kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গ অন্তর্ভুক্তির দাবি নাগরিক সমাজের

অনলাইন ডেস্ক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৮:১৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গ অন্তর্ভুক্তির দাবি নাগরিক সমাজের

কপ-২৭ : সরকারি অবস্থান এবং নাগরিক সমাজের মতামত’ র্শীর্ষক সেমিনার। ছবি- কালের কণ্ঠ।

জাতিসংঘের আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে (কনফারেন্স অব পার্টিস বা কপ-২৭) এজেন্ডা হিসেবে ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ প্রতিনিধিবৃন্দ। তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উচিৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সীমা ১.৫ ডিগ্রিতে রাখার লক্ষ্যে প্যারিস চুক্তির আওতায় শূন্য কার্বন নির্গমন বিষয়ে একটি আইনি বাধ্যবাধকতাসমৃদ্ধ প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে জোরালো ভূমিকা রাখা। এ বিষয়ে সরকার জোরালো ভূমিকা নিবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘কপ-২৭ : সরকারি অবস্থান এবং নাগরিক সমাজের মতামত’ র্শীর্ষক সেমিনারে অংশ নিয়ে তারা এই দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় কাজ করছে সরকার। এক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের মধ্যে অভিযোজনমূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, 'অতীতের সম্মেলনগুলোর মতো আগামীতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্ব দরবারে জোরালো অবস্থান তুলে ধরা হবে। ' নাগরিক সমাজের সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংসদ সদস্য মেস্তাক আহমেদ রবি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তাপমাত্রার বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রিতে সীমিত রাখা এবং অভিযোজনের জন্য জলবায়ু অর্থায়নের ব্যাপারে সবসময়ই সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন। ওই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকার এবং নাগরিক সমাজ উভয়েরই বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে। '

অতি বিপদাপন্ন দেশগুলোর জোটকে সংগঠিত করার আহ্বান জানিয়ে আলী আকবর টিপু বলেন, 'সরকার এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সু-সমন্বয় থাকায় বাংলাদেশ জলবায়ু আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে, এটি আমাদের একটি শক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। '

বাপা সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, "২০৫০ সালের মধ্যে জিরো নিঃসরণ নিশ্চিত করা ছাড়া বাংলাদেশের এই বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। তাই সরকারকে ‘নেট জিরো’ ধারণার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। "

দেশের স্বার্থ সর্বোচ্চ আদায় করতে প্যারিস চুক্তির আওতায় কোনো প্রটোকল স্বাক্ষরের আগে আলোচকদের কৌশলী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে উত্থাপিত সুপারিশে বলা হয়, কপ-২৭ আলোচ্যসূচিতে ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জোরালো অবস্থান নিতে হবে। ধনী দেশগুলিকে তথাকথিত ‘নেট জিরো’ ২০৫০ ধারণার পরিবর্তে এনডিসি’র মাধ্যমে প্রকৃত শূন্য লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ পূরণের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। জলবায়ু র্অথায়নের নতুন কাঠামো অবশ্যই অতি বিপদাপন্ন দেশগুলোর জন্য ঋণ-বহির্ভূত অর্থায়ন হিসেবে হতে হবে।

 কোস্ট ফাউন্ডেশন, এন অর্গানাইজেশন ফর সোশিও-ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (এওএসইডি), সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (সিডিপি), সেন্টার ফর সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুড (সিএসআরএল), ইক্যুইটি অ্যান্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

ইক্যুইটিবিডির রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, এমপি।  আলোচনায় অংশ নেন সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপু, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার সাধারণ সম্পাদ শরীফ জামিল।

এছাড়া আরো অংশ নেন- সিপিআরডির মো. শামসুদ্দোহা, অ্যাওসেড-খুলনার শামীম আরেফিন, সিএসআরএলের জিয়াউল হক মুক্তা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এম আহসানুল ওয়াহেদ, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের শিরিন সুলতানা লিরা, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের আফসারি বেগম প্রমূখ। সেমিনারের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইক্যুইটিবিডির সৈয়দ আমিনুল হক।



সাতদিনের সেরা