শুধু একটি জেলা বা নির্দিষ্ট অঞ্চলের নয়, দেশের ৩০০ আসনের সুষম উন্নয়নের জন্য বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন। তিনি বলেন, বাজেট শুধু মন্ত্রীদের এলাকার জন্য নয়। যদি মন্ত্রীরা সব উন্নয়ন নিয়ে যান, তাহলে ৩০০ আসনের তো দরকার নেই। সুষম বণ্টনের মাধ্যমেই বাজেট সফল করতে হবে। সবার উপকার করতে হবে এবং সব এলাকার একসঙ্গে উন্নয়ন করতে হবে।
রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অতীতের বৈষম্যের উদাহরণ টেনে আশরাফ উদ্দিন বলেন, নরসিংদী-৩ আসনের এমপি যখন এলজিআরডি মন্ত্রী ছিলেন, ওনার এলাকায় ৯৯ শতাংশ রাস্তা পাকা হয়েছিল। কিন্তু আমার আসন পাশের এলাকা হওয়া সত্ত্বেও তখন ৫ শতাংশ রাস্তাও পাকা হয়নি। তার মানে কি নিজের এলাকা উন্নয়নের জন্য মন্ত্রীই হতে হবে?
বাজেটে আমদানিনির্ভর ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা ও দেশি শিল্পে বৈষম্যের সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো অনেক শক্তিশালী। বাজেটের ১৩৯ নম্বর পৃষ্ঠায় স্যান্ডউইচ প্যানেল আমদানিতে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। একটি ওষুধ কোম্পানি কয়েক লাখ টাকা খরচ করে রুম বানিয়ে কোটি কোটি টাকার ওষুধ উৎপাদন করবে ৩০ বছর ধরে। তাদের আমদানিতে মাত্র ১ শতাংশ ডিউটি দেওয়া হয়েছে, যা অযৌক্তিক।
নিজের শিল্পোদ্যোক্তা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১২ সালে আমি বাংলাদেশে সর্বপ্রথম স্যান্ডউইচ প্যানেল প্রোডাকশন ফ্যাক্টরি করেছি। ফ্যাসিস্টের আমলে নানা বাধা সত্ত্বেও আমি ইন্ডাস্ট্রিটা টিকিয়ে রেখেছি। আমাদের কাঁচামাল আমদানিতে ৫৮ শতাংশ এবং ৩৭ শতাংশ ডিউটি দিতে হয়। এখন বাইরে থেকে কেউ ১ শতাংশ ডিউটিতে পণ্য নিয়ে এলে আমরা দেশি উদ্যোক্তারা কার কাছে পণ্য বিক্রি করব?
সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, এটি একটি মারাত্মক ভুল। যদি আমদানিতে ১ শতাংশ ডিউটি থাকে, তবে আমাদের কাঁচামাল আমদানিতেও ১ শতাংশ ডিউটি দিতে হবে। তা না হলে দেশি ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প মরে যাবে।






