• ই-পেপার

বায়ুদূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার বায়ুমান ‘অস্বাস্থ্যকর’

৩ কোটি টাকার বেশি আয়ে ৩৫ শতাংশ করের প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক
৩ কোটি টাকার বেশি আয়ে ৩৫ শতাংশ করের প্রস্তাব
সংগৃহীত ছবি

উচ্চ আয়ের করদাতাদের ওপর করের চাপ বাড়িয়ে দেশের ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, বার্ষিক ৩ কোটি টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত আয়করের হার বর্তমান ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হতে পারে। এর ফলে উচ্চ আয়ের করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা পড়বে। আগামী ২০২৮-২৯ করবর্ষ থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি তথা পাঁচ বছরের করহার কাঠামো ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। এই রূপরেখায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই বছর এবং পরবর্তী বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের তিন বছরের সম্ভাব্য কর ব্যবস্থার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০২৮-২৯ করবর্ষ থেকে ২০৩০-৩১ করবর্ষ পর্যন্ত ৩ কোটি টাকার বেশি আয়ের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই বর্ধিত করহার সাধারণ বা মধ্যবিত্ত করদাতাদের স্পর্শ করবে না; এটি কেবল সীমিতসংখ্যক উচ্চবিত্ত ও অতি-ধনী করদাতাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৮-২৯ করবর্ষে এই করহার কার্যকর হওয়ার অর্থ হলো, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে অর্জিত আয়ের ওপর ভিত্তি করে এই কর পরিশোধ করতে হবে।

প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এবারের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বর্তমানের চেয়ে ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এরপর পরবর্তী ৩ লাখ টাকার আয়ের ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং পরবর্তী ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে।

এ হিসেবে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থাকবে। তবে ৩ কোটি টাকার বেশি আয়ের অংশের ওপর ৩৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

অবশ্য ২০৩০-৩১ করবর্ষে সর্বোচ্চ করহার অপরিবর্তিত থাকলেও নিম্ন আয়ের স্তরগুলোতে কিছু পরিবর্তন আনা হবে। ওই বছর করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের আয়ের বিপরীতে আগামী ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

বাংলাদেশে একসময় ব্যক্তিশ্রেণির সর্বোচ্চ আয়কর হার ছিল ৩০ শতাংশ। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তা কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হলেও মেয়াদের শেষদিকে আবার ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হয়।

অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে আয়বৈষম্য কমাতে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর তুলনামূলক বেশি হারে কর আরোপের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তবে কিছু করবিশেষজ্ঞের মতে, যারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন এবং কর-অনুগত, তাদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

যেভাবে এসেছিল বিগত ৫৪ বাজেট

অনলাইন ডেস্ক
যেভাবে এসেছিল বিগত ৫৪ বাজেট

স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ মোট ৫৪টি জাতীয় বাজেট অতিক্রম করেছে। ১৯৭২ সালে প্রথম বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। পরিক্রমায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের রেকর্ড ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছে।

সেই পথ ধরে বাংলাদেশের ৫৫তম বাজেট নিয়ে আসছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যার আকার হবে রেকর্ড ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এটি দেশের ৫৫তম, বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের ও অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট।

১৯৭২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যারা বাজেট পেশ করেছেন ও বাজেটের আকার এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) পরিমাণ উপস্থাপন করা হলো-

অর্থবছর            বাজেট উত্থাপক                   বাজেটের আকার                           এডিপি

১৯৭২-৭৩    তাজউদ্দিন আহমেদ           ৭৮৬ কোটি টাকা                                 ৫০১ কোটি টাকা
১৯৭৩-৭৪     তাজউদ্দিন আহমেদ         ৯৯৫ কোটি টাকা                                 ৫২৫ কোটি টাকা
১৯৭৪-৭৫     তাজউদ্দিন আহমেদ          ১ হাজার ৮৪ কোটি টাকা                      ৫২৫ কোটি টাকা
১৯৭৫-৭৬     ড. আজিজুর রহমান মল্লিক    ১হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা                 ৯৫০ কোটি টাকা
১৯৭৬-৭৭    মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান    ১ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা         ১হাজার ২২ কোটি টাকা
১৯৭৭-৭৮    লে. জেনারেল জিয়াউর রহমান    ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা           ১ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা
১৯৭৮-৭৯    প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান     ২ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা                ১ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা
১৯৭৯-৮০    ড. এম এন হুদা                       ৩ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা                ২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা
১৯৮০-৮১    এম সাইফুর রহমান               ৪ হাজার ১০৮ কোটি টাকা            ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা
১৯৮১-৮২    এম সাইফুর রহমান               ৪ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা            ৩ হাজার ১৫ কোটি টাকা
১৯৮২-৮৩     এ এম এ মুহিত                  ৪ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা            ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা
১৯৮৩-৮৪    এ এম এ মুহিত                  ৫ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা            ৩ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা
১৯৮৪-৮৫    এম সায়েদুজ্জামান                 ৬ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা           ৩ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা
১৯৮৫-৮৬    এম সায়েদুজ্জামান                ৭ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা           ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা
১৯৮৬-৮৭    এম সায়েদুজ্জামান                   ৮ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা    ৪ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা
১৯৮৭-৮৮    এম সায়েদুজ্জামান                     ৮ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা    ৫ হাজার ৪৬ কোটি টাকা
১৯৮৮-৮৯    মেজর জেনারেল মুনিম               ১০ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা    ৫ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা
১৯৮৯-৯০    ড. ওয়াহিদুল হক                   ১২ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা      ৮ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা
১৯৯০-৯১    মেজর জেনারেল মুনিম               ১২ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা     ৫ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা
১৯৯১-৯২    এম সাইফুর রহমান               ১৫ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা    ৭ হাজার ৫০ কোটি টাকা
১৯৯২-৯৩    এম সাইফুর রহমান               ১৭ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা    ৯ হাজার ৫৭ কোটি টাকা
১৯৯৩-৯৪    এম সাইফুর রহমান             ১৯ হাজার ৫০ কোটি টাকা    ৯ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা
১৯৯৪-৯৫    এম সাইফুর রহমান           ২০ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা    ১১ হাজার কোটি টাকা
১৯৯৫-৯৬    এম সাইফুর রহমান          ২৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা    ১২ হাজার ১০ কোটি টাকা
১৯৯৬-৯৭    এসএএমএস কিবরিয়া        ২৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা    ১২ হাজার ৫০ কোটি টাকা
১৯৯৭-৯৮    এসএএমএস কিবরিয়া           ২৭ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা-     ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা
১৯৯৮-৯৯    এসএএমএস কিবরিয়া             ২৯ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা    ১৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা
১৯৯৯-২০০০    এসএএমএস কিবরিয়া          ৩৪ হাজার ২৫২ কোটি টাকা    ১২ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা
২০০০-২০০১     এসএএমএস কিবরিয়া     ৩৮ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা    ১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
২০০১-২০০২     এসএএমএস কিবরিয়া    ৪২ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা    ১৯ হাজার কোটি টাকা
২০০২-২০০৩    এম সাইফুর রহমান        ৪৪ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা    ১৯ হাজার ২০ কোটি টাকা
২০০৩-২০০৪     এম সাইফুর রহমান        ৫১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা    ২০ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা
২০০৪-২০০৫     এম সাইফুর রহমান      ৫৭ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা    ২২ হাজার কোটি টাকা
২০০৫-২০০৬    এম সাইফুর রহমান         ৬১ হাজার ৫৮ কোটি টাকা    ২৩ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা
২০০৬-২০০৭    এম সাইফুর রহমান           ৬৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা    ২৬ হাজার কোটি টাকা
২০০৭-২০০৮    মির্জা আজিজুল ইসলাম     ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা    ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা
২০০৮-২০০৯    মির্জা আজিজুল ইসলাম     ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা    ২৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা
২০০৯-২০১০     এ এম এ মুহিত         ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা    ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
২০১০-২০১১    এ এম এ মুহিত        ১ লাখ ৩২ হাজার১৭০ কোটি টাকা    ৩৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা
২০১১-২০১২    এ এম এ মুহিত        ১ লাখ ৬১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা    ৪১ হাজার ৮০ কোটি টাকা
২০১২-২০১৩    এ এম এ মুহিত           ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা    ৫২ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা
২০১৩-২০১৪    এ এম এ মুহিত         ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা    ৬০০০০ কোটি টাকা
২০১৪-২০১৫     এ এম এ মুহিত          ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা    ৭৫০০০ কোটি টাকা
২০১৫-২০১৬    এ এম এ মুহিত       ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা-    ৯৩ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা
২০১৬-২০১৭    এ এম এ মুহিত       ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা    ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা
২০১৭-২০১৮    এ এম এ মুহিত          ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা    ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা
২০১৮-২০১৯    এ এম এ মুহিত           ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা    ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা
২০১৯-২০২০    আ হ ম মুস্তাফা কামাল     ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা     ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা
২০২০-২০২১    আ হ ম মুস্তাফা কামাল    ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা    ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা
২০২১-২০২২    আ হ ম মুস্তাফা কামাল    ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা    ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা
২০২২-২০২৩    আ হ ম মুস্তাফা কামাল    ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা    ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা
২০২৩-২০২৪    আ হ ম মুস্তাফা কামাল        ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা    ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা
২০২৪-২০২৫    আবুল হাসান মাহমুদ আলী      ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা    ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা
২০২৫-২০২৬    ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ       ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা    ২ লাখ কোটি টাকা

এদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। যা দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আর বাজেটে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। এছাড়া মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৭ শতাংশ।

বাজেটে আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে সরকার। এডিপিতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। আর ঋণ সহায়তা বা বিদেশি অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট

করপোরেট কর ১০ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক
করপোরেট কর ১০ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব

বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, প্রকৌশল কলেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক বেসরকারি কলেজগুলোর করপোরেট করহার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব আসছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন। 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের বাজেটেও এসব প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল। অন্যান্য খাতের করপোরেট করহারে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন করহার কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে সরকারের নীতিগত সহায়তার অংশ হিসেবে এই করহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা ও প্রকৌশল শিক্ষায় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আরও বাড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যেসব খাতকে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এতে দেশের শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অসংখ্য বেসরকারি মেডিকেল, ডেন্টাল, প্রকৌশল ও আইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উপকৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট করহার ২০ শতাংশ, আর তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির ক্ষেত্রে তা ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

অন্যদিকে ব্যাংক, বীমা কোম্পানি ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। মোবাইল টেলিযোগাযোগ অপারেটরগুলোর ক্ষেত্রে এ হার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ১০ থেকে ১২ শতাংশ হারে কর সুবিধা পেয়ে থাকে।

বিশ বছর পর বাজেট প্রণয়নে বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক
বিশ বছর পর বাজেট প্রণয়নে বিএনপি
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মির্জা নূরুল হুদা, এম সাইফুর রহমান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বাজেট প্রণয়নে সফল অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন বিএনপির নেতা মরহুম এম সাইফুর রহমান। অর্থনৈতিক সংস্কার, বিশ্বায়নের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির সংযোগ স্থাপন এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি চালুর অন্যতম রূপকার হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়।

জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট উপস্থাপনের অনন্য রেকর্ডও রয়েছে তার দখলে। ২০০৬ সালের ৬ জুন বিএনপি সরকারের শেষ বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন এম সাইফুর রহমান।

এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অতিক্রম করে প্রায় দুই দশক পর আবারও বিএনপি সরকারের বাজেট আসতে যাচ্ছে। এবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার প্রথম বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন তিনি। বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

ফলে প্রায় ২০ বছর পর বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে বিএনপির যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

জিয়ার হাত ধরে সূচনা

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ২৬ জুন প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি টানা তিনটি বাজেট ঘোষণা করেন।

১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরে ১ হাজার ৯৮৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা এবং ১৯৭৮-৭৯ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন তিনি।

১৯৭৯ সালের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মির্জা নূরুল হুদাকে অর্থমন্ত্রী নিয়োগ দেন। তিনি ১৯৭৯-৮০ অর্থবছরের জন্য ৩ হাজার ৩১৭ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন।

সাইফুর রহমানের উত্থান

জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিচারপতি আবদুস সাত্তারের আমলে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এম সাইফুর রহমান। ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ৩ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন তিনি। পরবর্তী ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে তার উপস্থাপিত বাজেটের আকার ছিল ৪ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা।

এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবারও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে ১৬ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনের মাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সংস্কার, বাণিজ্য উদারীকরণ এবং করব্যবস্থার আধুনিকীকরণ। নব্বইয়ের দশকে দাতানির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করেন।

বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রবর্তন তার অন্যতম বড় অবদান হিসেবে বিবেচিত হয়। সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং কর ব্যবস্থাকে আধুনিক করার লক্ষ্যে তিনি দেশে প্রথমবারের মতো ভ্যাট চালু করেন।

এ ছাড়া ২০০৩ সালে টাকা ও মার্কিন ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করে দেন, যা সে সময় একটি সাহসী ও সফল অর্থনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসিত হয়।

রেকর্ড গড়া ১২তম বাজেট

২০০৬ সালের ৬ জুন ২০০৬-০৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন এম সাইফুর রহমান। এটি ছিল তার উপস্থাপিত ১২তম এবং শেষ বাজেট। ওই বাজেটের আকার ছিল ৬৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট উপস্থাপনের রেকর্ড গড়েন তিনি।

পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুটি বাজেট উপস্থাপন করেন এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একই বছরের সেপ্টেম্বরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান এম সাইফুর রহমান।

২০০৯-১০ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত টানা ১০টি বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর আগে ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরেও তিনি বাজেট দিয়েছিলেন। ফলে তার মোট বাজেটের সংখ্যা ১২ হলেও এম সাইফুর রহমানই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ১২ বার বাজেট উপস্থাপনের রেকর্ড গড়েন।

নতুন প্রেক্ষাপটে বিএনপির প্রত্যাবর্তন

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। এরপর প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালন করে অন্তর্বর্তী সরকার।

এই সময়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার উপস্থাপিত বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এম সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রী থাকাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন সালেহউদ্দিন আহমেদ।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে একটি বিশাল বাজেট উপস্থাপন করতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে তিনি প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে।

এর মাধ্যমে দুই দশক পর আবারও বিএনপি সরকারের সরাসরি বাজেট প্রণয়ন ও উপস্থাপনা প্রত্যক্ষ করবে দেশ।

বিএনপির ১৭তম বাজেট

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এর আগে ২০০১ সালে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত সে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটসহ স্বাধীনতার পর থেকে দেশের মোট ৫৫টি বাজেটের মধ্যে বিএনপির উপস্থাপিত বাজেটের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭টি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপস্থাপিত বাজেটের সংখ্যা ২৫টি।

সংখ্যার বিচারে আওয়ামী লীগ এগিয়ে থাকলেও বাজেট প্রণয়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে এম সাইফুর রহমানের অবদান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তার প্রবর্তিত বহু নীতি আজও দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকম