• ই-পেপার

নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণে চুক্তি সই

বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর

অনলাইন ডেস্ক
বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
সংগৃহীত ছবি

বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলের আওতায় অবসর গ্রহণের সময় মোট সঞ্চিত অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিক হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। 

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব কমিয়ে আনার উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব কমিয়ে আনার উদ্যোগ

নিরাপদ, আধুনিক ও দক্ষ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তঃদেশীয় সংযোগ সম্প্রসারণ এবং উচ্চগতির রেল চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা-কুমিল্লা অংশে কর্ডলাইন নির্মাণের মাধ্যমে এ রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। দেশের ৫৫তম বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে এটি অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ, আধুনিক ও দক্ষ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃদেশীয় সংযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে রেলপথকে অধিক কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা এবং সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোর সঙ্গে রেল সংযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আধুনিক লোকোমোটিভ, ক্যারেজ ও ওয়াগন সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, সৈয়দপুর ও পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কোচ ও লোকোমোটিভ সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ এবং আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন ও উচ্চগতির রেল সংযোগ চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা-কুমিল্লা অংশে কর্ডলাইন নির্মাণ করা হবে, যার ফলে এ রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথকে আরও কার্যকর করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডোর প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামকে একটি লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। রেলপথ খাতে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে গতি বৃদ্ধি এবং দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। 

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সব মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে : মাহদী আমিন

অনলাইন ডেস্ক
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সব মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে : মাহদী আমিন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতে জনবান্ধব, জনকল্যাণমুখী ও ভিশনারি বাজেটের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‌‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনগণের সরকার বহু বছর পর আজ একটি বাজেট প্রণয়ন করেছে। এই বাজেটে দেশের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে; এটাই আমাদের বিশ্বাস।’ 

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, বাজেটে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, বিনিয়ন্ত্রণকরণ, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশু কল্যাণ, যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন—এই ১২টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকার উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় বাজেটে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, তেল, মসলাসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করা। অতীতে বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেত। এবারের জনবান্ধব বাজেটে সেই সমস্যা সমাধান হবে বলে সরকার আশাবাদী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্পের আলোকে শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার প্রতিটি স্তরে আরো সমতাভিত্তিক ও সার্বজনীন করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবাকে পৌঁছে দিতে হার্ট, কিডনি, চোখসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবাকে যতটা সম্ভব সুলভ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক ও বীমা সহজলভ্য করা হয়েছে। পাশাপাশি, টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার বিকাশে সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, এই বাজেটের মূল লক্ষ্য দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদান এবং কর্মসংস্থাননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। তারুণ্য ও নারীর ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দিয়ে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু নতুন থ্রাস্ট সেক্টরকে চিহ্নিত করে বন্ডেড সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া আরো সহজ করা হচ্ছে। এই বাজেট শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়নের নয়; বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য পলিসি সাপোর্টের পাশাপাশি, তৃণমূলের একেবারে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রত্যয়কে ধারণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং সেক্টর ও পুঁজিবাজারে আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে গ্রাহকদের সুরক্ষা ও ঋণ প্রদানে দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, এই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য পরিচালনা ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি করা, যাতে দেশের জনগণের অর্থ সরাসরি উৎপাদনশীল খাত ও জনসাধারণের উন্নয়নে অধিকতর কাজে লাগে। একই সঙ্গে লেনদেন বৃদ্ধি, ইনফরমাল ইকোনমিকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা এবং করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির একটি টেকসই ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতির সুফল যাতে সকলের কাছে যায়, সেটাকে মাথায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরো বলেন, সামনের দিনগুলোতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকবে, তবে আমরা সবাই যদি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উন্নয়ন ও উৎপাদনের মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজে অংশ নিই, তাহলে বাংলাদেশ অবশ্যই অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবে। গণতন্ত্রের শক্তি ও জনগণের আস্থাকে পুঁজি করে এই বাজেট সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের পথে চলমান অভিযাত্রাকে বেগবান করবে।

ঋণনির্ভর বাজেট আর্থিক শৃঙ্খলায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

অনলাইন ডেস্ক
ঋণনির্ভর বাজেট আর্থিক শৃঙ্খলায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ঋণনির্ভর বাজেট আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ থেকে বাজেট অধিবেশনে থেকে বের হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজেটে বৈদেশিক ঋণের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরতা এবং বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা ভবিষ্যতে আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বাজেটের মূল সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।

তিনি আরো বলেন, মানবিক অর্থনীতি গড়ার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে, সেজন্য বিভিন্ন বরাদ্দ উল্লেখ আছে। যুব সমাজ, পিছিয়ে পড়া মানুষ, এদের কথাও একই সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। সরকার অর্থনৈতিক নীতি কাঠামোকে বাস্তবায়ন করার জন্য যে আর্থিক কাঠামো সেটা অত্যন্ত দুর্বল। আর্থিক কাঠামো যেটা করা হয়েছে তার ভেতরে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক বিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তাটা সেই জন্য কারণ, অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় ধরনের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজেটে উদারীকরণ, মানবিক অর্থনীতি গঠন এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে নীতিগতভাবে শক্তিশালী এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ভিত্তি যথেষ্ট দৃঢ় নয় বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, বাজেটে বৈদেশিক ঋণের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরতা এবং বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ফলে বাজেটের মূল সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।

তিনি বলেন, সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সরকার কতটা দক্ষতার সঙ্গে এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার বিষয়।