• ই-পেপার

পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল ব্রাজিল ভক্তের

ডিবি পুলিশের অভিযান, গাঁজাসহ ৫ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
ডিবি পুলিশের অভিযান, গাঁজাসহ ৫ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও নবাবগঞ্জে পৃথক অভিযানে ২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ পাঁচজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-দক্ষিণ)।

গ্রেপ্তাররা হলেন- জীবন মিয়া (২৩), মো. শান্ত (২১), আল আমিন (২৫), সোহেল (২৮) ও সবুর হোসেন (৪৪)।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা ডিবি (দক্ষিণ)-এর অফিসার ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম সুমন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর ও চরকুতুব এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ জীবন মিয়া ও শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

একই রাতে, পৃথক আরেকটি অভিযানে নবাবগঞ্জের কোমরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ১ কেজি গাঁজাসহ আল আমিন, সোহেল ও সবুর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে এবং পরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শিশু নির্যাতন, যৌন হয়রানি, গুম ও হত্যার বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জে সচেতনতামূলক সভা

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
শিশু নির্যাতন, যৌন হয়রানি, গুম ও হত্যার বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জে সচেতনতামূলক সভা
ছবি: কালের কণ্ঠ

নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন, যৌন হয়রানি, গুম ও হত্যার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) উপজেলা প্রশাসন, কেরানীগঞ্জের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী।

সভায় কেরানীগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-৩ আসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ইমাম, পুরোহিত, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস সাত্তার বেগের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী আয়শা সিদ্দিকা মুসকান, আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহিনুর আক্তার, দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলি আক্তার, চুনকুটিয়া গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদা আক্তার, অভিভাবক হাজী মীর মোহাম্মদ, ইমাম মুফতি মইনুল ইসলাম, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মো. সাইফুল আলম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া।

সভায় বক্তারা নারী ও শিশুদের প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক মূল্যবোধ জাগ্রতকরণ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সমাজ থেকে নির্যাতন, যৌন হয়রানি, গুম ও হত্যার মতো অপরাধ নির্মূলে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কেরানীগঞ্জে ১২৭৯ দরিদ্র পরিবার পাচ্ছে ফ্যামেলি কার্ড

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে ১২৭৯ দরিদ্র পরিবার পাচ্ছে ফ্যামেলি কার্ড
সংগৃহীত ছবি

সরকার নির্বাচনের সময় ফ্যামেলি কার্ডের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নির্বাচনে পাস করার পরে দ্রুত সময়েই তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় ধাপে দেশের ১৯টি উপজেলার ১৯টি ওয়ার্ডে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলাও।

কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নে ৫০৯টি পরিবার এবং রোহিতপুর ইউনিয়ের ৭৭০টি পরিবারের মধ্য প্রদান করা হচ্ছে সরকারের ফ্যামেলি কার্ড। ইতিমধ্যেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ শেষ করেছে। চলছে শেষ পর্যায়ের যাচাই-বাছাই। সব ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই তুলে দেওয়া হবে ফ্যামেলি কার্ডের প্রথম মাসের ২৫০০ টাকা।

সরেজমিন কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ও রোহিতপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তেঘরিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড এবং রোহিতপুর ই‌উনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। তথ্য সংগ্রহকারীরা বলছেন অপেক্ষাকৃত দরিদ্র প্রবণ এলাকা ও নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি হওয়ায় তেঘরিয়া ও রোহিতপুরের ২৭০০ এর অধিক পরিবারের ওপর জরিপ চালানো হয়। সেখান থেকে প্রাথমিকভাবে তেঘরিয়ায় ৮নং ওয়ার্ডের ৫০৯টি পরিবারকে এবং রোহিতপুরে ৫নং ওয়ার্ডের ৭৭০টি পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ফ্যামেলি কার্ডের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এই পরিবারগুলোর মাঝে কেউ তথ্য গোপন করেছে কি না। অথবা কোনো স্বচ্ছল পরিবার লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করতে এখন চলছে শেষ পর্যায়ের চূড়ান্ত ভেরিফিকেশন।

উপজেলা সমাজ সেবা সূত্রে জানা যায়, ফ্যামেলি কার্ডের নীতিমালা অনুযায়ী পরিবারের প্রধান নারীদের কাছ থেকে নাম, ঠিকানা, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও আর্থিক অবস্থার বিবরণ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া তারা সরকারের অন্যান্য সহযোগীতা পান কি না এ বিষয়সহ তাদের দিতে হচ্ছে মোট ৪৭টি প্রশ্নের উত্তর। সরকার নির্ধারিত প্রশ্নের ভিত্তিতে ১ হাজার নম্বরের মধ্যে যাদের নম্বর ৭৭৭ থেকে ৮১৪ মধ্যে থাকবে তারা অতি দরিদ্র এবং দরিদ্র বলে চিহ্নিত হবে। কেবল তারাই পাবে ফ্যামেলি কার্ডের সুযোগ-সুবিধা। তথ্যগুলো নেওয়ার পরে প্রাপ্ত তথ্য সঠিক কি না, অথবা কেউ কোনো তথ্য লুকিয়েছে কি না, সেগুলো পুনরায় রি-ভেরিফিকেশন করছে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার। 

এদিকে নির্বাচনের আগে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত ফ্যামেলি কার্ড দেওয়ায় খুশি গ্রামবাসী।

তেঘরিয়ার ঋষি পাড়া গ্রামের লতা রানী বলেন, আমি বিধবা ছোট দুইটা ছেলে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছি। অন্যের বাসায় ঝি-এর কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো মতো খেতে পারি। ঘরের চাল ফুটো হয়ে জল পড়ছে। কিন্তু টাকার অভাবে তা মেরামত করতে পারছি না। ফ্যামেলি কার্ডের এই টাকাটা পেলে আমার জন্য একটু আসান হবে। সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

কার্ড পাওয়া জোছরা নামে অপর একজন জানান, প্রথমে বিশ্বাস করিনি যে ফ্যামেলি কার্ড পেয়েছি। সরকাররা তো কত কথাই বলে, কিন্তু বাস্তবায়ন আর করে কই। এই সরকার বাস্তবায়ন করেছে, তিনি গরিবের বন্ধু। সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোহাম্মদ শিবলীজ্জামান জানান, যাদের সত্যিকার অর্থেই ফ্যামেলি কার্ড প্রয়োজন তাদের হাতে ফ্যামেলি কার্ড তুলে দিতে সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ২৭০০’র বেশি পরিবারের মাঝে যাচাই বাছাই করে ১২৭৯টি পরিবারকে সে শনাক্ত করেছি। যাদের নাম বাদ গেছে তাদের পরবর্তীতে সুযোগ থাকবে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩-৪ দিনের ভেতরেই কেরানীগঞ্জের ফ্যামেলি কার্ড প্রাপ্তরা ২৫০০ টাকা করে সুবিধা পাবেন। 

পটিয়ায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পটিয়ায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
নিহত পংকজ শীল

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা এলাকায় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পংকজ শীল (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিলক চক্রবর্তী (৩০)। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ৯টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত পংকজ শীল ওই এলাকার মিলন শীলের ছেলে। আহত তিলক চক্রবর্তী মৃত দুর্গাপদ চক্রবর্তীর ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ৫-৭ জনের একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদল চক্রশালা এলাকায় প্রবেশ করে এসময় পংকজ শীল ও তিলক চক্রবর্তী ছিনতাইকারীদলের মুখোমুখি হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এসময় তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা দৌড়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।  হাসপাতালে নেওয়ার পথে পংকজ শীল মারা যান। আহত তিলক চক্রবর্তী বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পাভেল বিশ্বাস বলেন, রাতে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদল আমাদের এলাকায় প্রবেশ করে। তাদের সামনে পড়ে যাওয়ায় দুজনের ওপর হামলা চালানো হয়। ছুরিকাঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন ছিনতাইকারী ছিল। তাদের মধ্যে একজনকে বোরকা পরিহিত অবস্থায় একজন আটক করা হয়েছে।  হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।