ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়। আবার জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সবকিছুতে এভাবে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়। আবার জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সবকিছুতে এভাবে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের পদক্ষেপ হিসেবে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
সূত্র মতে, দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা দেশের ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বোর্ডে আলোচনা হয়। সভায় বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত হওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, অবসায়ন বা বন্ধের তালিকায় রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্সকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, বন্ধের সিদ্ধান্ত হওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। এখন আমাদের প্রথম কাজ প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা। এরপর এসব প্রতিষ্ঠানে একীভূত ব্যাংকগুলোর মতো প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। প্রশাসক নিয়োগের পর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি আমানতকারী ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। তিনি আরো বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানকে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে, তাদের এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ পরিশোধে সক্ষমতা দেখাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা করতে না পারলে সেগুলোকেও রেজল্যুশন বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮.৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩.৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯.৪৪ শতাংশ।
উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কেন ২০টি এনবিএফআই বন্ধ করা হবে না এই মর্মে গত বছরের মে মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলো বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখান থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে ছয়টি বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসিকে বাদ দেওয়া হয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রিমিয়ার লিজিংকে বাদ দিয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ এত বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (পরে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার চারটি এনবিএফআই পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত কয়েক বছর ধরেই তীব্র তারল্যসংকট, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং দুর্বল সুশাসনের সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আমানত ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে গ্রাহকদের দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজল্যুশন কাঠামোর আওতায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।

জামালপুর ও কুড়িগ্রাম সীমান্তের আটটি পয়েন্টে ট্রাকে লোক এনে জড়ো করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে তাদের পুশ ইনের চেষ্টা চালালেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে বিএসএফ। একইভাবে বিজিবি ও স্থানীয়দের যৌথ পাহারা, টর্চলাইটের আলো এবং সতর্ক অবস্থানের মুখে বিএসএফ তাদের পুশ ইনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
দেশের বিভিন্ন এলাকার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
জামালপুর : বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে আবারও বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের রৌমারীর সীমান্তের আটটি পয়েন্টে ট্রাকে করে লোক আনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তারা পুশ ইনের চেষ্টা চালালেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার খেয়ারচর, পাথরেরচর, বাঘারচর, ঝাউডাঙ্গা, সাতানীপাড়া এবং রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, মোল্লারচর ও ইসলামারী সীমান্ত পয়েন্টে বিএসএফ সীমান্তের আলো নিভিয়ে ট্রাকযোগে লোকজন নিয়ে আসে। তাদের পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হলে বিজিবি ও স্থানীয়রা বাধা দেয়। ফলে পিছু হটে বিএসএফ।
জামালপুর ব্যাটালিয়নের (৩৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রাতে পুশ ইনের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। স্থানীয়রাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
রাজিবপুর-রৌমারী (কুড়িগ্রাম) : রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় নাগরিকদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এপারে যৌথ পাহারা, টর্চলাইটের আলো এবং সতর্ক অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানিয়েছে, সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার ভুন্দুরচর, উত্তর বারবান্দা, বড়াইবাড়ী, ঝাউবাড়ী, বকবান্ধা ও খেয়ারচর সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানার নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে।
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি আসামের মানকারচর থানার অধীন কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকায় শতাধিক মানুষকে জড়ো করা হয়েছে। সুযোগ পেলেই বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের কঠোর অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, তিন দিন ধরে এলাকাবাসী বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্তে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক ইমাম হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে রৌমারী সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় বিজিবি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি প্রস্তুত।
হবিগঞ্জ : বিজিবি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা চললেও এখনো হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় জনগণ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। থার্মাল ও ইনফ্রা রেড ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি জনসচেতনতা কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান জানান, প্রতিটি বিওপিতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

দেশের ওষুধশিল্প এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে আমাদের ওষুধ এখন বিশ্ববাজারে হচ্ছে, যা অত্যন্ত গর্বের। তবে এই খাতের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থেই অন্ধকার দিকগুলোর সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে।
দেশের ওষুধশিল্পে বিপণনের নামে বর্তমানে যেসব অনৈতিক চর্চা চলছে, তার পেছনে কম্পানিগুলোকে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কম্পানিগুলোর মোট টার্নওভারের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশই চলে যাচ্ছে এই বিপণন খাতে। যেহেতু এই খাতে উন্মুক্ত বিজ্ঞাপনে কড়াকড়ি, তাই মাঠ পর্যায়ের বিক্রয় প্রতিনিধি ও চিকিৎসকদের অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করে নিজেদের কম্পানির ওষুধ লেখানোর এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। সব কম্পানি নয়, তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কম্পানি অনৈতিক বিপণনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েছে এবং এটি পুরো ফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে প্রভাবিত করছে। এই ক্ষতিকর প্রতিযোগিতা এখনই বন্ধ হওয়া উচিত।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ‘বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতিকেই (বিএপিআই)’ মূল দায়িত্ব নিতে হবে। তারা যদি নিজ থেকে উদ্যোগী না হয়, তবে শেষ পর্যন্ত এই খাতের সংকট কাটবে না। সংগঠনের কোনো সদস্য প্রতিষ্ঠান যদি এমন অসুস্থ ও অনৈতিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির তৈরি করতে হবে।
দেশের অন্যান্য শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন, যেমন বিজিএমইএ বা এফবিসিসিআইকে তাদের সদস্যদের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়। ওষুধ শিল্প সমিতিও যদি সেই একই কঠোরতা দেখায়, তবে পুরো খাতের চেহারা বদলে যাবে। কম্পানিগুলো নিজেরা যদি সচেতন ও সংশোধিত না হয়, তবে শুধু সরকারের পক্ষে এককভাবে এই বিশাল বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
অবশ্য এর পাশাপাশি সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকাও আরো জোরদার করতে হবে। যেসব শর্ত ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে কম্পানিগুলোকে লাইসেন্স দেওয়া হয়, তারা সেগুলো যথাযথভাবে ‘কমপ্লাই’ বা প্রতিপালন করছে কি না, তা কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে। এই মনিটরিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে শুধু ‘লোকবল সংকট’-এর অজুহাত দিলে চলবে না, বর্তমানে যে জনবল আছে, প্রযুক্তির সমন্বয়ে তার সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। রেগুলেটরি অ্যাসোসিয়েশন বা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর যদি একা এই কাজ সামলাতে না পারে, তবে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বাণিজ্যিক ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোকেও তদারকির কিছু দায়িত্ব দিয়ে অংশীদারি বাড়ানো যেতে পারে।
সময়ের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে এই খাতের আইন ও বিধিমালাগুলোকে নিয়মিত হালনাগাদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কর্মী ও কর্মকর্তাদের পেশাদারি ও দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের পরিধি আরো বাড়াতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই খাতে অনেক আন্তর্জাতিক মানের ও ভালো ভালো কম্পানি আছে। গুটিকয়েক কম্পানির অনৈতিক কাজের দায় যেন পুরো খাতের ওপর না আসে, সে জন্য যারা খারাপ চর্চা করছে, তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা আবশ্যক।
ওষুধ কম্পানিগুলোর প্রতি আহবান—বিপণনের নামে অবৈধ উপায়ে অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ খাতের প্রকৃত উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে ব্যয় করুন। এই বিপুল অর্থ গবেষণা ও উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সেমিনার, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সিএসআর কার্যক্রম এবং সর্বোপরি সাধারণ রোগীদের কল্যাণে ব্যয় করা উচিত। আর এই কাজগুলো কম্পানিগুলো এককভাবে না করে, ওষুধ শিল্প সমিতির মাধ্যমে সবার ফান্ড এক করে করতে পারে। এতে কাজের পরিধি যেমন বিস্তৃত হবে, তেমনি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের ভাবমূর্তিও বৈশ্বিক দরবারে আরো উজ্জ্বল হবে।
লেখক : সভাপতি, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)