• ই-পেপার

নতুন হিজরি বছর বরণে মুমিনের করণীয়

ভুল হলে অনুতপ্ত হয়ে যে দোয়া পড়বেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ভুল হলে অনুতপ্ত হয়ে যে দোয়া পড়বেন
সংগৃহীত ছবি

মানুষ ভুল করে, গুনাহে জড়িয়ে পড়ে—এটাই মানবজাতির স্বভাব। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলার অসীম দয়া ও অনুগ্রহের দরজা সব সময় খোলা। বান্দা যখন আন্তরিক অনুশোচনা নিয়ে নিজের পাপের জন্য লজ্জিত হয়, আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং চোখের অশ্রুতে তাওবা করে, তখন আল্লাহ তাআলা তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।  তাই একজন মুমিনের উচিত তাওবার পর এমন দোয়া করা, যা তার হৃদয়কে পবিত্র করবে, ঈমানকে দৃঢ় করবে এবং তাকে পুনরায় গুনাহে ফিরে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে। তেমনি একটি দোয়া হলো-

 رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আতমিম লানা নুরানা ওয়াগফির লানা ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির।’

অর্থ : হে আমাদের রব। আপনি আমাদের জ্যোতিতে পরিপূর্ণতা দান করুন এবং আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছুর ওপর শক্তিমান। (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৮)

কাবা শরীফে মোড়ানো হলো স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ

অনলাইন ডেস্ক
কাবা শরীফে মোড়ানো হলো স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ
সংগৃহীত ছবি

আরবি নববর্ষ ১৪৪৮ হিজরির সূচনালগ্নে পবিত্র কাবা শরীফে  স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ (কিসওয়া) স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় এশার নামাজের পর মসজিদুল হারামে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কিসওয়া উন্মোচন করা হয়।

ঐতিহ্য অনুযায়ী সাধারণত হজের সময় কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহররম মাসের শুরুতে এটি পরিবর্তনের রীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও পুরনো গিলাফ সরিয়ে নতুন কিসওয়া স্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা তা দেখার জন্য ভিড় করেন।

সৌদি আরবের আল জৌদ এলাকায় অবস্থিত কিং আব্দুল আজিজ কমপ্লেক্সে বিশেষ কারিগরি প্রক্রিয়ায় কাবার গিলাফ তৈরি করা হয়। প্রায় ১১ মাসের পরিশ্রমে শতাধিক দক্ষ কারিগর এটি প্রস্তুত করেন এবং সাতটি ধাপে সম্পন্ন হয় এর নির্মাণ প্রক্রিয়া।

নতুন কিসওয়া তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে ৪৭ খণ্ড উচ্চমানের রেশমি কাপড়। এতে পবিত্র কোরআনের ৬৮টি আয়াত স্বর্ণ ও রৌপ্যের সূতার ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে অলঙ্কৃত করা হয়েছে। প্রায় ১২০ কেজি ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ এবং ১০০ কেজি রৌপ্য ব্যবহৃত হয়েছে এই অলঙ্করণে। পুরো গিলাফটির ওজন প্রায় ১ হাজার ৪১৫ কিলোগ্রাম।

অনুষ্ঠানে সৌদি রাজপরিবারের প্রতিনিধিসহ মসজিদুল হারামের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে নতুন কিসওয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা শরিফের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী পুরোনো গিলাফ ছোট ছোট অংশে কেটে বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে স্মারক হিসেবে বিতরণ করা হয়।

কাবা শরীফের গিলাফ নির্মাণের এক শতাব্দীর গৌরবময় যাত্রা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
কাবা শরীফের গিলাফ নির্মাণের এক শতাব্দীর গৌরবময় যাত্রা
সংগৃহীত ছবি

মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু পবিত্র কাবা শরীফ। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আবেগের প্রতীক। তাই এই পবিত্র ঘরের গিলাফ বা আবরণ (কিসওয়া) শুধু একটি কাপড় নয়; বরং এটি ইসলামের ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও পবিত্রতার এক অনন্য নিদর্শন। আর এই গিলাফ তৈরির ইতিহাসে সৌদি আরবের শাসকদের অবদান এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল রহমান আল সৌদ-এর হাত ধরেই আধুনিক যুগে কাবা শরীফের গিলাফ নির্মাণে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। ১৩৪৫ হিজরিতে (১৯২৭ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে) তিনি পবিত্র কাবার জন্য টেকসই ও উন্নতমানের নতুন গিলাফ তৈরির নির্দেশ দেন। এর মাধ্যমে কাবা শরীফের গিলাফ তৈরীর ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগের সূচনা হয়।

এর পরের বছর, অর্থাৎ ১৩৪৬ হিজরিতে, তিনি মক্কার আজিয়াদ এলাকায় কাবা শরীফের গিলাফ তৈরির জন্য প্রথম সৌদি কর্মশালা প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। ছোট্ট সেই কর্মশালাই পরবর্তীকালে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষায়িত ইসলামী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

পরবর্তীকালে সৌদি শাসকদের ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতায় গিলাফ তৈরির এই ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হয়। বাদশাহ সাউদ বিন আব্দুল আজিজ-এর শাসনামলে গিলাফ উৎপাদন ও এর সংরক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। এরপর বাদশাহ ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ-এর আমলে কারখানার সংস্কার এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়।

খালিদ বিন আব্দুল আজিজ-এর শাসনামলে গিলাফ শিল্পের উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানোন্নয়নের কাজ আরও গতিশীল হয়। পরে ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ-এর সময়ে কারখানাটিকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলা হয় এবং এর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যাপকভাবে উন্নত করা হয়।

এরপর আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ-এর শাসনামলে উম্মুল-জৌদ এলাকায় অবস্থিত ‘কিং আব্দুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য কাবা কভার’-এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হয়। তিনি এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন, পৃষ্ঠপোষকতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বর্তমানে সৌদি যুবরাজ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ-এর নেতৃত্বে কাবা শরীফের গিলাফ তৈরির কাজে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তাঁর শাসনামলে ব্যবহৃত রেশমি কাপড়, স্বর্ণ ও রৌপ্য সুতা এবং সহায়ক প্রযুক্তির মান আরও উন্নত করা হয়েছে। উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে গিলাফের সৌন্দর্য, স্থায়িত্ব ও শৈল্পিক মান নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

আজিয়াদের একটি সাধারণ কর্মশালা থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ উম্মুল-জৌদে অবস্থিত বিশ্বমানের এক বিশেষায়িত কমপ্লেক্সে রূপ নিয়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলমান এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা শুধু কাবা শরীফের গিলাফ নির্মাণের ইতিহাসই নয়, বরং পবিত্র দুই মসজিদের খেদমতে সৌদি আরবের অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধেরও উজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করে। পবিত্র এই ঘরের সেবা ও পরিচর্যা শুধু একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; বরং এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসা এক সম্মানিত আমানত, যা ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা, শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে অব্যাহত থাকবে। ইনশাআল্লাহ। 

হাদিসের বাণী

মুমিন যেভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মুমিন যেভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে
সংগৃহীত ছবি

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার আগে যেকোনো নবিকে আল্লাহ তাআলা উম্মতের মধ্যে প্রেরণ করেছেন, তাদের কোনো-না-কোনো সাহায্যকারী ও সাথি-সঙ্গী ছিল, যারা তাঁর সুন্নতকে গ্রহণ করত এবং তাঁর নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করত। এরপরে এমন এক জাতি তাদের স্থলাভিষিক্ত হলো, যারা মানুষকে এমন বিষয়ের আদেশ করত, যা তারা নিজেরা করত না। আর তারা এমন জিনিস করত, যার ব্যাপারে তাদের আদেশ করা হয়নি। অতএব, তাদের বিরুদ্ধে যে হাতের মাধ্যমে প্রতিবাদ করবে, সে মুমিন। যে আন্তরিকভাবে প্রতিবাদ করবে, সেও মুমিন। যে মুখে প্রতিবাদ করবে, সেও মুমিন। আর এর পরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমানের স্তর নেই। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৮০, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ১১১৫০)


শিক্ষা ও বিধান
১. প্রত্যেক নবিরই নিবেদিতপ্রাণ অনুসারী ছিল। তাই দ্বীনের প্রসার ও সংরক্ষণে সৎ অনুসারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২. সুন্নতের অনুসরণ সফলতার মূল চাবিকাঠি। মুমিন নবির সুন্নতকে গ্রহণ করে এবং তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়ন করে। তাই শুধু মুখে আনুগত্যের দাবি নয়, বরং আমলের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হয়।
৩. কথা ও কাজের মিল থাকা আবশ্যক। একজন দাঈ, আলেম, নেতা বা অভিভাবকের জন্য এটি বিশেষ সতর্কবার্তা।
৪. বিদআত ও মনগড়া কাজ থেকে সতর্ক থাকা উচিত। কেননা দ্বীনের ক্ষেত্রে মনগড়া সংযোজন বা পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়।
৫. অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ঈমানের দাবি। অন্যায়, জুলুম ও গুনাহ দেখে নীরব থাকা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে হবে।
৬. অন্যায় প্রতিরোধের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। যথা-
ক. হাতের মাধ্যমে (ক্ষমতা থাকলে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া)।
খ. জবানের মাধ্যমে (উপদেশ, নসিহত ও প্রতিবাদ করা)।
গ. অন্তরের মাধ্যমে (অন্যায়কে ঘৃণা করা ও মেনে না নেওয়া)।

এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, প্রকৃত মুমিন সেই ব্যক্তি, যে নবির সুন্নত অনুসরণ করে, নিজের কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। অন্যায়ের প্রতি অন্তত অন্তরের ঘৃণাও ঈমানের অপরিহার্য দাবি; আর অন্যায়ের প্রতি উদাসীনতা ঈমানের দুর্বলতার লক্ষণ।