বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অপসারণের পাঁয়তারার প্রতিবাদে এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন চত্বরে সংস্কার করে একই স্থানে পুনঃস্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ঝিনাইদহ জেলা গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।
যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভাস্কর্যটি সংস্কার করে পুনঃস্থাপন, ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আজ সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন ভাস্কর্য চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণফ্রন্টের জেলা সমন্বয়ক নেহাল আহমেদ সোহেল। এতে বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের নেতা সাহিদুল এনাম পল্লব, কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুর রহমান জালাল, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান, সিপিবি জেলা সভাপতি স্বপন বাগচী সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াব অপু, বাসদ জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আসাদুল ইসলাম, জাতীয় গণফ্রন্টের উদয় শংকর বিশ্বাস, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি শারমিন সুলতানা প্রমূখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ভাস্কর্য ভাঙচুরের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী, উগ্র সাম্প্রদায়িক ও কায়েমি স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী জড়িত। মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও ভাস্কর্যের ওপর হামলার ঘটনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভাস্কর্য অপসারণের যৌক্তিকতা হিসেবে সড়ক নিরাপত্তার যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাবেশ থেকে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য মূল নকশা অনুযায়ী সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করে একই স্থানে পুনঃস্থাপনের জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের প্রতি মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান নেতারা।
সমাবেশের আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের পায়রা চত্বর থেকে শুরু হয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন ভাস্কর্য চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।





