• ই-পেপার

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল : এক যুগেও বাস্তবায়ন হয়নি সুপারিশ

আগস্টেও পে স্কেলের গেজেট না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি

অনলাইন ডেস্ক
আগস্টেও পে স্কেলের গেজেট না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি

আগস্টের মধ্যে নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না করলে সারা দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।

রবিবার (২৬ জুলাই) সংগঠনের সদস্যসচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগস্ট মাসের মধ্যে নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে প্রথমে সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সেই আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে সারা দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বিবৃতিতে আশিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে সময়োপযোগী, বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য বেতন কাঠামোর প্রত্যাশা করে আসছেন। কিন্তু এখনো নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের এ প্রত্যাশা পূরণে সরকারের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমানের উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং জনসেবার মান আরো উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আশিকুল ইসলাম আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি সবসময় শান্তিপূর্ণ, দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বিশ্বাসী। তাই প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। তবে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করে সারা দেশব্যাপী বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

রেজানুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
রেজানুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. রেজানুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব (সংযুক্ত) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. রেজানুর রহমানকে অতিরিক্ত সচিব (সংযুক্ত) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু।

জানা গেছে, অতিরিক্ত সচিব মো. রেজানুর রহমান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছিলেন। এর আগে তিনি বিদ্যুৎ বিভাগে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

অনলাইন ডেস্ক
সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

জুলাই মাস শেষ হতে চলল। চলতি মাসে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ছুটি না থাকলেও আসছে আগস্ট মাসে টানা চার দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবেন তারা। তবে চার দিনের এই ছুটি কাটানোর জন্য পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে এক দিনের ঐচ্ছিক ছুটি সমন্বয় করতে হবে।

প্রথম দফায় ৪ দিনের ছুটি

আগস্টের সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ৫ আগস্ট (বুধবার) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। এর পরের দিন ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) অফিস খোলা থাকবে।

তবে ওই দিন এক দিনের নৈমিত্তিক বা ঐচ্ছিক ছুটি নিলেই পরবর্তী শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।

দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের ছুটি

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগস্ট মাসের ২৬ তারিখ (বুধবার) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত আছে। তবে এ ক্ষেত্রে চাঁদ দেখার ওপর তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টি নির্ভরশীল।

যেভাবে মিলবে ৪ দিনের ছুটি

আগামী ২৬ আগস্ট (বুধবার) ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটির পরদিন ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার)। এর পরের দুদিন ২৮ ও ২৯ (শুক্র ও শনিবার) যথাক্রমে সাপ্তাহিক ছুটি।

এ ক্ষেত্রে শুধু এক দিনের অর্থাৎ ২৭ আগস্ট ছুটি নিলেই মোট চার দিনের টানা ছুটি উপভোগ করতে পারবেন চাকরিজীবীরা।

যাদের জন্য এই ছুটি প্রযোজ্য

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং অধিকাংশ বেসরকারি অফিসে সাধারণত ছুটি পালন করা হয়। তবে জরুরি সেবার আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হয় না।

এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা, ফায়ার সার্ভিস, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা, ডাক বিভাগ, হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহন, জরুরি যানবাহন ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা।

অন্যদিকে, ওই সময় ব্যাংক খোলা বা বন্ধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে আদালতের কার্যক্রম চালু থাকবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

পুলিশে আরো ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃষ্টির প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক
পুলিশে আরো ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃষ্টির প্রস্তাব

পুলিশ বাহিনীতে আরো ১০ হাজার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামতসহ প্রস্তাবটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদনের জন্য এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেলের ১৭তম গ্রেডে ১০ হাজার কনস্টেবলের পদ সৃষ্টি করা হবে। এসব পদে ধাপে ধাপে ৮ হাজার ৫০০ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৫০০ জন নারী কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ সম্পন্ন হলে পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবলের সংখ্যা বেড়ে হবে ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৮। বর্তমানে মঞ্জুরীকৃত কনস্টেবল পদের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮। বর্তমানে কনস্টেবল থেকে মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) পর্যন্ত ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পর্যায়ে, সিভিল পদসহ, মোট মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা ২ লাখ ৭ হাজার ৯২০।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন, পুলিশ ও অর্থ) মোহাম্মদ আবু নঈম বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের পাঠানো ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃষ্টির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের মতামতসহ বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর পদগুলো সৃষ্টি হবে এবং এরপর নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

এর আগে গত ১৫ জুলাই জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো পেশাদার ও কার্যকর করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার একটি আধুনিক ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে কাজ করছে। এরপর ২১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক চিঠির মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তরকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের বিষয়টি জানায়। এরপর পুলিশ সদর দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পাঠায়।

গত ২৩ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ ৮টি রেঞ্জের অধীনে ৬৪টি জেলা পুলিশ, ৮টি মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং সিআইডি, এসবি, শিল্পপুলিশ, নৌ পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, এপিবিএন, রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, এমআরটি, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, টিডিএস, পিটিসি, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি ও পুলিশ স্টাফ কলেজসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, জনবল সংকটের কারণে ঘটনাস্থলে সময়মতো পুলিশ উপস্থিতি, নিয়মিত টহল, কার্যকর আইন প্রয়োগ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সদস্যদের কর্মঘণ্টা ও ছুটিভিত্তিক কল্যাণ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে পুলিশের কর্মপরিধি ও জনসাধারণের প্রত্যাশা বাড়লেও সেই অনুপাতে জনবল বৃদ্ধি পায়নি।

এতে আরো বলা হয়, নৌ পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, পিবিআই, এমআরটি, শিল্পাঞ্চল পুলিশ ও এপিবিএনের মতো বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হলেও প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী জনবল অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

প্রস্তাবে পুলিশ-জনসংখ্যা অনুপাতের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে মঞ্জুরীকৃত পুলিশ পদের সংখ্যা ২ লাখ ৭ হাজার ৯২০ হওয়ায় দেশে পুলিশ-জনসংখ্যার অনুপাত ৮৬৬:১। জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী শান্তিকালে আদর্শ অনুপাত ৪০০:১ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তানের অনুপাতের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাবে দাবি করা হয়, স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইয়ার বুক অব বাংলাদেশ ২০২৩ অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যার ভিত্তিতে বর্তমান জনবলকাঠামো পর্যাপ্ত নয়। 

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী ১০ হাজার নতুন পদ অনুমোদনের পর নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ছয় মাস এবং প্রশিক্ষণ শেষ করতে আরো ছয় মাস সময় লাগবে। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় এক বছর সময় প্রয়োজন হবে।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল : এক যুগেও বাস্তবায়ন হয়নি সুপারিশ | কালের কণ্ঠ