• ই-পেপার

ভয় নয়, সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যান : প্রধান উপদেষ্টা

বৃষ্টি ঝড়বে কত দিন? জানাল অধিদপ্তর

অনলাইন ডেস্ক
বৃষ্টি ঝড়বে কত দিন? জানাল অধিদপ্তর
সংগৃহীত ছবি

দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু দেশের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় ও অন্যত্র তা মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

সোমবার রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

২১ জুলাই, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ভারী বৃষ্টিতে বন্যা হতে পারে দেশের ৮ জেলায়।

২২ জুলাই, বুধবার সকাল ৯টা থেকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

২৪ জুলাই খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

মানবাধিকারকর্মী নাদিমা খানের ওপর হামলায় আসকের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মানবাধিকারকর্মী নাদিমা খানের ওপর হামলায় আসকের উদ্বেগ
সংগৃহীত ছবি

বরিশালে বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্নার মেয়ে অ্যাডভোকেট নাদিমা মোহাম্মদী খানে ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। রবিবার (২০ জুলাই) আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত ১৮ জুলাই বরিশালে নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে সংঘবদ্ধভাবে নাদিমা খানের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনি আহত হন এবং শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় বরিশাল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

আসক মনে করে, একজন তরুণ মানবাধিকারকর্মীর ওপর এ ধরনের হামলা শুধু একজন ব্যক্তির নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়, বরং মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তি ও অধিকারকর্মীদের জন্যও উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।

সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িত সব ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

বিজ্ঞপ্তিতে নাদিমা খানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত সব অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনগণের করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জনগণের করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মঘণ্টা এবং জনগণের করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি কার্যক্রমে সময়, অর্থ ও জনশক্তির দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে জনসেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করাই হতে হবে প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। 

আজ সোমবার (২০ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির সহ-আয়োজনে রাজধানীর বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণের আগে এর প্রয়োজনীয়তা এবং জনকল্যাণে এর প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। এখন সময় এসেছে প্রতিটি সভা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (আরওআই) মূল্যায়ন করার। আমরা কত টাকা ব্যয় করলাম, কত কর্মঘণ্টা বিনিয়োগ করলাম এবং তার বিনিময়ে জনসেবার মান কতটুকু উন্নত হলো, এই হিসাবও প্রশাসনের অংশ হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও দক্ষ প্রশাসন, বিচক্ষণ কূটনীতি এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সিভিল সার্ভিসের মাধ্যমে এর প্রভাব অনেকাংশে মোকাবেলা করা সম্ভব।’

এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বদা সজাগ, দূরদর্শী ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া তিনি সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মানুবর্তিতা, দেশপ্রেম অনুসরণ করে কাজ করার আহ্বান জানান। কর্মকর্তাদের তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে ডেলিগেশন অব ফাইন্যান্সিয়াল পাওয়ার অনুযায়ী নথিতে সিদ্ধান্ত প্রদানের নির্দেশনা দেন।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে এ উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রশাসন। ইশতেহারের সফল বাস্তবায়নের সুফল আপনার পরিবার, আপনার সন্তান এবং দেশের প্রতিটি নাগরিক ভোগ করবে। আজ আমাদের সামনে একটি আধুনিক, দক্ষ ও জনমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলার ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে।’

কর্মশালায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারকে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন সূচক (ট্র্যাকার) প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ সরকারি প্রতিশ্রুতিগুলোকে পরিমাপযোগ্য সূচকে রূপান্তর করে নীতি বাস্তবায়ন ও জবাবদিহি আরো শক্তিশালী করেছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের কার্যকর ট্র্যাকার তৈরিতে প্রয়োজনে দক্ষ আইটি বিশেষজ্ঞ ও ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের জনপ্রশাসন হবে উপাত্তভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, গতি ও জবাবদিহি আরো বাড়ানো সম্ভব। মানুষের সঙ্গে প্রযুক্তির কার্যকর সংযোগ যত বাড়বে, প্রশাসনিক কার্যক্রম তত বেশি দক্ষ ও ফলপ্রসূ হবে।

তিনি কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান। কারণ একজন সুস্থ, সৎ ও ভারসাম্যপূর্ণ কর্মকর্তাই জনগণকে সর্বোত্তম সেবা দিতে পারেন।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। এ ছাড়া সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) জনাব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একাডেমির প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এআই ক্যামেরার আওতায় এসেছে : আইজিপি ফারুক

বাসস
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এআই ক্যামেরার আওতায় এসেছে : আইজিপি ফারুক

অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা ও সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ফারুক আহমেদ বলেন, ‘পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কটির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।’

আজ সোমবার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে এ তথ্য নিশ্চিত করে ফারুক আহমেদ জানান, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কও একই ধরনের নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।

সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরা স্থাপনের ফলে হাইওয়ে পুলিশ এখন কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ফারুক আহমেদ বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

তিনি জানান, এসব এআই ক্যামেরা পরিচালনার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের জন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে হাইওয়ে পুলিশ এ নজরদারি ব্যবস্থা পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, উন্নত এই নজরদারি ব্যবস্থা হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রমকে আরো দক্ষ করবে এবং ডাকাতি, মাদক পরিবহনসহ মহাসড়ককেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

দেশের বাকি মহাসড়কগুলোও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের নজরদারির আওতায় আনা হবে, যাতে মহাসড়কের অপরাধ দ্রুত দমন এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা মোকাবেলা করা যায়।

ফারুক আহমেদ বলেন, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান দুটি দায়িত্ব হলো ডাকাতি ও মাদক পাচারের মতো মহাসড়ককেন্দ্রিক অপরাধ দমন এবং যানজট কমিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল মহাসড়ক গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও জোরদার করা হচ্ছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যক্রমের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া জনগণের আস্থা বৃদ্ধি এবং সেবাগ্রহীতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কমিউনিটিভিত্তিক পুলিশিং জোরদার করা হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যভিত্তিক জবাবদিহি এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে মহাসড়ক আরও নিরাপদ হবে এবং জনসেবার মানও উন্নত হবে।

গত ৭ জুলাই হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, তিনি দেশের মহাসড়ককে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে মহাসড়ককে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করতে সক্ষম হব বলে আমি আত্মবিশ্বাসী।’

তিনি আরো আশ্বাস দেন, আগামী দুই মাস পর হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে যানবাহন থেকে অর্থ আদায়ের কোনো অভিযোগ থাকবে না।

ফারুক আহমেদ জানান, বর্তমানে সারা দেশে হাইওয়ে পুলিশের ৭৩টি থানা রয়েছে। আরো কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে থানার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

২০০৫ সালের ১১ জুন প্রতিষ্ঠিত হাইওয়ে পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট, যার প্রধান দায়িত্ব দেশের মহাসড়কে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করা।

১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ১২ ধারার আওতায় পরিচালিত এ ইউনিট মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ অনুযায়ী বিভিন্ন অপরাধের তদন্তও করে থাকে।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মহাসড়কের অপরাধ প্রতিরোধ, সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, মহাসড়কে টহল, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যান চলাচল ব্যবস্থাপনা।

বর্তমানে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে চারটি বিভাগ, আটটি অঞ্চল, সাতটি ক্যাম্প, ৭৩টি হাইওয়ে থানা ও ১০টি সার্কেলের মাধ্যমে সারা দেশে সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনুমোদিত জনবল ২ হাজার ৮১৪ জন।

হাইওয়ে পুলিশের আটটি আঞ্চলিক কার্যালয় গাজীপুর, কুমিল্লা, বগুড়া, মাদারীপুর, সিলেট, খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহে অবস্থিত।

জনবল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও হাইওয়ে পুলিশ বর্তমানে দেশের প্রায় ১১ হাজার ৮০৬ কিলোমিটার মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করছে।