• ই-পেপার

কাবা শরীফে মোড়ানো হলো স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ

ভুল হলে অনুতপ্ত হয়ে যে দোয়া পড়বেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ভুল হলে অনুতপ্ত হয়ে যে দোয়া পড়বেন
সংগৃহীত ছবি

মানুষ ভুল করে, গুনাহে জড়িয়ে পড়ে—এটাই মানবজাতির স্বভাব। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলার অসীম দয়া ও অনুগ্রহের দরজা সব সময় খোলা। বান্দা যখন আন্তরিক অনুশোচনা নিয়ে নিজের পাপের জন্য লজ্জিত হয়, আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং চোখের অশ্রুতে তাওবা করে, তখন আল্লাহ তাআলা তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।  তাই একজন মুমিনের উচিত তাওবার পর এমন দোয়া করা, যা তার হৃদয়কে পবিত্র করবে, ঈমানকে দৃঢ় করবে এবং তাকে পুনরায় গুনাহে ফিরে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে। তেমনি একটি দোয়া হলো-

 رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আতমিম লানা নুরানা ওয়াগফির লানা ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির।’

অর্থ : হে আমাদের রব। আপনি আমাদের জ্যোতিতে পরিপূর্ণতা দান করুন এবং আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছুর ওপর শক্তিমান। (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৮)

নতুন হিজরি বছর বরণে মুমিনের করণীয়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
নতুন হিজরি বছর বরণে মুমিনের করণীয়
সংগৃহীত ছবি

সময়ের চাকা অবিরাম ঘুরছে। দিন, মাস ও বছরের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে তার চূড়ান্ত গন্তব্যের দিকে। প্রতিটি নতুন বছর মানুষের জীবনে নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে, আবার স্মরণ করিয়ে দেয় জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও মৃত্যুর অনিবার্য বাস্তবতাকে। একজন মুসলমানের কাছে নতুন হিজরি বছরের আগমন শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা পরিবর্তনের ঘটনা নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনা, তাওবা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর পথে নতুন উদ্যমে চলার এক মূল্যবান সুযোগ।

হিজরি সনের সূচনা জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাসের এক যুগান্তকারী ঘটনা—মহানবী (সা.)-এর হিজরতের সঙ্গে। এই হিজরত ছিল না শুধু ভৌগোলিক স্থানান্তর; বরং এটি ছিল সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাই নতুন হিজরি বছর আমাদের সামনে সেই মহান শিক্ষাগুলোকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং নিজেদের ঈমানি জীবনকে পুনর্গঠনের আহ্বান জানায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি... এর মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস।’ (সুরা : তাওবাহ, আয়াত : ৩৬)

নতুন হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম, যা ইসলামে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস। তাই একজন সচেতন মুমিনের উচিত এই বছরকে গুনাহ থেকে ফিরে আসা, নেক আমল বৃদ্ধি করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে বরণ করা।

মহররম : আল্লাহর সম্মানিত মাস
মহররম ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। এই মাসে ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব অন্যান্য সময়ের তুলনায় আরো বেশি। ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই এই মাস মুসলমানদের কাছে মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। মুফাসসিরগণ বলেন, সম্মানিত মাসগুলোতে নেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয় এবং গুনাহের ভয়াবহতাও অধিক গুরুতর হয়। তাই এ মাসে পাপাচার থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর আনুগত্যে জীবন পরিচালনা করা বিশেষভাবে জরুরি।

‘আল্লাহর মাস’ মহররম
মহররম মাসের বিশেষ মর্যাদা বোঝাতে মহানবী (সা.) একে ‘আল্লাহর মাস’ বলে উল্লেখ করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬৩)
ইমাম ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) বলেন, কোনো কিছুকে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা তার বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানের প্রমাণ বহন করে। তাই মহররম মাসকে ইবাদত ও তাকওয়ার মাধ্যমে অতিবাহিত করা একজন মুমিনের দায়িত্ব।

আশুরা : মহররমের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন
মহররম মাসের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ দিন হলো ১০ মহররম বা আশুরা। মহানবী (সা.) মদিনায় এসে দেখলেন, ইহুদিরা আশুরার দিনে রোজা রাখে। কারণ এদিন আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে আমি তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০০৪)

এরপর তিনি নিজেও রোজা রাখেন এবং সাহাবিদের রোজা রাখার নির্দেশ দেন। আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

সুন্নাহ অনুযায়ী ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম মিলিয়ে দুটি রোজা রাখা উত্তম।


নতুন হিজরি বছর বরণে মুমিনের করণীয়
১. আন্তরিক তাওবা করা : নতুন বছরের সূচনায় অতীত জীবনের গুনাহ, অবহেলা ও ভুলত্রুটির জন্য মহান আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা করা উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)

২. আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধি করা : গত বছরের আমল পর্যালোচনা করা এবং নিজের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ওমর (রা.) বলেছেন, ‘তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগে তোমরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ করো।’ 

৩. নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া : পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতে হবে। কারণ নামাজই বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

৪. কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা : নতুন বছরে প্রতিদিন নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত, অর্থ অনুধাবন এবং তার আলোকে জীবন পরিচালনার অঙ্গীকার করা প্রয়োজন। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই এই কোরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৯)

৫. নফল রোজা ও ইবাদত বৃদ্ধি করা : মহররমের রোজা, তাহাজ্জুদ, জিকির, দোয়া ও অন্যান্য নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।

৬. দান-সদকা ও মানবসেবা করা : অসহায়, দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা।

৭. আত্মীয়তার সম্পর্ক সুদৃঢ় করা : পিতা-মাতার সেবা, আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া এবং পারিবারিক সম্পর্ক রক্ষা করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।


মনগড়া আমল ও বিদআত থেকে সতর্কতা জরুরি
হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে সমাজে অনেক সময় বিশেষ নামাজ, নির্দিষ্ট দোয়া, উৎসব, মিছিল বা বিভিন্ন রীতিনীতি প্রচলিত দেখা যায়; কিন্তু এসবের অধিকাংশের কোনো সহিহ ভিত্তি কোরআন ও সুন্নাহতে পাওয়া যায় না। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের দ্বিনের মধ্যে এমন কিছু সংযোজন করবে, যা এর অংশ নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৬৯৭, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৭১৮)
অতএব, সকল ইবাদত ও আমল হতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসারে।

সুতরাং নতুন হিজরি বছর একজন মুমিনের কাছে শুধু নতুন তারিখের সূচনা নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধির নতুন অধ্যায়, তাওবার নতুন দরজা এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক মূল্যবান আহ্বান। মহররমের মর্যাদা, আশুরার ফজিলত এবং হিজরতের মহান শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত সফলতা দুনিয়ার চাকচিক্যে নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্যেই নিহিত।

তাই আসুন, নতুন হিজরি বছরকে আমরা উৎসব-আড়ম্বরের মাধ্যমে নয়, বরং আন্তরিক তওবা, বেশি বেশি ইবাদত, কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক, মানবসেবা এবং তাকওয়াপূর্ণ জীবনযাপনের দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে বরণ করি। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন বছরকে নেক আমল ও কল্যাণের বছরে পরিণত করি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহররমের বরকত অর্জন, আশুরার ফজিলত লাভ এবং কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কাবা শরীফের গিলাফ নির্মাণের এক শতাব্দীর গৌরবময় যাত্রা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
কাবা শরীফের গিলাফ নির্মাণের এক শতাব্দীর গৌরবময় যাত্রা
সংগৃহীত ছবি

মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু পবিত্র কাবা শরীফ। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আবেগের প্রতীক। তাই এই পবিত্র ঘরের গিলাফ বা আবরণ (কিসওয়া) শুধু একটি কাপড় নয়; বরং এটি ইসলামের ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও পবিত্রতার এক অনন্য নিদর্শন। আর এই গিলাফ তৈরির ইতিহাসে সৌদি আরবের শাসকদের অবদান এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল রহমান আল সৌদ-এর হাত ধরেই আধুনিক যুগে কাবা শরীফের গিলাফ নির্মাণে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। ১৩৪৫ হিজরিতে (১৯২৭ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে) তিনি পবিত্র কাবার জন্য টেকসই ও উন্নতমানের নতুন গিলাফ তৈরির নির্দেশ দেন। এর মাধ্যমে কাবা শরীফের গিলাফ তৈরীর ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগের সূচনা হয়।

এর পরের বছর, অর্থাৎ ১৩৪৬ হিজরিতে, তিনি মক্কার আজিয়াদ এলাকায় কাবা শরীফের গিলাফ তৈরির জন্য প্রথম সৌদি কর্মশালা প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। ছোট্ট সেই কর্মশালাই পরবর্তীকালে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষায়িত ইসলামী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

পরবর্তীকালে সৌদি শাসকদের ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতায় গিলাফ তৈরির এই ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হয়। বাদশাহ সাউদ বিন আব্দুল আজিজ-এর শাসনামলে গিলাফ উৎপাদন ও এর সংরক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। এরপর বাদশাহ ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ-এর আমলে কারখানার সংস্কার এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়।

খালিদ বিন আব্দুল আজিজ-এর শাসনামলে গিলাফ শিল্পের উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানোন্নয়নের কাজ আরও গতিশীল হয়। পরে ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ-এর সময়ে কারখানাটিকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলা হয় এবং এর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যাপকভাবে উন্নত করা হয়।

এরপর আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ-এর শাসনামলে উম্মুল-জৌদ এলাকায় অবস্থিত ‘কিং আব্দুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য কাবা কভার’-এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হয়। তিনি এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন, পৃষ্ঠপোষকতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বর্তমানে সৌদি যুবরাজ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ-এর নেতৃত্বে কাবা শরীফের গিলাফ তৈরির কাজে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তাঁর শাসনামলে ব্যবহৃত রেশমি কাপড়, স্বর্ণ ও রৌপ্য সুতা এবং সহায়ক প্রযুক্তির মান আরও উন্নত করা হয়েছে। উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে গিলাফের সৌন্দর্য, স্থায়িত্ব ও শৈল্পিক মান নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

আজিয়াদের একটি সাধারণ কর্মশালা থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ উম্মুল-জৌদে অবস্থিত বিশ্বমানের এক বিশেষায়িত কমপ্লেক্সে রূপ নিয়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলমান এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা শুধু কাবা শরীফের গিলাফ নির্মাণের ইতিহাসই নয়, বরং পবিত্র দুই মসজিদের খেদমতে সৌদি আরবের অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধেরও উজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করে। পবিত্র এই ঘরের সেবা ও পরিচর্যা শুধু একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; বরং এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসা এক সম্মানিত আমানত, যা ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা, শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে অব্যাহত থাকবে। ইনশাআল্লাহ। 

হাদিসের বাণী

মুমিন যেভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মুমিন যেভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে
সংগৃহীত ছবি

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার আগে যেকোনো নবিকে আল্লাহ তাআলা উম্মতের মধ্যে প্রেরণ করেছেন, তাদের কোনো-না-কোনো সাহায্যকারী ও সাথি-সঙ্গী ছিল, যারা তাঁর সুন্নতকে গ্রহণ করত এবং তাঁর নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করত। এরপরে এমন এক জাতি তাদের স্থলাভিষিক্ত হলো, যারা মানুষকে এমন বিষয়ের আদেশ করত, যা তারা নিজেরা করত না। আর তারা এমন জিনিস করত, যার ব্যাপারে তাদের আদেশ করা হয়নি। অতএব, তাদের বিরুদ্ধে যে হাতের মাধ্যমে প্রতিবাদ করবে, সে মুমিন। যে আন্তরিকভাবে প্রতিবাদ করবে, সেও মুমিন। যে মুখে প্রতিবাদ করবে, সেও মুমিন। আর এর পরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমানের স্তর নেই। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৮০, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ১১১৫০)


শিক্ষা ও বিধান
১. প্রত্যেক নবিরই নিবেদিতপ্রাণ অনুসারী ছিল। তাই দ্বীনের প্রসার ও সংরক্ষণে সৎ অনুসারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২. সুন্নতের অনুসরণ সফলতার মূল চাবিকাঠি। মুমিন নবির সুন্নতকে গ্রহণ করে এবং তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়ন করে। তাই শুধু মুখে আনুগত্যের দাবি নয়, বরং আমলের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হয়।
৩. কথা ও কাজের মিল থাকা আবশ্যক। একজন দাঈ, আলেম, নেতা বা অভিভাবকের জন্য এটি বিশেষ সতর্কবার্তা।
৪. বিদআত ও মনগড়া কাজ থেকে সতর্ক থাকা উচিত। কেননা দ্বীনের ক্ষেত্রে মনগড়া সংযোজন বা পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়।
৫. অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ঈমানের দাবি। অন্যায়, জুলুম ও গুনাহ দেখে নীরব থাকা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে হবে।
৬. অন্যায় প্রতিরোধের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। যথা-
ক. হাতের মাধ্যমে (ক্ষমতা থাকলে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া)।
খ. জবানের মাধ্যমে (উপদেশ, নসিহত ও প্রতিবাদ করা)।
গ. অন্তরের মাধ্যমে (অন্যায়কে ঘৃণা করা ও মেনে না নেওয়া)।

এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, প্রকৃত মুমিন সেই ব্যক্তি, যে নবির সুন্নত অনুসরণ করে, নিজের কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। অন্যায়ের প্রতি অন্তত অন্তরের ঘৃণাও ঈমানের অপরিহার্য দাবি; আর অন্যায়ের প্রতি উদাসীনতা ঈমানের দুর্বলতার লক্ষণ।