বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার এক দিনের মাথায় প্রান্তিক ও স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের বাড়তি মূল্য থেকে অব্যাহতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকরা আগের দামেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবেন। এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবারের (৪ জুন) মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, আবাসিক গ্রাহকদের নিম্নস্তরের দুই ধাপে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, লাইফলাইন গ্রাহক (৫০ ইউনিট পর্যন্ত) এবং প্রথম ধাপের (৭৫ ইউনিট পর্যন্ত) গ্রাহকদের জন্য আগের মূল্যহার বহাল রাখা হবে।
এর আগে গতকাল বুধবার ঘোষিত নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী, লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। একইভাবে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতি ইউনিট মূল্য ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়েছিল।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রান্তিক গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুতের নতুন খুচরা ট্যারিফ পুনর্বিবেচনার জন্য বিইআরসিকে অনুরোধ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন বিতরণ সংস্থার প্রস্তাবের ভিত্তিতে বিইআরসি গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি গ্রহণের পর আইনগত ক্ষমতাবলে বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করে। তবে পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমোদনক্রমে বিপিডিবি কর্তৃক প্রস্তাবিত প্রান্তিক গ্রাহকদের মূল্যহারের প্রতিফলন ঘটেনি।
বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, নতুন ট্যারিফ বহাল থাকলে লাইফলাইন গ্রাহকসহ নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে, যা তাদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিভাগটি মনে করে, প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত নতুন ট্যারিফ সরকারের নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ প্রেক্ষাপটে বিপিডিবি ৩ মে এর পাঠানো প্রস্তাবের আলোকে লাইফলাইন গ্রাহকদের ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণের জন্য বিইআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ আশা প্রকাশ করেছে, কমিশন এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।







