৬৩৬ কোটি টাকার প্রকল্প

ফেনীর মুহুরী ও কহুয়া নদী এবং বগুড়ার করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়ার নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং পুনরুজ্জীবিত করতে ২ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকার দুটি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া এতে আরো তিনটি প্রকল্প উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের বন্যায় ফেনীর বিভিন্ন নদীতে অতিরিক্ত পলি জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া বিভিন্ন নদীর বাঁধ ও তীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে প্রতি বছর অতিভারি বর্ষণ ও উজানে ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পানিতে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও তীর শক্তিশালী করা এবং মুহুরী ও কহুয়া নদীতে পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে প্রকল্প এলাকায় সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, নদীভাঙন রোধ, জনসম্পদ রক্ষায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, বেসরকারি অবকাঠামো, কৃষিজমিসহ ১৪ হাজার ২০৯ কোটি টাকার সম্পত্তি সুরক্ষা, ৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৫ টন কৃষি, ১৫ টন মৎস্য ও ২৫ টন পোলট্রি রক্ষা করতে ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা, ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণসহ অন্যান্য নির্মাণকাজ করা হবে।

এটি ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুনে কাজ শেষ হবে। প্রকল্প এলাকা ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও সদর উপজেলা।

এদিকে গত ৬ এপ্রিলে একনেকে ফেরত পাঠানো ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন’ প্রকল্পটি আবারো একনেকে তুলতে যাচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রায় ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়া ও গাইবান্ধার নয়টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়া নদী পুনরুজ্জীবিত করা হবে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে কাজ শেষ হবে ২০৩০ সালের জুনে।

প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রায় বলা হয়েছে, করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়া নদীর ২৩০ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। প্রায় ২২ দশমিক ৭২ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। নদীতীরবর্তী ছয় কিলোমিটার স্লোপ প্রকেটশনের মাধ্যমে শহরের ঘরবাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনাসহ সাড়ে তিন কিলোমিটার নদীতীর রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য নির্মাণ করা হবে প্রায় এক কিলোমিটার বাঁধ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০২৩ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছিল। মোট ৯টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। এসব উপজেলার মধ্যে রয়েছে বগুড়ার শিবগঞ্জ, বগুড়া সদর, শাজাহানপুর, দুপচাঁচিয়া, আদমদীঘি, গাবতলী, ধুনট, শেরপুর ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে প্রকল্প প্রস্তাবে।

প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেন, সরকারের চলমান নদী ব্যবস্থাপনা ও পানিসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুটি প্রকল্প গুরুত্ব পেয়েছে। সরকার পানির গতিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে বিভিন্ন নদী ও শাখা নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই একাধিক অঞ্চলে খাল খননের উদ্বোধন করেছে। সে জন্য পাউবো প্রকল্পটি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে পানি সংরক্ষণ, বন্যা থেকে রক্ষা, সেচ ও কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখবে।’

করতোয়া প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘প্রকল্পটি আগেরবার একনেকে তোলা হলেও সে সময় আরো বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়। প্রস্তাবনার চেয়ে পাঁচ কিলোমিটার নদীর পুনঃখনন বাড়বে।’

প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার যাচ্ছেন বুধবার

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার যাচ্ছেন বুধবার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনের জন্য আগামীকাল  (১৭ জুন) মৌলভীবাজার যাচ্ছেন। তার আগমনকে সামনে রেখে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৭ জুন (বুধবার) মৌলভীবাজার জেলা সফর করবেন। সফরে তিনি শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার সদরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং পরে দুসাই রিসোর্টে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভায় যোগ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সড়ক, সিলেট-মৌলভীবাজার সড়কের দুপাশের ঝোপ পরিষ্কার করা হচ্ছে। জেলার সার্কিট হাউজ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। জেলা শহর ও শ্রীমঙ্গল শহরকে ফুটপাথ দখলমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। যে পথে প্রধানমন্ত্রী আসা-যাওয়া করবেন এসব পথের চারপাশ পরিষ্কার ও মেরামত করা হচ্ছে। সমাবেশেস্থল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ সংস্কার করে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফরকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যানের আগম উপলক্ষে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার আগমন উপলক্ষে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আমাদের জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।

দেশে ফিরলেন ৫৭ হাজার ৪২২ হাজি

অনলাইন ডেস্ক
দেশে ফিরলেন ৫৭ হাজার ৪২২ হাজি

হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ১৩৮ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৫৭ হাজার ৪২২ জন বাংলাদেশি হাজি। দেশে প্রত্যাবর্তনকারী হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫৩ হাজার ১০৯ জন।

এদিকে হজ পালনে সৌদিতে গিয়ে হজ সম্পন্ন হওয়ার আগে এবং পরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৫২ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী। মৃতদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৪ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা যান।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, ১৬ জুন (সৌদি সময়) পর্যন্ত দেশে ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে শীর্ষে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ২৪ হাজার ৪৯৯ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ১৯ হাজার ৮২৭ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৮ হাজার ৩৮০ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৪ হাজার ৭১৬ জন হাজি।

হজযাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত মোট ১৩৮ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৬৭টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৫০টি এবং ফ্লাইনাস ২১টি ফ্লাইট।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৭৫১টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৭ হাজার ৯২০টি সেবা দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩০ জুন।

হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ত্রিমুখী চাপে মধ্যবিত্তরা

অনলাইন ডেস্ক
ত্রিমুখী চাপে মধ্যবিত্তরা
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ছবি : সংগৃহীত

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম মজুরি হার ও সঞ্চয় হারানোর শঙ্কা থাকায় মধ্যবিত্তরা চাপে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার কম থাকায় মানুষ কাজ করেও আগের অবস্থানে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি, মজুরি চাপ এবং সঞ্চয় কমে যাওয়া এই ত্রিমুখী চাপ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সংকট তৈরি করছে। রপ্তানি বাড়লেই কর্মসংস্থান বাড়বে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। টাকার মান কমলে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়াবে।

গতকাল রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের জন্য কী আছে?’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাাফিজুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজেটে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজীকরণের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে হলে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।  তিনি বলেন, বাজেটে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য সংবেদনশীলতা থাকলেও তা বাস্তবায়নের আর্থিক কাঠামো দুর্বল। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ও সঞ্চয় সুরক্ষা না হলে তারা উপকার পাবে না। সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে তথ্যভিত্তিক তদারকি বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন।

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর সদস্য রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, শিক্ষা খাতে আসলে বরাদ্দ জিডিপির ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ করা হয়েছে। দুই নয়। তবুও এটি ইতিবাচক। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের করসীমা বাড়লেও বাস্তবে করের চাপ বাড়ছে। স্কুলে ওয়াশ-সুবিধা অত্যন্ত খারাপ, বিশেষ করে মেয়েদের জন্য। শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়লেও ব্যবহার কম, সক্ষমতা ও আমলাতান্ত্রিক সমন্বয়ের ঘাটতি বড় বাধা। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ২০২১ সাল থেকেই জাতীয় বাজেটে জেন্ডার সংবেদনশীল বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্থবিরতা ও সংকোচন দেখা যাচ্ছে। সামগ্রিক বাজেটের আকার বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় এই খাতে বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে। নারীর প্রত্যক্ষ জনসেবা ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উপখাতগুলোতে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে সহিংসতা প্রতিরোধ ও আইনি সহায়তার মতো কাজগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্র্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অযৌক্তিকভাবে প্রায় দ্বিগুণ ধরা হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয়। বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে, ঘাটতি বড়। এডিপি বাস্তবায়ন দুর্বল ও শেষ সময়ে ফুলিয়ে দেখানো হয়। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও উপেক্ষিত। তাই বাজেটের আকার কমিয়ে বাস্তবসম্মত করা প্রয়োজন ছিল। নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, সামাজিক সুরক্ষায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও অধিকাংশই সামান্য বৃদ্ধি। ফ্যামিলি কার্ড গুরুত্বপূর্ণ হলেও লক্ষ্যভিত্তিক নয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ ও মর্যাদাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব রয়েছে, ফলে প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, কৃষি অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ হলেও বাজেটে এর গুরুত্ব কমছে। জিডিপিতে অবদান বেশি হলেও এই খাতে বিনিয়োগ কম, ফলে প্রবৃদ্ধি থমকে যাচ্ছে ও আমদানি নির্ভরতার ঝুঁকি বাড়ছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, মানবাধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান, সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের হেড অব পলিসি অ্যাডভোকেসি ফাইয়াজউদ্দিন আহমেদ, এডুকো বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম তাজিন হোসেন প্রমুখ।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন